ঢাকা রবিবার, ০১ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৬ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০১ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৬ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

বরগুনায় সাংবাদিক আসাদ সবুজের মুক্তি দাবি: ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম, পুলিশকে অভিযুক্ত করে আন্দোলনে নামার ঘোষণা


বরগুনায় সাংবাদিক আসাদ সবুজের মুক্তি দাবি: ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম, পুলিশকে অভিযুক্ত করে আন্দোলনে নামার ঘোষণা

দৈনিক কালবেলার বরগুনা জেলা প্রতিনিধি আসাদ সবুজের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিঃশর্ত মুক্তি এবং গ্রেফতারের নামে অমানবিক নির্যাতনের সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ)। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাকে মুক্তি দেওয়া না হলে দেশব্যাপী বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা।

শনিবার বিকেলে বরগুনা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের হলরুমে অনুষ্ঠিত এক বৈঠক শেষে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আহমেদ আবু জাফর এই ঘোষণা দেন।

কথিত চাঁদাবাজির মামলায় সাংবাদিক আসাদ সবুজকে গ্রেফতারের নামে হেনস্তা ও অমানবিক আচরণের তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয় বৈঠকে। এর প্রেক্ষিতে বরগুনার পুলিশ সুপার কুদরত-ই-খুদা ৩ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। কমিটিকে আগামী ৩ থেকে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: পূর্বধলায় কারিগরি শিক্ষায় বিপর্যয়, পাসের হার ৩৫.৭৭ শতাংশ

পুলিশ সুপার জানান, তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে তিনি সাংবাদিক আসাদ সবুজের মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনার আশ্বাস দেন। উল্লেখ্য, যে ভূমি সংক্রান্ত ঘটনার অনুসন্ধান করতে গিয়ে আসাদ সবুজ ষড়যন্ত্রমূলক চাঁদাবাজি মামলার শিকার হয়েছেন, সেই মূল ঘটনাটিও গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান তিনি।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করবেন সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি বরগুনা জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট মোস্তফা কাদের। আজ রোববার বরগুনা চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আসাদ সবুজের জামিন শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

বৈঠকে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ পুলিশ সুপারের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এই জরুরি বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন:

পুলিশ প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ: বরগুনার পুলিশ সুপার কুদরত-ই-খুদা, বরগুনা জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম মোল্লা, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ফজলুল হক মাস্টার।

আরও পড়ুন: জামায়াতের বাসের ধাক্কায় পথচারী নিহত, খাদে পড়ে আহত ৩০ নেতাকর্মী

বরগুনা প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাফিজুর রহমান, বিএমএসএফ-এর কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক আরিফ রহমান ও আমির হোসেন, সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সুমন তালুকদার, কেন্দ্রীয় নেতা রাহাদ সুমন, জামাল হোসেন খান, দানিসুর রহমান লিমন।

বিএমএসএফ-এর সভাপতি হাসান সিকদার, দুমকি শাখার সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক আরিফুর রহমান মামুন, বরগুনা জেলা শাখার সদস্য আসাদ তালুকদার, রাসেল সিকদার, প্রেস ক্লাব সদস্য কাশেম হাওলাদারসহ অন্যান্যরা।

গণমাধ্যম ও সাংবাদিক সুরক্ষায় তীব্র প্রতিবাদ বৈঠকে সাংবাদিক নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "দেশে গণতন্ত্রের নামে গণমাধ্যম নিধনের মহোৎসব চলছে। নানা পেশার মানুষের পাশাপাশি সাংবাদিকদের ওপর প্রতিনিয়ত নিপীড়ন, নির্যাতন, মিথ্যা মামলা ও হয়রানি চালানো হচ্ছে। মনে রাখতে হবে, গণমাধ্যম না বাঁচলে গণতন্ত্র বাঁচবে না।"

তারা আরও বলেন, রাষ্ট্র ও গণমাধ্যমকে মুখোমুখি দাঁড় করাতে একটি দুর্নীতিবাজ ও লুটপাটকারী স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে। তারা নিজেদের অনিয়ম ঢাকতে সাংবাদিকদের পেছনে ঠেলে দিতে চায়। অবিলম্বে এসব বন্ধ করে সাংবাদিকদের নির্বিঘ্নে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পরিবেশ তৈরির জোর দাবি জানান তারা। একই সঙ্গে আগামী ৮ নভেম্বরের মধ্যে বহু প্রতীক্ষিত 'সাংবাদিক সুরক্ষা আইন' প্রণয়নের জন্য সরকারের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়।

আরও পড়ুন: দেবিদ্বারে বাগমারা ইসলামী আলিম মাদ্রাসার ২১ পরীক্ষার্থী ফেল

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মিয়ানমার সীমান্তে আরাকান আর্মির তৎপরতা বাড়ছে উদ্বেগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৪৪ পি.এম


মিয়ানমার সীমান্তে আরাকান আর্মির তৎপরতা বাড়ছে উদ্বেগ

মিয়ানমারের রাখাইন তথা আরাকান অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে চলমান সংঘাতের প্রভাব বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী জনপদে ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। কক্সবাজার ও বান্দরবানের সীমান্তবর্তী মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে সীমান্তের ওপারে গোলাগুলি, বিস্ফোরণ, স্থলমাইন বিস্ফোরণ এবং বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতার কারণে। মাদকপাচারের অভিযোগ যুক্ত হওয়ায় সার্বিক সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সর্বশেষ গত ১ অক্টোবর উখিয়ার পালংখালী সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের অভ্যন্তরে স্থলমাইন বিস্ফোরণে মো. হামিদ হোসেন নামে এক রোহিঙ্গা যুবক গুরুতর আহত হন। বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে প্রায় ২৫০ গজ পশ্চিমে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বিস্ফোরণটি ঘটে। আহত হামিদ কুতুপালং নিবন্ধিত রোহিঙ্গা শিবিরের সি-২৭ ব্লকের বাসিন্দা। পরে তিনি বাংলাদেশে প্রবেশ করলে বিজিবি ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে কুতুপালংয়ের এমএসএফ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

তবে সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণের ঘটনা এটিই প্রথম নয়। চলতি বছরের ১০ এপ্রিল উখিয়া সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের ভূখণ্ডে স্থলমাইন বিস্ফোরণে সাদেক নামে এক রোহিঙ্গা যুবকের পা বিচ্ছিন্ন হওয়ার খবর পাওয়া যায়। এর আগে ১২ জানুয়ারি টেকনাফ সীমান্তেও মাইন বিস্ফোরণে এক বাংলাদেশি যুবক গুরুতর আহত হন।

এ ছাড়া গত ২৪ মে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণে তিন বাংলাদেশি নিহত হন। সীমান্তবর্তী কৃষিজমি ও কাঠ সংগ্রহের এলাকায় যাতায়াতের সময় তারা মাইন বিস্ফোরণের শিকার হন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানাগেছে।

সীমান্তবর্তী স্থানীয়দের অভিযোগ, মিয়ানমারের রাখাইন অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণে থাকা সশস্ত্র সংগঠন আরাকান আর্মির বিভিন্ন ধরনের অপতৎপরতা সীমান্ত পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে। সীমান্তের ওপারে তাদের অবস্থান, চৌকি স্থাপন এবং চলাচল নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। স্থানীয়রা জানান, সীমান্তের কাঁটাতারের ওপারে ঘন জঙ্গলের মধ্যে ছোট ছোট অনেক চৌকি দেখা যায়; তাদের দাবি, এসব চৌকিতে আরাকান আর্মির সদস্যরা অবস্থান করেন।

তবে এসব চৌকির সুনির্দিষ্ট অবস্থান ও সেখানে কারা অবস্থান করছে—তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে বিষয়টি স্থানীয়দের বক্তব্য হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের আরেকটি কারণ হলো মিয়ানমারের অভ্যন্তরে চলমান সংঘাত। সাম্প্রতিক সময়েও রাখাইন অঞ্চলে মিয়ানমার সামরিক বাহিনী ও আরাকান আর্মির মধ্যে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে বাংলাদেশের সীমান্তের কাছাকাছি কিয়াউকতাও এলাকায় আরাকান আর্মীকে লক্ষকরে মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর বিমান হামলায় হতাহতের খবর প্রকাশিত হয়েছে। এতে আরাকান আর্মী চাপে পড়লেও থামছেনা তাদের তৎপরতা।

সীমান্তবর্তী স্থানীয়দের অভিযোগ, সংঘাত ও অস্থিতিশীলতার সুযোগ নিয়ে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে মাদক পাচারের তৎপরতা বাড়ছে। তাদের দাবি, সীমান্তের কিছু মাদক কারবারিকে ব্যবহার করে আরাকান আর্মির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চক্র মাদক পাচার করছে এবং মাদক বহনের কাজে কিছু রোহিঙ্গা যুবককেও ব্যবহার করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, মাদক বহন করতে গিয়ে কেউ কেউ সীমান্তের স্থলমাইন বিস্ফোরণের ঝুঁকিতেও পড়ছেন। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, জঙ্গল ও নাফ নদীর বিভিন্ন অংশ ব্যবহার করে মাদক পাচারের চেষ্টা করা হয় বলেও তাদের দাবি।

সীমান্তে মাদকপাচার প্রতিরোধে বিজিবি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে। এসব অভিযানে বিভিন্ন সময়ে ইয়াবা, গাঁজা, আইসও অন্যান্য মাদকসহ পাচারকারীদের আটক করার ঘটনাও ঘটছে অহরহ।

সীমান্তবর্তী মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে অদৃশ্য স্থলমাইন। সীমান্তের কাছাকাছি কৃষিকাজ, মাছ ধরা, বাঁশ-কাঠ সংগ্রহ কিংবা অন্যান্য প্রয়োজনে যাতায়াত করতে গিয়ে স্থানীয় ও রোহিঙ্গারা ঝুঁকিতে পড়ছেন এতে।

বিশেষ করে সীমান্তের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় কোথায় মাইন পুঁতে রাখা হয়েছে, তার সুনির্দিষ্ট তথ্য সাধারণ মানুষের কাছে না থাকায় ঝুঁকি আরও বাড়ছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায় মাইন বিস্ফোরণের একাধিক ঘটনার পর এখন অনেকেই প্রয়োজন ছাড়া সীমান্তবর্তী এলাকায় যেতে ভয় পাচ্ছেন।

বর্তমানে যে সীমান্ত এলাকা দেখা যায়, তার ঠিক ওপারেই রয়েছে মিয়ানমারের কাঁটাতারের বেড়া। ঘন জঙ্গলের কারণে বেড়াটি পুরোপুরি স্পষ্টভাবে দেখা না গেলেও দূরে এর কিছু অংশ দৃশ্যমান। স্থানীয়দের দাবি, বেড়ার ওপারে থাকা কয়েকটি ছোট চৌকি আরাকান আর্মির অবস্থান হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

মাইন বিস্ফোরণ, সীমান্তের ওপারে সংঘাত, আরাকান আর্মির কথিত তৎপরতা এবং মাদকপাচারের অভিযোগ—সব মিলিয়ে সীমান্তবর্তী জনপদে নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়ছে। স্থানীয়দের দাবি, সীমান্তে বিজিবির টহল ও নজরদারি আরও বাড়ানোর পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করতে হবে।

তাদের মতে, সীমান্তবর্তী কৃষক, জেলে, কাঠ ও বাঁশ সংগ্রহকারী এবং সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় চলাচলকারী সাধারণ মানুষকে স্থলমাইনের ঝুঁকি সম্পর্কে নিয়মিত সচেতন করা জরুরি। একই সঙ্গে মাদকপাচারের রুটগুলো চিহ্নিত করে কঠোর নজরদারি এবং সীমান্তের ওপারের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতার বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

সংশ্লিষ্টদের মতে, রাখাইন অঞ্চলের সংঘাত এখন আর শুধু মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সমস্যা নয়; এর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জনপদে। তাই মাইন বিস্ফোরণ প্রতিরোধ, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, মাদকপাচার বন্ধ এবং সীমান্তবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমন্বিত পদক্ষেপ জরুরি হয়ে উঠেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মুক্তাগাছায় দিন দিন তীব্র হচ্ছে যানজট, বাড়ছে দুর্ভোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৪৪ পি.এম


মুক্তাগাছায় দিন দিন তীব্র হচ্ছে যানজট, বাড়ছে দুর্ভোগ

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা পৌর শহরে যানজট ক্রমাগত বেড়ে চলেছে। দীর্ঘদিনের এই সমস্যা exacerbated হচ্ছে অপ্রশস্ত সড়ক, অতিরিক্ত ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার কারণে। যত্রতত্র পার্কিং, ফুটপাত দখল এবং নির্ধারিত স্থান ছাড়া বাস দাঁড় করানোর ফলে পৌরবাসী প্রতিদিনই দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যানজট লেগেই থাকে।

১৮৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত মুক্তাগাছা পৌরসভা বর্তমানে ‘ক’ শ্রেণির পৌরসভা হিসেবে পরিচিত। জনসংখ্যা ও যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও শহরের সড়ক ব্যবস্থায় তেমন কোনো পরিবর্তন আসেনি। ফলে পুরোনো সড়কে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ সামলাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ হিমশিম খাচ্ছে।

যানজটের সমস্যা সমাধানে এবং দূরপাল্লার যানবাহনের চলাচল সহজ করতে, ২০২১ সালের ১ জুলাই ময়মনসিংহ নগরের জিরো পয়েন্ট থেকে টাঙ্গাইলের মধুপুর পর্যন্ত ৪৭ কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়ক সংস্কার ও প্রশস্তকরণের কাজ শুরু হয়। ২০২৪ সালের ৩০ জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার পরিকল্পনা থাকলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি।

অন্যদিকে মুক্তাগাছা শহরের অভ্যন্তরীণ সড়কগুলো প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রশস্ত। দূরপাল্লার বাস, ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চলাচল যানজটকে আরও তীব্র করে তুলছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, নতুনবাজার থেকে ভাবকির মোড় পর্যন্ত সড়কে যানজটের মাত্রা বেশি। বিশেষ করে স্কুল-কলেজ ছুটির পর দুপুরে এ এলাকায় যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পায়। দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকতে হচ্ছে যাত্রী ও পথচারীদের।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শহরে লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রায় ১ হাজার ৩০০ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা রয়েছে। তবে বাস্তবে এর সংখ্যা আরও বেশি। অতিরিক্ত ইজিবাইক, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, সিএনজি ও বাসের কারণে সরু সড়কে স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এর সঙ্গে রয়েছে যত্রতত্র যানবাহন পার্কিং, যা প্রতিদিন মানুষের মূল্যবান কর্মঘণ্টা নষ্ট করছে।

যানজটের অন্যতম কারণ হিসেবে স্থানীয়রা শহরের প্রাণকেন্দ্রে ইসলাম পরিবহনের বাস দাঁড় করানো ও অস্থায়ী বাসস্ট্যান্ড পরিচালনার বিষয়টিও উল্লেখ করেছেন। তাদের অভিযোগ, সড়কের ওপর বাস দাঁড়িয়ে থাকা, যাত্রী ওঠানামা এবং যত্রতত্র পার্কিংয়ের কারণে গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যা চললেও এর স্থায়ী সমাধান হয়নি।

এছাড়া শহরের বিভিন্ন সড়কের ফুটপাত দখল করে দোকানপাট ও বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে ওঠায় পথচারীদের সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে যানজটের পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ব্যুরো অব ইকোনমিক রিসার্চের (এনবিইআর) ২০২৩ সালের অক্টোবরে প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে ময়মনসিংহকে বিশ্বের ধীরগতির শহরের তালিকায় নবম অবস্থানে রাখা হয়। ১৫২টি দেশের ১ হাজার ২০০টির বেশি শহরের যান চলাচলের গতি বিশ্লেষণ করে ওই গবেষণা করা হয়েছিল।

যানজট ও সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন সময় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শহরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। মুক্তাগাছার যানজট নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তারা। সম্প্রতি সংসদ সদস্য মোহাম্মদ জাকির হোসেন বাবলুও সংসদে মুক্তাগাছার নাগরিক দুর্ভোগের বিষয়টি তুলে ধরে দ্রুত বাইপাসের কাজ শেষ করার দাবি জানান।

স্থানীয়দের মতে, অতিরিক্ত ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার কারণে শহরের সড়কে মানুষের চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে। নম্বর প্লেটবিহীন অবৈধ অটোরিকশাও চলছে। এর পাশাপাশি মূল সড়কের ফুটপাত দখল করে রাখায় যানজট আরও বাড়ছে। অবৈধ যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ও ফুটপাত দখলমুক্ত করার দাবি জানান তারা।

মুক্তাগাছা ট্রাফিক জোনের ইনচার্জ মৃদুল রঞ্জন দাস দৈনিক ইনকিলাবকে বলেন, মুক্তাগাছা পুরোনো শহর। এখানকার সড়ক অপ্রশস্ত হলেও যানবাহন বেড়েছে বহুগুণ। ফলে শহরটি এখন যানজটের শহরে পরিণত হয়েছে। যানজট নিরসনে সওজের সড়ক প্রশস্ত করার বিকল্প নেই। ট্রাফিক পুলিশের জনবলও পর্যাপ্ত নয়। তারপরও যানজট কমাতে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক কৃষ্ণ চন্দ্র দৈনিক ইনকিলাবকে বলেন, জনসংখ্যা ও যানবাহনের সংখ্যা বাড়ছে। পুরোনো সড়কগুলো প্রশস্ত করা যাচ্ছে না। এর মধ্যে ফুটপাতও দখল করা হয়। পৌর এলাকার ভেতরে শৃঙ্খলা মেনে গাড়ি চলাচল করাতে তদারকি রয়েছে। ফুটপাত দখলমুক্ত করতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চলমান। পাশাপাশি ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল মুক্তাগাছা বাইপাসের কাজ দ্রুত শেষ করা হলে দীর্ঘদিনের যানজট ও নাগরিক দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে গণতন্ত্র সুসংহত করতে হবে: সিইসি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৪৫ পি.এম


নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে গণতন্ত্র সুসংহত করতে হবে: সিইসি

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন মন্তব্য করেছেন যে, গণতন্ত্র সুসংহত করতে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি উল্লেখ করেছেন, নারীর ভোটার সংখ্যা বৃদ্ধি করলেই হবে না, বরং তাদের ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রও সম্প্রসারিত করতে হবে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর নির্বাচনি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে ইউএন ইলেকটোরাল প্রজেক্টের আয়োজনে অনুষ্ঠিত জেন্ডার ইকুয়ালিটি নিয়ে কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন।

কর্মশালায় নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মোহাম্মদ সানাউল্লাহ জানান, নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার জন্য কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে পদক্ষেপ নিতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে ভোটার হিসেবে, প্রার্থী হিসেবে, দলীয় অবস্থানে এবং বেসরকারি ও উন্নয়নমূলক সংস্থায় নারীদের অংশগ্রহণ।

এদিকে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ মন্তব্য করেন, “প্রত্যেক রাজনৈতিক দল ভোটার অনুপাতে নারী প্রতিনিধিত্ব বাড়াবে বলে আমি বলছি। এটি শুধুমাত্র আইন দ্বারা নয়, বরং দলীয় দৃষ্টিভঙ্গিতেও পরিবর্তন আনতে হবে।”

নির্বাচন কমিশনার তাহমিদা আহমদ বলেন, পাঁচ তারকা হোটেলে বসে কর্মপরিকল্পনা তৈরি করলে নারীর সমতা আসবে না। সমতা আনতে মাঠপর্যায়ে কাজ করতে হবে। নারীর ভোটার সংখ্যা বাড়াতে হলে গ্রামাঞ্চল ও উপকূলীয় অঞ্চলে যেতে হবে।

তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ভোটে নারীদের অংশগ্রহণ। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে, তবে ভোটারদের অনুপাতে প্রার্থী সংখ্যা কম।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এখনই হচ্ছে না এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের পে স্কেল প্রজ্ঞাপন, বেতন-বকেয়া কবে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৪৫ পি.এম


এখনই হচ্ছে না এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের পে স্কেল প্রজ্ঞাপন, বেতন-বকেয়া কবে?

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নতুন বেতন কাঠামোর আওতায় বেতন পেতে যাচ্ছেন। অক্টোবর মাসের বেতন তারা নবম পে স্কেল অনুযায়ী পাবেন, যার সঙ্গে যুক্ত হবে তিন মাসের বকেয়া।

নতুন পে স্কেল কার্যকর হলেও এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা হতাশায় রয়েছেন। তাদের জন্য পৃথক প্রজ্ঞাপন জারির কথা বলা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ দেখা যায়নি।

অর্থমন্ত্রণালয়ের সূত্র জানাচ্ছে, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অপেক্ষা করতে হবে। এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী এবং বিচার বিভাগীয় কর্মীদের জন্য নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়নে নভেম্বর বা ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

এদিকে, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা দ্রুত পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন দাবি করে আসছেন। গত ২৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সভাপতি আব্দুল মালেক জানিয়েছেন, ছয় লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মৌলিক চাহিদা পূরণের জন্য নবম জাতীয় পে স্কেলের সঙ্গে দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে। তিনি বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটাতে দ্রুত প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা উচিত।

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের পে স্কেল প্রজ্ঞাপন বিলম্বের কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এসব প্রতিষ্ঠানের বেতন প্রক্রিয়ায় এনালগ পদ্ধতিকে দায়ি করছেন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে বেতন হিসাব করার প্রক্রিয়া হাতে-কলমে করতে হয়। এ কারণে প্রজ্ঞাপন জারিতে বিলম্ব হচ্ছে।

গত ১ সেপ্টেম্বর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছিলেন, ‘এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদেরও নতুন বেতন কাঠামোতে বেতন দেওয়া হবে।’

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের পে-স্কেলে অন্তর্ভুক্তির পৃথক গেজেট জারি নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের উচ্চ পর্যায়ে মৌখিক আলোচনা হয়েছে। তবে এই আলোচনা আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের কোনো অংশ নয়।

বর্তমানে সারা দেশে ছয় লাখের বেশি শিক্ষক-কর্মচারী এমপিওভুক্ত। এর মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন প্রায় ৪ লাখ, মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন পৌনে ২ লাখের মতো এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন ২৩ হাজারের বেশি শিক্ষক ও কর্মচারী রয়েছেন। যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আয় বেশি, তারা এমপিওর বাইরেও শিক্ষক ও কর্মচারীদের টাকা দেয়। তবে বেশির ভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সেই সক্ষমতা থাকে না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৭
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৩
মাগরিব ০৫:২০
ইশা ০৬:৩২
সূর্যোদয় : ০৬:০৪ সূর্যাস্ত : ০৫:২০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%