ঢাকা শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ট্রাম্পের মনোনীত অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে সিনেটের অনুমোদনের পথে ব্ল্যাঞ্চ


ট্রাম্পের মনোনীত অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে সিনেটের অনুমোদনের পথে ব্ল্যাঞ্চ

ঢাকা, ৪ আগস্ট, ২০২৬ : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাবেক ব্যক্তিগত আইনজীবী টড ব্ল্যাঞ্চ এখন দেশটির পরবর্তী অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে সিনেটের অনুমোদন পাওয়ার পথে অনেকটাই এগিয়ে এসেছেন। সোমবার রিপাবলিকান দলের দুই সিনেটর তার মনোনয়নের বিরোধিতা প্রত্যাহার করে নেওয়ায় তার অনুমোদনের সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়েছে।

এএফপি’র খবরে বলা হয়েছে, এর আগে রিপাবলিকান সিনেটর জন কর্নিন এবং থম টিলিস ব্ল্যাঞ্চের মনোনয়ন নিয়ে আপত্তি তুলেছিলেন। তাদের উদ্বেগের মূল কারণ ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলার কথিত ভুক্তভোগীদের জন্য ১৮০ কোটি ডলারের একটি তহবিল এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার পরিবারের জন্য কর নিরীক্ষা থেকে অব্যাহতি-সংক্রান্ত একটি সমঝোতা।

তবে সপ্তাহান্তে ব্ল্যাঞ্চ বিতর্কিত ‘অ্যান্টি-ওয়েপনাইজেশন ফান্ড’ গঠনের আদেশ বাতিল করেছেন। পাশাপাশি তিনি জানান, ট্রাম্প, তার দুই জ্যেষ্ঠ ছেলে এবং ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের সঙ্গে হওয়া কর নিরীক্ষা-সংক্রান্ত চুক্তি শুধুমাত্র অতীতের করবর্ষের জন্য প্রযোজ্য হবে, ভবিষ্যতের কর বিবরণীর ক্ষেত্রে নয়।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাপান সফর ঐতিহাসিক ও তাৎপর্যপূর্ণ: রিজভী

এর পরিপ্রেক্ষিতে কর্নিন ও টিলিস সোমবার এক যৌথ বিবৃতিতে ব্ল্যাঞ্চের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান। তারা বলেন, সিনেটের বিচার বিষয়ক কমিটিতে তার মনোনয়ন দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার জন্য তারা ভোট দিতে আগ্রহী।

রিপাবলিকানদের ১২-১০ ভোটের সামান্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা সিনেট জুডিশিয়ারি কমিটিতে মঙ্গলবার এই বিষয়ে ভোট হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর সপ্তাহের শেষ দিকে রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত পূর্ণ সিনেটে তার মনোনয়নের ওপর ভোট হতে পারে।

অন্যদিকে, সিনেটের ডেমোক্র্যাট সদস্যরা ব্ল্যাঞ্চের মনোনয়নের বিরোধিতায় একাট্টা রয়েছেন। তাদের অভিযোগ, তিনি বিচার বিভাগকে স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে নয়, বরং প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত আইনি দলের সম্প্রসারিত অংশ হিসেবে পরিচালনা করেছেন।

সিনেটে ডেমোক্রেট দলের নেতা চাক শুমার এ বিষয়ে বলেন, রিপাবলিকানরা আবারও ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আইনজীবীর আশ্বাসের ওপর নির্ভর করছেন। তার ভাষায়, নতুন এই সমাঝোতা ট্রাম্প ও তার পরিবারের জন্য কর-সংক্রান্ত বিশেষ সুবিধার সুযোগ পুরোপুরি বন্ধ করতে পারেনি।

আরও পড়ুন: সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনা ক্যাম্প পরিদর্শন

এদিকে, দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইন সংক্রান্ত তদন্ত নথি প্রকাশের বিষয়টি পরিচালনা নিয়েও সমালোচনার মুখে পড়েছেন ব্ল্যাঞ্চ। এপস্টেইনের ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এ বিষয়ে তিনি যথাযথ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পারেননি।

চলতি বছরের এপ্রিলে ট্রাম্প অ্যাটর্নি জেনারেল প্যাম বন্ডিকে বরখাস্ত করার পর থেকে ব্ল্যাঞ্চ ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করছেন। এ সময় তিনি ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা তদারকির পাশাপাশি ট্রাম্প প্রশাসন ও সরকারের মধ্যে আলোচিত আইনি সমঝোতা চূড়ান্ত করতে ভূমিকা রেখেছেন।

ওই সমঝোতার সূত্রপাত ঘটে ট্রাম্পের করা ১০ বিলিয়ন ডলারের একটি মামলাকে কেন্দ্র করে। মামলায় অভিযোগ করা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের কর বিভাগ (আইআরএস)-এর এক ঠিকাদার অবৈধভাবে তার কর-সংক্রান্ত তথ্য ফাঁস করেছিলেন।

সমঝোতার খসড়ায় অতীতের করবর্ষে নিরীক্ষা থেকে অব্যাহতি এবং বিচার বিভাগের মাধ্যমে অন্যায়ভাবে হয়রানির শিকার দাবি করা ব্যক্তিদের জন্য ১৭৭ কোটি ৬০ লাখ ডলারের একটি তহবিল গঠনের প্রস্তাব ছিল। এতে ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল ভবনে হামলার ঘটনায় দণ্ডিত ট্রাম্প সমর্থকদেরও অন্তর্ভুক্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: রাহুলের আহ্বান, সব ছাত্রসংগঠনকে ‘দিল্লি চলো’ পদযাত্রায় যোগ দিতে বললেন

তবে পৃথক দুটি মামলায় ফেডারেল বিচারকরা ওই তহবিল স্থগিত করেন এবং কর-সংক্রান্ত সমঝোতারও সমালোচনা করেন। মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, এই চুক্তির মাধ্যমে ট্রাম্প অতীতের প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত সম্ভাব্য করদায় এড়ানোর সুযোগ পেতে পারেন।

একজন বিচারক রায়ে বলেন, আইআরএসের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের মামলাটি আদালতের অপব্যবহারের উদ্দেশ্যে করা হয়েছে এবং সাধারণ করদাতারা যে সুবিধা পান না, তা আদালতের মাধ্যমে বৈধ করার চেষ্টা হয়েছে।

রোববার ব্ল্যাঞ্চ একটি বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে জানান, ‘অ্যান্টি-ওয়েপনাইজেশন ফান্ড’ গঠনের আদেশ বাতিল করা হয়েছে এবং এটি আর কার্যকর থাকবে না। তার ভাষায়, ‘এই আদেশের মাধ্যমে সন্দেহাতীতভাবে স্পষ্ট করা হলো যে, এমন কোনো তহবিল আর নেই।’

ডেমোক্র্যাটদের অভিযোগ, ব্ল্যাঞ্চ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক অভিযানে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন।

আরও পড়ুন: ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ আমরা শুরু করিনি: ট্রাম্প

এই অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য ছিলেন এফবিআইয়ের সাবেক পরিচালক জেমস কোমি। ট্রাম্পের সমালোচক হিসেবে পরিচিত কোমির বিরুদ্ধে গত এপ্রিলে ইনস্টাগ্রামে ট্রাম্পকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

বিচার বিভাগে যোগ দেওয়ার আগে ব্ল্যাঞ্চ নিউইয়র্কে পর্ন তারকা স্টর্মি ড্যানিয়েলসকে অর্থ দেওয়ার অভিযোগসংক্রান্ত মামলায় ট্রাম্পের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে কাজ করেন। এছাড়া বিশেষ কৌঁসুলি জ্যাক স্মিথ পরিচালিত দুটি ফেডারেল মামলায়ও তিনি ট্রাম্পের আইনি প্রতিরক্ষা দলের সদস্য ছিলেন। মামলাগুলোতে হোয়াইট হাউস ছাড়ার পর গোপন নথি সংরক্ষণ এবং ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফল উল্টে দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছিল।

তবে ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্প বিজয়ী হওয়ার পর মামলাগুলো প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: পুতিনের মুখে ইলন মাস্কের ‘রিয়েল জিনিয়াস’ প্রশংসা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খুলনায় কলেজছাত্র রোহান হত্যা মামলায় প্রধান আসামির ১০ বছরের কারাদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:৫৬ পি.এম


খুলনায় কলেজছাত্র রোহান হত্যা মামলায় প্রধান আসামির ১০ বছরের কারাদণ্ড

খুলনা, ৪ আগস্ট, ২০২৬ : খুলনা জেলায় কলেজছাত্র সৈয়দ অলিফ রোহান (১৯) হত্যামামলায় প্রধান আসামি তাসিন মোড়লকে ১০ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেছেন আদালত।

গত সোমবার, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ (অপ্রাপ্তবয়স্ক নারী ও শিশু আদালত) এর বিচারক আলমাচ মৃধা এই রায় ঘোষণা করেন।

নিহত সৈয়দ অলিফ রোহান ফুলতলা উপজেলা সদরের ফুলতলা এম এম কলেজের সমাজকর্ম অনার্সের প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলেন।

২০২৩ সালে, আসামি তাসিন মোড়লের অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার বিষয়টি আলোচনায় আসলে আদালত তার মামলাটি পৃথক করে অপ্রাপ্তবয়স্ক নারী ও শিশু আদালতে স্থানান্তরিত করেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের ৩১ মার্চ দুপুরে ফুলতলা এমএম কলেজ প্রাঙ্গণে প্রকাশ্য দিবালোকে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা মেয়েদের উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদের কারণে পায়গ্রাম কসবা গ্রামের সৈয়দ আবু তাহেরের সন্তান ও সমাজকর্ম অনার্সের প্রথম বর্ষের ছাত্র সৈয়দ অলিফ রোহানকে হত্যা করে।

ওই ঘটনার পর নিহত রোহানের বাবা সৈয়দ আবু তাহের বাদী হয়ে ওই বছরের ১ এপ্রিল পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে ফুলতলা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। প্রধান আসামি ছিল স্থানীয় তাজপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর মোড়লের পুত্র তাসিন মোড়ল।

মামলার অন্যান্য আসামিরা হলেন, সাব্বির ফরাজি, দীপ্ত সাহা, শান্ত গাজী ও শেখ আবু হাসানাত।

ঘটনার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে আসামি দীপ্ত সাহাকে গ্রেফতার করে। পরে, সে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে এবং কিলিং মিশনে অংশগ্রহণকারীদের নাম প্রকাশ করে। এই চাঞ্চল্যকর হত্যার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে পরবর্তীতে মামলাটি পুলিশী অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) হস্তান্তরিত করা হয়।

সরকারির পক্ষে আইনজীবী স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট কামরুন নাহার হেনা বাসসকে জানিয়েছেন, দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য গ্রহণের পর আদালত মামলার প্রধান আসামিকে শাস্তি প্রদান করায় বিচার বিভাগের প্রতি মানুষের আস্থা বৃদ্ধি পাবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কেপ ভার্দের দায়িত্ব ছাড়ছেন বুবিস্তা, নতুন গন্তব্য মরক্কো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:৫৮ পি.এম


কেপ ভার্দের দায়িত্ব ছাড়ছেন বুবিস্তা, নতুন গন্তব্য মরক্কো

কেপ ভার্ডে জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচ বুবিস্তা দায়িত্ব ছাড়তে যাচ্ছেন। বিশ্বকাপে দলটির ইতিহাস গড়ার পর, বুবিস্তা ৫৬ বছর বয়সে নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে মরক্কোর ক্লাব রেনেসাঁ বেরকানের দায়িত্ব নিচ্ছেন।

মঙ্গলবার রেনেসাঁ বেরকানে এক বিবৃতিতে ঘোষণা করা হয়েছে যে, বুবিস্তার সঙ্গে দুই মৌসুমের চুক্তি হয়েছে। এর মাধ্যমে তিনি মরক্কোর শীর্ষ ক্লাবটির দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন।

প্রাথমিকভাবে পরিকল্পনা ছিল যে, বুবিস্তাকে কেপ ভার্ডে জাতীয় দল ও রেনেসাঁ বেরকানের কোচ হিসেবে একসঙ্গে রাখা হবে। কিন্তু একাধিক দফার আলোচনা শেষে সেই প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হয়নি। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, কেপ ভার্ডের প্রধান কোচের পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ইস্তফা দেবেন।

বুবিস্তা ২০২৬ বিশ্বকাপে কেপ ভার্ডের অধীনে ইতিহাস গড়েছিলেন। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলে আফ্রিকার দেশটি শুধু অংশগ্রহণেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ফুটবল বিশ্বের নজর কাড়ে।

গ্রুপ পর্বে স্পেন ও উরুগুয়ের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে রুখে দিয়ে নকআউটে জায়গা করে নেয় কেপ ভার্ডে। শেষ বত্রিশে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে অতিরিক্ত সময়ে পরাজিত হলেও, লড়াকু পারফরম্যান্সের জন্য দলটি ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়।

এদিকে, রেনেসাঁ বেরকানে যোগ দেওয়ার পর বুবিস্তাকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। ক্লাবটি ২০২৫ মৌসুমে মরোক্কান লিগের শিরোপা জিতেছিল এবং সর্বশেষ মৌসুমে রানার্সআপ হয়ে আফ্রিকান চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালেও খেলেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘চলে আসুন ষোলশহর’ যে ফেসবুক পোস্টে চট্টগ্রামের আন্দোলনে নতুন গতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:৫৯ পি.এম


‘চলে আসুন ষোলশহর’ যে ফেসবুক পোস্টে চট্টগ্রামের আন্দোলনে নতুন গতি

২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বিকেলে ফেসবুকে মাত্র তিনটি শব্দের একটি পোস্ট- ‘চলে আসুন ষোলশহর’ প্রকাশ করা হয়েছিল। সংক্ষিপ্ত এই আহ্বানটি পরবর্তীতে গিয়ে চট্টগ্রামের আন্দোলনের অন্যতম স্মরণীয় প্রতীক হয়ে দাঁড়ায়। পোস্টটি করেছিলেন চট্টগ্রাম কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এবং জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতা মো. ওয়াসিম আকরাম।

ওই আহ্বানে সাড়া দিয়ে বহু শিক্ষার্থী ও তরুণ আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মুরাদপুর এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ওয়াসিম নিহত হন। তার মৃত্যুর পর আন্দোলন আরও বিস্তৃত ও তীব্র হয়ে ওঠে।

সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মী, সহযোদ্ধা ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলাপচারিতায় জানা যায়, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই সারাদেশের মতো চট্টগ্রামেও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন জোরালো হতে শুরু করে। আন্দোলন দমাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সরকারি দলের নেতাকর্মীদের হামলার পরও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ কমেনি। বরং প্রতি মিনিটে নতুন নতুন মানুষ আন্দোলনের সাথে যুক্ত হচ্ছিল।

এ সময় ইন্টারনেট সংযোগ সীমিত হয়ে যাওয়ায় তথ্য আদান-প্রদান কঠিন হয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছোট ছোট বার্তাগুলো আন্দোলনকারীদের সংগঠিত হতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিকেল ৩টার দিকে ওয়াসিম আকরামের দেওয়া ‘চলে আসুন ষোলশহর’ পোস্টটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকেই নির্ধারিত স্থানে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হন।

সহযোদ্ধাদের ভাষ্য অনুযায়ী, পোস্ট দেওয়ার পর ওয়াসিম নিজেও আন্দোলনের মাঠে মিছিলে যোগ দেন। তবে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে যায়। প্রথমে ষোলশহর এলাকায় অবস্থান নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও পরে আন্দোলনকারীরা মুরাদপুরের দিকে চলে যান। সেখানে সংঘর্ষের সময় ওয়াসিম গুলিবিদ্ধ হন। তাকে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসকরা বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগেই ওয়াসিম নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে আরেকটি স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি লিখেছিলেন, ‘সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশে আমার প্রাণের সংগঠন, আমি এই পরিচয়ে শহিদ হব।’ তার এই পোস্টও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল নোমান বাসসকে বলেছেন, ১৬ জুলাইয়ের কর্মসূচিতে তাদের প্রথম পরিকল্পনা ছিল ষোলশহর রেলস্টেশন এলাকায় জড়ো হওয়ার। কিন্তু সেখানে সশস্ত্র অবস্থান থাকায় তারা মুরাদপুরের দিকে যান। সেখানেও সংঘর্ষের মুখে পড়তে হয়।

তিনি বলেন, আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ ও ছাত্রলীগ-যুবলীগের সদস্যরা একযোগে হামলা চালায়। আত্মরক্ষার জন্য আন্দোলনকারীরা বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে পড়েন। এ সময় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কাছে ওয়াসিম গুলিবিদ্ধ হন।

নোমান জানান, ঘটনার কিছুক্ষণ আগেও ওয়াসিমের সঙ্গে তার কথা হয়েছিল। ওয়াসিম তাকে জানিয়েছিলেন, তিনি শিক্ষা বোর্ড এলাকার কাছে অবস্থান করছেন এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত মিছিলের মূল অবস্থানে যোগ দেবেন। সেটিই ছিল তাদের মধ্যে শেষ কথোপকথন।

চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সালাউদ্দিন শাহেদ বাসসকে বলেছেন, ওয়াসিম তার ঘনিষ্ঠ সহকর্মী ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন। কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী তারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আন্দোলনে অংশ নিচ্ছিলেন।

তিনি আরও বলেন, সংঘর্ষের সময় তারা শিক্ষা বোর্ড ভবনের ভেতরে আশ্রয় নিয়েছিলেন। পরে সেখান থেকে বের হওয়ার সময় ওয়াসিম পেছনে থেকে অন্যদের নিরাপদে সরে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে চেষ্টা করেন। ঠিক সেই মুহূর্তেই তিনি গুলিবিদ্ধ হন। তাকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে নানা বাধার মুখে পড়তে হয়েছিল।

সালাউদ্দিন শাহেদ জানান, ওয়াসিম হত্যার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। একই ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়ের হওয়া মামলারও সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে এবং তিনি সেখানে সাক্ষী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।

ওয়াসিমের মৃত্যুর পর চট্টগ্রামজুড়ে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পর দিন থেকে নগরীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, তরুণ-তরুণী এবং সাধারণ মানুষ আরও ব্যাপকভাবে আন্দোলনে অংশ নিতে শুরু করে। আন্দোলনের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে মুরাদপুর, ষোলশহর, বহদ্দারহাটসহ বিভিন্ন এলাকা। পর্যবেক্ষকদের মতে, ওয়াসিমের মৃত্যু চট্টগ্রামের আন্দোলনে নতুন গতি এনে দেয় এবং পরবর্তী সময়ের গণআন্দোলনকে আরও বিস্তৃত করে।

হত্যা মামলার বিষয়ে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট ওয়াসিমের মা জোছনা বেগম চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ ২৫০ জনকে আসামি করা হয়।

পরে জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সময় চট্টগ্রামে ওয়াসিমসহ ১১ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আলাদা মামলা দায়ের হয়। তদন্ত শেষে ওয়াসিমসহ ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় ২২ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। অভিযোগে সাবেক মন্ত্রী হাছান মাহমুদ, মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীসহ আরও কয়েকজনের নাম রয়েছে। মামলাটি বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ বিচারাধীন রয়েছে।

পাঁচলাইশ থানা সূত্র জানিয়েছে, হত্যা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ প্রায় শেষ হয়েছে এবং শিগগিরই আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিলের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মেহেরনামা বাজারপাড়ার বাসিন্দা ওয়াসিম আকরাম পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে তৃতীয় ছিলেন। তিনি আন্দোলনের কর্মী এবং পড়াশোনাতেও ছিলেন মেধাবী। চট্টগ্রাম কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের অনার্স পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হন। তবে সেই ফল প্রকাশিত হয় তার মৃত্যুর পর।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষ্যে বাসসকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় ওয়াসিমের বাবা শফিউল আলম বলেছেন, তার ছেলেসহ অনেক তরুণের আত্মত্যাগের বিনিময়ে দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পথ তৈরি হয়েছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, তার সন্তানের হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত সম্পন্ন হবে এবং জীবদ্দশায় সেই বিচার দেখে যেতে পারবেন।

দুই বছর পরও ‘চলে আসুন ষোলশহর’ এই তিনটি শব্দ চট্টগ্রামের আন্দোলনের স্মৃতির সঙ্গে অঙ্গা-অঙ্গিভাবে জড়িয়ে রয়েছে। আন্দোলনের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণকারীদের কাছে এটি শুধু একটি ফেসবুক পোস্ট নয়; বরং একটি সময়ের সাহস, প্রতিরোধ এবং আত্মত্যাগের একটি প্রতীক হিসেবেই স্মরণীয় হয়ে উঠেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাকিস্তানের নতুন ব্যাটিং কোচ হচ্ছেন স্মিথ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:০০ পি.এম


পাকিস্তানের নতুন ব্যাটিং কোচ হচ্ছেন স্মিথ

 পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) দলের নতুন ব্যাটিং কোচ হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম শ্রেণির সাবেক ক্রিকেটার ও কোচ মাইকেল স্মিথকে নিয়োগ দিয়েছে।

পিসিবির পক্ষ থেকে আজ এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

এর আগে পাকিস্তান জাতীয় দলের জন্য স্থায়ী কোনো ব্যাটিং কোচের পদ ছিল না। মাঝে মাঝে জাতীয় নির্বাচক আসাদ শফিক ব্যাটিং কোচের দায়িত্ব পালন করতেন।

স্মিথকে এবার দুই বছরের চুক্তিতে তিন সংস্করণে পাকিস্তানের ব্যাটিং কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

পাকিস্তান সুপার লিগে ইসলামাবাদ ইউনাইটেডের কোচিং স্টাফে কাজ করেছেন স্মিথ, যিনি লেভেল-৪ কোচিং সনদধারী। সর্বশেষ মৌসুমে তিনি মুলতান সুলতানসের সহকারী কোচের দায়িত্বে ছিলেন।

এছাড়াও বিগ ব্যাশের দল হোবার্ট হারিকেন্স ও ক্রিকেট তাসমানিয়ায় ব্যাটিং কোচ হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন, বয়স তাঁর ৪৬ বছর।

সম্ভবত আসন্ন ইংল্যান্ড সফর দিয়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং কোচ হিসেবে দায়িত্ব শুরু করবেন স্মিথ। ১৯ আগস্ট থেকে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ শুরু করতে যাচ্ছে পাকিস্তান।

এসব খেলোয়াড়ি জীবনে স্মিথ ২০০৩ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যবর্তী সময়ে ৮৯টি প্রথম শ্রেণির, ৭২টি লিস্ট ‘এ’ এবং ১৬টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন। তিনি ৯টি সেঞ্চুরি ও ৪০টি হাফ-সেঞ্চুরির সাহায্যে ৭ হাজার ২৯ রান করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৪
মাগরিব ০৫:২১
ইশা ০৬:৩৩
সূর্যোদয় : ০৬:০৩ সূর্যাস্ত : ০৫:২১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%