প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন বলেছেন, আগামী শিক্ষাবর্ষের জন্য নতুন যে চারটি বই নিয়ে কাজ চলছে, সেগুলো মূলত শিক্ষাক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রূপকল্প, চিন্তা, অভিজ্ঞতা ও কর্মযজ্ঞেরই প্রতিফলন।
আজ রোববার দুপুরে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট অডিটোরিয়ামে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের ‘চারটি নতুন পাঠ্যপুস্তকের কাঠামো চূড়ান্তকরণ কর্মশালা’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখছিলেন।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)-এর চেয়ারম্যান প্রফেসর মোহাম্মদ ফখরুল মাওলার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা জানান, ‘প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন এবং তাঁর সেইসব চিন্তা নির্বাচনের আগে ইশতেহারেও ফুটে উঠেছে। সেই আলোকেই তিনি আমাদের নির্দেশনা দিচ্ছেন। নতুন বইগুলোর মধ্যে বিশেষ করে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ (আনন্দময় শিক্ষা), ক্রীড়া ও সংস্কৃতি বই দুটিকে প্রচলিত বা ট্র্যাডিশনাল পাঠ্যবইয়ের তুলনায় আরও বেশি ব্যতিক্রমধর্মী ও ভিন্নধর্মী করা উচিত।’
পাঠ্যবইকে শিক্ষার্থীদের কাছে আকর্ষণীয় করার ওপর জোর দিয়ে ড. মাহদী আমিন বলেন, সাধারণত বইগুলো অনেক বেশি টেক্সট বা লেখা-ভিত্তিক হয়। আমরা চাই ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’-এর ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী বইটিতে আরও বেশি দৃশ্যমান উপস্থাপনা যেমন- ছবি, টেবিল, ডায়াগ্রাম ও ভিজ্যুয়াল উপাদান থাকুক, যাতে শিক্ষার্থীরা আনন্দের সাথে শিখতে পারে। একই সাথে বইটির শুরুতে একটি বিস্তারিত ভূমিকা অধ্যায় ও এর দার্শনিক ভিত্তিক বাস্তব প্রয়োগ যুক্ত করারও পরামর্শ দেন তিনি।
কারিগরি শিক্ষার সামাজিক ট্যাবু দূর করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জানিয়েছেন, বর্তমানে অনেক ভালো পরিবারের শিক্ষার্থীরা কারিগরি শিক্ষায় আসতে চায় না। আমাদের মূল দর্শন হলো- বিজ্ঞান বিভাগের প্রথম সারির শিক্ষার্থীসহ দেশের প্রতিটি শিক্ষার্থীকেই কিছুটা হলেও কারিগরি শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। এজন্য প্রতিটি স্কুলে ল্যাব বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি পাঠ্যবইয়ে মোটিভেশনাল ব্যাকগ্রাউন্ড অধ্যায় যুক্ত করা হবে।
বিগত ফ্যাসিবাদের সময়ে পাঠ্যপুস্তকে হওয়া অসংখ্য ভুল এবং ইতিহাসের বিকৃতি সংশোধন প্রসঙ্গে ড. মাহদী আমিন বলেন, ‘ইতিহাসের নির্মোহ বহিঃপ্রকাশ যেন থাকে, সেটাই আমাদের লক্ষ্য। আমাদের ইতিহাসকে আমাদের মতো করে নতুন করে সাজানোর প্রয়োজন নেই। জনগণের আকাক্সক্ষার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে ইতিহাসের প্রতিটি পালাবদলে বিএনপি সব সময় সঠিক অবস্থানে মানুষের পাশে ছিল। ইতিহাসের নির্মোহ বিশ্লেষণের মাধ্যমে যে সত্য, সেটিই পাঠ্যবইয়ে উঠে আসবে এবং এই পরিমার্জন একটি চলমান প্রক্রিয়া।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে আগামী ১ জানুয়ারি যেন দেশের প্রতিটি শিক্ষার্থীর দোরগোড়ায় পাঠ্যবই পৌঁছে দেওয়া যায়। লজিস্টিকস ও বিতরের জন্য প্রায় এক মাস সময় লাগবে। সে অনুযায়ী অন্তত নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে প্রান্তিক পর্যায়ে আমাদের প্রায় ৩১ কোটি বই মুদ্রণ ও প্রকাশ শেষ করে প্রস্তুত রাখতে হবে।’
অনুষ্ঠানে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, এনসিটিবির কর্মকর্তা এবং দেশের সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন