বুলবুল আহম্মেদ বুলু নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি
০১:৩৬ পি.এম
০৪-১০-২০২৬ তারিখে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এর নির্দেশে জেলা গোয়েন্দা শাখা নওগাঁ এর একটা টীম পত্নিতলা থানা এলাকায় মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযানিক টীম জানতে পারে যে পত্নিতলা থানাধীন উমা মহেশপুর গ্রামের এর বাড়ির সামনে কতিপয় ব্যাক্তি মাদক বিক্রয়ের জন্য অবস্থান করছে।
উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে অভিযানিক টীম ১৭.০০ ঘটিকায় ঘটনাস্থলে পৌছালে ডিবি পুলিশ আসামি শ্রী বিশ্ন চন্দ্র (২৮) পিতা সুপথ বর্মন গ্রাম আলী দেওনা পুর্ব পাড়া থানা মহাদেপুর জেলা নওগাঁ কে আটক করে উপস্থিত লোকজনের সামনে দেহ তল্লাশী করা হয়। তল্লাশী কালে আসামি শ্রী বিশ্নু চন্দ্রের হেফাজত হতে ১৩ পাতায় ১০ টি করে মোট ১৩০ পিচ ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
এ বিষয়ে গ্রেফতারকৃত আসামি বিশ্নু চন্দ্র সহ অজ্ঞাত দুজন মাদক কারবারীদের বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে পত্নিতলা থানায় মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মানিকগঞ্জের সিএনজি স্টেশনগুলোতে তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। গত দুই দিন ধরে চালকরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস পাচ্ছেন না। জেলার অধিকাংশ স্টেশন বন্ধ থাকায়, চালু থাকা স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন সিএনজি অটোরিকশা ও বাসচালকরা।
সোমবার সকালে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে অবস্থিত গুডলাক সিএনজি স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, গ্যাস নেওয়ার জন্য শত শত যানবাহন দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছে। সকাল থেকে সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে থেকেও চালকরা গ্যাস পাওয়ার বিষয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।
মানিকগঞ্জ জেলায় প্রায় ১৪টি সিএনজি স্টেশন রয়েছে, যার অধিকাংশই গ্যাস সংকটের কারণে বন্ধ রয়েছে। ফলে চালু থাকা অল্প কয়েকটি স্টেশনে গ্যাস নিতে বিপুলসংখ্যক যানবাহনের চালক একসঙ্গে ভিড় করছেন।
সিএনজি অটোরিকশাচালক শামীম হোসেন বলেন, “সকাল ৯টায় এসে সিরিয়াল ধরেছি। আমার আগে অনেক গাড়ি রয়েছে। এভাবে চললে দুপুরের দিকে গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। তাও চাহিদামতো গ্যাস পাব কি না, জানি না। অনেক সময় ৪০০ থেকে ৫০০ টাকার বেশি গ্যাস দেওয়া হয় না।”
চালকদের অভিযোগ, গ্যাসের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে গিয়ে তাদের কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। পাশাপাশি যাত্রী পরিবহনেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দৈনিক কালবেলার বরগুনা জেলা প্রতিনিধি আসাদ সবুজের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিঃশর্ত মুক্তি এবং গ্রেফতারের নামে অমানবিক নির্যাতনের সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ)। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাকে মুক্তি দেওয়া না হলে দেশব্যাপী বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা।
শনিবার বিকেলে বরগুনা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের হলরুমে অনুষ্ঠিত এক বৈঠক শেষে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আহমেদ আবু জাফর এই ঘোষণা দেন।
কথিত চাঁদাবাজির মামলায় সাংবাদিক আসাদ সবুজকে গ্রেফতারের নামে হেনস্তা ও অমানবিক আচরণের তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয় বৈঠকে। এর প্রেক্ষিতে বরগুনার পুলিশ সুপার কুদরত-ই-খুদা ৩ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। কমিটিকে আগামী ৩ থেকে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সুপার জানান, তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে তিনি সাংবাদিক আসাদ সবুজের মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনার আশ্বাস দেন। উল্লেখ্য, যে ভূমি সংক্রান্ত ঘটনার অনুসন্ধান করতে গিয়ে আসাদ সবুজ ষড়যন্ত্রমূলক চাঁদাবাজি মামলার শিকার হয়েছেন, সেই মূল ঘটনাটিও গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান তিনি।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করবেন সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি বরগুনা জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট মোস্তফা কাদের। আজ রোববার বরগুনা চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আসাদ সবুজের জামিন শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
বৈঠকে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ পুলিশ সুপারের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এই জরুরি বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন:
পুলিশ প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ: বরগুনার পুলিশ সুপার কুদরত-ই-খুদা, বরগুনা জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম মোল্লা, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ফজলুল হক মাস্টার।
বরগুনা প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাফিজুর রহমান, বিএমএসএফ-এর কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক আরিফ রহমান ও আমির হোসেন, সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সুমন তালুকদার, কেন্দ্রীয় নেতা রাহাদ সুমন, জামাল হোসেন খান, দানিসুর রহমান লিমন।
বিএমএসএফ-এর সভাপতি হাসান সিকদার, দুমকি শাখার সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক আরিফুর রহমান মামুন, বরগুনা জেলা শাখার সদস্য আসাদ তালুকদার, রাসেল সিকদার, প্রেস ক্লাব সদস্য কাশেম হাওলাদারসহ অন্যান্যরা।
গণমাধ্যম ও সাংবাদিক সুরক্ষায় তীব্র প্রতিবাদ বৈঠকে সাংবাদিক নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "দেশে গণতন্ত্রের নামে গণমাধ্যম নিধনের মহোৎসব চলছে। নানা পেশার মানুষের পাশাপাশি সাংবাদিকদের ওপর প্রতিনিয়ত নিপীড়ন, নির্যাতন, মিথ্যা মামলা ও হয়রানি চালানো হচ্ছে। মনে রাখতে হবে, গণমাধ্যম না বাঁচলে গণতন্ত্র বাঁচবে না।"
তারা আরও বলেন, রাষ্ট্র ও গণমাধ্যমকে মুখোমুখি দাঁড় করাতে একটি দুর্নীতিবাজ ও লুটপাটকারী স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে। তারা নিজেদের অনিয়ম ঢাকতে সাংবাদিকদের পেছনে ঠেলে দিতে চায়। অবিলম্বে এসব বন্ধ করে সাংবাদিকদের নির্বিঘ্নে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পরিবেশ তৈরির জোর দাবি জানান তারা। একই সঙ্গে আগামী ৮ নভেম্বরের মধ্যে বহু প্রতীক্ষিত 'সাংবাদিক সুরক্ষা আইন' প্রণয়নের জন্য সরকারের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মিয়ানমারের রাখাইন তথা আরাকান অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে চলমান সংঘাতের প্রভাব বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী জনপদে ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। কক্সবাজার ও বান্দরবানের সীমান্তবর্তী মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে সীমান্তের ওপারে গোলাগুলি, বিস্ফোরণ, স্থলমাইন বিস্ফোরণ এবং বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতার কারণে। মাদকপাচারের অভিযোগ যুক্ত হওয়ায় সার্বিক সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সর্বশেষ গত ১ অক্টোবর উখিয়ার পালংখালী সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের অভ্যন্তরে স্থলমাইন বিস্ফোরণে মো. হামিদ হোসেন নামে এক রোহিঙ্গা যুবক গুরুতর আহত হন। বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে প্রায় ২৫০ গজ পশ্চিমে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বিস্ফোরণটি ঘটে। আহত হামিদ কুতুপালং নিবন্ধিত রোহিঙ্গা শিবিরের সি-২৭ ব্লকের বাসিন্দা। পরে তিনি বাংলাদেশে প্রবেশ করলে বিজিবি ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে কুতুপালংয়ের এমএসএফ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
তবে সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণের ঘটনা এটিই প্রথম নয়। চলতি বছরের ১০ এপ্রিল উখিয়া সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের ভূখণ্ডে স্থলমাইন বিস্ফোরণে সাদেক নামে এক রোহিঙ্গা যুবকের পা বিচ্ছিন্ন হওয়ার খবর পাওয়া যায়। এর আগে ১২ জানুয়ারি টেকনাফ সীমান্তেও মাইন বিস্ফোরণে এক বাংলাদেশি যুবক গুরুতর আহত হন।
এ ছাড়া গত ২৪ মে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণে তিন বাংলাদেশি নিহত হন। সীমান্তবর্তী কৃষিজমি ও কাঠ সংগ্রহের এলাকায় যাতায়াতের সময় তারা মাইন বিস্ফোরণের শিকার হন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানাগেছে।
সীমান্তবর্তী স্থানীয়দের অভিযোগ, মিয়ানমারের রাখাইন অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণে থাকা সশস্ত্র সংগঠন আরাকান আর্মির বিভিন্ন ধরনের অপতৎপরতা সীমান্ত পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে। সীমান্তের ওপারে তাদের অবস্থান, চৌকি স্থাপন এবং চলাচল নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। স্থানীয়রা জানান, সীমান্তের কাঁটাতারের ওপারে ঘন জঙ্গলের মধ্যে ছোট ছোট অনেক চৌকি দেখা যায়; তাদের দাবি, এসব চৌকিতে আরাকান আর্মির সদস্যরা অবস্থান করেন।
তবে এসব চৌকির সুনির্দিষ্ট অবস্থান ও সেখানে কারা অবস্থান করছে—তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে বিষয়টি স্থানীয়দের বক্তব্য হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের আরেকটি কারণ হলো মিয়ানমারের অভ্যন্তরে চলমান সংঘাত। সাম্প্রতিক সময়েও রাখাইন অঞ্চলে মিয়ানমার সামরিক বাহিনী ও আরাকান আর্মির মধ্যে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে বাংলাদেশের সীমান্তের কাছাকাছি কিয়াউকতাও এলাকায় আরাকান আর্মীকে লক্ষকরে মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর বিমান হামলায় হতাহতের খবর প্রকাশিত হয়েছে। এতে আরাকান আর্মী চাপে পড়লেও থামছেনা তাদের তৎপরতা।
সীমান্তবর্তী স্থানীয়দের অভিযোগ, সংঘাত ও অস্থিতিশীলতার সুযোগ নিয়ে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে মাদক পাচারের তৎপরতা বাড়ছে। তাদের দাবি, সীমান্তের কিছু মাদক কারবারিকে ব্যবহার করে আরাকান আর্মির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চক্র মাদক পাচার করছে এবং মাদক বহনের কাজে কিছু রোহিঙ্গা যুবককেও ব্যবহার করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, মাদক বহন করতে গিয়ে কেউ কেউ সীমান্তের স্থলমাইন বিস্ফোরণের ঝুঁকিতেও পড়ছেন। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, জঙ্গল ও নাফ নদীর বিভিন্ন অংশ ব্যবহার করে মাদক পাচারের চেষ্টা করা হয় বলেও তাদের দাবি।
সীমান্তে মাদকপাচার প্রতিরোধে বিজিবি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে। এসব অভিযানে বিভিন্ন সময়ে ইয়াবা, গাঁজা, আইসও অন্যান্য মাদকসহ পাচারকারীদের আটক করার ঘটনাও ঘটছে অহরহ।
সীমান্তবর্তী মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে অদৃশ্য স্থলমাইন। সীমান্তের কাছাকাছি কৃষিকাজ, মাছ ধরা, বাঁশ-কাঠ সংগ্রহ কিংবা অন্যান্য প্রয়োজনে যাতায়াত করতে গিয়ে স্থানীয় ও রোহিঙ্গারা ঝুঁকিতে পড়ছেন এতে।
বিশেষ করে সীমান্তের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় কোথায় মাইন পুঁতে রাখা হয়েছে, তার সুনির্দিষ্ট তথ্য সাধারণ মানুষের কাছে না থাকায় ঝুঁকি আরও বাড়ছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায় মাইন বিস্ফোরণের একাধিক ঘটনার পর এখন অনেকেই প্রয়োজন ছাড়া সীমান্তবর্তী এলাকায় যেতে ভয় পাচ্ছেন।
বর্তমানে যে সীমান্ত এলাকা দেখা যায়, তার ঠিক ওপারেই রয়েছে মিয়ানমারের কাঁটাতারের বেড়া। ঘন জঙ্গলের কারণে বেড়াটি পুরোপুরি স্পষ্টভাবে দেখা না গেলেও দূরে এর কিছু অংশ দৃশ্যমান। স্থানীয়দের দাবি, বেড়ার ওপারে থাকা কয়েকটি ছোট চৌকি আরাকান আর্মির অবস্থান হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
মাইন বিস্ফোরণ, সীমান্তের ওপারে সংঘাত, আরাকান আর্মির কথিত তৎপরতা এবং মাদকপাচারের অভিযোগ—সব মিলিয়ে সীমান্তবর্তী জনপদে নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়ছে। স্থানীয়দের দাবি, সীমান্তে বিজিবির টহল ও নজরদারি আরও বাড়ানোর পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করতে হবে।
তাদের মতে, সীমান্তবর্তী কৃষক, জেলে, কাঠ ও বাঁশ সংগ্রহকারী এবং সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় চলাচলকারী সাধারণ মানুষকে স্থলমাইনের ঝুঁকি সম্পর্কে নিয়মিত সচেতন করা জরুরি। একই সঙ্গে মাদকপাচারের রুটগুলো চিহ্নিত করে কঠোর নজরদারি এবং সীমান্তের ওপারের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতার বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সংশ্লিষ্টদের মতে, রাখাইন অঞ্চলের সংঘাত এখন আর শুধু মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সমস্যা নয়; এর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জনপদে। তাই মাইন বিস্ফোরণ প্রতিরোধ, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, মাদকপাচার বন্ধ এবং সীমান্তবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমন্বিত পদক্ষেপ জরুরি হয়ে উঠেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা পৌর শহরে যানজট ক্রমাগত বেড়ে চলেছে। দীর্ঘদিনের এই সমস্যা exacerbated হচ্ছে অপ্রশস্ত সড়ক, অতিরিক্ত ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার কারণে। যত্রতত্র পার্কিং, ফুটপাত দখল এবং নির্ধারিত স্থান ছাড়া বাস দাঁড় করানোর ফলে পৌরবাসী প্রতিদিনই দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যানজট লেগেই থাকে।
১৮৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত মুক্তাগাছা পৌরসভা বর্তমানে ‘ক’ শ্রেণির পৌরসভা হিসেবে পরিচিত। জনসংখ্যা ও যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও শহরের সড়ক ব্যবস্থায় তেমন কোনো পরিবর্তন আসেনি। ফলে পুরোনো সড়কে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ সামলাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ হিমশিম খাচ্ছে।
যানজটের সমস্যা সমাধানে এবং দূরপাল্লার যানবাহনের চলাচল সহজ করতে, ২০২১ সালের ১ জুলাই ময়মনসিংহ নগরের জিরো পয়েন্ট থেকে টাঙ্গাইলের মধুপুর পর্যন্ত ৪৭ কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়ক সংস্কার ও প্রশস্তকরণের কাজ শুরু হয়। ২০২৪ সালের ৩০ জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার পরিকল্পনা থাকলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি।
অন্যদিকে মুক্তাগাছা শহরের অভ্যন্তরীণ সড়কগুলো প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রশস্ত। দূরপাল্লার বাস, ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চলাচল যানজটকে আরও তীব্র করে তুলছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, নতুনবাজার থেকে ভাবকির মোড় পর্যন্ত সড়কে যানজটের মাত্রা বেশি। বিশেষ করে স্কুল-কলেজ ছুটির পর দুপুরে এ এলাকায় যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পায়। দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকতে হচ্ছে যাত্রী ও পথচারীদের।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শহরে লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রায় ১ হাজার ৩০০ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা রয়েছে। তবে বাস্তবে এর সংখ্যা আরও বেশি। অতিরিক্ত ইজিবাইক, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, সিএনজি ও বাসের কারণে সরু সড়কে স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এর সঙ্গে রয়েছে যত্রতত্র যানবাহন পার্কিং, যা প্রতিদিন মানুষের মূল্যবান কর্মঘণ্টা নষ্ট করছে।
যানজটের অন্যতম কারণ হিসেবে স্থানীয়রা শহরের প্রাণকেন্দ্রে ইসলাম পরিবহনের বাস দাঁড় করানো ও অস্থায়ী বাসস্ট্যান্ড পরিচালনার বিষয়টিও উল্লেখ করেছেন। তাদের অভিযোগ, সড়কের ওপর বাস দাঁড়িয়ে থাকা, যাত্রী ওঠানামা এবং যত্রতত্র পার্কিংয়ের কারণে গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যা চললেও এর স্থায়ী সমাধান হয়নি।
এছাড়া শহরের বিভিন্ন সড়কের ফুটপাত দখল করে দোকানপাট ও বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে ওঠায় পথচারীদের সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে যানজটের পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ব্যুরো অব ইকোনমিক রিসার্চের (এনবিইআর) ২০২৩ সালের অক্টোবরে প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে ময়মনসিংহকে বিশ্বের ধীরগতির শহরের তালিকায় নবম অবস্থানে রাখা হয়। ১৫২টি দেশের ১ হাজার ২০০টির বেশি শহরের যান চলাচলের গতি বিশ্লেষণ করে ওই গবেষণা করা হয়েছিল।
যানজট ও সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন সময় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শহরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। মুক্তাগাছার যানজট নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তারা। সম্প্রতি সংসদ সদস্য মোহাম্মদ জাকির হোসেন বাবলুও সংসদে মুক্তাগাছার নাগরিক দুর্ভোগের বিষয়টি তুলে ধরে দ্রুত বাইপাসের কাজ শেষ করার দাবি জানান।
স্থানীয়দের মতে, অতিরিক্ত ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার কারণে শহরের সড়কে মানুষের চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে। নম্বর প্লেটবিহীন অবৈধ অটোরিকশাও চলছে। এর পাশাপাশি মূল সড়কের ফুটপাত দখল করে রাখায় যানজট আরও বাড়ছে। অবৈধ যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ও ফুটপাত দখলমুক্ত করার দাবি জানান তারা।
মুক্তাগাছা ট্রাফিক জোনের ইনচার্জ মৃদুল রঞ্জন দাস দৈনিক ইনকিলাবকে বলেন, মুক্তাগাছা পুরোনো শহর। এখানকার সড়ক অপ্রশস্ত হলেও যানবাহন বেড়েছে বহুগুণ। ফলে শহরটি এখন যানজটের শহরে পরিণত হয়েছে। যানজট নিরসনে সওজের সড়ক প্রশস্ত করার বিকল্প নেই। ট্রাফিক পুলিশের জনবলও পর্যাপ্ত নয়। তারপরও যানজট কমাতে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক কৃষ্ণ চন্দ্র দৈনিক ইনকিলাবকে বলেন, জনসংখ্যা ও যানবাহনের সংখ্যা বাড়ছে। পুরোনো সড়কগুলো প্রশস্ত করা যাচ্ছে না। এর মধ্যে ফুটপাতও দখল করা হয়। পৌর এলাকার ভেতরে শৃঙ্খলা মেনে গাড়ি চলাচল করাতে তদারকি রয়েছে। ফুটপাত দখলমুক্ত করতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চলমান। পাশাপাশি ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল মুক্তাগাছা বাইপাসের কাজ দ্রুত শেষ করা হলে দীর্ঘদিনের যানজট ও নাগরিক দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ