১০:৫১ পি.এম
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বলেছেন, দেশের বিদ্যমান ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলা করার উদ্দেশ্যে এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘবের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার একটি মানবিক, জনকল্যাণমুখী ও সাশ্রয়ী বাজেট প্রণয়নের উপর গুরুত্ব আরোপ করেছে।
আজ রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে এমবিএ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এমএবি) আয়োজিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটবিষয়ক আলোচনা সভায় তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা তুলে ধরেন।
চিফ হুইপ বলেন, বিগত সরকারের সময় এমন একটি আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল, যার ফলস্বরূপ কোনো ব্যাংক দেউলিয়া হয়ে গেলে আমানতকারী তার জমার পরিমাণ যাই হোক না কেন, সর্বোচ্চ এক লাখ টাকাই ফেরত পেতেন। তিনি প্রশ্ন রেখেছেন, কেন এ ধরনের আইন করা হয়েছিল এবং কেন জনগণকে তা মেনে নিতে বাধ্য করা হয়েছিল? তার মতামত হলো, তৎকালীন সরকার ব্যাংকিং খাতকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিয়েছিল। তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাতকে কার্যত ধ্বংস করে দেওয়ার পর পরিস্থিতির দ্রুত সংস্কারের জন্য গভীর আলোচনা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন।
আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাই সন্দেহে গণপিটুনিতে আহত যুবক নিশাত মিয়ার মৃত্যু
তিনি উল্লেখ করেন, দেশে প্রায় ৩০ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে। পাচার হওয়া অর্থের চাপ সামাল দিতে ডলারের মূল্য ৮২ টাকা থেকে বেড়ে ১৩০ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। তিনি মন্তব্য করেন, একদিনেই ডলারের দাম ৭ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছিল। এর ফলে সাধারণ মানুষের পক্ষে উচ্চ মূল্যস্ফীতির বোঝা বহন করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছে।
চিফ হুইপ বলেন, বাকশালের মাধ্যমে দেশের মৌলিক অধিকার ও বিচারব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। একই সাথে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথাও স্মরণ করেন তিনি, বলেন জিয়াউর রহমান অল্প সময়ে বাংলাদেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথে এগিয়ে নিয়েছিলেন এবং কৃষি উৎপাদনে নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছিলেন।
তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের প্রতিও সম্মান জানান।
বাজেটকে কেবল সংখ্যার হিসাব হিসেবে বিবেচনা না করে, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যায়নের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বাজেট নিয়ে আমরা অনেক তাত্ত্বিক আলোচনা করি, কিন্তু সাধারণ মানুষের কান্না থামানো এবং তাদের জীবনের মৌলিক চাহিদা পূরণের বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুন: গণভোটের রায় না মানলে তারেক রহমানের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই: জুনায়েদ
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই বাজেট প্রণয়ন করেছে। এ সময় তিনি সমাজের অবহেলিত ও বঞ্চিত মানুষের কষ্ট লাঘব এবং লুণ্ঠিত সম্পদ পুনরুদ্ধারে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করারও আহ্বান জানান।
এমএবি’র সভাপতি সৈয়দ আলমগীরের সভাপতিত্বে এবং ড. মো. শামসুজ্জামানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. এ. কে. এম. ওয়ারেছুল করিম। অনুষ্ঠানে সিনিয়র সাংবাদিক আবু সাঈদ খান, জুবায়ের আহমেদ বাবুসহ বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ, গবেষক ও বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিবর্গ বক্তব্য রাখেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন