ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বিএনপি নিজেদের সংশোধন না করলে চূড়ান্ত লড়াই হবে: মামুনুল হক


বিএনপি নিজেদের সংশোধন না করলে চূড়ান্ত লড়াই হবে: মামুনুল হক

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, ছোট বাচ্চাদের শান্ত করার জন্য ‘দুধভাত’ হিসেবে খেলায় রাখা হয়। বিএনপিও তেমনই জুলাই বিপ্লব বা জুলাইয়ের চেতনাকে বাংলাদেশের মূল রাজনীতি থেকে সরিয়ে ‘দুধভাত’ বানিয়ে রাখার একজন প্রকল্প হাতে নিয়েছে। তারা পরিকল্পিতভাবে এই চেতনাকে হত্যার চেষ্টা করছে।

বুধবার দুপুরে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে ১১ দলের এক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।

মামুনুল হক বলেন, ‘ছোটবেলায় যখন সাত-আট বছরের বাচ্চারা ফুটবল বা অন্য কোনো খেলা খেলত, তখন তিন-চার বছরের ছোট বাচ্চারাও সেই খেলায় অংশ নেওয়ার জন্য বায়না ধরত। কিন্তু ফুটবল খেলার জন্য যে বয়স বা সামর্থ্য প্রয়োজন, তা ওই ছোট বাচ্চাদের থাকে না। তখন বড় বাচ্চারা একটি কৌশল অবলম্বন করত। তারা ওই ছোট বাচ্চাটিকে সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য বলত, হ্যাঁ, তুমিও খেলায় আছো, তবে তুমি ‘দুধভাত’। বিএনপি জুলাই বিপ্লবীদের জন্য কান্নাকাটি বা আবেগ দেখালেও জুলাই চেতনা বাস্তবায়নের পক্ষে তাদের কোনো পদক্ষেপ নেই। বরং তারা সুপরিকল্পিতভাবে এই চেতনাকে হত্যার চেষ্টা করছে।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশ-জাপান চুক্তি: ২০২৭ সালের এপ্রিল থেকে শুরু হবে পাঁচ বছর মেয়াদি কর্মসংস্থান চুক্তি

তিনি সতর্ক করে বলেন, বিএনপি যদি নিজেদের সংশোধন না করে, তবে তাদের সাথে চূড়ান্ত লড়াই হবে।

তিনি আরো বলেন, অতীতে বিএনপির ওপর নির্ভর করে বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর এবার তারা বিকল্প পথ বেছে নিচ্ছেন। বিএনপি ব্যর্থ হলে এই ঐক্য গণবিস্ফোরণে পরিণত হবে। এছাড়া তিনি অতিদ্রুত ‘জুলাই জাদুঘর’ উন্মুক্ত করার দাবি জানান। অন্যথায় বড় ধরনের সমস্যার হুঁশিয়ারি দেন।

বর্তমান সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা যেমন ‘উন্নয়নের গণতন্ত্র’ (পদ্মা সেতু বা মেট্রোরেল) দিয়ে মানুষের অধিকার খর্ব করেছিলেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী যদি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বা ‘কৃষি কার্ডের’ গণতন্ত্র দিয়ে মানুষকে বুঝ দিতে চান, তবে তাদের আচরণও শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে করা আচরণের মতোই কঠোর হবে।

আরও পড়ুন: হাসনাত আবদুল্লাহর অভিযোগ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যর্থতার শিকার প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রথম গানেই আলোচনায় ‘টক্সিক’, ঘনিষ্ঠ দৃশ্য নিয়ে বিতর্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:২১ পি.এম


প্রথম গানেই আলোচনায় ‘টক্সিক’, ঘনিষ্ঠ দৃশ্য নিয়ে বিতর্ক

কন্নড় সুপারস্টার যশ অভিনীত বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘টক্সিক’ মুক্তির পূর্বেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। প্রথম ঝলক প্রকাশ হওয়ার পর ‘নারীবিদ্বেষী’ তকমা নিয়ে বিতর্কের মুখে পড়া ছবিটি এবার নতুন একটি বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছে প্রথম গানটির প্রকাশের পর।

সম্প্রতি প্রকাশিত গানটিতে যশ এবং কিয়ারা আদভানির রোমান্টিক রসায়ন, আবেগঘন মুহূর্ত এবং একাধিক ঘনিষ্ঠ দৃশ্য দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। গানটির ভিজ্যুয়াল, সুর এবং দুই তারকার অনস্ক্রিন কেমিস্ট্রি প্রশংসিত হলেও সাহসী দৃশ্যের কারণে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।

গানটিতে প্রেমকে গভীর, আবেগপূর্ণ ও সর্বগ্রাসী অনুভূতি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। যশ এবং কিয়ারার অভিনয় এবং তাদের পর্দার রসায়নকে ছবির অন্যতম বড় আকর্ষণ হিসেবে মনে করছেন অনেক দর্শক।

তবে সমালোচকদের আওয়াজও কম শোনা যায়নি। অনেকেই অভিযোগ তুলেছেন যে, একটি অ্যাকশনধর্মী সিনেমার প্রচারণায় এত বেশি ঘনিষ্ঠ দৃশ্যের প্রয়োজন ছিল না।

কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন, এটি অ্যাকশন চলচ্চিত্রের পরিবর্তে ‘ইরোটিকা’ধর্মী মেজাজ তৈরি করে ফেলেছে। আবার কেউ জানিয়েছেন, ‘টক্সিক’ নামের আড়ালে নির্মাতারা বিতর্কিত বিষয়কে স্বাভাবিকভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন।

একজন দর্শক গানটির ভিডিওকে গর্ভনিরোধক পণ্যের বিজ্ঞাপনও হিসেবে তুলনা করেছেন।

কিন্তু সমালোচনার মাঝেও কিয়ারা আদভানির লুক, উপস্থিতি এবং যশের সঙ্গে তার রসায়নের জন্য অসংখ্য দর্শক প্রশংসা করেছেন।

গানটির সুর, কণ্ঠ এবং সংগীতায়োজন করেছেন বিশাল মিশ্র। হিন্দি সংস্করণের গীতিকার রাজ শেখর। এ ছাড়াও গানটি কন্নড়, তেলুগু, তামিল এবং মালয়ালম ভাষাতে একযোগে প্রকাশ করা হয়েছে।

এর আগে সিনেমাটি সম্পর্কে যশ বলেছিলেন, ‘সাধারণত অ্যাকশন ছবি বললেই পুরুষ পরিচালকদের কথা মাথায় আসে। ভারতে দীর্ঘদিন ধরে এমনটাই হয়ে আসছে। বড় মাপের অ্যাকশন ও গ্যাংস্টারদের নিয়ে নির্মিত ছবিটির পরিচালনা পুরুষদের করে আসতে দেখা যায়। এবার যদি লড়াইয়ের ছবি নারীর দৃষ্টিভঙ্গিতে হয়, তবে তা নতুন অভিজ্ঞতা হবে।’

সবকিছু সঠিক থাকলে আগামী ২৬ আগস্ট প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে ‘টক্সিক’। মুক্তির আগেই ছবিটি নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ যেমন ক্রমশ বেড়ে যাচ্ছে, তেমনি প্রতিটি নতুন প্রচারণামূলক কনটেন্ট ঘিরে বিতর্ক এবং আলোচনা তৈরি হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জনকল্যাণে পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীর নানা উদ্যোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:২৪ পি.এম


জনকল্যাণে পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীর নানা উদ্যোগ

 

খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান ও গুইমারা রিজিয়নের বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী মানবিক ও জনকল্যাণমূলক নানা কার্যক্রম পরিচালনা করছে স্থানীয় জনগণের জন্য।

২৫ জুন থেকে ৭ জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন জোনের উদ্যোগে স্থানীয় পাহাড়ি ও বাঙালি জনগণের মধ্যে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ বিতরণ, শিক্ষা উপকরণ ও খেলাধুলার সামগ্রী প্রদান, আর্থিক সহায়তা, সেলাই মেশিন প্রশিক্ষণ এবং বৃক্ষরোপণ ও গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে।

এসব কার্যক্রমের আওতায় দুর্গম এলাকার শত শত পাহাড়ি ও বাঙালি উপকৃত হয়েছেন।

সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানান হয়েছে, পার্বত্য চট্টগ্রামে সম্প্রীতি, আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণের লক্ষ্যে নিয়মিতভাবে মানবিক সহায়তা ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতেও এই ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে সরকার বদ্ধপরিকর : প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:২৪ পি.এম


পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে সরকার বদ্ধপরিকর : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘দেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে সরকার বদ্ধপরিকর।’

আজ বুধবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এসকে আজিজুল বারী’র তারকা চিহ্নিত এক প্রশ্নে জবাবে প্রধানমন্ত্রী এই তথ্য জানান।

আজিজুল বারীর অনুপস্থিতিতে প্রশ্নটি সংসদে উত্থাপন করেন পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেন।

বর্তমান সরকার শেয়ার মার্কেটের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনাসহ বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারের জন্য বদ্ধপরিকর উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘সরকার ইতোমধ্যে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধিতে সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, পণ্যের বৈচিত্রকরণের মাধ্যমে বাজারের গভীরতা বৃদ্ধি, বিনিয়োগ শিক্ষার প্রসার ইত্যাদির মাধ্যমে উন্নত ও টেকসই পুঁজিবাজার গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।’

স্পিকারকে উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনি যদি গতকাল বা আজকের পত্র-পত্রিকা খেয়াল করে দেখেন, দেখবেন যে, ধীরে ধীরে পুঁজিবাজার অবস্থার পরিবর্তন করছে এবং এটি ভালো করছে ধীরে ধীরে।’

প্রধানমন্ত্রী সংসদে সরকারের নেওয়া অগ্রাধিকার ১৭ দফা কর্মসূচি তুলে ধরেন।

এগুলো হচ্ছে, বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধিতে সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে পুঁজিবাজার বিষয়ে দক্ষ এবং অভিজ্ঞতা সম্পন্ন একজন চেয়ারম্যান ও তিনজন কমিশনারকে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে নিয়োগ প্রদান, নতুন কমিশন দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই বাজারে বিদ্যমান ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার, লাভজনক সরকারি মালিকাধীন কোম্পানিসমূহের শেয়ার স্টক এক্সচেঞ্জে অফলোডের মাধ্যমে সরাসরি তালিকাভুক্তিকরণে উদ্বুদ্ধ করা।

এ ছাড়াও বহুজাতিক কোম্পানিসহ উচ্চ মূলধনসম্পন্ন কোম্পানিসমূহের শেয়ার ও স্টক এক্সচেঞ্জে অফলোডের মাধ্যমে সরাসরি তালিকাভুক্তিকরণের সুযোগ সৃষ্টি করা, এসএমই কোম্পানিসহ ভালো মৌলভিত্তি সম্পন্ন কোম্পানিসমূহকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করা,পুঁজিবাজার কারসাজি বন্ধে অনিয়ম সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ ও প্রদানকারীর প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ও উৎসাহ প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা, তালিকাভুক্ত কোম্পানি ও বাজার মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের হিসাব নিরীক্ষা, উপযুক্ত অডিটরের মাধ্যমে নিরীক্ষার নিমিত্তে নীতিমালা প্রণয়ন করা।

ফরেন পোর্টফলিও ইনভেস্টমেন্ট অনবোর্ডিং পোর্টাল চালু, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে সংশ্লিষ্ট বিধি-বিধান সংস্কার, ওয়ান স্টপ সিকিউরিটিজ কাস্টডিয়ান সার্ভিস চালু, ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স হ্রাসকরণ, লভ্যাংশ আয়ে দ্বৈত কর বাতিল এবং বিও অ্যাকাউন্ট খোলা ও মূলধন প্রত্যাবসান প্রক্রিয়া ডিজিটাল করা, পুঁজিবাজার সংক্রান্ত বিশেষ ট্রাইব্যুনালে সরাসরি মামলা দায়ের সংক্রান্ত বিধান সিকিউরিটিজ আইনে অন্তর্ভুক্ত করা, পূঁজিবাজারের সংস্কারকল্পে একটি ‘পুঁজিবাজার সংস্কার কমিশন’ এবং অনিয়ম তদন্তে একটি বিশেষ তদন্ত কমিশন গঠন করা, পুঁজিবাজারে ব্লকচেইন প্রযুক্তি ব্যবহার করে মার্কেট ও পণ্য উভয়ই সম্প্রসারিত করা, ই-কেওয়াইসি এর মাধ্যমে অনলাইন ও মোবাইল ভিত্তিক বিও হিসাব খোলা ও ট্রেডিং সুবিধা চালু করা, বিনিয়োগবান্ধব ও যুক্তিসঙ্গত করনীতি প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়া,ব্যাংক ও এমএফএস এর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাবে টাকা জমা ও উত্তোলনের সুবিধা প্রদান করা।

এআইভিত্তিক শক্তিশালী নজরদারির মাধ্যমে বাজারের অনিয়ম ও জালিয়াতির সাথে জড়িতদের দ্রুত শনাক্তকরণ ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ চলমান রাখা, তালিকাভুক্ত ইস্যুয়ার কোম্পানিসমূহে সুশাসন জোরদারকরণে সমন্বিত গ্রাহক হিসাবে অর্জিত সুদ আয়ের অংশ বিশেষ বিনিয়োগকারী সুরক্ষা তহবিলে জমা করার বিধান প্রণয়ন করা, আইনকানুন যুগোপযোগী করার মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের সম্পদ আরও সুরক্ষিত করা এবং সরকারী সিকিউরিটিজসমূহের (ট্রেজারি বন্ড, ট্রেজারি বিল ও সরকারি সুকুক) এর লেনদেন স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে নিষ্পন্ন করার মাধ্যমে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অন্তর্ভুক্ত করা।

বিকাল তিনটায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন শুরু। দিনের কর্মসূচিতে প্রথম ত্রিশ মিনিট প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্ব। এই সময়ের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী চার জন সংসদ সদস্য তারকা চিহ্নিত প্রশ্ন এবং ৯ জন সংসদ সদস্যের সম্পূরক প্রশ্নের জবাব দেন।

বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে পূঁজিবাজারে ধসের কারণ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশের শেয়ারবাজারের ধারাবাহিক পতনের কারণ উদঘাটনের লক্ষ্যে বিভিন্ন সময় বিশেষজ্ঞ, বিনিয়োগকারী সংগঠন এবং বিভিন্ন তদন্তকারী সংস্থা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।’

তিনি বলেন, ‘পরিচালিত কার্যক্রমে শেয়ার বাজারের ধারাবাহিক পতনের পেছনে কারণগুলো ছিলো- বাজার কারসাজি ও কৃত্রিমভাবে শেয়ারের দাম বাড়ানো-কামানো, কিছু কোম্পানির আইপিও, বন্ড ও অন্যান্য ইস্যুতে অনিয়ম, নিয়ন্ত্রক সংস্থার দীর্ঘমেয়াদী দুর্বল তদারকি এবং সময়মতো ব্যবস্থা না নেওয়া। কর্পোরেট সুশাসনের ঘাটতি ও আর্থিক তথ্যের স্বচ্ছতার অভাব, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সীমিত অংশগ্রহণ এবং বাজারে আস্থার সংকট, নীতিগত অসঙ্গতি ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও পুঁজিবাজার বান্ধব করনীতির অভাব ইত্যাদি।’

এই ব্যাপারে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শেয়ার মার্কেটের ধারাবাহিক পতন ঘটিয়ে হাজার হাজার বিনিয়োগকারীদের নিঃস্ব করার জন্য যারা দায়ী তাদের চিহ্নিত করাসহ তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে শেয়ার মার্কেট কেলেঙ্কারীর অভিযোগ দুদক কর্তৃক অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। যার প্রেক্ষিতে কতিপয় ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে মামলাসহ তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘শেয়ার মার্কেট কেলেঙ্কারীর সাথে আরো অন্যান্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান জড়িত কিনা তা উদঘাটনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে শেয়ার মার্কেট কারসাজি, অনিয়ম ও দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন কর্তৃক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে ১,৪৯৭ (এক হাজার চারশত সাতানব্বই কোটি) টাকা অর্থদন্ড আরোপ করা হয়েছে। এছাড়া দায়ী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের চিহ্নিতকরণে গঠিত তদন্ত কমিটির গঠন ও প্রদত্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনে প্রেরণ করা হয়েছে।’

চট্টগ্রাম পুঁজিবাজারও শক্তিশালী করা হবে উল্লেখ করে সংসদ সদস্য সরোয়ার জামাল নিজামের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই সরকারের অন্যতম একটি মূল লক্ষ্যই হচ্ছে সমাজে বা দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে যেখানে যেখানে বৈষম্য আছে যার জন্য মানুষ বিভিন্নভাবে ডিপ্রাইভ হচ্ছে সেই বৈষম্যকে দূর করা এবং পুঁজিবাজারের ক্ষেত্রেও এই বিষয়টি প্রযোজ্য।’

তিনি বলেন, ‘মূল প্রশ্নের জবাবে আমি বলেছিলাম যে, আমরা কয়েকজন বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিকে দায়িত্ব দিয়েছি, তাদেরকে নিযুক্ত করা হয়েছে এবং অবশ্যই আমরা আশা করি যে তারা আমাদেরকে সঠিক পরামর্শ দেবেন যার ভিত্তিতে শুধু ঢাকা নয় চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জকেও আমরা ইনশাআল্লাহ শক্তিশালী স্টক এক্সচেঞ্জে রূপান্তর করতে পারব।’

বীমা কোম্পানির অর্থ লুটপাট প্রসঙ্গে সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনি নিশ্চয়ই অবगत আছেন যে বীমা কোম্পানিগুলোর নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ বা ইডরা’ আছে। এর নতুন চেয়ারম্যান নিযুক্ত করা হয়েছে। আপনার যেই অভিযোগ আপনি তুললেন অলরেডি এর ভিতরেই চেয়ারম্যান এটি তদন্ত করছে। এরকম যেগুলো অভিযোগ আছে সবগুলো তদন্ত করছে। তদন্ত শেষ হলে তখন আইন অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারব।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিক্ষাখাতে বরাদ্দ জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:২৬ পি.এম


শিক্ষাখাতে বরাদ্দ জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

বর্তমান সরকার নির্বাচনি ইশতেহারের অনুযায়ী শিক্ষা খাতের মানোন্নয়নকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশে উন্নীত করার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এ সংক্রান্ত কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে নওগাঁ-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. জাহিদুল ইসলাম ধলুর এক লিখিত প্রশ্নের উত্তরে।

তিনি বলেন, শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হলে শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার কমিয়ে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার সুযোগ তৈরি হবে। এ লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার।

সংসদ সদস্য মো. জাহিদুল ইসলাম ধলু তার প্রশ্নে জানতে চান, শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ নিশ্চিতকরণ, বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর হার শূন্যে নামিয়ে আনার জন্য কি বাজেটে শিক্ষাখাতে বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা, বিদ্যালয়গুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং ঝরে পড়া রোধে অর্থাৎ শিক্ষা খাতের সার্বিক উন্নয়নে। তিনি জানান, সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করে প্রথমবারের মতো জিডিপির ২ (দুই) শতাংশে উন্নীত করেছে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরে সেকেন্ডারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামে (এসইডিপি) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে মোট ৪১৯৯ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগে ৩৫৯৯ কোটি টাকা এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগে ৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়েছে। এসইডিপির আওতায় মোট ১০টি স্কিম চলমান রয়েছে, যেখানে একটি স্কিম ন্যাশনাল কারিকুলাম ডিসেমিনেশন এবং শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের জন্য নির্ধারিত।

তারেক রহমান বলেন, লার্নিং এক্সিলারেশন ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন প্রকল্পের আওতায় শিক্ষক প্রশিক্ষণের জন্য ৮১০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। যার মাধ্যমে মোট ৩ লাখ ৪৭ হাজার ২১ জন শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট জনবলকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। প্রশিক্ষণে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বেসিক ট্রেনিং, বিষয়ভিত্তিক প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট ট্রেনিং, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের লিডারশিপ ট্রেনিং, ভোকেশনাল শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, ব্লেন্ডেড লার্নিং, আইসিটি, লাইব্রেরি ব্যবস্থাপনা, শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য এবং বুলিং প্রতিরোধসহ জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়ে প্রশিক্ষণ।

সংসদ নেতা পরবর্তীতে বলেন, মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়নে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের পরিচালনা বাজেটে ৩০৪০.৯ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এতেও মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের জন্য ২১৯৬.৪ কোটি টাকা এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের জন্য ৮৪৪.৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে।

তিনি আরও জানান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়নে প্রাইমারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম-৫ (পিইডিপি-৫) সহ মোট ৫টি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এসব প্রকল্পের মাধ্যমে বিদ্যালয়গুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হবে। পাশাপাশি ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর হার শূন্যে নামিয়ে আনতে চলতি অর্থবছর থেকে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ, উপবৃত্তি প্রদান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের স্কুল ফিডিং কর্মসূচি এবং স্কুল ড্রেস বিতরণসহ ক্রীড়া উপকরণ সরবরাহ করা হবে। এসব কর্মসূচির বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষায় ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর হার কমে আসবে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণে এক হাজার ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এছাড়া মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য উপবৃত্তি ও মেধাবৃত্তি বাবদ ৫ হাজার ৫৩৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%