০৫:৩৩ পি.এম
বুধবার (১২ আগস্ট) বছরের অন্যতম মহাজাগতিক মহোৎসব হাজির হয়েছে। নাসার তথ্যানুযায়ী, চাঁদ যখন পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে চলে আসে এবং কিছু এলাকায় সূর্যের আলো পুরোপুরি অবরুদ্ধ করে ফেলে, তখনই ঘটে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ।
স্পেনের লিওনে রাত ৮:২৮ মিনিটে শুরু হয়ে তা স্থায়ী হবে প্রায় দুই মিনিট। আজকের বিরল সূর্যগ্রহণের মূল ছায়াপথের আওতায় থাকবে আইসল্যান্ড, উত্তর স্পেন ও উত্তর-পূর্ব পর্তুগালের একটি ছোট অংশ। সেখানে দিনের বেলাতেই সাময়িকভাবে নেমে আসবে অন্ধকার, বিশেষ করে স্পেনে তৈরি হবে সূর্যাস্তের এক অপূর্ব দৃশ্য।
অন্যদিকে, উত্তর আমেরিকা, কানাডা, ইউরোপের অধিকাংশ এলাকা ও উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকায় আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে। যুক্তরাজ্যে যেখানে ২০৯০ সালের আগে কোনও পূর্ণগ্রাস দেখা যাবে না, সেখানে আজ ৯৫ শতাংশ আংশিক গ্রহণ দেখা যাবে। গ্রিনল্যান্ড ও আইসল্যান্ডে সবচেয়ে দীর্ঘ সময়, প্রায় ২ মিনিট ১৫ সেকেন্ড পর্যন্ত স্থায়ী হবে পূর্ণগ্রাস।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী শিশু হাসপাতালে চিকিৎসকের ধূমপান দেখে বরখাস্তের নির্দেশ দেন
ডেনভারের ল্যাবরেটরি ফর অ্যাটমোস্ফেরিক অ্যান্ড স্পেস ফিজিক্সের সৌর জ্যোতির্বিজ্ঞানী ড. রায়ান ফ্রেঞ্চ জানান, প্রায় পুরো স্পেনের ওপর দিয়ে সূর্য যখন দিগন্তে অস্ত যাবে, ততক্ষণে পূর্ণগ্রাস শেষ হলেও অস্তগামী সূর্যকে অর্ধচন্দ্রাকারে দেখা যাবে, যা এক চমৎকার দৃশ্য।
সূর্যগ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার সকালের মধ্যে পারসিডস উল্কাবৃষ্টি চূড়ান্ত রূপ নেবে।
মহাজাগতিক এই দৃশ্য সরাসরি দেখতে বাইরে থাকা দর্শনার্থীদের জন্য সার্টিফাইড এক্লিপ্স চশমা ব্যবহারের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ক্যামেরার লেন্স, দূরবীন বা বাইনোকুলারের মতো ফিল্টারহীন অপটিক্যাল ডিভাইসের মাধ্যমে চোখ রক্ষা করা সম্ভব নয়। যারা সরাসরি দেখতে পাবেন না, তাদের জন্য ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা স্পেনের টেরুয়েলের জাভালামব্রে অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল অবজারভেটরি থেকে সরাসরি সম্প্রচার করবে এবং নাসা রাত ১:১৫ (ইটি) থেকে লাইভ ব্রডকাস্টের আয়োজন করেছে।
গ্রহণের সময় সূর্যের ছায়ায় চাঁদের উপত্যকা দিয়ে ছোট আলোর বিন্দু ফুটলে তাকে বেইলি’স বিডস বলা হয়, যা ১৮৩৬ সালে ইংরেজ জ্যোতির্বিজ্ঞানী ফ্রান্সিস বেইলি প্রথম চিহ্নিত করেছিলেন। এরপর শেষ একবিন্দু আলোর হিরের মতো জ্বলজ্বল করে উঠলে একে বলা হয় ডায়মন্ড রিং। কেবল পূর্ণগ্রাসের ওই সংক্ষিপ্ত সময়েই চশমা ছাড়া চোখে দেখা নিরাপদ। এ সময় সূর্যের অতি উত্তপ্ত বাইরের বায়ুমণ্ডল করোনা সাদা আলোর স্রোতের মতো এবং পাতলা গোলাপি বৃত্তাকারে ক্রোমোস্ফিয়ার দৃশ্যমান হয়। তাপমাত্রাও দ্রুত কমে যায় এবং পশুপাখিরা অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করে।
আরও পড়ুন: ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলায় নিহত ৮, বিদ্যুৎহীন ১০ লাখ মানুষ
এদিকে, দুদিন পরই বিরল পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ, দেখতে পাবেন যেসব দেশের মানুষ। এই বিরল মহাজাগতিক মুহূর্তের ছবি তোলার চেয়েও সঙ্গে থাকা বন্ধুবান্ধব ও পরিবারের অনাবিল প্রতিক্রিয়ার ভিডিও ধারণ করার পরামর্শ দিয়েছেন ড. ফ্রেঞ্চ। তারা যারা তৃপ্ত হবেন না, তারা ২০২৭ সালের ২ আগস্টের জন্য প্রস্তুতি নিতে পারেন; সেদিন স্পেন, মরক্কো, মিসর, সৌদি আরব ও ইয়েমেনসহ বেশ কিছু দেশে ৬ মিনিটেরও বেশি সময় ধরে স্থায়ী হবে আরেকটি পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন