ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ভাণ্ডারিয়ায় নিখোঁজ গৃহবধুর চারদিনেও সন্ধান মেলেনি


ভাণ্ডারিয়ায় নিখোঁজ গৃহবধুর চারদিনেও সন্ধান মেলেনি

পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলার উত্তর ভিটাবাড়ীয়া গ্রামের মৃত আবদুস সত্তার বেপারীর পুত্রবধূ নাসরিন নাহার বেগম (১৮) গত চারদিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। কলেজে পরীক্ষা দিতে যাওয়ার পর ওই গৃহবধূ নিখোঁজ হয়েছেন এবং তার সন্ধান এখনও পাওয়া যাচ্ছে না। এ ঘটনায় তাঁর পরিবার ভাণ্ডারিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়রি করেছেন।

জানাগেছে, ৯ আগস্টে শ্বশুরবাড়ি থেকে এইচ.এস.সি (বিএম শাখা) পরীক্ষা দিতে বাড়ি থেকে উপজেলার আমান উল্লাহ কলেজে যান গৃহবধূ নাসরিন। কিন্তু পরীক্ষা হলে না গিয়ে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যান। নিখোঁজের চার দিন পার হলেও পুলিশ অনুসন্ধান চালিয়েও তার সন্ধান পাচ্ছে না।

নিখোঁজের শ্বাশুরী মনোয়ার বেগম ঘটনার দিন ৯ আগস্ট ভাণ্ডারিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়রি করেছেন। (ডায়েরী নম্বর ৩৮০)। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ২ মে ভাণ্ডারিয়া উপজেলার উত্তর ভিটাবাড়ীয়া গ্রামের মৃত আবদুস সত্তার বেপারীর ছেলে সজল আমীন এর সঙ্গে নাসরিনের বিয়ে হয়। নাসরিন আমান উল্লাহ কলেজে পড়ালেখা করছিলেন।

আরও পড়ুন: এই ডিসেম্বর নয়, কোনো ডিসেম্বরেই ফিরবেন না শেখ হাসিনা: এমপি খোকন তালুকদার

এ ব্যাপারে ভাণ্ডারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ দেওয়ান জগলুল হাসান বলেন, নিখোঁজ ওই গৃহবধূর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি সাধারণ ডায়রি করা হয়েছে। পুলিশ নিখোঁজ গৃহবধূকে উদ্ধারে অনুসন্ধান চালাচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাব এল-মান্দেবে হুতিদের হামলায় ৬ জনের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:২৭ পি.এম


বাব এল-মান্দেবে হুতিদের হামলায় ৬ জনের মৃত্যু

হরমুজের পাশাপাশি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ বাব এল-মান্দেব প্রণালিতেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। ইয়েমেনের কোস্টগার্ড জানিয়েছে, বাব এল-মান্দেব প্রণালিতে দেশটির সশস্ত্র বিদ্রোহী হুতিদের হামলায় একটি বাণিজ্যিক জাহাজে থাকা ছয়জন নিহত এবং আরও ১০ জন আহত হয়েছেন।

আজ বুধবার (১২ আগস্ট) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর সমুদ্রপথে হুতিদের হামলায় প্রথম প্রাণহানির ঘটনা এটি।

ইয়েমেনের পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজটি লক্ষ্য করে হুতিরা তিনটি ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করলে জাহাজে অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয় এবং জাহাজের মারাত্মক ক্ষতি হয়।

এতে তিনজন পাকিস্তানি এবং একজন ইন্দোনেশীয় নাগরিক নিহত হন। পরবর্তীতে আহত ও নিহতদের উদ্ধারের সময় ইয়েমেনের কোস্টগার্ডের উদ্ধারকারী দলকে লক্ষ্য করে হুতিরা পুনরায় আরেকটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। ফলে উদ্ধারকাজে নিয়োজিত বাহিনীর আরও দুই সেনা সদস্য নিহত হন।

হুতি নিয়ন্ত্রিত সাবা নিউজ এজেন্সি দাবি করেছে, হুতিরা একটি সৌদি জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, জাহাজটি সামরিক সরঞ্জাম বহন করছিল।

এদিকে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ভবিষ্যৎ নিয়ে ওমান ও ইরানের মধ্যে আলোচনা উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে বলে জানিয়েছে কাতার। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের অবসান এবং হরমুজ সংকট নিরসনে মধ্যস্থতার উদ্যোগ হিসেবে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভি তেহরানে পৌঁছে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, পানামার পতাকাবাহী একটি বাণিজ্যিক জাহাজ ইরানের একটি বন্দরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। মার্কিন বাহিনীর পক্ষ থেকে জাহাজটিকে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও সেটি নির্দেশনা উপেক্ষা করে এগিয়ে যায়।

এরপর মার্কিন বাহিনী জাহাজটির স্টিয়ারিং গিয়ারে দুইটি হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এতে জাহাজটির চলাচল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অচল হয়ে যায়।

মার্কিন বাহিনীর ভাষ্য, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান অবরোধ ভেঙে জাহাজটি ইরানি বন্দরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। তবে ঘটনাটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

শুধু একটি জাহাজ নয়, হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ কার্যকর করতে যুক্তরাষ্ট্র আরও ব্যাপক পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানিয়েছে সেন্টকম।

সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন বাহিনী অবরোধ অতিক্রম করে যাওয়ার চেষ্টা করা ৫৫টি বাণিজ্যিক জাহাজকে গতিপথ পরিবর্তন করতে বাধ্য করেছে। এর মধ্যে তিনটি জাহাজকে অচল করা হয়েছে এবং দুটি জাহাজে মার্কিন বাহিনী উঠে অভিযান পরিচালনা করেছে।

এই পদক্ষেপের ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিতে সামুদ্রিক বাণিজ্য আরও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গেছে।

পারস্য উপসাগর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাস পরিবহনের জন্য হরমুজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে দীর্ঘস্থায়ী বাধা সৃষ্টি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাজারে এর বড় প্রভাব পড়তে পারে।

এদিকে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার সম্ভাবনা নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতাও চলছে। কাতার জানিয়েছে, প্রণালির ভবিষ্যৎ এবং সেখানে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিয়ে ওমান ও ইরানের মধ্যে আলোচনা ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’ করেছে।

ওমান দীর্ঘদিন ধরে ইরান ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করে আসছে। ফলে হরমুজ সংকট নিরসনে মাসকাটের ভূমিকা এখন বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে আলোচনায় অগ্রগতি হলেও হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরান এখনো কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজায়ি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ ও অবরুদ্ধ পুরোপুরি বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খোলা হবে না।

তেহরানের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে: ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ ও অবরোধের সম্পূর্ণ অবসান, বিদেশে হিমায়িত ইরানি সম্পদ মুক্ত করা ও মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে একটি আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা।

রেজায়ি বলেছেন, এসব শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে। অর্থাৎ শুধু জাহাজ চলাচল নিয়ে সাময়িক কোনো সমঝোতার পরিবর্তে বৃহত্তর রাজনৈতিক ও সামরিক সমাধানের সঙ্গে হরমুজ প্রণালি খোলার বিষয়টি যুক্ত করেছে তেহরান।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভি তেহরানে পৌঁছেছেন। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধের অবসান এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল পুনরায় চালুর লক্ষ্যে মধ্যস্থতার অংশ হিসেবে তিনি ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন।

পাকিস্তান এর আগে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ তৈরিতে আগ্রহ দেখিয়েছে। নাকভির সফরকে সেই মধ্যস্থতা প্রচেষ্টারই অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইরানের সঙ্গে আলোচনায় পাকিস্তান একদিকে যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাব্য পথ খুঁজবে, অন্যদিকে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়ে তেহরানের অবস্থান বোঝার চেষ্টা করবে।

এদিকে, ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংঘাতের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র অধিকৃত পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছেন জাতিসংঘ। জাতিসংঘের উপ-সমন্বয়ক রামিজ আলাকবারভ বলেছেন, অধিকৃত পশ্চিম তীর বর্তমানে ‘ব্রেকিং পয়েন্টে’ বা সংকটের চরম সীমায় পৌঁছে গেছে।

তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর পশ্চিম তীরে ৭৬ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১৮ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক। পশ্চিম তীরে সহিংসতা, সামরিক অভিযান, বসতি সম্প্রসারণ এবং ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগ বাড়ছে। জাতিসংঘের এই সতর্কবার্তা অঞ্চলটির সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা সামনে এনেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সওজের নতুন প্রধান প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:২৮ পি.এম


সওজের নতুন প্রধান প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান

মো. মনিরুজ্জামান সাময়িকভাবে (চলতি দায়িত্ব) সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের (সওজ) প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। এই নিয়োগের মাধ্যমে সৈয়দ মঈনুল হাসানের স্থলাভিষিক্ত হলেন তিনি।

বুধবার (১২ আগস্ট) সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এ নিয়োগ সংক্রান্ত এক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। মনিরুজ্জামান সওজের ১৮তম ব্যাচের কর্মকর্তা এবং তিনি পরিকল্পনা ও রক্ষণাবেক্ষণ উইংয়ের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

এর আগে, মঙ্গলবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন নিয়োগ-১ শাখা থেকে এক প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) (গ্রেড-৩) সৈয়দ মঈনুল হাসানকে পরবর্তী পদায়নের জন্য (স্ব-বেতনে) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব জেতী প্রু স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, জনস্বার্থে জারিকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

১৬ বছরের সমস্যা ৫-৬ মাসে সমাধান করা সম্ভব নয়: মাহদী আমিন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:৩০ পি.এম


১৬ বছরের সমস্যা ৫-৬ মাসে সমাধান করা সম্ভব নয়: মাহদী আমিন

ঢাকা, ১২ আগস্ট, ২০২৬ : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা এবং তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন মন্তব্য করেছেন, বিগত ১৬ বছরের পুঞ্জীভূত প্রশাসনিক ও অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে জ্বালানি খাত বর্তমানে এক বিরাট চ্যালেঞ্জের সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছে। বাস্তবিকভাবেই, দীর্ঘকাল ধরে চলে আসা এই স্থবির সমস্যা মাত্র পাঁচ বা ছয় মাসের মধ্যে পুরোপুরি সমাধান করা সম্ভব নয়।

আজ বুধবার, রাজধানীর বাংলাদেশ চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ‘এসডিজি অর্জনে পাঁচ বছর মেয়াদী কৌশলগত কাঠামো বাস্তবায়ন: নীতি, অংশীদারিত্ব ও অগ্রাধিকার’ শীর্ষক জাতীয় সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহ্দী আমিন আরও বলেন, ‘বিগত ১৬ বছরের পুঞ্জীভূত প্রশাসনিক ও অবকাঠামোগত বিষয়গুলো বর্তমানে জ্বালানি খাতকে এক বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। বাস্তবিক অর্থে দীর্ঘদিনের এই স্থবির সমস্যা পাঁচ বা ছয় মাসে পুরোপুরি সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে আশার কথা হলো, প্রধানমন্ত্রীর স্পষ্ট দিকনির্দেশনার অধীনে এখানে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও অংশীজনেরা যৌথভাবে কাজ করছেন, যাতে এই খাতে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়। পাশাপাশি দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে। ইনশাআল্লাহ, কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে মধ্যমেয়াদে জ্বালানি সংকটের একটি টেকসই এবং বাস্তবসম্মত সমাধান আসবে।’

‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’ চালুর প্রসঙ্গে মাহদী আমিন বলেন, আমরা সরাসরি জেলা পর্যায়ে পৌঁছে যাব এবং সেখানে স্থানীয় নিয়োগকর্তা ও চাকরি প্রার্থীদের মধ্যে একটি সংযোগ স্থাপন করবো, যারা কর্মসংস্থান তৈরি করতে চান এবং যারা কর্মসংস্থানের সুযোগ খুঁজছেন। অফলাইন ও অনলাইন উভয় প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে আমরা তাদের নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে দিব। এই উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় কারিগরি দক্ষতা সৃষ্টি, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং একটি কার্যকর রেফারেল সিস্টেম গড়ে তোলা হবে, যেখানে প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা ও যোগ্যতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বেসরকারি খাতকে সরাসরি যুক্ত করা হবে। এই সময়োপযোগী উদ্যোগটি প্রথমদিকে বিভাগীয় পর্যায়ে শুরু হবে এবং পরে সারা দেশের প্রতিটি জেলায় প্রসারিত হবে।

পিছিয়ে পড়া ও প্রান্তিক জনগণের সুফলের বিষয়ে মাহদী আমিন দৃঢ়ভাবে বলেন, সমাজের কোনো নাগরিককে যেন জাতীয় প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের প্রবাহ থেকে পিছিয়ে না রাখা হয়, সেটি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সুবিধা বঞ্চিতদের জাতীয় অর্থনীতি ও সামাজিক সুরক্ষার মূলধারায় পূর্ণাঙ্গভাবে অন্তর্ভুক্ত করাই বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

মাহদী আমিন বললেন, সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক অভিমত এবং ভোটাধিকারের ভিত্তিতে এই সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। নির্বাচনী এই নিরঙ্কুশ বিজয়ে সকল স্তরের জনগণের অসামান্য অবদান রয়েছে। ফলে প্রতিটি নাগরিকের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও পারিবারিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য।

তিনি জানান, শুধু সাময়িক উন্নয়ন নয়, বরং এমন একটি প্রশাসনিক কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে, যেখানে প্রতিটি নাগরিকের সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধান হবে এবং তাঁদের স্বনির্ভরতা নিশ্চিত হবে। দায়িত্বের জায়গা থেকে সরকার এই অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাবে।

বর্তমান সরকারের প্রথম বাজেটের ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরে মাহদী আমিন বলেন, তৃণমূলের মানুষের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার জন্য স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে চাল, ডাল, তেল, চিনি, আটাসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর থেকে কর ও ভ্যাট কমানো হয়েছে। এর ফলে বাজারে কোনো অসাধু সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট তৈরির সাহস পায়নি।

তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও সরকার কঠোর ব্যবস্থাপনায় দেশের বাজারে তেলের দাম পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রেখেছে, যাতে নিম্নবিত্ত ও শ্রমজীবী মানুষ আরামে থাকতে পারেন। তিনি জানান, শিগগিরই স্বাস্থ্য খাতের আওতায় ১ লাখ নতুন পদ সৃষ্টি হবে এবং কর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে, যার মধ্যে ৮০ হাজার পদে নারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র জানালেন, পাহাড়ি কিংবা সমতলের বাসিন্দা, ধর্ম-বর্ণ, রাজনৈতিক আদর্শ কিংবা শারীরিক ও সামাজিকভাবে সক্ষম-অক্ষম, নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষই বাংলাদেশের নাগরিক। ভিন্ন মতামত ও বৈচিত্র্যকে পূর্ণ শ্রদ্ধা ও ধারণ করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।

তিনি বলেন, বৈচিত্র্যের মধ্যে বাংলাদেশের আসল রূপ বিদ্যমান। তাই রাষ্ট্রের দৃষ্টিতে এবং সরকারের নীতিমালায় দেশের প্রতিটি নাগরিক যেন সমান অধিকার, স্বাধীনতা এবং উন্নয়নের সমপরিমাণ অংশীদারত্ব লাভ করতে পারে, সে লক্ষ্যেই সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার জন্য নাগরিক প্ল্যাটফর্ম-এর আহ্বায়ক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন, বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য বেগম সেলিমা রহমান, সংসদ সদস্য মাধবী মারমা প্রমুখ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পূর্ণ সূর্যগ্রহণে নেমে আসবে অন্ধকার, দেখা যাবে বিরল সূর্যাস্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:৩৩ পি.এম


পূর্ণ সূর্যগ্রহণে নেমে আসবে অন্ধকার, দেখা যাবে বিরল সূর্যাস্ত

বুধবার (১২ আগস্ট) বছরের অন্যতম মহাজাগতিক মহোৎসব হাজির হয়েছে। নাসার তথ্যানুযায়ী, চাঁদ যখন পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে চলে আসে এবং কিছু এলাকায় সূর্যের আলো পুরোপুরি অবরুদ্ধ করে ফেলে, তখনই ঘটে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ।

স্পেনের লিওনে রাত ৮:২৮ মিনিটে শুরু হয়ে তা স্থায়ী হবে প্রায় দুই মিনিট। আজকের বিরল সূর্যগ্রহণের মূল ছায়াপথের আওতায় থাকবে আইসল্যান্ড, উত্তর স্পেন ও উত্তর-পূর্ব পর্তুগালের একটি ছোট অংশ। সেখানে দিনের বেলাতেই সাময়িকভাবে নেমে আসবে অন্ধকার, বিশেষ করে স্পেনে তৈরি হবে সূর্যাস্তের এক অপূর্ব দৃশ্য।

অন্যদিকে, উত্তর আমেরিকা, কানাডা, ইউরোপের অধিকাংশ এলাকা ও উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকায় আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে। যুক্তরাজ্যে যেখানে ২০৯০ সালের আগে কোনও পূর্ণগ্রাস দেখা যাবে না, সেখানে আজ ৯৫ শতাংশ আংশিক গ্রহণ দেখা যাবে। গ্রিনল্যান্ড ও আইসল্যান্ডে সবচেয়ে দীর্ঘ সময়, প্রায় ২ মিনিট ১৫ সেকেন্ড পর্যন্ত স্থায়ী হবে পূর্ণগ্রাস।

ডেনভারের ল্যাবরেটরি ফর অ্যাটমোস্ফেরিক অ্যান্ড স্পেস ফিজিক্সের সৌর জ্যোতির্বিজ্ঞানী ড. রায়ান ফ্রেঞ্চ জানান, প্রায় পুরো স্পেনের ওপর দিয়ে সূর্য যখন দিগন্তে অস্ত যাবে, ততক্ষণে পূর্ণগ্রাস শেষ হলেও অস্তগামী সূর্যকে অর্ধচন্দ্রাকারে দেখা যাবে, যা এক চমৎকার দৃশ্য।

সূর্যগ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার সকালের মধ্যে পারসিডস উল্কাবৃষ্টি চূড়ান্ত রূপ নেবে।

মহাজাগতিক এই দৃশ্য সরাসরি দেখতে বাইরে থাকা দর্শনার্থীদের জন্য সার্টিফাইড এক্লিপ্স চশমা ব্যবহারের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ক্যামেরার লেন্স, দূরবীন বা বাইনোকুলারের মতো ফিল্টারহীন অপটিক্যাল ডিভাইসের মাধ্যমে চোখ রক্ষা করা সম্ভব নয়। যারা সরাসরি দেখতে পাবেন না, তাদের জন্য ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা স্পেনের টেরুয়েলের জাভালামব্রে অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল অবজারভেটরি থেকে সরাসরি সম্প্রচার করবে এবং নাসা রাত ১:১৫ (ইটি) থেকে লাইভ ব্রডকাস্টের আয়োজন করেছে।

গ্রহণের সময় সূর্যের ছায়ায় চাঁদের উপত্যকা দিয়ে ছোট আলোর বিন্দু ফুটলে তাকে বেইলি’স বিডস বলা হয়, যা ১৮৩৬ সালে ইংরেজ জ্যোতির্বিজ্ঞানী ফ্রান্সিস বেইলি প্রথম চিহ্নিত করেছিলেন। এরপর শেষ একবিন্দু আলোর হিরের মতো জ্বলজ্বল করে উঠলে একে বলা হয় ডায়মন্ড রিং। কেবল পূর্ণগ্রাসের ওই সংক্ষিপ্ত সময়েই চশমা ছাড়া চোখে দেখা নিরাপদ। এ সময় সূর্যের অতি উত্তপ্ত বাইরের বায়ুমণ্ডল করোনা সাদা আলোর স্রোতের মতো এবং পাতলা গোলাপি বৃত্তাকারে ক্রোমোস্ফিয়ার দৃশ্যমান হয়। তাপমাত্রাও দ্রুত কমে যায় এবং পশুপাখিরা অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করে।

এদিকে, দুদিন পরই বিরল পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ, দেখতে পাবেন যেসব দেশের মানুষ। এই বিরল মহাজাগতিক মুহূর্তের ছবি তোলার চেয়েও সঙ্গে থাকা বন্ধুবান্ধব ও পরিবারের অনাবিল প্রতিক্রিয়ার ভিডিও ধারণ করার পরামর্শ দিয়েছেন ড. ফ্রেঞ্চ। তারা যারা তৃপ্ত হবেন না, তারা ২০২৭ সালের ২ আগস্টের জন্য প্রস্তুতি নিতে পারেন; সেদিন স্পেন, মরক্কো, মিসর, সৌদি আরব ও ইয়েমেনসহ বেশ কিছু দেশে ৬ মিনিটেরও বেশি সময় ধরে স্থায়ী হবে আরেকটি পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৯
মাগরিব ০৫:২৬
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%