০৩:১৩ পি.এম
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন বিমসটেকের মাধ্যমে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে। তিনি উল্লেখ করেন যে, যোগাযোগ, বাণিজ্য, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ককে অভিন্ন সমৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি মনে করেন।
শামা ওবায়েদ বলেন, সদস্য দেশগুলোর মধ্যে আস্থা, অন্তর্ভুক্তিমূলক মনোভাব ও সহযোগিতা বাড়াতে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যেহেতু তারা বিমসটেকের বর্তমান সভাপতি।
আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত সোমবার সন্ধ্যায় ঢাকায় ‘বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি-সেক্টোরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কোঅপারেশন’ (বিমসটেক)-এর ২৯তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আরও পড়ুন: সৌদি আরব থেকে ৯ মাসে ২ হাজার মরদেহ, নারী কর্মীরা সন্তানের বাবার পরিচয় জানেন না

একটি উন্মুক্ত, সমৃদ্ধ ও আন্তঃসংযুক্ত বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চল নির্মাণের জন্য শক্তিশালী সাপ্লাই চেইন, নিরবচ্ছিন্ন বহুমুখী যোগাযোগ ব্যবস্থা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং জনগণের মধ্যে অধিক গভীর যোগাযোগ নিয়ে তিনি জোর দেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আবদুুল আউয়াল মিন্টু এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম. ইকবাল হোসেইন।
বিমসটেক-এর মহাসচিব ইন্দ্র মণি পাণ্ডে জানিয়েছেন, এবারের বিমসটেক দিবস উদযাপন বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। এই আঞ্চলিক জোটটি ২৯তম বার্ষিকী উদযাপন করছে এবং ৩০তম বার্ষিকীতে পদার্পণের লক্ষ্যে বছরব্যাপী নানা কর্মসূচির সূচনা করেছে।
আরও পড়ুন: দুধের উৎপাদন খরচ ৪৪.৮০ টাকা, বিক্রি ১০০-১১০ টাকায়
তিনি বলেন, গত কয়েক বছরে বিমসটেক বিভিন্ন খাতে আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। একটি কার্যকর আঞ্চলিক সংস্থা হিসেবে কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোও তৈরি করা হয়েছে।
বিমসটেক চার্টার এবং ‘ভিশন ২০৩০’-এর কথা উল্লেখ করে পাণ্ডে বলেন, এই সংস্থার কর্মপরিকল্পনায় অগ্রাধিকারমূলক বেশ কিছু খাত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এগুলোকে এগিয়ে নিতে প্রয়োজন মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বৈঠক, যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ, বিশেষজ্ঞ দল এবং অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা।
মহাসচিব বলেন, সদস্য দেশগুলোর সম্মিলিত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এবং তাদের উন্নয়নের আকাক্সক্ষা পূরণে সহযোগিতার জন্য বিমসটেক পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র, আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সংস্থা এবং জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর সাথে অংশীদারিত্ব জোরদার করছে। বিমসটেক সচিবালয় পরিচালনা এবং সংস্থাকে ক্রমাগত সমর্থন দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকার ও জনগণকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

আরও পড়ুন: লিবিয়ার বন্দিশালা থেকে দেশে ফিরছেন ১৭২ বাংলাদেশি
শামা ওবায়েদ বলেন, বিমসটেক ও এর সদস্য দেশগুলোকে অভিনন্দন জানিয়ে বাংলাদেশ তার পররাষ্ট্রনীতির একটি মূল ভিত্তি হিসেবে আঞ্চলিক সহযোগিতাকে গুরুত্ব দেয়।
তিনি বিমসটেককে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াকে সংযোগকারী একটি অনন্য সেতু হিসেবে বর্ণনা করেন। এই অঞ্চলের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও বন্ধুত্ব সুদৃঢ় করতে সাংস্কৃতিক বিনিময়, শিক্ষা, পর্যটন, ক্রীড়া কূটনীতি, যুব সম্পৃক্ততা এবং পেশাদারদের পারস্পরিক যোগাযোগের ভূমিকা নিয়ে তিনি জোর দেন।
প্রতিমন্ত্রী বিমসটেকের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি শক্তিশালী করার এবং বিমসটেক সনদ কার্যকর করার আহ্বান জানান। এছাড়া, খাতভিত্তিক সহযোগিতা ব্যবস্থায় পর্যাপ্ত সম্পদ ও কার্যকর সমন্বয়ের ওপর জোর দেন তিনি।
এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিমসটেক সদস্য দেশগুলোর রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি, কূটনৈতিক কোরের সদস্য, গণমাধ্যম প্রতিনিধি, থিংক ট্যাংক বা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের গবেষক এবং অন্যান্য বিশিষ্ট অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পরে এই প্রথম, এসসিও’র বৈঠকে পাকিস্তানকে আমন্ত্রণ ভারত
উৎসবমুখর এই আয়োজনে বিমসটেকভুক্ত দেশগুলোর সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও ঐতিহ্যের প্রাণবন্ত প্রদর্শনী বিশেষ আকর্ষণ ছিল। সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধিরা জাতীয় পতাকা হাতে ও ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে একটি প্রতীকী শোভাযাত্রায় অংশ নেন, যা বিমসটেক পরিবারের বন্ধুত্ব ও সংহতির চেতনাকে তুলে ধরে।
সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং প্রদর্শনীর মাধ্যমে সদস্য দেশগুলোর শিল্পকর্ম, হস্তশিল্প, বস্ত্র এবং অন্যান্য অনন্য প্রতীক তুলে ধরা হয়, যা এই অঞ্চলের মানুষের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য ও স্বতন্ত্র পরিচয়কে নির্দেশ করে। সংবর্ধনায় সাতটি সদস্য দেশের ঐতিহ্যবাহী খাবারও পরিবেশন করা হয়।
বিমসটেক দিবসটি একযোগে সব সদস্য দেশে উদযাপন করা হয়েছে। রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছেন এই উপলক্ষে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, মিয়ানমার, নেপাল, শ্রীলঙ্কা এবং থাইল্যান্ড বঙ্গোপসাগর অঞ্চলের এই সাতটি দেশ নিয়ে বিমসটেক গঠিত। ১৯৯৭ সালের ৬ জুন ব্যাংকক ঘোষণার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত বিমসটেক আঞ্চলিক সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম এবং দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে একটি কার্যকর সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছে।
আরও পড়ুন: ফারাক্কা চুক্তি নবায়ন করে ভারত তাদের বন্ধুত্ব প্রমাণ করবে: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন