ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

‘চিরদিন কারও সমান নাহি যায়’


‘চিরদিন কারও সমান নাহি যায়’

‘চিরদিন কাহারও সমান নাহি যায়, আজিকে যে রাজাধিরাজ, কাল সে ভিক্ষা চায়।’ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম এই গানটি যেন রাজনীতিবিদদের উদ্দেশেই লিখেছিলেন।

চার মাস আগে যিনি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় ক্ষমতাশালী ব্যক্তি ছিলেন, সেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এখন চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতিও পাচ্ছেন না।

কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চ বুধবার (৫ আগস্ট) অভিষেকের বিদেশে যাওয়ার আবেদন নাকচ করেন। এর আগে গত ২০ জুলাইও চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে অভিষেকের আবেদন একই বেঞ্চ ফিরিয়ে দিয়েছিলেন।

আরও পড়ুন: কংগ্রেসকে পরজীবী ও রাহুলকে ব্যর্থ পণ্য আখ্যা দিলেন নরেন্দ্র মোদি

আদেশে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য বলেন, গত নির্বাচনের প্রচারণার সময় কথিত হুমকিমূলক বক্তব্যের সঙ্গে জড়িত একটি পুলিশি মামলার মুখোমুখি হওয়া ৪০ বছর বয়সী অভিষেকের এই মুহূর্তে দেশ ছাড়ার কোনো প্রয়োজন নেই।

আদালতের দাবি, ভারতেই তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাওয়া সম্ভব। বিচারপতি ভট্টাচার্য বলেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কোথায় চিকিৎসা নিচ্ছেন তা গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং চিকিৎসাসেবা পাওয়াটাই গুরুত্বপূর্ণ। একই বেঞ্চ গত ২০ জুলাই অভিষেকের আবেদন খারিজ করে বলেছিলেন, কলকাতায় বেশ কয়েকটি নামি চক্ষু ক্লিনিক রয়েছে।

২০ জুলাই বিদেশ যাওয়ার আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর অভিষেক সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে যুক্তি দেন যে, তিনি তার বিরুদ্ধে থাকা সব মামলায় তদন্তকারীদের সহযোগিতা করেছেন এবং তাকে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত করা উচিত নয়।

দেশটির সর্বোচ্চ আদালত সোমবার কলকাতা হাইকোর্টকে এক সপ্তাহের মধ্যে তার আবেদনটি বিবেচনা করার নির্দেশ দেন।

আরও পড়ুন: পাকিস্তানের গোয়াদরে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে নিহত ৩ সন্ত্রাসী

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার আগে, গত ২৭ এপ্রিল একটি জনসভায় বিরোধী দলের নেতা ও কর্মীদের বিরুদ্ধে হুমকিমূলক মন্তব্যের একটি মামলায় আগামী ৬ অক্টোবর পর্যন্ত অভিষেকের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ার অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ বহাল রেখেছেন আদালত। একই সঙ্গে তদন্তে সহযোগিতা করার এবং আদালতের অনুমতি ছাড়া বিদেশ ভ্রমণ না করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালত তৃণমূল সাংসদকে সরকারি এসএসকেএম হাসপাতালের চক্ষু বিভাগের প্রধানের সামনে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন। এসএসকেএম হাসপাতালের রিপোর্ট দেখার পরই আদালত এই বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন।

এদিকে রাজ্যের ক্ষমতাসীন বিজেপি এবং তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবির অভিযোগ করেছে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিদেশে পালিয়ে যেতে পারেন। পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল অভিযোগ করেছেন যে, অভিষেক দেশ ছাড়ার বাহানা হিসেবে তার শারীরিক অবস্থাকে ব্যবহার করতে পারেন। পাল দাবি করেন, ‘তার যদি চিকিৎসার প্রয়োজন হয়, তবে আমরা রাজ্য সরকারি হাসপাতালেই সর্বোত্তম সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করতে পারি। এখানে লক্ষ লক্ষ মানুষের চিকিৎসা হচ্ছে। দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা এর পেছনে থাকতে পারে।’

বিরোধীদলীয় নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের বিদ্রোহী গোষ্ঠী অভিযোগ করেছে যে, এই লোকসভা সাংসদ ভারতীয় আইন এড়াতে তার কূটনৈতিক পাসপোর্ট ব্যবহার করতে পারেন। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, অভিষেক যদি ভারতের সঙ্গে প্রত্যর্পণ চুক্তি নেই এমন কোনো দেশে ভ্রমণ করেন, তবে তা ভবিষ্যতে তার বিরুদ্ধে যেকোনো আইনি প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলতে পারে।

আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের লড়াই বদলে দিচ্ছে সুপ্রিম কোর্ট

তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল শিবির এই অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছে। তৃণমূলের প্রবীণ নেতা কুণাল ঘোষ বলেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তার চোখের সমস্যার জন্য বিদেশে নিয়মিত চিকিৎসা নিচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্য সংক্রান্ত একটি বিষয় নিয়ে তাদের রাজনীতি বন্ধ করা উচিত। তিনি কেন পালাবেন? তিনি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রতিটি মামলার মুখোমুখি হয়েছেন এবং তদন্তে সহযোগিতা করেছেন।’

২০১৬ সালের অক্টোবরে মুর্শিদাবাদ থেকে কলকাতা ফেরার পথে এক সড়ক দুর্ঘটনায় তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চোখের নিচে গুরুতর আঘাত লেগেছিল। তৃণমূলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভারতে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তিনি বিদেশে বিশেষায়িত চিকিৎসা করিয়েছিলেন এবং তারপর থেকে ফলো-আপ প্রক্রিয়ার জন্য তিনি নিয়মিত বিদেশে যাতায়াত করছেন।

নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর গত মে মাসে পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তখন ছিলেন রাজ্যের দ্বিতীয় ক্ষমতাশালী ব্যক্তি। ক্ষমতা হারানোর পর থেকেই মামলা-হামলায় জেরবার তার জীবন।

আরও পড়ুন: নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে আইন প্রয়োগের দাবি জানালো নিসচার

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভয়াবহ বজ্রপাতে মাঠেই প্রাণ গেল ফুটবলারের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:৫০ পি.এম


ভয়াবহ বজ্রপাতে মাঠেই প্রাণ গেল ফুটবলারের

থাইল্যান্ডের ফুটবলার সোফওয়ান আওয়ে ভয়াবহ বজ্রাঘাতে নিহত হয়েছেন। ছবিটি সংগৃহীত।

বৃষ্টির মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেমিফাইনাল ম্যাচ মাঠে চলছিল। হঠাৎ করে এক ভয়ঙ্কর বজ্রাঘাতের ফলে,

কয়েকজন ফুটবলার সঙ্গে সঙ্গে লুটিয়ে পড়েন। তাদের মধ্যে একজন মাঠে মৃত্যুবরণ করেন। নিহত ফুটবলারের নাম সোফওয়ান আওয়ে।

গতকাল মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলের নারাথিওয়াত প্রদেশে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।

দেশটির খবরের ওয়েবসাইট থাই এনকোয়ারার, মালয়েশিয়ার সংবাদমাধ্যম নিউ স্ট্রেইটস টাইমস ও মালয়েশিয়ার বার্তা সংস্থা বের্নামা এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোফওয়ান আওয়ে মারা যাওয়ার পাশাপাশি আরও ১২ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একজন মালয়েশিয়ার ফুটবলারও রয়েছেন। আহতদের সুংগাই গোলোক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সময় অনুযায়ী, গতকাল বিকেল সাড়ে ৫টায় নারাথিওয়াতের সুংগাই গোলোক শহরের সান্তিফাপ স্টেডিয়ামে আঞ্চলিক এফএ কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের সেমিফাইনাল ম্যাচে বজ্রপাত ঘটেছে।

ম্যাচটি আবু এক্স নং সিরিন এবং স্যামকল্ট দলের মধ্যে অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। স্যামকল্ট দলে থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার ফুটবলাররা একসাথে খেলছিলেন।

টুর্নামেন্টে মালয়েশিয়ার কেলান্তান এফসিসহ আরও কয়েকটি দল অংশ নিয়েছিল। সুংগাই গোলোক শহরটি থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার কেলান্তান রাজ্যের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত।

বিধ্বস্ত ফুটবলার সোফওয়ান আওয়ের বয়স ছিল ২৪ বছর। তিনি থাইল্যান্ডের তৃতীয় বিভাগের ক্লাব ইয়ালা এফসির খেলোয়াড় হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

ঘটনার মাত্র কয়েক দিন আগে তিনি আবু এক্স নং সিরিনে যোগ দিয়েছিলেন। এর পূর্বে তিনি পাট্টানি এফসির হয়ে খেলেছিলেন।

সুংগাই গোলোক পুলিশের প্রধান থুন সিরিখুন্ট বার্তা সংস্থা বের্নামাকে জানান, বিকেল সাড়ে ৫টায় জরুরি ফোন পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং সোফওয়ানকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে। চিকিৎসক দল তাকে বাঁচানোর জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। কিন্তু বজ্রপাতে গুরুতর আহত হওয়ায় তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

থুন সিরিখুন্ট আরও জানান, আহত মালয়েশিয়ান ফুটবলারের নাম মোহাম্মদ আলিফ এজ্জাহান জুলকিফলি। ২২ বছর বয়সী এই ফুটবলার স্যামকল্টের হয়ে খেলতেন।

সোফওয়ানের মৃত্যুতে থাইল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন গভীর শোক প্রকাশ করেছে। তারা বলেছে, ‘এই শোকাবহ ক্ষতির ঘটনায় আমরা গভীর দুঃখ প্রকাশ করছি। একই সাথে নিহতের পরিবার, সংশ্লিষ্ট সবাই এবং ফুটবল ক্লাবের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে সংস্কৃতিচর্চার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ: আইনমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:৫২ পি.এম


গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে সংস্কৃতিচর্চার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ: আইনমন্ত্রী

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, যে অবরুদ্ধ আবৃত্তি ও সংস্কৃতিচর্চা মানবসমাজকে গণতন্ত্র, মানবিক মূল্যবোধ, মুক্তচিন্তা ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার আদর্শে উদ্বুদ্ধ করে। একটি সুন্দর, গণতান্ত্রিক এবং রক্তপাতহীন সমাজ গঠনে আবৃত্তি ও সংস্কৃতিচর্চার ভূমিকা অপরিসীম। এরই মধ্যে বুধবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘উৎসব ২০২৬’-এর অংশ হিসাবে ‘স্মৃতির দর্পণে জুলাই গণঅভ্যুত্থান’ শীর্ষক বিশেষ আলোচনা ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন। উক্ত অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ আবৃত্তি ফেডারেশন। আইনমন্ত্রী ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। পাশাপাশি আহত يوليو যোদ্ধা এবং গত ১৬ বছরে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নিহত, গুম ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, তাঁদের দীর্ঘ সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও ত্যাগের যৌক্তিক এবং সফল পরিণতি ছিল ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান। মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের আবৃত্তি ফেডারেশন দেশজুড়ে জুলাইয়ের চেতনা ছড়িয়ে দিতে এবং বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতার মাধ্যমে সেই চেতনাকে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে আবৃত্তিচর্চা দেশের শিল্প-সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ হলেও এটি প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত ছিল। এই বাস্তবতা মাথায় রেখে, জাতীয় সংসদে আইন সংশোধনের মাধ্যমে আবৃত্তিকে দেশের শিল্প-সংস্কৃতির অন্যতম একটি শাখা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মো. আসাদুজ্জামান আরও বলেন, আবৃত্তিশিল্পী এবং সংস্কৃতিকর্মীরা কবিতা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির মাধ্যমে মানুষের মধ্যে গণতান্ত্রিক চেতনা, মানবিক মূল্যবোধ এবং দেশপ্রেম জাগ্রত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। এই ধরনের উদ্যোগ একটি সুন্দর, বৈষম্যহীন এবং মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সহায়ক হবে। তিনি বাংলাদেশ আবৃত্তি ফেডারেশন এর কার্যক্রমের ধারাবাহিক সাফল্য কামনা করেন এবং বলেন, সংগঠনটির যে কোনও ইতিবাচক উদ্যোগে তিনি ভবিষ্যতেও পাশে থাকবেন এবং সহযোগিতা অব্যাহত রাখবেন। অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, আইনমন্ত্রীর সহধর্মিণী শিরিন সুলতানা, বাংলাদেশ আবৃত্তি ফেডারেশনের সভাপতি মেহেদী হাসান এবং সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান বক্তব্য রাখেন। আলোচনা শেষে আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট সংস্কৃতিকর্মী, আবৃত্তিশিল্পী, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

১৭ বছরের অব্যবস্থাপনাই জ্বালানি খাতের বর্তমান সংকটের মূল কারণ: বাণিজ্যমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:৫৫ পি.এম


১৭ বছরের অব্যবস্থাপনাই জ্বালানি খাতের বর্তমান সংকটের মূল কারণ: বাণিজ্যমন্ত্রী

সিলেট, ৫ আগস্ট, ২০২৬ : পাট, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির আজ বলেছেন, দেশে জ্বালানি খাতের বর্তমান সংকটের মূল কারণ হলো বিগত ১৭ বছরের সরকারের চরম অব্যবস্থাপনা। বর্তমান সময়ে সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো জ্বালানি সংকট মোকাবিলা করা।

তিনি সিলেট জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে জেলা প্রশাসন আয়োজিত আলোচনা সভা এবং শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশ আমদানিকৃত গ্যাসের ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। দেশের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে এবং নতুন বিনিয়োগ আনতে সরকারের কিছুটা সময় প্রয়োজন রয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা কিছুটা ব্যাহত হতে পারে, তবে সার্বিক স্বার্থে এটি মেনে নেওয়ার জন্য তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি উন্নয়নকে একটি সম্মিলিত প্রয়াস হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তরুণদের শক্তি সামাজিক শক্তি হিসেবে যেন টিকে থাকে এবং এটি কোনোভাবেই যেন বিনষ্ট না হয়। কেননা এটি দেশকে এগিয়ে নেওয়ার অন্যতম পূর্বশর্ত। সরকারের উদ্দেশ্য হলো আগামীদিনের কাঙ্ক্ষিত নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে তরুণদের এই শক্তিকে সঠিকভাবে কাজে লাগানো।

অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে জুলাই যোদ্ধারা সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে অবমূল্যায়িত হওয়ার অভিযোগ উত্থাপন করেন। জুলাই যোদ্ধা লিটন আহমদ বলেন, পর্যাপ্ত মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জুলাইয়ের মামলাগুলোর দ্রুত অগ্রগতির দাবি করেন।

এ সময় শহীদ পাভেলের বাবা মন্ত্রীকে গোলাপগঞ্জের সাত শহীদের কবর জিয়ারতের অনুরোধ জানান। শহীদ সাংবাদিক এ টি এম তুরাবের ভাই জাবুর আহমদ বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের স্মৃতিচারণ করেন।

সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম এ মালিক অনুষ্ঠানে বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেছে। জুলাই যোদ্ধারা জাতির গর্বিত সন্তান, তাদের কোনোভাবেই অবমূল্যায়ন করা যাবে না।

এই অনুষ্ঠানে সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীমসহ স্থানীয় প্রশাসন ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভা শেষে ১৪টি শহীদ পরিবারকে সংবর্ধনা ও আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চীনের ঐক্যের আইন: আগ্রাসনের কৌশল নাকি সংখ্যালঘুদের অস্তিত্ব মুছে ফেলার পরিকল্পনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:০১ পি.এম


চীনের ঐক্যের আইন: আগ্রাসনের কৌশল নাকি সংখ্যালঘুদের অস্তিত্ব মুছে ফেলার পরিকল্পনা

প্রকাশ: ০৫ আগস্ট, ২০২৬ ১৮:৪৭

কাগজে যা লেখা থাকে, আইন সবসময় তা বলে না। আইনের পরিভাষার আড়ালে লুকিয়ে থাকে অন্যকিছু।

গত ১ জুলাই থেকে চীনে কার্যকর হওয়া একটি নতুন আইন নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বেইজিং ‘জাতিগত ঐক্য ও অগ্রগতি বৃদ্ধি সংক্রান্ত আইন’টিকে জাতীয় সংহতি এবং আধুনিকায়নের একটি রূপরেখা হিসেবে উপস্থাপন করেছে। তবে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন এবং চীনের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ এটিকে ‘আগ্রাসন’ হিসেবে বিবেচনা করছে। প্রশ্ন উঠেছে, সংখ্যালঘুদের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য বিসর্জন দিয়ে মূলধারায় একীভূত হতে বলা কী ঐক্যের বার্তা দেয়? দিনের পর দিন অনেক তিব্বতি, উইঘুর, মঙ্গোলীয় এবং অন্যান্য জাতিগত সংখ্যালঘুদের কাছে এর উত্তরটি বেদনাদায়কভাবে স্পষ্ট।

সংখ্যালঘুদের প্রতি চীনের মনোভাব নিয়ে বিতর্ক আর অস্বস্তি দীর্ঘদিনের। ঐক্যের জন্য প্রণয়ন করা আইনটি সেই বিতর্ককে আরো বাড়িয়ে তুলেছে। চীন সরকার যেখানে নতুন আইনটিকে সম্প্রীতি বাড়ানো, বিচ্ছিন্নতাবাদ মোকাবেলা এবং উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার একটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করছে; সেখানে মানবাধিকার সংস্থা, আইন বিশেষজ্ঞ এবং তিব্বতি অধিকার রক্ষা গোষ্ঠীগুলোর যুক্তি হলো, এটি এমন একটি একীভূতকরণ এজেন্ডাকে আইনি রূপ দিচ্ছে, যা প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের অধীনে ক্রমাগত সম্প্রসারিত হয়েছে।

গত ১ জুলাই আইনটি প্রণয়নের পর থেকে এশিয়া, ইউরোপ এবং উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন শহরে তিব্বতি সম্প্রদায় এবং তাদের সমর্থকেরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেছেন।

টোকিওতে বিক্ষোভকারীরা তিব্বতের পতাকা হাতে চীনা দূতাবাসের সামনে জড়ো হন এবং সতর্ক করেন যে, এই নতুন আইন তাদের ভাষা, ধর্ম ও পরিচয়কে হুমকির মুখে ফেলছে। মুম্বাইতে চীনা কনস্যুলেটের বাইরে বিক্ষোভ প্রদর্শনের পর ‘তিব্বতি যুব কংগ্রেস’-এর বেশ কয়েকজন সদস্য ও সমর্থককে আটক করা হয়। বিক্ষুব্ধরা বলছেন, এইসব কর্মসূচি তাদের বিশ্বব্যাপী প্রচারনার অংশ; যার মধ্যে রয়েছে গণসমাবেশ, মোমবাতি প্রজ্বালন, অনশন এবং তিব্বতের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির প্রতি আন্তর্জাতিক দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা। বিক্ষুব্ধরা বলছেন, বেইজিং যাকে সংহতি বা ঐক্য বলছে, তারা সেটিকে অস্তিত্ব মুছে ফেলার আগ্রাসন হিসেবে দেখছে।

চীন অবশ্য এসব অভিযোগকে দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।

কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেছেন, এই আইনটি রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃত দেশের ৫৬টি জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে জাতীয় সংহতি সুদৃঢ় করতে, সংখ্যালঘু অঞ্চলের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্যই করা হয়েছে। বেইজিং ধারাবাহিকভাবে যুক্তি দিয়ে আসছে যে, ম্যান্ডারিন ভাষার প্রসার ঘটানো, নাগরিক পরিচয় শক্তিশালী করা এবং জাতিগত অঞ্চলগুলোকে জাতীয় উন্নয়নের মূলধারায় যুক্ত করা যেকোনো সার্বভৌম সরকারের বৈধ দায়িত্ব। জোরপূর্বক আত্মীকরণের অভিযোগগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিয়েছে বেইজিং। তারা বরং শিক্ষা, অবকাঠামো ও দারিদ্র্য বিমোচনের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতিকে উপেক্ষা করার অভিযোগ তুলেছে।

মানবাধিকার সংস্থাগুলো যুক্তি দিচ্ছে যে, এই আইনটি শিক্ষা ও ভাষানীতি থেকে শুরু করে ধর্ম, গণমাধ্যম এবং জনপ্রশাসন পর্যন্ত সংখ্যালঘু জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রকে রাষ্ট্রীয় প্রভাবের আওতায় নিয়ে আসবে। সমালোচকরা বলছেন, এই আইনটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়গুলোর নিজস্ব ভাষা, রীতিনীতি এবং ধর্মীয় ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখার জন্য ইতিমধ্যে সংকুচিত হয়ে আসা সুযোগকে আরো সীমিত করে দিচ্ছে।

আইনটির ভাষার অস্পষ্টতা ও ব্যাপকতা নিয়েও সমালোচনা ও উদ্বেগ বাড়ছে। ‘জাতিগত ঐক্য বিনষ্ট করা’র মতো শব্দ বা শর্তগুলোর ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা করার সুযোগ রয়েছে, যা গ্রহণযোগ্য নয় - এমন আচরণ নির্ধারণের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষকে ব্যাপক ও একচেটিয়া ক্ষমতা দিয়েছে। মানবাধিকারকর্মীদের আশঙ্কা, সরকারি নীতিমালার যে কোনো শান্তিপূর্ণ সমালোচনাকেও এখন থেকে ক্রমবর্ধমানভাবে বিচ্ছিন্নতাবাদ বা জাতীয় স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে।

গত এক দশকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম, গবেষক এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলো তিব্বতের মঠগুলোর ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ, ম্যান্ডারিন ভাষার শিক্ষার বিস্তার, তিব্বতি সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর রাষ্ট্রীয় নজরদারি বাড়ানোর মতো বিষয়গুলো নথিভুক্ত করেছে। বেইজিংয়ের দাবি, এই পদক্ষেপগুলো উন্নয়ন, শিক্ষার সুযোগ এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা বাড়াবে। তবে তিব্বতি সংস্থাগুলো এগুলোকে ‘চীনায়ন’-এর একটি বৃহত্তর নীতির ধারাবাহিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখে, যা ধীরে ধীরে তিব্বতি পরিচয়ের ভিত্তি দুর্বল করে দিচ্ছে।

আইনটি কার্যকর হওয়ার পরপরই নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের বাইরে তিব্বতি শরণার্থী লোবগা রাংজেন নিজের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেন। তার এই মৃত্যু বিশ্বজুড়ে তিব্বতি সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে গভীর আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। তবে যারা তার জন্য শোক প্রকাশ করছেন, তাদের বার্তার বিষয়ে যথেষ্ট সতর্ক থেকেছেন। তিব্বতি সম্প্রদায়ের নেতারা বারবার জোর দিয়ে বলেছেন, তারা কোনো সহিংসতার মাধ্যমে নয়; বরং শান্তিপূর্ণ সমর্থন, সংলাপ এবং আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততার মাধ্যমেই ন্যায়বিচার চান। আত্মাহুতির মতো ঘটনাকে কখনোই মহিমান্বিত করা উচিত নয়।

নতুন এই আইনটি নিয়ে তৈরি হওয়া উদ্বেগ শুধু তিব্বতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। এটি শিনজিয়াং, ইনার মঙ্গোলিয়া এবং হুই মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চলসহ চীনের সমস্ত সংখ্যালঘু জাতিগত অঞ্চলের ওপর প্রযোজ্য। মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো যুক্তি দেয় যে, এই আইনটি এমন কিছু নীতিকে আরো শক্তিশালী করতে পারে, যা ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক মহলে ক্রমাগত সমালোচিত হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে ম্যান্ডারিন ভাষার শিক্ষার বিস্তার, কঠোর আদর্শিক শিক্ষা এবং ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো।

কেউ এই সমালোচনাগুলোকে গ্রহণ করুক বা বেইজিংয়ের আত্মপক্ষ সমর্থনকেই মেনে নিক না কেন, একটি সত্যকে উপেক্ষা করা কঠিন : এই আইনটি মূলত প্রশাসনিক নীতি হিসেবে থাকা বিষয়গুলোকে জাতীয় আইন বা বিধানে বদলে দিয়েছে। চীনের নেতৃত্ব আগামী বছরগুলোতে কীভাবে জাতিগত বিষয়াবলিকে পরিচালনা করতে চায়, আইনটি স্পষ্টভাবে সেই দিকনির্দেশনা দেয়।

যেহেতু চীনের ভেতরে বিক্ষোভ বা বিতর্ক কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত। তাই নতুন আইনটি নিয়ে ওঠা বিতর্ক মীমাংসায় আন্তর্জাতিক মহলের সম্পৃক্ত হওয়া খুবই জরুরি বলে মনে করছেন মানবাধিকারকর্মীরা। তবে মানবাধিকার নিয়ে উদ্বেগ আর অর্থনৈতিক স্বার্থ প্রায়শই প্রতিযোগী হয়ে ওঠে। অনেক দেশ তিব্বত পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের পাশাপাশি চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরো জোরদার করেছে। এতে মনে হতে পারে, অর্থনৈতিক সুযোগের সামনে মৌলিক স্বাধীনতা রক্ষার বিষয়টি আপসযোগ্য। তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের গঠনমূলক সম্পৃক্ততার জন্য চীনের প্রতি শত্রুতার প্রয়োজন নেই বা রাষ্ট্রীয় নীতির সমালোচনাকে চীনা জনগণের প্রতি শত্রুতা হিসেবেও ভুল করা উচিত নয়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত স্বচ্ছতাকে উৎসাহিত করা।

ভাষা, বিশ্বাস এবং ভাগ করে নেওয়া স্মৃতির ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা পরিচয়গুলো সরকার তাদের বিরুদ্ধে আইন প্রণয়ন করলেই বিলুপ্ত হয়ে যায় না। সেগুলো পরিবার, মঠ, শ্রেণীকক্ষ, গান এবং নির্বাসিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে টিকে থাকে। এগুলো টিকে থাকে কারণ সংস্কৃতি মানুষের দ্বারা পরিচালিত হয়, কোনো সরকারি ডিক্রি বা আদেশ দ্বারা নয়।

বেইজিং বিশ্বাস করে যে নতুন আইনটি জাতীয় সংহতিকে শক্তিশালী করবে। অন্যদিকে এর সমালোচকরা মনে করেন, এটি সাংস্কৃতিক আত্মীকরণ বা বিলুপ্তিকরণকে ত্বরান্বিত করার ঝুঁকি তৈরি করবে। এই আইনের আসল মূল্যায়ন কোনো সরকারি স্লোগান বা আইনি পাঠ্যের মধ্যে পাওয়া যাবে না; বরং এটি দেখা যাবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের তিব্বতি এবং অন্যান্য নৃতাত্ত্বিক সংখ্যালঘুরা তাদের ভাষায় স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারছে কিনা, কোনো ভয় ছাড়াই তাদের ধর্ম পালন করতে পারছে কিনা এবং মর্যাদার সঙ্গে তাদের ঐতিহ্যকে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে পারছে কিনা তার ওপর।

এটি এমন একটি প্রশ্ন যা চীনের সীমানা ছাড়িয়ে বহুদূর পর্যন্ত বিস্তৃত। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বৈচিত্র্যকে দমন করে জোরপূর্বক একতা চাপিয়ে দেওয়ার চেয়ে, বৈচিত্র্যকে রক্ষা করার মাধ্যমে একতাকে শক্তিশালী করার সর্বজনীন নীতি রক্ষায় এখনও প্রস্তুত কিনা, এটি তারই একটি পরীক্ষা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৯
মাগরিব ০৫:২৬
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%