প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
হরমুজের পাশাপাশি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ বাব এল-মান্দেব প্রণালিতেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। ইয়েমেনের কোস্টগার্ড জানিয়েছে, বাব এল-মান্দেব প্রণালিতে দেশটির সশস্ত্র বিদ্রোহী হুতিদের হামলায় একটি বাণিজ্যিক জাহাজে থাকা ছয়জন নিহত এবং আরও ১০ জন আহত হয়েছেন।
আজ বুধবার (১২ আগস্ট) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর সমুদ্রপথে হুতিদের হামলায় প্রথম প্রাণহানির ঘটনা এটি।
ইয়েমেনের পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজটি লক্ষ্য করে হুতিরা তিনটি ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করলে জাহাজে অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয় এবং জাহাজের মারাত্মক ক্ষতি হয়।
এতে তিনজন পাকিস্তানি এবং একজন ইন্দোনেশীয় নাগরিক নিহত হন। পরবর্তীতে আহত ও নিহতদের উদ্ধারের সময় ইয়েমেনের কোস্টগার্ডের উদ্ধারকারী দলকে লক্ষ্য করে হুতিরা পুনরায় আরেকটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। ফলে উদ্ধারকাজে নিয়োজিত বাহিনীর আরও দুই সেনা সদস্য নিহত হন।
হুতি নিয়ন্ত্রিত সাবা নিউজ এজেন্সি দাবি করেছে, হুতিরা একটি সৌদি জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, জাহাজটি সামরিক সরঞ্জাম বহন করছিল।
এদিকে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ভবিষ্যৎ নিয়ে ওমান ও ইরানের মধ্যে আলোচনা উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে বলে জানিয়েছে কাতার। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের অবসান এবং হরমুজ সংকট নিরসনে মধ্যস্থতার উদ্যোগ হিসেবে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভি তেহরানে পৌঁছে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, পানামার পতাকাবাহী একটি বাণিজ্যিক জাহাজ ইরানের একটি বন্দরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। মার্কিন বাহিনীর পক্ষ থেকে জাহাজটিকে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও সেটি নির্দেশনা উপেক্ষা করে এগিয়ে যায়।
এরপর মার্কিন বাহিনী জাহাজটির স্টিয়ারিং গিয়ারে দুইটি হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এতে জাহাজটির চলাচল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অচল হয়ে যায়।
মার্কিন বাহিনীর ভাষ্য, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান অবরোধ ভেঙে জাহাজটি ইরানি বন্দরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। তবে ঘটনাটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
শুধু একটি জাহাজ নয়, হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ কার্যকর করতে যুক্তরাষ্ট্র আরও ব্যাপক পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানিয়েছে সেন্টকম।
সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন বাহিনী অবরোধ অতিক্রম করে যাওয়ার চেষ্টা করা ৫৫টি বাণিজ্যিক জাহাজকে গতিপথ পরিবর্তন করতে বাধ্য করেছে। এর মধ্যে তিনটি জাহাজকে অচল করা হয়েছে এবং দুটি জাহাজে মার্কিন বাহিনী উঠে অভিযান পরিচালনা করেছে।
এই পদক্ষেপের ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিতে সামুদ্রিক বাণিজ্য আরও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গেছে।
পারস্য উপসাগর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাস পরিবহনের জন্য হরমুজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে দীর্ঘস্থায়ী বাধা সৃষ্টি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাজারে এর বড় প্রভাব পড়তে পারে।
এদিকে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার সম্ভাবনা নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতাও চলছে। কাতার জানিয়েছে, প্রণালির ভবিষ্যৎ এবং সেখানে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিয়ে ওমান ও ইরানের মধ্যে আলোচনা ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’ করেছে।
ওমান দীর্ঘদিন ধরে ইরান ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করে আসছে। ফলে হরমুজ সংকট নিরসনে মাসকাটের ভূমিকা এখন বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে আলোচনায় অগ্রগতি হলেও হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরান এখনো কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজায়ি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ ও অবরুদ্ধ পুরোপুরি বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খোলা হবে না।
তেহরানের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে: ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ ও অবরোধের সম্পূর্ণ অবসান, বিদেশে হিমায়িত ইরানি সম্পদ মুক্ত করা ও মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে একটি আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা।
রেজায়ি বলেছেন, এসব শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে। অর্থাৎ শুধু জাহাজ চলাচল নিয়ে সাময়িক কোনো সমঝোতার পরিবর্তে বৃহত্তর রাজনৈতিক ও সামরিক সমাধানের সঙ্গে হরমুজ প্রণালি খোলার বিষয়টি যুক্ত করেছে তেহরান।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভি তেহরানে পৌঁছেছেন। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধের অবসান এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল পুনরায় চালুর লক্ষ্যে মধ্যস্থতার অংশ হিসেবে তিনি ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন।
পাকিস্তান এর আগে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ তৈরিতে আগ্রহ দেখিয়েছে। নাকভির সফরকে সেই মধ্যস্থতা প্রচেষ্টারই অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইরানের সঙ্গে আলোচনায় পাকিস্তান একদিকে যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাব্য পথ খুঁজবে, অন্যদিকে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়ে তেহরানের অবস্থান বোঝার চেষ্টা করবে।
এদিকে, ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংঘাতের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র অধিকৃত পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছেন জাতিসংঘ। জাতিসংঘের উপ-সমন্বয়ক রামিজ আলাকবারভ বলেছেন, অধিকৃত পশ্চিম তীর বর্তমানে ‘ব্রেকিং পয়েন্টে’ বা সংকটের চরম সীমায় পৌঁছে গেছে।
তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর পশ্চিম তীরে ৭৬ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১৮ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক। পশ্চিম তীরে সহিংসতা, সামরিক অভিযান, বসতি সম্প্রসারণ এবং ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগ বাড়ছে। জাতিসংঘের এই সতর্কবার্তা অঞ্চলটির সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা সামনে এনেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন