ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে সংস্কৃতিচর্চার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ: আইনমন্ত্রী


গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে সংস্কৃতিচর্চার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ: আইনমন্ত্রী

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, যে অবরুদ্ধ আবৃত্তি ও সংস্কৃতিচর্চা মানবসমাজকে গণতন্ত্র, মানবিক মূল্যবোধ, মুক্তচিন্তা ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার আদর্শে উদ্বুদ্ধ করে। একটি সুন্দর, গণতান্ত্রিক এবং রক্তপাতহীন সমাজ গঠনে আবৃত্তি ও সংস্কৃতিচর্চার ভূমিকা অপরিসীম। এরই মধ্যে বুধবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘উৎসব ২০২৬’-এর অংশ হিসাবে ‘স্মৃতির দর্পণে জুলাই গণঅভ্যুত্থান’ শীর্ষক বিশেষ আলোচনা ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন। উক্ত অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ আবৃত্তি ফেডারেশন। আইনমন্ত্রী ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। পাশাপাশি আহত يوليو যোদ্ধা এবং গত ১৬ বছরে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নিহত, গুম ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, তাঁদের দীর্ঘ সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও ত্যাগের যৌক্তিক এবং সফল পরিণতি ছিল ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান। মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের আবৃত্তি ফেডারেশন দেশজুড়ে জুলাইয়ের চেতনা ছড়িয়ে দিতে এবং বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতার মাধ্যমে সেই চেতনাকে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে আবৃত্তিচর্চা দেশের শিল্প-সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ হলেও এটি প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত ছিল। এই বাস্তবতা মাথায় রেখে, জাতীয় সংসদে আইন সংশোধনের মাধ্যমে আবৃত্তিকে দেশের শিল্প-সংস্কৃতির অন্যতম একটি শাখা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মো. আসাদুজ্জামান আরও বলেন, আবৃত্তিশিল্পী এবং সংস্কৃতিকর্মীরা কবিতা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির মাধ্যমে মানুষের মধ্যে গণতান্ত্রিক চেতনা, মানবিক মূল্যবোধ এবং দেশপ্রেম জাগ্রত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। এই ধরনের উদ্যোগ একটি সুন্দর, বৈষম্যহীন এবং মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সহায়ক হবে। তিনি বাংলাদেশ আবৃত্তি ফেডারেশন এর কার্যক্রমের ধারাবাহিক সাফল্য কামনা করেন এবং বলেন, সংগঠনটির যে কোনও ইতিবাচক উদ্যোগে তিনি ভবিষ্যতেও পাশে থাকবেন এবং সহযোগিতা অব্যাহত রাখবেন। অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, আইনমন্ত্রীর সহধর্মিণী শিরিন সুলতানা, বাংলাদেশ আবৃত্তি ফেডারেশনের সভাপতি মেহেদী হাসান এবং সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান বক্তব্য রাখেন। আলোচনা শেষে আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট সংস্কৃতিকর্মী, আবৃত্তিশিল্পী, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

১৭ বছরের অব্যবস্থাপনাই জ্বালানি খাতের বর্তমান সংকটের মূল কারণ: বাণিজ্যমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:৫৫ পি.এম


১৭ বছরের অব্যবস্থাপনাই জ্বালানি খাতের বর্তমান সংকটের মূল কারণ: বাণিজ্যমন্ত্রী

সিলেট, ৫ আগস্ট, ২০২৬ : পাট, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির আজ বলেছেন, দেশে জ্বালানি খাতের বর্তমান সংকটের মূল কারণ হলো বিগত ১৭ বছরের সরকারের চরম অব্যবস্থাপনা। বর্তমান সময়ে সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো জ্বালানি সংকট মোকাবিলা করা।

তিনি সিলেট জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে জেলা প্রশাসন আয়োজিত আলোচনা সভা এবং শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশ আমদানিকৃত গ্যাসের ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। দেশের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে এবং নতুন বিনিয়োগ আনতে সরকারের কিছুটা সময় প্রয়োজন রয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা কিছুটা ব্যাহত হতে পারে, তবে সার্বিক স্বার্থে এটি মেনে নেওয়ার জন্য তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি উন্নয়নকে একটি সম্মিলিত প্রয়াস হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তরুণদের শক্তি সামাজিক শক্তি হিসেবে যেন টিকে থাকে এবং এটি কোনোভাবেই যেন বিনষ্ট না হয়। কেননা এটি দেশকে এগিয়ে নেওয়ার অন্যতম পূর্বশর্ত। সরকারের উদ্দেশ্য হলো আগামীদিনের কাঙ্ক্ষিত নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে তরুণদের এই শক্তিকে সঠিকভাবে কাজে লাগানো।

অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে জুলাই যোদ্ধারা সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে অবমূল্যায়িত হওয়ার অভিযোগ উত্থাপন করেন। জুলাই যোদ্ধা লিটন আহমদ বলেন, পর্যাপ্ত মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জুলাইয়ের মামলাগুলোর দ্রুত অগ্রগতির দাবি করেন।

এ সময় শহীদ পাভেলের বাবা মন্ত্রীকে গোলাপগঞ্জের সাত শহীদের কবর জিয়ারতের অনুরোধ জানান। শহীদ সাংবাদিক এ টি এম তুরাবের ভাই জাবুর আহমদ বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের স্মৃতিচারণ করেন।

সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম এ মালিক অনুষ্ঠানে বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেছে। জুলাই যোদ্ধারা জাতির গর্বিত সন্তান, তাদের কোনোভাবেই অবমূল্যায়ন করা যাবে না।

এই অনুষ্ঠানে সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীমসহ স্থানীয় প্রশাসন ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভা শেষে ১৪টি শহীদ পরিবারকে সংবর্ধনা ও আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চীনের ঐক্যের আইন: আগ্রাসনের কৌশল নাকি সংখ্যালঘুদের অস্তিত্ব মুছে ফেলার পরিকল্পনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:০১ পি.এম


চীনের ঐক্যের আইন: আগ্রাসনের কৌশল নাকি সংখ্যালঘুদের অস্তিত্ব মুছে ফেলার পরিকল্পনা

প্রকাশ: ০৫ আগস্ট, ২০২৬ ১৮:৪৭

কাগজে যা লেখা থাকে, আইন সবসময় তা বলে না। আইনের পরিভাষার আড়ালে লুকিয়ে থাকে অন্যকিছু।

গত ১ জুলাই থেকে চীনে কার্যকর হওয়া একটি নতুন আইন নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বেইজিং ‘জাতিগত ঐক্য ও অগ্রগতি বৃদ্ধি সংক্রান্ত আইন’টিকে জাতীয় সংহতি এবং আধুনিকায়নের একটি রূপরেখা হিসেবে উপস্থাপন করেছে। তবে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন এবং চীনের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ এটিকে ‘আগ্রাসন’ হিসেবে বিবেচনা করছে। প্রশ্ন উঠেছে, সংখ্যালঘুদের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য বিসর্জন দিয়ে মূলধারায় একীভূত হতে বলা কী ঐক্যের বার্তা দেয়? দিনের পর দিন অনেক তিব্বতি, উইঘুর, মঙ্গোলীয় এবং অন্যান্য জাতিগত সংখ্যালঘুদের কাছে এর উত্তরটি বেদনাদায়কভাবে স্পষ্ট।

সংখ্যালঘুদের প্রতি চীনের মনোভাব নিয়ে বিতর্ক আর অস্বস্তি দীর্ঘদিনের। ঐক্যের জন্য প্রণয়ন করা আইনটি সেই বিতর্ককে আরো বাড়িয়ে তুলেছে। চীন সরকার যেখানে নতুন আইনটিকে সম্প্রীতি বাড়ানো, বিচ্ছিন্নতাবাদ মোকাবেলা এবং উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার একটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করছে; সেখানে মানবাধিকার সংস্থা, আইন বিশেষজ্ঞ এবং তিব্বতি অধিকার রক্ষা গোষ্ঠীগুলোর যুক্তি হলো, এটি এমন একটি একীভূতকরণ এজেন্ডাকে আইনি রূপ দিচ্ছে, যা প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের অধীনে ক্রমাগত সম্প্রসারিত হয়েছে।

গত ১ জুলাই আইনটি প্রণয়নের পর থেকে এশিয়া, ইউরোপ এবং উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন শহরে তিব্বতি সম্প্রদায় এবং তাদের সমর্থকেরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেছেন।

টোকিওতে বিক্ষোভকারীরা তিব্বতের পতাকা হাতে চীনা দূতাবাসের সামনে জড়ো হন এবং সতর্ক করেন যে, এই নতুন আইন তাদের ভাষা, ধর্ম ও পরিচয়কে হুমকির মুখে ফেলছে। মুম্বাইতে চীনা কনস্যুলেটের বাইরে বিক্ষোভ প্রদর্শনের পর ‘তিব্বতি যুব কংগ্রেস’-এর বেশ কয়েকজন সদস্য ও সমর্থককে আটক করা হয়। বিক্ষুব্ধরা বলছেন, এইসব কর্মসূচি তাদের বিশ্বব্যাপী প্রচারনার অংশ; যার মধ্যে রয়েছে গণসমাবেশ, মোমবাতি প্রজ্বালন, অনশন এবং তিব্বতের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির প্রতি আন্তর্জাতিক দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা। বিক্ষুব্ধরা বলছেন, বেইজিং যাকে সংহতি বা ঐক্য বলছে, তারা সেটিকে অস্তিত্ব মুছে ফেলার আগ্রাসন হিসেবে দেখছে।

চীন অবশ্য এসব অভিযোগকে দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।

কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেছেন, এই আইনটি রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃত দেশের ৫৬টি জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে জাতীয় সংহতি সুদৃঢ় করতে, সংখ্যালঘু অঞ্চলের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্যই করা হয়েছে। বেইজিং ধারাবাহিকভাবে যুক্তি দিয়ে আসছে যে, ম্যান্ডারিন ভাষার প্রসার ঘটানো, নাগরিক পরিচয় শক্তিশালী করা এবং জাতিগত অঞ্চলগুলোকে জাতীয় উন্নয়নের মূলধারায় যুক্ত করা যেকোনো সার্বভৌম সরকারের বৈধ দায়িত্ব। জোরপূর্বক আত্মীকরণের অভিযোগগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিয়েছে বেইজিং। তারা বরং শিক্ষা, অবকাঠামো ও দারিদ্র্য বিমোচনের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতিকে উপেক্ষা করার অভিযোগ তুলেছে।

মানবাধিকার সংস্থাগুলো যুক্তি দিচ্ছে যে, এই আইনটি শিক্ষা ও ভাষানীতি থেকে শুরু করে ধর্ম, গণমাধ্যম এবং জনপ্রশাসন পর্যন্ত সংখ্যালঘু জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রকে রাষ্ট্রীয় প্রভাবের আওতায় নিয়ে আসবে। সমালোচকরা বলছেন, এই আইনটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়গুলোর নিজস্ব ভাষা, রীতিনীতি এবং ধর্মীয় ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখার জন্য ইতিমধ্যে সংকুচিত হয়ে আসা সুযোগকে আরো সীমিত করে দিচ্ছে।

আইনটির ভাষার অস্পষ্টতা ও ব্যাপকতা নিয়েও সমালোচনা ও উদ্বেগ বাড়ছে। ‘জাতিগত ঐক্য বিনষ্ট করা’র মতো শব্দ বা শর্তগুলোর ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা করার সুযোগ রয়েছে, যা গ্রহণযোগ্য নয় - এমন আচরণ নির্ধারণের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষকে ব্যাপক ও একচেটিয়া ক্ষমতা দিয়েছে। মানবাধিকারকর্মীদের আশঙ্কা, সরকারি নীতিমালার যে কোনো শান্তিপূর্ণ সমালোচনাকেও এখন থেকে ক্রমবর্ধমানভাবে বিচ্ছিন্নতাবাদ বা জাতীয় স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে।

গত এক দশকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম, গবেষক এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলো তিব্বতের মঠগুলোর ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ, ম্যান্ডারিন ভাষার শিক্ষার বিস্তার, তিব্বতি সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর রাষ্ট্রীয় নজরদারি বাড়ানোর মতো বিষয়গুলো নথিভুক্ত করেছে। বেইজিংয়ের দাবি, এই পদক্ষেপগুলো উন্নয়ন, শিক্ষার সুযোগ এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা বাড়াবে। তবে তিব্বতি সংস্থাগুলো এগুলোকে ‘চীনায়ন’-এর একটি বৃহত্তর নীতির ধারাবাহিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখে, যা ধীরে ধীরে তিব্বতি পরিচয়ের ভিত্তি দুর্বল করে দিচ্ছে।

আইনটি কার্যকর হওয়ার পরপরই নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের বাইরে তিব্বতি শরণার্থী লোবগা রাংজেন নিজের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেন। তার এই মৃত্যু বিশ্বজুড়ে তিব্বতি সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে গভীর আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। তবে যারা তার জন্য শোক প্রকাশ করছেন, তাদের বার্তার বিষয়ে যথেষ্ট সতর্ক থেকেছেন। তিব্বতি সম্প্রদায়ের নেতারা বারবার জোর দিয়ে বলেছেন, তারা কোনো সহিংসতার মাধ্যমে নয়; বরং শান্তিপূর্ণ সমর্থন, সংলাপ এবং আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততার মাধ্যমেই ন্যায়বিচার চান। আত্মাহুতির মতো ঘটনাকে কখনোই মহিমান্বিত করা উচিত নয়।

নতুন এই আইনটি নিয়ে তৈরি হওয়া উদ্বেগ শুধু তিব্বতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। এটি শিনজিয়াং, ইনার মঙ্গোলিয়া এবং হুই মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চলসহ চীনের সমস্ত সংখ্যালঘু জাতিগত অঞ্চলের ওপর প্রযোজ্য। মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো যুক্তি দেয় যে, এই আইনটি এমন কিছু নীতিকে আরো শক্তিশালী করতে পারে, যা ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক মহলে ক্রমাগত সমালোচিত হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে ম্যান্ডারিন ভাষার শিক্ষার বিস্তার, কঠোর আদর্শিক শিক্ষা এবং ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো।

কেউ এই সমালোচনাগুলোকে গ্রহণ করুক বা বেইজিংয়ের আত্মপক্ষ সমর্থনকেই মেনে নিক না কেন, একটি সত্যকে উপেক্ষা করা কঠিন : এই আইনটি মূলত প্রশাসনিক নীতি হিসেবে থাকা বিষয়গুলোকে জাতীয় আইন বা বিধানে বদলে দিয়েছে। চীনের নেতৃত্ব আগামী বছরগুলোতে কীভাবে জাতিগত বিষয়াবলিকে পরিচালনা করতে চায়, আইনটি স্পষ্টভাবে সেই দিকনির্দেশনা দেয়।

যেহেতু চীনের ভেতরে বিক্ষোভ বা বিতর্ক কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত। তাই নতুন আইনটি নিয়ে ওঠা বিতর্ক মীমাংসায় আন্তর্জাতিক মহলের সম্পৃক্ত হওয়া খুবই জরুরি বলে মনে করছেন মানবাধিকারকর্মীরা। তবে মানবাধিকার নিয়ে উদ্বেগ আর অর্থনৈতিক স্বার্থ প্রায়শই প্রতিযোগী হয়ে ওঠে। অনেক দেশ তিব্বত পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের পাশাপাশি চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরো জোরদার করেছে। এতে মনে হতে পারে, অর্থনৈতিক সুযোগের সামনে মৌলিক স্বাধীনতা রক্ষার বিষয়টি আপসযোগ্য। তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের গঠনমূলক সম্পৃক্ততার জন্য চীনের প্রতি শত্রুতার প্রয়োজন নেই বা রাষ্ট্রীয় নীতির সমালোচনাকে চীনা জনগণের প্রতি শত্রুতা হিসেবেও ভুল করা উচিত নয়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত স্বচ্ছতাকে উৎসাহিত করা।

ভাষা, বিশ্বাস এবং ভাগ করে নেওয়া স্মৃতির ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা পরিচয়গুলো সরকার তাদের বিরুদ্ধে আইন প্রণয়ন করলেই বিলুপ্ত হয়ে যায় না। সেগুলো পরিবার, মঠ, শ্রেণীকক্ষ, গান এবং নির্বাসিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে টিকে থাকে। এগুলো টিকে থাকে কারণ সংস্কৃতি মানুষের দ্বারা পরিচালিত হয়, কোনো সরকারি ডিক্রি বা আদেশ দ্বারা নয়।

বেইজিং বিশ্বাস করে যে নতুন আইনটি জাতীয় সংহতিকে শক্তিশালী করবে। অন্যদিকে এর সমালোচকরা মনে করেন, এটি সাংস্কৃতিক আত্মীকরণ বা বিলুপ্তিকরণকে ত্বরান্বিত করার ঝুঁকি তৈরি করবে। এই আইনের আসল মূল্যায়ন কোনো সরকারি স্লোগান বা আইনি পাঠ্যের মধ্যে পাওয়া যাবে না; বরং এটি দেখা যাবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের তিব্বতি এবং অন্যান্য নৃতাত্ত্বিক সংখ্যালঘুরা তাদের ভাষায় স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারছে কিনা, কোনো ভয় ছাড়াই তাদের ধর্ম পালন করতে পারছে কিনা এবং মর্যাদার সঙ্গে তাদের ঐতিহ্যকে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে পারছে কিনা তার ওপর।

এটি এমন একটি প্রশ্ন যা চীনের সীমানা ছাড়িয়ে বহুদূর পর্যন্ত বিস্তৃত। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বৈচিত্র্যকে দমন করে জোরপূর্বক একতা চাপিয়ে দেওয়ার চেয়ে, বৈচিত্র্যকে রক্ষা করার মাধ্যমে একতাকে শক্তিশালী করার সর্বজনীন নীতি রক্ষায় এখনও প্রস্তুত কিনা, এটি তারই একটি পরীক্ষা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুলিয়ারচরে শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা দিলেন প্রতিমন্ত্রী মো: শরীফুল আলম এমপি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ)

বুধবার, ৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:০৭ পি.এম


কুলিয়ারচরে শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা দিলেন প্রতিমন্ত্রী মো: শরীফুল আলম এমপি

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ১৭ বছরের দীর্ঘ সংগ্রাম ও রক্তঝরা জুলাই বিপ্লবের আত্মত্যাগকারীদের স্মরণে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে আলোচনা সভা এবং শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেলে কুলিয়ারচর উপজেলা ও পৌর বিএনপির যৌথ উদ্যোগে দলীয় কার্যালয়ে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব-কুলিয়ারচর) আসনের সংসদ সদস্য এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, "গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনার আন্দোলনে জুলাই বিপ্লবের শহীদ ও যোদ্ধাদের অবদান জাতি চিরকাল শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে।"

উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো: কিতাব আলী মাস্টারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি এডভোকেট মশিউর রহমান, কুলিয়ারচর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম এ হান্নান এবং পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী মো: শাহাদাত হোসেন শাহ্ আলম।

আলোচনা সভা শেষে জুলাই আন্দোলনের বীর শহীদদের পরিবারের সদস্য ও আন্দোলনকারী সংবর্ধিত যোদ্ধাদের হাতে অতিথিরা সম্মাননা তুলে দেন।

এর আগে, বিকেলে প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম কুলিয়ারচর পৌর এলাকার গাইলকাটা ঈদগাহ ময়দানের সার্বিক উন্নয়নমূলক কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গ-সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণ উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চরফ্যাশনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ২য় বার্ষিকীতে ১১ দলীয় জোটের গণমিছিল ও সমাবেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এইচ এম নোমান ​চরফ্যাশন

বুধবার, ৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:১০ পি.এম


চরফ্যাশনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ২য় বার্ষিকীতে ১১ দলীয় জোটের গণমিছিল ও সমাবেশ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে ভোলার চরফ্যাশনে ১১ দলীয় জোটের উদ্যোগে গণমিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ কর্মসূচি বুধবার (৫ আগস্ট) বাদ আছর অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের অংশগ্রহণ দেখা যায়।

বিকেল বেলা চরফ্যাশন ঈদগাহ মাঠ থেকে গণমিছিলটি শুরু হয়ে পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরবর্তীতে, মিছিলটি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উপজেলা কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয় এবং সেখানে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর চরফ্যাশন উপজেলা আমির অধ্যক্ষ মীর মোহাম্মদ শরিফ হোসাইনের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংগ organization's কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য কাজী মাওলানা হারুনুর রশিদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট পারভেজ হোসাইন।

সমাবেশে অবস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির উপজেলা সভাপতি অহিদ ফয়সাল, সাধারণ সম্পাদক শফিউল্লাহ শফি, জামায়াতে ইসলামীর উপজেলা কর্মপরিষদের সদস্যসহ ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। এতে অংশ নেন উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে কাজী মাওলানা হারুনুর রশিদ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। তিনি বলেন, "শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা ও তাঁদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। একই সঙ্গে আহত যোদ্ধাদের যথাযথ সম্মান ও সহযোগিতা নিশ্চিত করতে হবে।"

তিনি আরও বলেন, "জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয়, স্বাধীন মানবাধিকার সংস্থা প্রতিষ্ঠা এবং দুর্নীতি দমন কমিশনসহ সকল প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণ বন্ধ করতে হবে। এসব দাবি পূরণ না হলে সাধারণ জনগণকে সাথে নিয়ে আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে দাবি মানতে বাধ্য করা হবে।"

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক সমাজ গঠনে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শহীদ ও আহতদের ত্যাগ কোনোভাবেই ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২৩
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৩
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%