ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

চাঁদাবাজির প্রতিবাদে পটুয়াখালীর বাউফলে ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভ


চাঁদাবাজির প্রতিবাদে পটুয়াখালীর বাউফলে ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভ

পটুয়াখালীর বাউফলে চাঁদাবাজির অভিযোগ এবং ব্যবসায়ীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ রেখে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। কালাইয়া বন্দরের ফার্নিচার ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। পরে তাদের সাথে বন্দরের অন্যান্য ব্যবসায়ীরাও একাত্মতা প্রকাশ করে এবং মানববন্ধনে যোগ দেন।

আজ বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কালাইয়া বন্দরের সুন্দরী সিনেমা হল সড়কে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে বন্দরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে এবং একই স্থানে এসে শেষ হয়। এ সময় ব্যবসায়ীরা চাঁদাবাজি, হুমকি ও হামলার অভিযোগ তুলে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

মায়ের দোয়া ফার্নিচার মার্টের মালিক মো. শহিদুল মোল্লা অভিযোগ করেন, গত সোমবার (১৭ আগস্ট) ছাত্রদল নেতা ইয়াসিন কয়েকজন লোক নিয়ে তার দোকানে গিয়ে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে শহিদুল মোল্লাকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়। পরে ইয়াসিন এবং তার সহযোগীরা তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছিলেন বলেও অভিযোগ করেন।

আরও পড়ুন: বরিশালে বালু ব্যবসায়ীকে ৪ লাখ জরিমানা, মা ইলিশ অভিযানে ৮ জন দণ্ডিত

শহিদুল মোল্লা আরও বলেন, বিষয়টি তিনি যুবদল নেতা স্বপন মৃধা, রুবেল চৌকিদার ও স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রিয়াজ পঞ্চায়েতকে জানান। পরে স্বপন মৃধা বিষয়টি কালাইয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি প্রার্থী ইব্রাহিমকে অবহিত করেন। ইব্রাহিম উভয় পক্ষকে নিয়ে সালিশের উদ্যোগ নিতে যুবদল নেতা স্বপন মৃধাকে বলেন।

শহিদুলের অভিযোগ, গত বুধবার (১৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় সুন্দরী সিনেমা হলের একটি কক্ষে সালিশ চলাকালে ছাত্রদল নেতা ইব্রাহিম আরও লোকজন নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন। একপর্যায়ে সালিশদারদের সঙ্গে অশালীন আচরণ এবং উপস্থিত ব্যবসায়ীদের ওপর লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে হামলা চালানো হয়। এই হামলায় অন্তত ২০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে শাহিন মোল্লা, মো. রাব্বি ও শহিদুল নামে তিনজনকে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয় এবং অন্যান্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

শহিদুল মোল্লা জানান, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর পর থেকেই তাদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। সালিশে বিষয়টির সমাধানের চেষ্টা করা হলেও সেখানে হামলার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় বাউফল থানায় মামলা করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

যুবদল নেতা স্বপন মৃধা জানান, উভয় পক্ষই তাদের সালিশ মেনে নিয়েছিল। তবে সালিশ চলাকালে ছাত্রদল নেতা ইব্রাহিমের অশালীন আচরণ করা যে দুঃখজনক ঘটনা, তা প্রত্যেকই মনে করেন।

আরও পড়ুন: ইঞ্জিন বিকল হয়ে ট্রলারডুবি, নিখোঁজ দুই জেলে

অভিযোগের বিষয়ে ছাত্রদল নেতা ইয়াসিনের মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে এবং ছাত্রদল নেতা ইব্রাহিম বলেন, ঘটনাটি একেবারেই মিথ্যা। তিনি মন্তব্য করেন যে ইয়াসিন যদি চাঁদাবাজীর সঙ্গে জড়িত না, তাহলে এটি সাজানো নাটক। জামায়াত জড়িত বলে অভিযোগ করেন তিনি। এছাড়া জানান যে ইয়াসিন যদি চাঁদাবাজী ঘটনায় জড়িত থাকে, প্রমাণ দিতে বলেন, তাহলে তাঁকে পুলিশে দেওয়া হবে।

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, ঘটনার সময় পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ পুনর্গঠন, চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার দীপু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:১৫ পি.এম


রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ পুনর্গঠন, চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার দীপু

রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের ১৫ সদস্য বিশিষ্ট অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ পুনর্গঠন করা হয়েছে। এতে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বটি দেওয়া হয়েছে জেলা বিএনপির সভাপতি দীপন তালুকদার দীপুকে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের ফ্যাক্সের মাধ্যমে নতুন চেয়ারম্যান ও ১৪ জন সদস্যের নাম ঘোষণা করে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোঙ্গল চন্দ্র পাল সই করা এক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

এই ঘোষণার সাথে সাথে বিএনপির সভাপতি দীপন তালুকদার দীপু রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের অন্তবর্তীকালীন ৮ম চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর বড় ভাই কৃষিবিদ কাজল তালুকদারের স্থলাভিষিক্ত হলেন।

অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদের সদস্যরা হলেন- ১. শাশ্বত চাকমা, রাঙ্গামাটি সদর, ২. বিল্টু চাকমা, বাঘাইছড়ি, ৩. সুবিমল চাকমা, বরকল, ৪. অনিল বরণ চাকমা, জুরাছড়ি, ৫. উথোয়াইমং মার্মা, কাপ্তাই, ৬. পাইচিং মং মার্মা, কাউখালী, ৭. প্রেমা তালুকদার, রাজস্থলী, ৮. তিমথী খিয়াং, রাজস্থলী, ৯. সুপর্ণ দেব বর্মন, গর্জনতলী, রাঙ্গামাটি, ১০. মোহাম্মদ মামুনুর রশিদ, তবলছড়ি, রাঙ্গামাটি, ১১. তোফাজ্জল হোসেন, লংগদু, ১২. মোহাম্মদ ফারুক, গর্জনতলী, রাঙ্গামাটি পৌরসভা, ১৩. নন্দিতা দাশ, মাষ্টার কলোনী, রাঙ্গামাটি পৌরসভা, ১৪. চন্দ্রা চাকমা, রাজদ্বীপ পাড়া, রাঙ্গামাটি পৌরসভা।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত পুনর্গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ, ১৯৮৯ এবং এই আইনের সব সংশোধনীর বিধান অনুযায়ী রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সব দায়িত্ব পালন করবে। এ ছাড়া ২০২৪ সালের ৭ নভেম্বর প্রেরিত প্রজ্ঞাপন দ্বারা গঠিত পরিষদ বাতিল করা হয়েছে বলেও এতে উল্লেখ করা হয়।

এদিকে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দীপন তালুকদারকে দায়িত্ব দেওয়ার খবরে পাহাড়ের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘকাল ধরে জেলা পরিষদের নেতৃত্ব নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনার পর তাঁর দায়িত্ব গ্রহণকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

দীপন তালুকদার দীর্ঘদিন ধরে রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে দলের রাজনীতিতে সক্রিয়। ২০২৩ সালে ঘোষিত রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটিতেও তাঁকে সভাপতি নির্বাচিত করা হয়।

এর আগে চলতি বছরের এপ্রিলে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের নির্বাচনের আয়োজনের দাবি জানিয়ে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন দীপন তালুকদার। তিনি জানিয়েছিলেন, সরকারের সদিচ্ছায় নির্বাচন হলে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান।

জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর দায়িত্ব গ্রহণের মধ্যদিয়ে পরিষদের কার্যক্রমে নতুন গতি আসবে-এমন প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা। বিশেষ করে দুর্গম পাহাড়ি এলাকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, কৃষি, পর্যটন, কাপ্তাই হ্রদকেন্দ্রিক অর্থনীতি এবং সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য কার্যকর উদ্যোগ চান তারা।

রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ জেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। ফলে নতুন চেয়ারম্যানের কাছে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, দল-মত ও সম্প্রদায় নির্বিশেষে সমান সুযোগ এবং দুর্গম এলাকার মানুষের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

বিশ্লেষকদের মতে, পাহাড়ের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় জেলা পরিষদের নেতৃত্ব শুধু প্রশাসনিক দায়িত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের ক্ষেত্রেও এর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তাই নতুন নেতৃত্বের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে সকল পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে একটি কার্যকর ও জনবান্ধব পরিষদ পরিচালনা করা।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দীপন তালুকদারের নেতৃত্বে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের মৌলিক সমস্যা সমাধানে দৃশ্যমান ভূমিকা রাখবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কলাপাড়ায় কৃষি সেবা নিশ্চিতে আন্তঃসংযোগ সভা অনুষ্ঠিত হয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:১৫ পি.এম


কলাপাড়ায় কৃষি সেবা নিশ্চিতে আন্তঃসংযোগ সভা অনুষ্ঠিত হয়

পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়ায় কৃষি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান এবং কৃষকদের মধ্যে বিদ্যমান সেবা-সংক্রান্ত ঘাটতি চিহ্নিতকরণ করার জন্য এবং কৃষকদের প্রয়োজনীয় কৃষি সেবা সহজ ও কার্যকরভাবে নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আন্তঃসংযোগ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এই সভাটি বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০ টায় কলাপাড়া কৃষি অফিসের সভাকক্ষে জাগোনারী প্রদৃপ্ত প্রকল্পের আয়োজনে কেয়ার বাংলাদেশ-এর সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত হয়।

প্রদৃপ্ত প্রকল্পের প্রকল্প ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ জাফর আলম সভাটির সভাপতিত্ব করেন। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলাপাড়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা নাহিদুল ইসলাম। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লালুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শওকত হোসেন বিশ্বাস এবং কেয়ার বাংলাদেশ-এর টেকনিক্যাল কো-অর্ডিনেটর সাবাহ সাবনম।

সভায় কৃষকদের প্রয়োজন অনুযায়ী সরকারি এবং বেসরকারি কৃষি সেবার সুযোগ, সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সমস্যা এবং সেবা প্রদানকারী ও সেবাগ্রহীতাদের মধ্যে যোগাযোগ ও সেবা ঘাটতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

প্রধান অতিথি সভায় বলেন, কীটনাশক ব্যবহারে মাটির উর্বরতা কমে যাচ্ছে এবং কৃষক ও ভোক্তাদের স্বাস্থ্যের ক্ষতি এবং রোগব্যাধীও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই জমিতে কৃষকদের রাসায়নিক সার ব্যবহারের পরিমাণ কমিয়ে জৈব সার ব্যবহারের উপর গুরুত্ব দেয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি তিনি কৃষকদের সরকারি কৃষি সেবা গ্রহণে উৎসাহিত করার পাশাপাশি কৃষি বিভাগের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার আহ্বান জানান। তিনি কৃষকদের প্রয়োজন অনুযায়ী কারিগরি পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঈদগাঁওতে প্রশাসনের অভিযানে যানজট নিরসন, পরিবেশ রক্ষা ও জনস্বার্থ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:১৬ পি.এম


ঈদগাঁওতে প্রশাসনের অভিযানে যানজট নিরসন, পরিবেশ রক্ষা ও জনস্বার্থ

কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের পৃথক অভিযানে তিনটি বেকারি সহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি মোট ৯৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড পেয়েছে।

২০ আগস্ট বৃহস্পতিবার উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মংচিংনু মারমা পরিচালিত অভিযানে ইসলামাবাদ ইউনিয়নের ফকিরা বাজারের আর রহমান বেকারী, ঈদগাঁও ইউনিয়নের জাগির পাড়ার আনন্দ বেকারী এবং জালালাবাদ ইউনিয়নের সওদাগর পাড়ার নিউ ঢাকা বেকারীকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৫২ ধারায় মোট ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এছাড়া, ঈদগাঁও বাজারে ফুটপাত দখলের দায়ে দুইজনকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং প্রধান সড়ক দখল করে ট্রাক পার্কিং ও মালামাল আনলোড করার দায়ে কামাল উদ্দিনের মুদির দোকানকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা হয়।

অভিযানে ঈদগাঁও থানার পুলিশ ও আনসার সদস্যদের একটি দল সহযোগিতা করে। উপজেলা প্রশাসন জানায়, যানজট নিরসন, পরিবেশ রক্ষা এবং জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পরিবেশ দূষণে অসহনীয় দুর্ভোগে চট্টগ্রামবাসী, বাড়ছে শ্বাসতন্ত্রের রোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:১৬ পি.এম


পরিবেশ দূষণে অসহনীয় দুর্ভোগে চট্টগ্রামবাসী, বাড়ছে শ্বাসতন্ত্রের রোগ

চট্টগ্রাম, ২০ আগস্ট, ২০২৬ : বন্দরনগরী চট্টগ্রামে বায়ু ও শব্দদূষণ অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। এজন্য নগরবাসী বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

ফিটনেসবিহীন যানবাহন থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া এবং উন্মুক্ত স্থানের ধূলার কারণে বায়ুদূষণ বছরের পর বছর ধরে নগরবাসীর মধ্যে ব্রঙ্কাইটিস, অ্যাজমা ও শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন রোগ বাড়ছে।

একদিকে বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের হাইড্রোলিক হর্ন, আবাসিক এলাকার আশপাশে অবস্থিত ওয়েল্ডিং ও ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ থেকে সৃষ্ট শব্দদূষণে চট্টগ্রামের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

অন্যদিকে নগরীর বিভিন্ন অভিজাত আবাসিক এলাকায় বিদ্যুৎ জেনারেটরের শব্দও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করছে। এসব কোলাহলপূর্ণ পরিবেশ শিশুদের শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শব্দদূষণের মাত্রা প্রায় ২০০ ডেসিবেলে পৌঁছেছে, যেখানে সহনীয় মাত্রা ৬০ ডেসিবেল।

পরিবেশবিদরা বলেছেন, হাজার হাজার ফিটনেসবিহীন যানবাহন থেকে সৃষ্ট বায়ুদূষণের মাত্রা সর্বোচ্চ সহনীয় হার ৬৫ শতাংশ হার্টিজ স্মোক ইউনিটের বিপরীতে ১০০ শতাংশে পৌঁছেছে।

চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তরের সূত্রমতে, ধুলাবালির দূষণও ৫০০ মাইক্রোগ্রামের বেশি হয়েছে। অথচ সাসপেন্ডেড পার্টিকুলেটস ম্যাটারের ক্ষেত্রে সহনীয় মাত্রা প্রতি ঘনমিটারে ২০০ মাইক্রোগ্রাম হিসেবে বিবেচিত হয়।

অধিদপ্তর থেকে জানা যায়, নগরীর চকবাজার, বহদ্দারহাট মোড়, জিইসি মোড়, নিউমার্কেট, আগ্রাবাদ ও আন্দরকিল্লাসহ কয়েকটি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় দূষণের মাত্রা অত্যন্ত বেশি।

ফিটনেসবিহীন যানবাহন থেকে নির্গত ধোঁয়া এবং উন্মুক্ত স্থানের ধূলা একত্রিত হয়ে নগরীর বায়ুর মান ভয়াবহভাবে অবনতি ঘটাচ্ছে।

নগরীর বহদ্দারহাট এলাকার বাসিন্দা শিক্ষার্থী নোহা আক্তার বলেন, ‘পাশের কক্ষ থেকে আমার মা জোরে ডাকলেও আমি শুনতে পাই না। কারণ পাশের আবাসিক ফ্ল্যাট ও ওয়েল্ডিং কারখানার জেনারেটর থেকে প্রচণ্ড শব্দ হয়।’

চকবাজার এলাকার শিক্ষক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, আমি সাধারণত রাতে পড়াশোনা করি। কিন্তু অতিরিক্ত শব্দের কারণে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে।

তিনি আরও বলেন, ঘুমানোও যাচ্ছে না। ভারী যানবাহনের শব্দ শুনে আমার সন্তানরা প্রায়ই ভয় পেয়ে ঘুম থেকে উঠে কান্না করে।

বাসসের সঙ্গে আলাপকালে নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ ডা. আবদুস সাত্তার বলেন, দীর্ঘসময় ধরে শব্দদূষণের মধ্যে থাকলে শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক উভয়েই পুরোপুরি শ্রবণশক্তি হারাতে পারেন।

তিনি জানান, কোলাহলপূর্ণ পরিবেশ শিশুদের শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এ ধরনের পরিবেশগত অবনতি অব্যাহত থাকলে নগরবাসীর মধ্যে শ্বাসতন্ত্রের রোগ বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে।

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, ওয়েল্ডিং ইঞ্জিনিয়ারিং ও লেদ মেশিন, লোহার কারখানা এবং জেনারেটর আবাসিক এলাকা থেকে কমপক্ষে এক কিলোমিটার দূরে স্থাপন করতে হবে।

বিদ্যুৎ জেনারেটরও ভূগর্ভে স্থাপনের কথা বলা হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, কারখানা ও ওয়েল্ডিং ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মালিক এবং আবাসিক ভবনের ডেভেলপাররা এ পরিস্থিতি নিয়ে করা অভিযোগের প্রতি কোনো গুরুত্ব দিচ্ছেন না।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চট্টগ্রাম কার্যালয়ের সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম নগরী ও আশপাশের এলাকায় ৩২টিরও বেশি হালকা ও ভারী যানবাহন ফিটনেস সনদ ছাড়াই চলাচল করছে। এসব যানবাহন থেকে কালো ধোঁয়া নির্গত হচ্ছে।

বিআরটিএ সূত্র জানায়, তারা প্রতি ছয় মাস পরপর এসব ফিটনেসবিহীন যানবাহনের তথ্য নগরী ও জেলার ট্রাফিক বিভাগে পাঠায়, যাতে যানবাহনগুলো পরীক্ষা করে কালো ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিআরটিএর এক কর্মকর্তা বাসসকে বলেন, সংশ্লিষ্ট যানবাহনের মালিকদের নিয়মিত নোটিশ দেওয়া হচ্ছে। তাদের যানবাহন সংস্কার, ফিটনেস সনদ নবায়ন এবং সড়ক কর পরিশোধের জন্যও তাগাদা দেওয়া হচ্ছে।

বিআরটিএ কর্মকর্তারা দাবি করেন, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন, ট্রাফিক বিভাগ এবং মহানগর ও জেলা পুলিশের সহায়তায় তারা ফিটনেসবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছেন। তবে অজ্ঞাত কারণে পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক/জনসংযোগ) আমিনুর রশীদ বলেন, ফিটনেসবিহীন যানবাহন শুধু বায়ু ও শব্দদূষণই সৃষ্টি করে না, এগুলো যানজট ও সড়ক দুর্ঘটনার জন্যও দায়ী।

তিনি যানবাহন নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক বিভাগ ও বিআরটিএর সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

চট্টগ্রাম মেট্রোর পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক জমির উদ্দিন বাসসকে বলেন, তারা বায়ু ও শব্দদূষণ কমাতে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন। ২০০৮ সাল থেকে কালো ধোঁয়া নির্গমনের দায়ে বিপুলসংখ্যক ফিটনেসবিহীন যানবাহনকে জরিমানা করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ফিটনেসবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। শব্দদূষণ নিয়ে কেউ অভিযোগ করলে কর্তৃপক্ষ যত দ্রুত সম্ভব আইনগত ব্যবস্থা নেবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২৩
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৩
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%