০৬:৪৯ এম
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ছাত্রদলের সাবেক এক নেতাসহ সাতজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ, অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে দিনমজুরকে তুলে নিয়ে আটকে রেখে মারধর ও চাঁদা দাবি করার।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরের সময়ে সিআইখোলা মোড়ের একটি দোকান থেকে তাদের আটক করা হয়।
বিকেলে, ভুক্তভোগী দিনমজুর রফিকুল ইসলাম (২৫) মামলা দায়ের করেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানায়, আটকে রেখে মারধর ও চাঁদা দাবির অভিযোগে আটককৃতদের আসামি করে। জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপারেশন) তারেক আল মেহেদী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আরও পড়ুন: ইনানীতে ৪২ ঘণ্টা ধরে জ্বলছে আগুন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি
গ্রেফতারকৃত আসামিদের মধ্যে রয়েছেন- সিআইখোলা এলাকার বাসিন্দা জাকির হোসেনের ছেলে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা ছাত্রদলের সাবেক সহসাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম জিহাদ (২৬), তার অনুসারী একই এলাকার রমজান আলী (২৩), মো. আল আমিন (২২), গোলাম কিবরিয়া জয় (২১), রবিউল ইসলাম (২৪), মো. জাহাঙ্গীর (২৩), মো. আরমান (২২) এবং মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে বাদী রফিকুল ইসলাম উল্লেখ করেন, তিনি নেত্রকোনা জেলায় থাকেন কিন্তু কাজের সুবাদে সিদ্ধিরগঞ্জ পুল এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন। গত সোমবার (৩ আগস্ট) রাত সাড়ে দশটার দিকে, কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে সিআইখোলা বউ বাজার এলাকা থেকে অভিযুক্তরা তাকে ডেকে নিয়ে যান। এরপর তাকে সেখানকার একটি দোকান ঘরে নিয়ে আটকে রেখে মুক্তিপণ বাবদ দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। রফিকুল চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে রাতভর আটকে রেখে মারধর ও শারীরিক নির্যাতন করা হয়, এ বিষয়ে তিনি অভিযোগ করেছেন।
এক পর্যায়ে অপহরণকারীরা তার পকেটে থাকা ৫ হাজার ৩৬০ টাকা ছিনিয়ে নেয়। পাশাপাশি দাবি করা দুই লাখ টাকা না দিলে তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করে নদীতে ভাসিয়ে দেয়ার হুমকি দেন, মামলায় রফিকুল এ বিষয়গুলি উল্লেখ করেছেন।
ভুক্তভোগী রফিকুল আরও অভিযোগ করেছেন, অভিযুক্তরা অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তার পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে টাকা এনে দিতে বললে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকাল আটটায় তিনি তার চাচা মো. হাদিস মিয়াকে মুঠোফোনে কল করেন এবং বিষয়টি জানান।
আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে ৯ ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা প্রত্যাহার, নতুন কর্মকর্তাদের নিয়োগ
পরে চাচা হাদিস মিয়া বিষয়টি সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশকে জানালে, দুপুর দুইটার দিকে থানা পুলিশ ওই দোকান ঘরে অভিযান চালিয়ে ভুক্তভোগী রফিকুলকে উদ্ধার করে এবং সাতজনকে আটক করে। তবে এ ঘটনায় জড়িত অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজন ব্যক্তি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়, তাদেরও অজ্ঞাতনামা হিসেবে মামলায় আসামি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপারেশন) তারেক আল মেহেদী বলেন, চাঁদার দাবিতে নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা এই মামলায় গ্রেফতারকৃত ৭ জন আসামিকে সন্ধ্যায় আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পালিয়ে যাওয়া অজ্ঞাত তিন আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা ঘটনায় নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা ও অপরাধ স্বীকার করেছেন। তারা সংঘবদ্ধ অপহরণকারী চক্রের সদস্য এবং সহজ সরল মানুষকে কৌশলে ডেকে এনে আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায় করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। উদ্ধারের পর ভুক্তভোগী রফিকুল ইসলামকে থানা পুলিশের সহায়তায় স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হয়।
আরও পড়ুন: নওগাঁয় ভাড়া বাসায় জাল টাকার কারবার, ডিবির হাতে গ্রেপ্তার জব্বার
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন