শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৪:৪২ এম
একটি মুদ্রা হাতে নিলে তার নকশা, লেখা কিংবা ধাতব গড়ন চোখে পড়ে। তবে, সেই মুদ্রার গায়েই লুকিয়ে থাকতে পারে কোনো শাসকের পরিচয়, হারিয়ে যাওয়া জনপদের ইতিহাস অথবা কয়েক হাজার বছর আগে মানুষের জীবনযাত্রার গল্প। কিছু মুদ্রা এসেছে প্রাচীন রাজ্য থেকে, কিছু সুলতানি বা মোগল আমলের স্মৃতি বহন করছে। আবার কিছু মুদ্রা বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর চালু হওয়া টাকার বিরল নমুনা। রাজধানীতে মুদ্রার এমন বিচিত্র সংগ্রহ নিয়ে শুরু হয়েছে তিন দিনের ষষ্ঠ বিএনসিএস মুদ্রা প্রদর্শনী-২০২৬।
ধানমণ্ডির মাইডাস সেন্টারে গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ নিউমিসম্যাটিক কালেক্টরস সোসাইটির (বিএনসিএস) আয়োজনে এই প্রদর্শনী শুরু হয়। এতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ৪৩ জন নবীন ও প্রবীণ মুদ্রা সংগ্রাহক তাঁদের সংগ্রহের ৬১টি বিষয়ভিত্তিক প্রদর্শনী উপস্থাপন করছেন। প্রদর্শনী চলবে আগামীকাল শনিবার পর্যন্ত।
প্রদর্শনীর বিশেষত্ব হলো, এখানে মুদ্রাকে শুধু লেনদেনের মাধ্যম হিসেবে দেখা হচ্ছে না; বরং ইতিহাস, ঐতিহ্য ও অর্থব্যবস্থার বিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
প্রাচীন জনপদ থেকে আধুনিক
বাংলাদেশ : প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে খ্রিস্টপূর্ব সপ্তম শতকে লিডিয়ায় প্রচলিত বিশ্বের প্রাচীনতম মুদ্রাগুলোর অন্যতম নিদর্শন থেকে ভারতীয় উপমহাদেশের আড়াই হাজার বছরের ইতিহাসের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন মুদ্রা। গান্ধার, মগধ, বঙ্গ ও সমতটের মতো প্রাচীন জনপদ এবং মৌর্য, কুষাণ ও গুপ্ত সাম্রাজ্যের মুদ্রার পাশাপাশি রয়েছে দিল্লি ও বাংলার সুলতানি শাসন, মোগল এবং ব্রিটিশ আমলের মুদ্রা।
এ ছাড়া পাকিস্তান ও বাংলাদেশের বিভিন্ন সময়ের মুদ্রাও প্রদর্শিত হচ্ছে। এসব মুদ্রার নকশা, শাসকের নাম, উপাধি ও অন্যান্য চিহ্নের মধ্য দিয়ে অতীতের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ইতিহাস সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
বাংলাদেশের মুদ্রার সংগ্রহেও রয়েছে নানা বৈচিত্র্য। ১৯৭২ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বিভিন্ন মূল্যমানের ব্যাংকনোটের নকশা, নমুনা নোট, প্রথম ও শেষ সিরিয়ালের নোট, ত্রুটিপূর্ণ নোট এবং ৫০০ টাকার ব্যাংকনোটের বিভিন্ন প্রিফিক্সের নমুনা স্থান পেয়েছে প্রদর্শনীতে।
এক টাকার নোট থেকে দুর্লভ
ব্যাংকনোট : ব্যাংকনোটের সংগ্রহে রয়েছে ১৯১৭ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত এই অঞ্চলে ব্যবহৃত এক টাকার নোটের ধারাবাহিক ইস্যু। এর পাশাপাশি বিলুপ্ত দেশ ও বিভিন্ন দেশের ঔপনিবেশিক আমলের নোট, মসজিদের ছবি ও ক্যালিগ্রাফিযুক্ত ব্যাংকনোট, রেলপথ ও উড়োজাহাজের ছবি সংবলিত নোট এবং বিভিন্ন দেশের পলিমার নোটও প্রদর্শিত হচ্ছে।
মুদ্রার গড়নেই বিস্ময় : ধাতব মুদ্রার সংগ্রহেও রয়েছে ব্যতিক্রমী সব নিদর্শন। সোনারগাঁ থেকে সুলতানি আমলে ইস্যু করা মুদ্রা, বাংলার সুলতান নাসির উদ্দিন মাহমুদের বিভিন্ন নকশার মুদ্রা এবং ত্রিপুরা রাজ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের ইতিহাস-সম্পর্কিত মুদ্রা প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে। রয়েছে ভারতীয় উপমহাদেশের বিভিন্ন শাসক ও সাম্রাজ্যের এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্বর্ণমুদ্রা। কোনো মুদ্রা ছিদ্রযুক্ত, কোনোটি দ্বিধাতব, আবার কোনোটি রঙিন কিংবা অস্বাভাবিক আকৃতির। ব্রিটিশ শাসনামলে ভারতের বিভিন্ন দেশীয় মুদ্রা এবং বাংলার সুলতানি মুদ্রার অলংকরণও সংগ্রাহকদের আগ্রহ বাড়াবে।
প্রদর্শনীর বিস্ময় শুধু প্রচলিত মুদ্রায় সীমাবদ্ধ নয়। বিশ্বের বৃহত্তম ও দ্বিতীয় বৃহত্তম ব্যাংকনোটের পাশাপাশি ক্ষুদ্রতম নোটও রয়েছে এখানে। আরো আছে দাস কেনাবেচায় ব্যবহৃত ব্রেসলেট মুদ্রা, চা-পাতা দিয়ে তৈরি বড় আকারের মুদ্রা, আফ্রিকার বিখ্যাত কাটাঙ্গা ক্রস, ছুরির মতো আকৃতির প্রাচীন চীনা মুদ্রা, বুলেট মুদ্রা, বোটমানি, বাঘের জিহ্বা মুদ্রা এবং লাইবেরিয়ার কিসি পেনি। ২৪ ক্যারেট স্বর্ণে তৈরি ব্যাংকনোটও রয়েছে ব্যতিক্রমী সংগ্রহে।
বিনিময় থেকে মুদ্রা, বদলেছে অর্থের ইতিহাস : প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে যমুনা ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মির্জা ইলিয়াস উদ্দিন আহম্মদ মুদ্রার বিবর্তনের ইতিহাস তুলে ধরেন। মির্জা ইলিয়াস উদ্দিন আহম্মদ বলেন, মুদ্রার মূল্য নির্ধারণে শুধু এর ধাতব উপাদান বা ওজনই বিবেচ্য নয়। এর বিরলতা, ঐতিহাসিক গুরুত্ব, নকশা ও অন্যান্য বৈশিষ্ট্যও সংগ্রাহকদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। একটি পুরনো মুদ্রা মানুষের মধ্যে অতীত সম্পর্কে জানার আগ্রহ তৈরি করে এবং সংগ্রাহকদের নিজেদের সংগ্রহ অন্যদের সামনে তুলে ধরার সুযোগ দেয়।
সংগ্রহের পাশাপাশি গবেষণার উদ্যোগ : উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রিপাবলিক ইন্স্যুরেন্স পিএলসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. এ কে এম সারোয়ার জাহান জামিল। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএনসিএসের সভাপতি মো. রবিউল ইসলাম।
এদিন প্রথমবারের মতো প্রকাশ করা হয় মুদ্রাবিষয়ক গবেষণাধর্মী সাময়িকী ‘বিএনসিএস জার্নাল’। এর মাধ্যমে মুদ্রা সংগ্রহের পাশাপাশি এ বিষয়ে গবেষণা ও জ্ঞান বিনিময়ের সুযোগ বাড়বে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।
মুদ্রা সংগ্রহের শখকে জনপ্রিয় করা এবং নতুন সংগ্রাহক তৈরি করার লক্ষ্যে ২০০৮ সাল থেকে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে বিএনসিএস। প্রদর্শনীতে মুদ্রা সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় অ্যালবাম, প্রটেক্টরসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম কেনার সুবিধার্থে রাখা হয়েছে দুটি বিক্রয় বুথও।
দর্শনার্থীরা বলছেন, এই প্রদর্শনীতে একেকটি মুদ্রা যেন একেকটি সময়ের প্রতিনিধি। কোনোটি প্রাচীন রাজ্যের স্মৃতি বহন করছে, কোনোটি শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনের সাক্ষ্য দিচ্ছে, আবার কোনোটি আধুনিক অর্থব্যবস্থার বিবর্তন তুলে ধরছে। মুদ্রার গায়ে খোদাই করা নাম, সাল ও নকশার সূত্র ধরে দর্শনার্থীরা তাই শুধু দুর্লভ সংগ্রহ দেখার সুযোগই পাচ্ছেন না; পাচ্ছেন ইতিহাসের নানা অধ্যায়ের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগও।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অবশেষে প্রেমের সম্পর্কের কথা স্বীকার করেছেন বলিউড অভিনেত্রী জাহ্নবী কাপুর, যিনি শিখর পাহাড়িয়ার সঙ্গে রয়েছেন। ‘কফি উইথ করণ’-এর নবম সিজনে উপস্থিত হয়ে, তিনি সম্পর্কের পাশাপাশি বিয়ের পরিকল্পনাও শেয়ার করেছেন।
তবে, অভিনেত্রী এখনই বিয়ের পিঁড়িতে বসার কথা ভাবছেন না। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, আরো দুই থেকে তিন বছরের আগে বিয়ের বিষয়ে চিন্তা করছেন না। দীর্ঘদিন ধরে জাহ্নবী ও শিখরের প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে বলিউডে নানা আলোচনা চলছে। তবে, দুজনের কেউই আগে প্রকাশ্যে সম্পর্কের কথা স্বীকার করেননি। এবার ‘কফি উইথ করণ’-এর নতুন পর্বে, করণ জোহর সরাসরি জাহ্নবীকে প্রশ্ন করেন, তিনি কি আনুষ্ঠানিকভাবে শিখরের সঙ্গে সম্পর্কে রয়েছেন?
জবাবে জাহ্নবী বলেন, “আমি সব সময় ভাবতাম, সবাই এ বিষয়ে এত রাখঢাক করে কেন? অবশ্যই আমি চাই না কারো কুনজর পড়ুক। নিজের ব্যক্তিগত জীবনে কী ঘটছে, তা নিয়েও অতিরিক্ত খোলামেলা হতে চাই না। তবে বিষয়টি এমন নয় যে কেউ কিছু জানতে পারবে না—এমন করে চলতে হবে। এভাবে লুকোচুরি করাটা আমার কাছে একঘেয়ে মনে হয়। বিষয়টি এমন বড় কিছু নয়।” অনুষ্ঠানে জাহ্নবীর বিয়ের পরিকল্পনা নিয়েও প্রশ্ন করেন করণ জোহর।
জবাবে অভিনেত্রী স্পষ্ট করে বলেন, “আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে তো অবশ্যই নয়।” জাহ্নবী আরো জানান, তাঁদের সম্পর্ক বর্তমানে ভালো অবস্থানে রয়েছে। চারপাশে অনেকের সম্পর্ক ভেঙে গেলেও তাঁরা নিজেদের সম্পর্ক নিয়ে ভালো আছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন ডিজে ও সংগীত প্রযোজক সঞ্জয় দেব ফিফা বিশ্বকাপের মঞ্চে পারফর্ম করে আলোচনায় আসেন। তিনি ৫ নভেম্বর দেশে অনুষ্ঠিতব্য ‘টেকনো সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ বাংলাদেশ ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পারফর্ম করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সম্প্রতি তিনি একটি বিশেষ ভিডিও বার্তায় বাংলাদেশে আসার খবরটি নিজেই জানিয়েছেন।
এই আয়োজনে বিশেষ অতিথি হিসেবে পারফর্মার হিসেবে সঞ্জয় দেব মঞ্চ মাতাবেন। তিনি বলেন, “ফিফা বিশ্বকাপের মঞ্চে পারফর্ম করা আমার জন্য বিশেষ একটি মুহূর্ত ছিল।
তবে নিজের দেশের মানুষের সামনে পারফর্ম করার অনুভূতিটা একেবারেই আলাদা। টেকনো সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে সবার সঙ্গে সেই আনন্দ ও উচ্ছ্বাস ভাগ করে নিতে আমি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।”
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অভিনয়ে মান্না, শাবনূর, মৌসুমী।
পরিচালনা এফ আই মানিক।
দুপুর ২টা ৩০ মিনিট, দীপ্ত টিভি।
গল্পসূত্র : দুই ব্যবসায়ী বন্ধু সালামত আলী খান এবং জাহাঙ্গীর খান নিজেদের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করার উদ্দেশ্যে তাদের কিশোর ছেলে হৃদয়ের সাথে কিশোরী আয়নার বিয়ে সম্পন্ন করে। পড়াশোনা করার জন্য আয়না বিদেশে চলে যায়। এর মধ্যে সালামত ও জাহাঙ্গীরের বন্ধুত্বের সম্পর্ক ভেঙে যায়। ১২ বছর পর আয়না দেশে ফিরে আসে। জাহাঙ্গীর আয়নাকে অন্যত্র বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। হৃদয়ের মা এই অপমান সহ্য করতে না পেরে হৃদয়ের সাথে স্বপ্নার বিয়ে সম্পন্ন করে। আয়না এবং স্বপ্না দুইজনেই হৃদয়ের কাছে স্বামীর অধিকার দাবি করে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) বাজারে অস্থিরতা প্রায় দুই মাস ধরে চলমান রয়েছে। সরবরাহ সংকটের সুযোগ নিয়ে সিলিন্ডারগুলো বাড়তি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। গ্রাহকরা এই পরিস্থিতিতে ভোগান্তিতে পড়েছেন। এলপিজি বিক্রিতে কমিশন দুই-তিন গুণ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন আমদানিকারক, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতারা। গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) গণশুনানিতে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন।
রাজধানীর বিয়াম মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত শুনানিতে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারে আমদানিকারকদের কমিশন বর্তমান ১৯১ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০০ থেকে ৪৭৮ টাকা করার প্রস্তাব এসেছে। পরিবেশকরা কমিশন ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫০ টাকা এবং খুচরা বিক্রেতারা ৪৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০ টাকা করার দাবি জানিয়েছেন। এছাড়া অটোগ্যাসের প্রতি লিটারে কমিশন আট টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
শুনানিতে সরকারি এলপিজি কোম্পানি এলপি গ্যাস পিএলসি, বেসরকারি আবেদনকারী এবং এলপিজি অপারেটর, ডিস্ট্রিবিউটর ও রিটেইলার ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যয়ের হিসাব ও মূল্য পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। অটোগ্যাস স্টেশনগুলোর পক্ষ থেকেও প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী সংগঠন, কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব), ভোক্তা এবং অন্যান্য পক্ষ নিজেদের মতামত ও পর্যবেক্ষণ উপস্থাপন করেন।
বিইআরসির গঠিত কারিগরি কমিটি বিভিন্ন কোম্পানির প্রস্তাব পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন উপস্থাপন করে। কম্পানিগুলোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে বেসরকারি এলপিজির বিভিন্ন পর্যায়ে অপারেটর চার্জ, ডিস্ট্রিবিউটর চার্জ, রিটেইলার চার্জ বাড়ানোর পাশাপাশি ভোক্তা পর্যায়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম এক হাজার ৮৩৭ থেকে এক হাজার ৯৭৬ টাকা করার সুপারিশ করেছে কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি।
কারিগরি কমিটির প্রতিবেদনে বেসরকারি এলপিজির মজুদ ও বোতলজাতকরণ বাবদ ব্যয় কেজিতে ১৬ টাকা ৭৪ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২৩ টাকা ৪৮ পয়সা করার সুপারিশ করা হয়েছে। এই প্রস্তাবে কারখানা পরিচালনা, শ্রমিকদের মজুরি, রক্ষণাবেক্ষণ, পরিবহন এবং মূলধনের ওপর নির্ধারিত রিটার্ন বিবেচনা করা হয়েছে। পরিবেশকের কমিশন প্রতি কেজিতে চার টাকা ১৭ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ছয় টাকা ৬৭ পয়সা করার সুপারিশ করা হয়েছে। এর ফলে ১২ কেজির সিলিন্ডারে পরিবেশকের কমিশন ৫০ টাকা থেকে বেড়ে প্রায় ৮০ টাকা হবে। খুচরা বিক্রেতাদের কমিশন প্রতি কেজিতে তিন টাকা ৭৫ পয়সা থেকে পাঁচ টাকা ৮৩ পয়সা করার সুপারিশ করেছে কমিটি। অর্থাৎ প্রতি সিলিন্ডারে শুধুমাত্র কমিশন বাবদ ব্যয় ৪৫ টাকা থেকে বেড়ে প্রায় ৭০ টাকা হবে। আমদানি পর্যায়ে অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয়ও কিছুটা বাড়ানোর সুপারিশ রয়েছে। তবে সৌদি আরামকোর ঘোষিত আন্তর্জাতিক বাজারদর এবং জাহাজভাড়া ও ট্রেড প্রিমিয়ামের বিদ্যমান হার অপরিবর্তিত ধরে এই মূল্যায়ন করা হয়েছে।
মেঘনা ফ্রেশ এলপিজির প্রধান বিপণন কর্মকর্তা আবু সাঈদ রাজা মন্তব্য করেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর আগে জাহাজভাড়াসহ এলপিজি আমদানির প্রিমিয়াম ছিল প্রতি টনে ৮০ থেকে ১২০ ডলার। বর্তমানে তা বেড়ে ২৫০ থেকে ৪০০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। পরিচালন ব্যয়ও বেড়েছে। সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে দাম নির্ধারণ করা উচিত, যাতে নির্ধারিত দামের চেয়ে এক টাকাও বেশি নিয়ে কেউ বাজারে এলপিজি বিক্রি করতে না পারে।’
এদিকে, অনুমতি থাকা সত্ত্বেও আমদানি করতে না পারা কম্পানিগুলোর পক্ষ থেকেও পাইকারি দাম নির্ধারণের দাবি জানানো হয়েছে। শুনানিতে ওরিয়ন গ্যাস লিমিটেডের চিফ অপারেটিং অফিসার অনুপ কুমার সেন বলেন, ‘নতুন পরিস্থিতিতে ১০টি কম্পানি এলপিজি আমদানি করতে পারছে না। ফলে তাদের অবকাঠামো অব্যবহৃত পড়ে আছে এবং বাজারে সিলিন্ডারের সংকট তৈরি হচ্ছে। অন্য কম্পানির কাছ থেকে এলপিজি কিনে বিইআরসি নির্ধারিত দামে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে পাইকারি দাম নির্ধারণ করা হলে বাজারে কৃত্রিম সংকট ও অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি কমবে।’
গণশুনানিতে বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে যৌক্তিকতা বজায় রেখে এলপিজির দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
জানা গেছে, দেশে সক্রিয় ৩৫টি এলপিজি কোম্পানির মধ্যে ২৩টির আমদানির অবকাঠামোগত সক্ষমতা রয়েছে। তবে গত মাসে আমদানি করেছে মাত্র ১০টি কোম্পানি। ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমদানি ও সরবরাহব্যবস্থায় এই সীমাবদ্ধতা বাজারের অস্থিরতা বাড়াচ্ছে।
পরিবেশকদের পক্ষ থেকে মেসার্স উজ্জল ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মনি মুক্তা পাল জানান, ‘আমদানিকারক কোম্পানিগুলোর পরিচালন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি পরিবেশকদের খরচও বেড়েছে।’
এই পরিস্থিতিতে প্রতি সিলিন্ডারে পরিবেশকদের কমিশন ১৫০ টাকা নির্ধারণের দাবি জানান তিনি। এ দাবি পূরণ না হলে বাজারে দাম কমানো কঠিন হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
অটোগ্যাসের কমিশন বাড়ানোর দাবি জানিয়ে এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন অ্যান্ড কনভারশন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সিরাজুল মাওলা বলেন, ‘২০২১ সালে অটোগ্যাসের প্রতি লিটারে কমিশন আট টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এরপর পাঁচ বছরে পরিচালন ব্যয় অনেক বেড়েছে। শহরের কিছু স্টেশন মুনাফা করতে পারলেও প্রায় ৮০ শতাংশ স্টেশন লোকসানে রয়েছে।’ এ কারণে প্রতি লিটারে কমিশন ১১ টাকা করার দাবি জানান তিনি।
এর আগে পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের ধর্মঘটের হুমকির মুখে কমিশন পুনর্নির্ধারণের উদ্যোগ নেয় বিইআরসি। এলপিজি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি ১৫ ও ১৬ অক্টোবর ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিল। সরকারের সঙ্গে আলোচনার পর ১৪ অক্টোবর কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়। ওই দিনই গণশুনানির ঘোষণা দেয় বিইআরসি।
দেশের এলপিজি বাজারের প্রায় ৯৯ শতাংশ বেসরকারি খাতের নিয়ন্ত্রণে। ২০২১ সালের এপ্রিল থেকে প্রতি মাসে এলপিজির দাম সমন্বয় করে আসছে বিইআরসি। তবে নির্ধারিত দামে বাজারে সিলিন্ডার বিক্রি না হওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। চলতি মাসে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে এক হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হলেও গ্রাহকদের কিনতে হচ্ছে দুই হাজার ২০০ থেকে দুই হাজার ৩০০ টাকায়।
শুনানির ৯০ দিনের মধ্যে সুপারিশ ও মতামতের ভিত্তিতে নতুন দাম দেওয়ার কথা বিইআরসির। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, নভেম্বরের শুরুতেই নতুন দাম ঘোষণা দিতে পারে বিইআরসি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ