প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ১২ আগস্ট, ২০২৬ : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা এবং তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন মন্তব্য করেছেন, বিগত ১৬ বছরের পুঞ্জীভূত প্রশাসনিক ও অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে জ্বালানি খাত বর্তমানে এক বিরাট চ্যালেঞ্জের সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছে। বাস্তবিকভাবেই, দীর্ঘকাল ধরে চলে আসা এই স্থবির সমস্যা মাত্র পাঁচ বা ছয় মাসের মধ্যে পুরোপুরি সমাধান করা সম্ভব নয়।
আজ বুধবার, রাজধানীর বাংলাদেশ চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ‘এসডিজি অর্জনে পাঁচ বছর মেয়াদী কৌশলগত কাঠামো বাস্তবায়ন: নীতি, অংশীদারিত্ব ও অগ্রাধিকার’ শীর্ষক জাতীয় সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
মাহ্দী আমিন আরও বলেন, ‘বিগত ১৬ বছরের পুঞ্জীভূত প্রশাসনিক ও অবকাঠামোগত বিষয়গুলো বর্তমানে জ্বালানি খাতকে এক বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। বাস্তবিক অর্থে দীর্ঘদিনের এই স্থবির সমস্যা পাঁচ বা ছয় মাসে পুরোপুরি সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে আশার কথা হলো, প্রধানমন্ত্রীর স্পষ্ট দিকনির্দেশনার অধীনে এখানে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও অংশীজনেরা যৌথভাবে কাজ করছেন, যাতে এই খাতে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়। পাশাপাশি দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে। ইনশাআল্লাহ, কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে মধ্যমেয়াদে জ্বালানি সংকটের একটি টেকসই এবং বাস্তবসম্মত সমাধান আসবে।’
‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’ চালুর প্রসঙ্গে মাহদী আমিন বলেন, আমরা সরাসরি জেলা পর্যায়ে পৌঁছে যাব এবং সেখানে স্থানীয় নিয়োগকর্তা ও চাকরি প্রার্থীদের মধ্যে একটি সংযোগ স্থাপন করবো, যারা কর্মসংস্থান তৈরি করতে চান এবং যারা কর্মসংস্থানের সুযোগ খুঁজছেন। অফলাইন ও অনলাইন উভয় প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে আমরা তাদের নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে দিব। এই উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় কারিগরি দক্ষতা সৃষ্টি, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং একটি কার্যকর রেফারেল সিস্টেম গড়ে তোলা হবে, যেখানে প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা ও যোগ্যতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বেসরকারি খাতকে সরাসরি যুক্ত করা হবে। এই সময়োপযোগী উদ্যোগটি প্রথমদিকে বিভাগীয় পর্যায়ে শুরু হবে এবং পরে সারা দেশের প্রতিটি জেলায় প্রসারিত হবে।
পিছিয়ে পড়া ও প্রান্তিক জনগণের সুফলের বিষয়ে মাহদী আমিন দৃঢ়ভাবে বলেন, সমাজের কোনো নাগরিককে যেন জাতীয় প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের প্রবাহ থেকে পিছিয়ে না রাখা হয়, সেটি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সুবিধা বঞ্চিতদের জাতীয় অর্থনীতি ও সামাজিক সুরক্ষার মূলধারায় পূর্ণাঙ্গভাবে অন্তর্ভুক্ত করাই বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
মাহদী আমিন বললেন, সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক অভিমত এবং ভোটাধিকারের ভিত্তিতে এই সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। নির্বাচনী এই নিরঙ্কুশ বিজয়ে সকল স্তরের জনগণের অসামান্য অবদান রয়েছে। ফলে প্রতিটি নাগরিকের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও পারিবারিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য।
তিনি জানান, শুধু সাময়িক উন্নয়ন নয়, বরং এমন একটি প্রশাসনিক কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে, যেখানে প্রতিটি নাগরিকের সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধান হবে এবং তাঁদের স্বনির্ভরতা নিশ্চিত হবে। দায়িত্বের জায়গা থেকে সরকার এই অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাবে।
বর্তমান সরকারের প্রথম বাজেটের ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরে মাহদী আমিন বলেন, তৃণমূলের মানুষের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার জন্য স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে চাল, ডাল, তেল, চিনি, আটাসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর থেকে কর ও ভ্যাট কমানো হয়েছে। এর ফলে বাজারে কোনো অসাধু সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট তৈরির সাহস পায়নি।
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও সরকার কঠোর ব্যবস্থাপনায় দেশের বাজারে তেলের দাম পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রেখেছে, যাতে নিম্নবিত্ত ও শ্রমজীবী মানুষ আরামে থাকতে পারেন। তিনি জানান, শিগগিরই স্বাস্থ্য খাতের আওতায় ১ লাখ নতুন পদ সৃষ্টি হবে এবং কর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে, যার মধ্যে ৮০ হাজার পদে নারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র জানালেন, পাহাড়ি কিংবা সমতলের বাসিন্দা, ধর্ম-বর্ণ, রাজনৈতিক আদর্শ কিংবা শারীরিক ও সামাজিকভাবে সক্ষম-অক্ষম, নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষই বাংলাদেশের নাগরিক। ভিন্ন মতামত ও বৈচিত্র্যকে পূর্ণ শ্রদ্ধা ও ধারণ করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।
তিনি বলেন, বৈচিত্র্যের মধ্যে বাংলাদেশের আসল রূপ বিদ্যমান। তাই রাষ্ট্রের দৃষ্টিতে এবং সরকারের নীতিমালায় দেশের প্রতিটি নাগরিক যেন সমান অধিকার, স্বাধীনতা এবং উন্নয়নের সমপরিমাণ অংশীদারত্ব লাভ করতে পারে, সে লক্ষ্যেই সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার জন্য নাগরিক প্ল্যাটফর্ম-এর আহ্বায়ক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন, বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য বেগম সেলিমা রহমান, সংসদ সদস্য মাধবী মারমা প্রমুখ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন