স্টাফ রিপোর্টার, রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি
০১:১৩ পি.এম
রাঙ্গামাটি সদর উপজেলার রাঙ্গাপানি মৌজায় ১০ শতক জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে বিরোধের ঘটনায় ১৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে পুলিশ। জমি দখল, প্রতারণা, জাল কাগজপত্র তৈরি ও ব্যবহার এবং হুমকির অভিযোগের বিষয়ে তদন্তে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করেছে তদন্তকারী পুলিশ।
রাঙ্গামাটি কোতয়ালী থানার ২৯ জুলাই ২০২৬ তারিখের ৮৪ নম্বর অভিযোগপত্রে এসব তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের পর একই দিন অভিযোগপত্রটি আদালতে দাখিল করা হয়।
মামলার এজাহার ও পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, রাঙ্গামাটি সদর উপজেলার ১০২ নম্বর রাঙ্গাপানি মৌজার ৩৩৮১ নম্বর দাগে ৪ শতক এবং ৩৩৮৩ নম্বর দাগে ৬ শতক—মোট ১০ শতক জমি মৃত মো. আবু তাহেরের নামে রেকর্ডভুক্ত। মিউটেশন মামলা নম্বর ২৫৭/১৯৮৪-৮৫-এর মাধ্যমে তিনি ওই জমির মালিকানা লাভ করেন বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের রাজস্ব শাখার তদন্ত প্রতিবেদনেও জমাবন্দিতে ওই জমির রেকর্ড সঠিক এবং জমিটি ব্যক্তি মালিকানাধীন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সরকারের ভূমি উন্নয়ন কর ছাড়া ওই জমিতে সরকারের অন্য কোনো স্বত্ব বা স্বার্থ নেই।
নথি অনুযায়ী, মো. আবু তাহের ২০১৬ সালের ২ ডিসেম্বর মারা যাওয়ার পর তাঁর স্ত্রী, সন্তান ও অন্যান্য উত্তরাধিকারীরা জমিটির মালিকানা দাবি করেন। তাঁদের অভিযোগ, প্রকৃত মালিকানা সম্পর্কে অবগত থাকা সত্ত্বেও কয়েকজন ব্যক্তি জমিটিকে খাস জমি হিসেবে দেখিয়ে বিভিন্ন হলফনামা ও কাগজপত্র তৈরি করেন এবং পরবর্তী সময়ে সেগুলো জমির মালিকানার প্রমাণ হিসেবে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে ব্যবহার করেন।
পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মো. ছিদ্দিককে বিক্রেতা এবং চম্পা বেগমকে ক্রেতা দেখিয়ে ২০১০ সালের ৩১ আগস্ট ১৭৮/২০১০ নম্বর একটি হলফনামা তৈরি করা হয়। পরবর্তী সময়ে চম্পা বেগম চার শতক জমিকে খাস জমি হিসেবে দাবি করে সেখানে বিদ্যুৎ সংযোগ ও পৌর হোল্ডিং গ্রহণ করেন বলেও তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া সাইদা বেগম ওরফে শাহিদা বেগমসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে ওই জমি অন্যদের কাছে বিক্রি ও দখল হস্তান্তরের অভিযোগের কথাও তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের প্রতিবেদনে মৃত আবু তাহেরের নামে ১০ শতক জমি রেকর্ডভুক্ত থাকার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিউবো) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তদন্তে উল্লেখ করা ১০টি বিদ্যুৎ মিটারের মধ্যে চম্পা বেগম, আব্দুল খালেক ও সাইদা বেগম ওরফে শাহিদা বেগমের সংযোগের ক্ষেত্রে ভূমির মালিকানা বা ব্যবহারকারীর পক্ষে বৈধ কাগজপত্র পাওয়া যায়নি। পরে কোতয়ালী থানার সহায়তায় ওই তিনটি বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।
বাকি সাতজন গ্রাহকের মালিকানা-সংক্রান্ত বৈধ কাগজপত্র চাওয়া হলে তাঁরা যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালতের শরণাপন্ন হন। তাঁদের বিষয়ে আদালতে কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে বিউবোর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে মৃত আবু তাহেরের ওয়ারিশদের অভিযোগ, অভিযুক্তদের কেউই ওই জমির বৈধ মালিক নন এবং তাঁদের কাছে মালিকানার বৈধ কাগজপত্রও নেই। তাঁদের প্রশ্ন, মালিকানা-সংক্রান্ত বৈধ কাগজপত্র না থাকা সত্ত্বেও কীভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে পৌর হোল্ডিং ও বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হলো।
ওয়ারিশদের আরও অভিযোগ, মামলা দায়েরের পর চম্পা বেগম নিজেকে রাঙ্গামাটি সদর থানার ৮ নম্বর ওয়ার্ড জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভানেত্রী পরিচয় দিয়ে তাঁর ও তাঁর স্বামীর নাম মামলা থেকে বাদ দেওয়ার জন্য রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্নভাবে হুমকি ও হয়রানি করছেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চম্পা বেগম। মুঠোফোনে তিনি বলেন, ২০১০ সালে মো. ছিদ্দিকের কাছ থেকে চার শতক খাস জমি কিনে সেখানে ঘর নির্মাণ করে বসবাস করছেন। তাঁর কাছে খাস জমি ক্রয়ের কাগজ ছাড়া অন্য কোনো কাগজপত্র নেই। তিনি দাবি করেন, ওই জমির মালিক মৃত মো. আবু তাহের নন।
চম্পা বেগম আরও বলেন, জায়গাটি কোনো কারণে ছেড়ে দিতে হলে তিনি ছেড়ে দেবেন বলেও জানান।” মামলার বিষয়ে বিস্তারিত জানেন না দাবি করে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন।
পুলিশের তদন্ত শেষে মো. ছিদ্দিক, চম্পা বেগম, আব্দুল খালেক, আব্দুল জলিল, তৈয়বা বেগম ওরফে তৈয়বা খাতুন, সাইদা বেগম ওরফে শাহিদা বেগমসহ মোট ১৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে দলবদ্ধ হয়ে জমিতে প্রবেশ, জমি দখল, প্রতারণা, জাল কাগজপত্র তৈরি ও ব্যবহার এবং হুমকি দেওয়ার অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করেছে পুলিশ। বর্তমানে মামলাটি বিজ্ঞ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অন্যায়-অসত্যের বিরুদ্ধে বিজয়ী হতে দক্ষ ও যোগ্য জনশক্তি গড়ে তুলতে হবে — অধ্যাপক আবদুল হামিদ চৌধুরী
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম উত্তর জেলার বায়তুলমাল সেক্রেটারি অধ্যাপক আবদুল হামিদ চৌধুরী বলেছেন, অন্যায়, অসত্য ও জুলুমের বিরুদ্ধে সংগ্রামকে বিজয়ী করতে হলে নেতা-কর্মীদের দক্ষ, সৎ, জ্ঞানী, যোগ্য ও আদর্শিক জনশক্তি হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। ঈমানী শক্তিতে বলীয়ান কোনো জনশক্তিকে কোনো অপশক্তি নস্যাৎ করতে পারে না। আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
শুক্রবার বিকেল ৩টায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মগধরা ইউনিয়ন আয়োজিত কর্মী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মগধরা ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি ছায়েদুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি আলাউদ্দিনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে অধ্যাপক আবদুল হামিদ চৌধুরী বলেন, জামায়াতে ইসলামীর জনশক্তিকে শুধু সাংগঠনিক কর্মী হলে চলবে না। তাদের কুরআন-সুন্নাহর জ্ঞান, তাকওয়া, আমল-আখলাক, নৈতিকতা ও সাংগঠনিক দক্ষতায় সমৃদ্ধ হতে হবে। একজন রুকনকে নিজের জীবনকে ইসলামী আদর্শের বাস্তব নমুনা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। ব্যক্তিজীবনে আল্লাহভীতি, সততা, আমানতদারি ও দায়িত্বশীলতা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি সমাজের মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের প্রথম দায়িত্ব নিজেদের সংশোধন করা। আত্মশুদ্ধি ও জ্ঞানার্জনের মাধ্যমে নিজেদের যোগ্যতা বৃদ্ধি করতে হবে। একই সঙ্গে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের মানুষের কাছে ইসলামের কল্যাণকর আদর্শ তুলে ধরতে হবে। মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানো, অন্যায়ের প্রতিবাদ করা এবং ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখাকে আন্দোলনের কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রতিকূলতা ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের জন্য নতুন কিছু নয়। আদর্শের পথে চলতে গিয়ে নানা বাধা ও পরীক্ষা আসতে পারে। এসব পরিস্থিতিতে হতাশ বা বিচলিত না হয়ে ঈমান, ধৈর্য, শৃঙ্খলা ও সাংগঠনিক ঐক্যকে শক্তিশালী করতে হবে। কোনো ব্যক্তি বা শক্তির ওপর নির্ভরশীল না হয়ে সর্বাবস্থায় আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করতে হবে।
অধ্যাপক আবদুল হামিদ চৌধুরী বলেন, যোগ্য ও নৈতিক জনশক্তি ছাড়া কোনো সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব নয়। তাই রুকনদের নিয়মিত অধ্যয়ন, প্রশিক্ষণ, আত্মসমালোচনা ও সাংগঠনিক কার্যক্রমের মাধ্যমে নিজেদের আরও সমৃদ্ধ করতে হবে। সমাজের প্রতিটি স্তরে ন্যায়, ইনসাফ, সততা ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার জন্য দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
কর্মী সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন সন্দ্বীপ উপজেলা জামায়াতের তথ্য ও প্রচার সম্পাদক মাওলানা শাহেদ খান, ইকবাল হোসাইন, শরীফ মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ, বোরহান উদ্দিন ও কাজী ফখরুল ইসলাম প্রমুখ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
০৪-১০-২০২৬ তারিখে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এর নির্দেশে জেলা গোয়েন্দা শাখা নওগাঁ এর একটা টীম পত্নিতলা থানা এলাকায় মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযানিক টীম জানতে পারে যে পত্নিতলা থানাধীন উমা মহেশপুর গ্রামের এর বাড়ির সামনে কতিপয় ব্যাক্তি মাদক বিক্রয়ের জন্য অবস্থান করছে।
উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে অভিযানিক টীম ১৭.০০ ঘটিকায় ঘটনাস্থলে পৌছালে ডিবি পুলিশ আসামি শ্রী বিশ্ন চন্দ্র (২৮) পিতা সুপথ বর্মন গ্রাম আলী দেওনা পুর্ব পাড়া থানা মহাদেপুর জেলা নওগাঁ কে আটক করে উপস্থিত লোকজনের সামনে দেহ তল্লাশী করা হয়। তল্লাশী কালে আসামি শ্রী বিশ্নু চন্দ্রের হেফাজত হতে ১৩ পাতায় ১০ টি করে মোট ১৩০ পিচ ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
এ বিষয়ে গ্রেফতারকৃত আসামি বিশ্নু চন্দ্র সহ অজ্ঞাত দুজন মাদক কারবারীদের বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে পত্নিতলা থানায় মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মানিকগঞ্জের সিএনজি স্টেশনগুলোতে তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। গত দুই দিন ধরে চালকরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস পাচ্ছেন না। জেলার অধিকাংশ স্টেশন বন্ধ থাকায়, চালু থাকা স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন সিএনজি অটোরিকশা ও বাসচালকরা।
সোমবার সকালে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে অবস্থিত গুডলাক সিএনজি স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, গ্যাস নেওয়ার জন্য শত শত যানবাহন দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছে। সকাল থেকে সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে থেকেও চালকরা গ্যাস পাওয়ার বিষয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।
মানিকগঞ্জ জেলায় প্রায় ১৪টি সিএনজি স্টেশন রয়েছে, যার অধিকাংশই গ্যাস সংকটের কারণে বন্ধ রয়েছে। ফলে চালু থাকা অল্প কয়েকটি স্টেশনে গ্যাস নিতে বিপুলসংখ্যক যানবাহনের চালক একসঙ্গে ভিড় করছেন।
সিএনজি অটোরিকশাচালক শামীম হোসেন বলেন, “সকাল ৯টায় এসে সিরিয়াল ধরেছি। আমার আগে অনেক গাড়ি রয়েছে। এভাবে চললে দুপুরের দিকে গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। তাও চাহিদামতো গ্যাস পাব কি না, জানি না। অনেক সময় ৪০০ থেকে ৫০০ টাকার বেশি গ্যাস দেওয়া হয় না।”
চালকদের অভিযোগ, গ্যাসের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে গিয়ে তাদের কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। পাশাপাশি যাত্রী পরিবহনেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দৈনিক কালবেলার বরগুনা জেলা প্রতিনিধি আসাদ সবুজের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিঃশর্ত মুক্তি এবং গ্রেফতারের নামে অমানবিক নির্যাতনের সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ)। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাকে মুক্তি দেওয়া না হলে দেশব্যাপী বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা।
শনিবার বিকেলে বরগুনা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের হলরুমে অনুষ্ঠিত এক বৈঠক শেষে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আহমেদ আবু জাফর এই ঘোষণা দেন।
কথিত চাঁদাবাজির মামলায় সাংবাদিক আসাদ সবুজকে গ্রেফতারের নামে হেনস্তা ও অমানবিক আচরণের তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয় বৈঠকে। এর প্রেক্ষিতে বরগুনার পুলিশ সুপার কুদরত-ই-খুদা ৩ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। কমিটিকে আগামী ৩ থেকে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সুপার জানান, তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে তিনি সাংবাদিক আসাদ সবুজের মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনার আশ্বাস দেন। উল্লেখ্য, যে ভূমি সংক্রান্ত ঘটনার অনুসন্ধান করতে গিয়ে আসাদ সবুজ ষড়যন্ত্রমূলক চাঁদাবাজি মামলার শিকার হয়েছেন, সেই মূল ঘটনাটিও গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান তিনি।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করবেন সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি বরগুনা জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট মোস্তফা কাদের। আজ রোববার বরগুনা চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আসাদ সবুজের জামিন শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
বৈঠকে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ পুলিশ সুপারের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এই জরুরি বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন:
পুলিশ প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ: বরগুনার পুলিশ সুপার কুদরত-ই-খুদা, বরগুনা জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম মোল্লা, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ফজলুল হক মাস্টার।
বরগুনা প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাফিজুর রহমান, বিএমএসএফ-এর কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক আরিফ রহমান ও আমির হোসেন, সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সুমন তালুকদার, কেন্দ্রীয় নেতা রাহাদ সুমন, জামাল হোসেন খান, দানিসুর রহমান লিমন।
বিএমএসএফ-এর সভাপতি হাসান সিকদার, দুমকি শাখার সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক আরিফুর রহমান মামুন, বরগুনা জেলা শাখার সদস্য আসাদ তালুকদার, রাসেল সিকদার, প্রেস ক্লাব সদস্য কাশেম হাওলাদারসহ অন্যান্যরা।
গণমাধ্যম ও সাংবাদিক সুরক্ষায় তীব্র প্রতিবাদ বৈঠকে সাংবাদিক নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "দেশে গণতন্ত্রের নামে গণমাধ্যম নিধনের মহোৎসব চলছে। নানা পেশার মানুষের পাশাপাশি সাংবাদিকদের ওপর প্রতিনিয়ত নিপীড়ন, নির্যাতন, মিথ্যা মামলা ও হয়রানি চালানো হচ্ছে। মনে রাখতে হবে, গণমাধ্যম না বাঁচলে গণতন্ত্র বাঁচবে না।"
তারা আরও বলেন, রাষ্ট্র ও গণমাধ্যমকে মুখোমুখি দাঁড় করাতে একটি দুর্নীতিবাজ ও লুটপাটকারী স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে। তারা নিজেদের অনিয়ম ঢাকতে সাংবাদিকদের পেছনে ঠেলে দিতে চায়। অবিলম্বে এসব বন্ধ করে সাংবাদিকদের নির্বিঘ্নে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পরিবেশ তৈরির জোর দাবি জানান তারা। একই সঙ্গে আগামী ৮ নভেম্বরের মধ্যে বহু প্রতীক্ষিত 'সাংবাদিক সুরক্ষা আইন' প্রণয়নের জন্য সরকারের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ