বৃহস্পতিবার, ২০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৯:১২ পি.এম
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম সীমান্তে অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে চার কেজি ভারতীয় গাঁজাসহ পেয়ারা আহমেদ (২৬) নামের এক শীর্ষ মাদক কারবারিকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় তার সহযোগী মো. লোকমান (২৮) পালিয়ে যান। আটক পেয়ারা আহমেদ উপজেলার উজিরপুর ইউনিয়নের চকলক্ষ্মীপুর গ্রামের আব্দুল ছাত্তারের ছেলে। পলাতক লোকমান একই গ্রামের মৃত আতর আলীর ছেলে। বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার রাজেন্দ্রপুর সীমান্ত এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। বিজিবির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, আটক পেয়ারা ও পলাতক লোকমান দীর্ঘ সময় ধরে সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় মাদক এনে বিক্রির কাজের সঙ্গে জড়িত রয়েছে।
এ ঘটনায় চৌদ্দগ্রাম শিবের বাজার বিজিবি ক্যাম্পের নায়েব সুবেদার মো. আব্দুল কালাম বাদী হয়ে রাতে চৌদ্দগ্রাম মডেল থানায় মামলা করেছেন। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকালে, আটক পেয়ারা আহমেদকে কুমিল্লার আদালতে পাঠানোর তথ্য জানিয়েছেন চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ আরিফ হোছাইন।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, বুধবার বিকেলে বিজিবির সদস্যরা নিয়মিত টহল দেওয়ার সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, রাজেন্দ্রপুর সীমান্তের মেইন পিলার ২০৯৬ দিয়ে ভারত থেকে দুই ব্যক্তি গাঁজা নিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করছেন। এর পর বিজিবির একটি দল ওই পিলার থেকে প্রায় ৭০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অবস্থান নেয়।
একপর্যায়ে নীল রঙের পলিথিনে মোড়ানো একটি পোটলা হাতে একজনকে এবং তার সঙ্গে আরেকজনকে আসতে দেখেন বিজিবির সদস্যরা। বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে দুজন দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। তখন বিজিবি সদস্যরা তাঁদের ধাওয়া করে পেয়ারা আহমেদকে আটক করতে সক্ষম হয়। এ সময় লোকমান পালিয়ে যায়।
পরে প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সাক্ষীদের উপস্থিতিতে পেয়ারা আহমেদের হাতে থাকা নীল পলিথিনে মোড়ানো পোটলাটির তল্লাশি করা হয়। সেখান থেকে চার কেজি ভারতীয় গাঁজা উদ্ধার হয়। বিজিবির হিসাব অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া গাঁজার আনুমানিক বাজারমূল্য হচ্ছে ১৪ হাজার টাকা।
বিজিবি সূত্রে আরো জানা গেছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পেয়ারা আহমেদ তার সহযোগী হিসেবে লোকমানের নাম ও ঠিকানা জানান। ভারতীয় সীমান্ত এলাকা থেকে গাঁজা সংগ্রহ করে অধিক দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে তারা নিজেদের হেফাজতে রেখেছিলেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে সে স্বীকার করেছে।
চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার এসআই রায়হান জানিয়েছেন, ১৭ আগস্ট সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চকলক্ষ্মীপুর সীমান্ত এলাকা থেকে ১২ কেজি ভারতীয় গাঁজাসহ চাঁনপুর এলাকার আব্দুল লতিফের ছেলে হৃদয়কে আটক করা হয়। এ সময় পেয়ার ও জাহাঙ্গীর পালিয়ে যায়।
চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ আরিফ হোছাইন বলেছেন, ‘বিজিবি একজন আসামিকে গাঁজাসহ থানায় সোপর্দ করেছে। তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আদালতে পাঠানো হয়েছে। এজাহারে আরো একজনের নাম উল্লেখ রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য চেষ্টা চলছে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আই-এর ফেসবুক পেইজ থেকে এক সাংবাদিকের মৌলিক ভিডিওতে বেআইনী কপিরাইট ক্লেম দেওয়ায় চ্যানেল আই-এর পরিচালক ও বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। পটুয়াখালীর বাউফল রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক খবরের কাগজের বাউফল উপজেলার প্রতিনিধি মশিউর রহমান মিলনের পক্ষে নোটিশটি পাঠান উচ্চ আদালতের আইনজীবী মো. মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন। বুধবার (১৯ আগস্ট) ডাকযোগে শাইখ সিরিজকে এ লিগ্যাল নোটিশটি পাঠানো হয়।
নোটিশ সূত্রে জানা যায়, বাউফলের সাংবাদিক মিলন গত ২৬ জুলাই তার ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে ‘চাঁদাবাজির অভিযোগ, সাংবাদিককে হাতে নাতেধরলো ভুক্তভোগী হিন্দু পরিবার’ ক্যাপশনে একটি ভিডিও পোস্ট করেন। ওই ভিডিওটি তিনি তার নিজস্ব মোবাইল ফোনে ধারণ করেছিলেন। ভিডিওটি পোস্ট করার পর দেশব্যাপী ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।
নোটিশে অভিযোগ করা হয়, গত চলতি মাসের ৮ আগস্ট চ্যানেল আই কর্তৃপক্ষ ফেসবুকের ‘রাইটস ম্যানেজার’ সিস্টেম ব্যবহার করে ওই ভিডিওটির ওপর মালিকানা দাবি করে কপিরাইট ক্লেম দেয়। পরে ফেসবুক ক্লেম আমলে নিয়ে ভিডিওটি বন্ধ করে দেয়। কোনোরকম যাচাই-বাছাই ছাড়া একজন সাংবাদিকের মৌলিক ভিডিওর ওপর কপিরাইট ক্লেম দেওয়া বেআইনী কাজ।
সাংবাদিক মিলনের আইনজীবী মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন বলেন, নোটিশ প্রাপ্তির ৭ দিনের মধ্যে ভিত্তিহীন কপিরাইট ক্লেম তুলে নিয়ে ভিডিওটি পুনরায় সচল করা, এই মানহানিকর ঘটনার জন্য সাংবাদিক মিলনের কাছে লিখিতভাবে ক্ষমাপ্রার্থনা এবং পেশাগত সম্মান হানি ও আর্থিক ক্ষতি হিসেবে ৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। ৭ দিনের মধ্যে এসব দাবি মেনে না নিলে প্রচলিত কপিরাইট আইন, সাইবার নিরাপত্তা আইন ও মানহানি আইনের অধীনে শাইখ সিরিজের বিরুদ্ধে উপযুক্ত আদালতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সাংবাদিক মিলন বলেন, কোনো রকম যাচাই-বাছাই ছাড়া আমার মৌলিক ভিডিওর ওপর এমন ভিত্তিহীন কপিরাইট ক্লেম দেওয়া চরম দায়িত্বহীনতার পরিচয়। এতে আমার সৃজনশীল কাজের স্বীকৃতি ও ফেসবুক থেকে সম্ভাব্য আয় থেকে বঞ্চিত হয়েছি। এতে আমার পেশাগত সুনামও মর্যাদাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চাঁদপুরে নির্দিষ্ট পার্কিং স্থান নির্ধারণ এবং জরিমানার অর্থ সহনীয় পর্যায়ে রাখার দাবিতে অটোবাইক চালকরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন। গত বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট, ২০২৬) বেলা ১২টার দিকে চাঁদপুর পৌরসভা কার্যালয়ের সামনের রাস্তায় এলোমেলোভাবে গাড়ি রেখে তারা বিক্ষোভ করেন। এর ফলে প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় পর্যন্ত যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, যা সাধারণ যাত্রীদের জন্য চরম ভোগান্তির সৃষ্টি করে।
পরবর্তী সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও পৌর প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। এরপর পৌরসভা কার্যালয়ে চালক, মালিক প্রতিনিধি এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় চাঁদপুর পৌরসভার প্রশাসক মো. এরশাদ উদ্দিন মন্তব্য করেন, “শহরের যানজট নিরসনে অবৈধ অটোরিকশার বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। তবে চালকদের সুবিধার্থে আগামী দুই সপ্তাহ শহরে কোনো জরিমানা বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।” এসময় তিনি জানান, এই সময়ের মধ্যে চাঁদপুর পৌরসভার লাইসেন্সধারী ২৬২৭টি গাড়ির চালকদের ট্রাফিক আইনের ওপর বিশেষ প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। এছাড়া তারা মালিক ও চালকদের নিজ দায়িত্বে অবৈধ গাড়ি সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা দেন। নির্ধারিত সময়ের পরে লাইসেন্সবিহীন কোনো গাড়ি পাওয়া গেলে তা সরাসরি ডাম্পিংয়ের জন্য পাঠানো হবে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. খাইরুল কবির জানিয়েছেন, প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে চালকদের ট্রাফিক আইনের আওতাধীন একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে এবং কার্ড প্রদান করা হবে। পাশাপাশি জরিমানার বিষয়টি সহনীয় করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। প্রশাসনের এ ধরনের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে চালকরা তাদের অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেন।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা হিমাদ্রি খীসা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. খাইরুল কবির, চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফয়েজ আহমদ এবং ডিবি ওসি মজিবুর রহমান। সভায় অটোরিকশা ও অটোবাইক মালিক এবং চালক প্রতিনিধি, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরাও অংশ নেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পটুয়াখালীর বাউফলে চাঁদাবাজির অভিযোগ এবং ব্যবসায়ীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ রেখে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। কালাইয়া বন্দরের ফার্নিচার ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। পরে তাদের সাথে বন্দরের অন্যান্য ব্যবসায়ীরাও একাত্মতা প্রকাশ করে এবং মানববন্ধনে যোগ দেন।
আজ বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কালাইয়া বন্দরের সুন্দরী সিনেমা হল সড়কে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে বন্দরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে এবং একই স্থানে এসে শেষ হয়। এ সময় ব্যবসায়ীরা চাঁদাবাজি, হুমকি ও হামলার অভিযোগ তুলে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
মায়ের দোয়া ফার্নিচার মার্টের মালিক মো. শহিদুল মোল্লা অভিযোগ করেন, গত সোমবার (১৭ আগস্ট) ছাত্রদল নেতা ইয়াসিন কয়েকজন লোক নিয়ে তার দোকানে গিয়ে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে শহিদুল মোল্লাকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়। পরে ইয়াসিন এবং তার সহযোগীরা তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছিলেন বলেও অভিযোগ করেন।
শহিদুল মোল্লা আরও বলেন, বিষয়টি তিনি যুবদল নেতা স্বপন মৃধা, রুবেল চৌকিদার ও স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রিয়াজ পঞ্চায়েতকে জানান। পরে স্বপন মৃধা বিষয়টি কালাইয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি প্রার্থী ইব্রাহিমকে অবহিত করেন। ইব্রাহিম উভয় পক্ষকে নিয়ে সালিশের উদ্যোগ নিতে যুবদল নেতা স্বপন মৃধাকে বলেন।
শহিদুলের অভিযোগ, গত বুধবার (১৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় সুন্দরী সিনেমা হলের একটি কক্ষে সালিশ চলাকালে ছাত্রদল নেতা ইব্রাহিম আরও লোকজন নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন। একপর্যায়ে সালিশদারদের সঙ্গে অশালীন আচরণ এবং উপস্থিত ব্যবসায়ীদের ওপর লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে হামলা চালানো হয়। এই হামলায় অন্তত ২০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে শাহিন মোল্লা, মো. রাব্বি ও শহিদুল নামে তিনজনকে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয় এবং অন্যান্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
শহিদুল মোল্লা জানান, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর পর থেকেই তাদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। সালিশে বিষয়টির সমাধানের চেষ্টা করা হলেও সেখানে হামলার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় বাউফল থানায় মামলা করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
যুবদল নেতা স্বপন মৃধা জানান, উভয় পক্ষই তাদের সালিশ মেনে নিয়েছিল। তবে সালিশ চলাকালে ছাত্রদল নেতা ইব্রাহিমের অশালীন আচরণ করা যে দুঃখজনক ঘটনা, তা প্রত্যেকই মনে করেন।
অভিযোগের বিষয়ে ছাত্রদল নেতা ইয়াসিনের মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে এবং ছাত্রদল নেতা ইব্রাহিম বলেন, ঘটনাটি একেবারেই মিথ্যা। তিনি মন্তব্য করেন যে ইয়াসিন যদি চাঁদাবাজীর সঙ্গে জড়িত না, তাহলে এটি সাজানো নাটক। জামায়াত জড়িত বলে অভিযোগ করেন তিনি। এছাড়া জানান যে ইয়াসিন যদি চাঁদাবাজী ঘটনায় জড়িত থাকে, প্রমাণ দিতে বলেন, তাহলে তাঁকে পুলিশে দেওয়া হবে।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, ঘটনার সময় পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের ১৫ সদস্য বিশিষ্ট অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ পুনর্গঠন করা হয়েছে। এতে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বটি দেওয়া হয়েছে জেলা বিএনপির সভাপতি দীপন তালুকদার দীপুকে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের ফ্যাক্সের মাধ্যমে নতুন চেয়ারম্যান ও ১৪ জন সদস্যের নাম ঘোষণা করে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোঙ্গল চন্দ্র পাল সই করা এক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
এই ঘোষণার সাথে সাথে বিএনপির সভাপতি দীপন তালুকদার দীপু রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের অন্তবর্তীকালীন ৮ম চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর বড় ভাই কৃষিবিদ কাজল তালুকদারের স্থলাভিষিক্ত হলেন।
অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদের সদস্যরা হলেন- ১. শাশ্বত চাকমা, রাঙ্গামাটি সদর, ২. বিল্টু চাকমা, বাঘাইছড়ি, ৩. সুবিমল চাকমা, বরকল, ৪. অনিল বরণ চাকমা, জুরাছড়ি, ৫. উথোয়াইমং মার্মা, কাপ্তাই, ৬. পাইচিং মং মার্মা, কাউখালী, ৭. প্রেমা তালুকদার, রাজস্থলী, ৮. তিমথী খিয়াং, রাজস্থলী, ৯. সুপর্ণ দেব বর্মন, গর্জনতলী, রাঙ্গামাটি, ১০. মোহাম্মদ মামুনুর রশিদ, তবলছড়ি, রাঙ্গামাটি, ১১. তোফাজ্জল হোসেন, লংগদু, ১২. মোহাম্মদ ফারুক, গর্জনতলী, রাঙ্গামাটি পৌরসভা, ১৩. নন্দিতা দাশ, মাষ্টার কলোনী, রাঙ্গামাটি পৌরসভা, ১৪. চন্দ্রা চাকমা, রাজদ্বীপ পাড়া, রাঙ্গামাটি পৌরসভা।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত পুনর্গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ, ১৯৮৯ এবং এই আইনের সব সংশোধনীর বিধান অনুযায়ী রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সব দায়িত্ব পালন করবে। এ ছাড়া ২০২৪ সালের ৭ নভেম্বর প্রেরিত প্রজ্ঞাপন দ্বারা গঠিত পরিষদ বাতিল করা হয়েছে বলেও এতে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দীপন তালুকদারকে দায়িত্ব দেওয়ার খবরে পাহাড়ের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘকাল ধরে জেলা পরিষদের নেতৃত্ব নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনার পর তাঁর দায়িত্ব গ্রহণকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
দীপন তালুকদার দীর্ঘদিন ধরে রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে দলের রাজনীতিতে সক্রিয়। ২০২৩ সালে ঘোষিত রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটিতেও তাঁকে সভাপতি নির্বাচিত করা হয়।
এর আগে চলতি বছরের এপ্রিলে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের নির্বাচনের আয়োজনের দাবি জানিয়ে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন দীপন তালুকদার। তিনি জানিয়েছিলেন, সরকারের সদিচ্ছায় নির্বাচন হলে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান।
জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর দায়িত্ব গ্রহণের মধ্যদিয়ে পরিষদের কার্যক্রমে নতুন গতি আসবে-এমন প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা। বিশেষ করে দুর্গম পাহাড়ি এলাকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, কৃষি, পর্যটন, কাপ্তাই হ্রদকেন্দ্রিক অর্থনীতি এবং সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য কার্যকর উদ্যোগ চান তারা।
রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ জেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। ফলে নতুন চেয়ারম্যানের কাছে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, দল-মত ও সম্প্রদায় নির্বিশেষে সমান সুযোগ এবং দুর্গম এলাকার মানুষের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
বিশ্লেষকদের মতে, পাহাড়ের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় জেলা পরিষদের নেতৃত্ব শুধু প্রশাসনিক দায়িত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের ক্ষেত্রেও এর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তাই নতুন নেতৃত্বের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে সকল পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে একটি কার্যকর ও জনবান্ধব পরিষদ পরিচালনা করা।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দীপন তালুকদারের নেতৃত্বে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের মৌলিক সমস্যা সমাধানে দৃশ্যমান ভূমিকা রাখবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ