০৫:২০ পি.এম
যশোরের মনিরামপুর উপজেলার দূর্বাডাঙ্গা ইউনিয়নের হরিণা গ্রামে প্রত্যয় সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতির কার্যালয়ের সামনে শুক্রবার ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা অবস্থান নেন। তাদের মধ্যে একজন রিনা বিশ্বাস জানান, ‘স্বামী-স্ত্রী মিলিয়ে শ্রমিকের কাজ করে অনেক কষ্টে ১২ লাখ টাকা জমিয়েছিলাম। ছেলেমেয়ের ভবিষ্যৎ এবং একটি ঘর নির্মাণের স্বপ্ন ছিল আমাদের। ১০ শতাংশ লাভের আশায় সেই টাকা আমানত রেখেছিলাম সমিতিতে। কিন্তু এখন জানতে পারলাম সমিতির পরিচালক উধাও। মনে হচ্ছে জীবনের সব পরিশ্রম মুহূর্তেই শেষ হয়ে গেল।’
রিনা বিশ্বাসের মতো প্রায় ৪০০ গ্রাহক আমানত রেখেছিলেন ওই সমিতিতে। অভিযোগ করা হয়েছে যে, সম্প্রতি পরিচালক প্রভাসিন্ধু বিশ্বাস সেন্টু চার শতাধিক গ্রাহকের প্রায় দুই কোটি টাকা নিয়ে আত্মগোপন করেছেন।
এদিকে, ঘটনার প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা সমিতির কার্যালয়ের সামনে অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছেন। এর পাশাপাশি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, থানা ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন তারা।
আরও পড়ুন: শেরপুরে বাস-সিএনজির সংঘর্ষে জুয়েল মিয়া নিহত, আহত ৪
এই পরিস্থিতিতে গ্রাহকদের চাপের মুখে সমিতির পরিচালকের পরিবারের সদস্য ও কর্মচারীরা কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায় পড়েছেন। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করছেন, সমিতিটি দীর্ঘদিন ধরে ১০ থেকে ১২ শতাংশ লাভের আশায় সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা আমানত ও সঞ্চয় সংগ্রহ করে আসছিল। গত ৪ জুলাই তারা জানতে পারেন, পরিচালক প্রভাসিন্ধু বিশ্বাস সেন্টু সমিতির বিপুল পরিমাণ অর্থ নিয়ে পালিয়ে গেছেন। এরপর থেকেই কার্যালয়ে তালা ঝুলছে এবং পরিচালক কিংবা দায়িত্বশীল কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।
গত শুক্রবার (১০ জুলাই) সরেজমিন পরিদর্শনকালে দেখা যায় কার্যালয়ে তালা ঝুলছে। গ্রাহক দাবি করা কয়েকজনের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, পরিচালক উধাও হয়ে যাওয়ার ফলে তারা নিজেদের আমানতের টাকা ফেরত পাবেন কি না, সেটা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন।
প্রভাতী বিশ্বাস নামের একজন জানান, ‘আমি ১০ শতাংশ লাভের আশায় এককালীন আট লাখ ২০ হাজার টাকা জমা রেখেছিলাম। কিন্তু টাকা ফেরত চেয়েও নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হয়েছে।’ অন্যদিকে, সাবিত্রী বিশ্বাস বলেন, ‘মেয়ের বিয়ের জন্য দুই লাখ টাকা জমা রেখেছিলাম। এখন সেই টাকাই নেই। মেয়ের বিয়ে কীভাবে দেব, কিছুই বুঝতে পারছি না।’
সমিতির হিসাবরক্ষক মধুসূদন মণ্ডল বলেন, ‘পরিচালক সেন্টু শার্শায় চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার কথা বলে বের হন। এরপর থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ হয়নি। গ্রাহকরা ক্ষুব্ধ হয়ে আমার কাছেই জবাব চাইছেন, কিন্তু আমি জানি না সেন্টুর অবস্থা কী।’ স্থানীয় ইউপি সদস্য দীপক কুমার রায় বলেন, ‘আমি অনেককেই ওই সমিতিতে টাকা জমা রাখতে নিষেধ করেছিলাম। তবে বেশি লাভের আশায় অনেকেই আমার কথা শোনেনি। এখন তারা সর্বস্ব হারিয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষকে সচেতন হতে হবে।’
আরও পড়ুন: কেন্দুয়ায় পাচারের সময় ৩২ বস্তা সার জব্দ, চালক পালিয়েছে
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ও দূর্বাডাঙ্গা ইউনিয়নের প্রশাসক মো. আলমগীর হোসেন বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হবে এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে প্রস্তাব করব।’ উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা রনজিৎ কুমার বলেন, ‘গ্রাহকরা আমাদের কাছে এসেছেন। তবে সমিতির সবশেষ অডিট প্রতিবেদনে অভিযোগকারী অনেক গ্রাহকের নাম পাওয়া যায়নি। বিষয়টি জেলা কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তদন্ত শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ মনিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবু সাঈদ বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাকে তথ্য সংগ্রহ ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহির দায়ান আমিন বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টির তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে অনিয়ম বা অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ মিললে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন