০৯:৩৪ পি.এম
ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক এবং নেতৃত্ব ভিত্তিক সম্পর্ককে আরও জোরদার করার উদ্দেশ্যে চার দিন ব্যাপী এক কর্মসূচির মাধ্যমে ৬০ জন বাংলাদেশি তরুণ ও তরুণীদের যোগাযোগ, নেতৃত্ব এবং দর-কষাকষি (নেগোশিয়েশন) দক্ষতার প্রশিক্ষণ প্রদান করেছে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস।
আজ গুলশানের একটি হোটেলে আয়োজন করা ‘দ্য আর্ট অফ দ্য ডিল: আমেরিকান এক্সেলেন্স ইন নেগোশিয়েশন স্কিলস’ শীর্ষক কর্মসূচির সমাপনী অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন উপস্থিত ছিলেন। তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের একটি নতুন প্রজন্মের বাংলাদেশি নেতা হিসেবে অভিহিত করেন, যারা গুরুত্বপূর্ণ দর-কষাকষি ও নেতৃত্বের ক্ষেত্রে কৌশলী হয়ে উঠছে।
মার্কিন ইংরেজি ভাষা বিশেষজ্ঞ জোয়ান মুনিস্টেরির সহযোগিতায় আয়োজিত এ কর্মসূচিতে ঢাকা, চট্টগ্রাম এবং সিলেটের ‘অ্যাকসেস ইংলিশ’ কর্মসূচির ৬০ জন সাবেক শিক্ষার্থী অংশ গ্রহণ করেন।
আরও পড়ুন: উখিয়ায় ১৫ ঘণ্টা পরও জ্বলছে গ্যাসের আগুন, ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ
প্রশিক্ষণের পাঠ্যক্রমের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বই ‘দ্য আর্ট অফ দ্য ডিল’-এর নীতিমালা ছাড়াও দর-কষাকষি, যোগাযোগ এবং নেতৃত্ব উন্নয়ন বিষয়ে প্রচলিত মার্কিন পদ্ধতিগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন মন্তব্য করেন যে, তারা বিশ্বের অন্যতম সফল চুক্তি-সম্পাদনকারীর অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ‘দর-কষাকষির ওপর একটি মাস্টারক্লাস’ গ্রহণ করেছেন।
তিনি ২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময়কার একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা শেয়ার করে বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্ব ও দর-কষাকষির ধরণ বুঝতে তিনি এক বিদেশি কূটনীতিককে ‘দ্য আর্ট অফ দ্য ডিল’ বইটি পড়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন।
ক্রিস্টেনসেন বলেন, ‘আমি দেখেছি তিনি বইটিতে বর্ণিত নীতিগুলোই অনুসরণ করছিলেন।’ তিনি এ মন্তব্য করেন যে, ওই দেশের নেতাদের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের যোগাযোগের প্রসঙ্গ টেনে।
আরও পড়ুন: তাহিরপুরে প্রবাসীর স্ত্রী ও পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে উধাও নাজমুল, পরিবার উদ্বিগ্ন
রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, প্রশিক্ষণে শেখানো কৌশলগুলো দর-কষাকষির ক্ষেত্রে মার্কিন পদ্ধতির গুরুত্বপূর্ণ উপাদানকে তুলে ধরে। এর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে প্রস্তুতি, স্পষ্ট যোগাযোগ, কৌশলগত চিন্তা, পারস্পরিক লাভজনক অংশীদারিত্ব এবং বাস্তবধর্মী দৃষ্টিভঙ্গি।
তিনি জানিয়ে দেন, ‘সফল দর-কষাকষি কেবল চুক্তি সম্পাদনের বিষয় নয়, যদিও সেটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। এটি আস্থা ভিত্তিক সম্পর্ক গড়ে তোলা, সমস্যার সমাধান করা এবং নতুন সুযোগ সৃষ্টি করার সঙ্গেও সম্পর্কিত।’
ক্রিস্টেনসেন মন্তব্য করেন যে, বিদেশে কার্যক্রম পরিচালিত মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো এমন আত্মবিশ্বাসী নেতাদের মূল্যায়ন করে, যারা আমেরিকানদের যোগাযোগ ও দর-কষাকষির ধরন সম্পর্কে সঠিক ধারণা রাখেন।
তিনি বলেন, ‘যারা বুঝতে পারেন আমেরিকানরা কীভাবে দর-কষাকষি করে, তাদের সঙ্গে কাজ করা কিংবা দর-কষাকষি করা সত্যিই সহায়ক।’
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নলকূপ খননের স্থান থেকে গ্যাসের আগুন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে
রাষ্ট্রদূত আশা প্রকাশ করেন যে, এ কর্মসূচি বাংলাদেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ব্যবসায়িক সম্পর্ককে আরও শক্তশালী করবে এবং দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে।
তিনি প্রশিক্ষক ও অংশগ্রহণকারীদের ধন্যবাদ জানান এবং কোর্সে অর্জিত দক্ষতাগুলো নিজেদের কর্মক্ষেত্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজে প্রয়োগ ও ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান করেন।
তিনি জানান, ‘সফল দর-কষাকষি সম্পর্কে যে উত্তম চর্চাগুলো আপনারা শিখেছেন, সেগুলো অন্যদের মধ্যেও ছড়িয়ে দেবেন বলে আমি আশা করি।’
মার্কিন দূতাবাস জানায়, এ উদ্যোগ বাংলাদেশের তরুণদের নেতৃত্ব, যোগাযোগ ও পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের মধ্যে সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ।
আরও পড়ুন: সেনাপ্রধানের সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ, এলএফটি-২০২৬ সফলভাবে সম্পন্ন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন