০৮:২১ এম
সভাপতির বক্তব্যে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর উল্লেখ করেন, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন অলস শিল্পসম্পদকে উৎপাদনমুখী ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী সম্পদে রূপান্তর করার লক্ষ্যে সরকার ধারাবাহিকভাবে বন্ধ শিল্প-কারখানায় বেসরকারি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করছে। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে বাংলাদেশ জুট মিলস লিমিটেডের (বিজেএমসি) নরসিংদী ইউনিটের অতিরিক্ত ১৪.৮০ একর জমি জুট অ্যালায়েন্স লিমিটেডের কাছে লিজ প্রদানসংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হয়। পরে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে পাটমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অলস পড়ে থাকা রাষ্ট্রীয় সম্পদ অর্থনীতির জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। নতুন বিনিয়োগ ও আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে বন্ধ মিলগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করে উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করাই বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। নতুন এই প্রকল্পে প্রায় এক হাজার ৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে। এর মাধ্যমে বছরে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার উৎপাদন সম্ভব হবে। পাশাপাশি নতুন করে প্রায় তিন হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। সয়াবিনবীজ প্রক্রিয়াজাত করে ভোজ্যতেল উৎপাদনের মাধ্যমে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারে প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, সরকার সরাসরি ব্যবসা পরিচালনার পরিবর্তে দক্ষ বেসরকারি খাতকে বিনিয়োগে উৎসাহিত করছে। দীর্ঘমেয়াদি লিজ, রাজস্ব ভাগাভাগি এবং যৌথ মালিকানাভিত্তিক নানা পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ মডেলের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরুজ্জীবনের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী দুই বছরের মধ্যে বেশির ভাগ বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠানে উৎপাদন কার্যক্রম দৃশ্যমান হবে।
আরও পড়ুন: দেশি মাছের প্রাকৃতিক উৎপাদন বাড়াতে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে: মৎস্যমন্ত্রী
রপ্তানি আয় প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি, ইউরোপীয় বাজারে চাহিদা হ্রাস এবং বিভিন্ন দেশের নতুন শুল্কনীতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে ভোক্তা ব্যয় কমেছে। তবে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প ধীরে ধীরে উচ্চমূল্যের ম্যানমেড ফাইবার ও ভ্যালু-অ্যাডেড পণ্য উৎপাদনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এই রূপান্তর সম্পন্ন হলে একই পরিমাণ পণ্য রপ্তানি করেও বেশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সম্ভবনা রয়েছে।
বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম জানান, নরসিংদীর বাংলাদেশ জুট মিলস লিমিটেডের মোট ৭৭.০২ একর জমির মধ্যে আগেই ৩৪.৫০ একর জমি জুট অ্যালায়েন্স লিমিটেডকে লিজ দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে সেখানে দৈনিক প্রায় ৪০ মেট্রিক টন পাটজাত পণ্য উৎপাদিত হচ্ছে এবং সেখানে প্রায় তিন হাজার ২০০ জনের কর্মসংস্থান হয়েছে। নতুন জমি যুক্ত হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন ও বিনিয়োগ সক্ষমতা আরো বাড়বে।
তিনি বলেন, উৎপাদন বন্ধ থাকা ২৫টি পাটকলের মধ্যে ২০টি লিজ প্রদানের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৪টি মিলের লিজ চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে এবং ৯টি মিলে উৎপাদন শুরু হয়েছে। এসব মিলে প্রায় ৯ হাজার ৫০০ জনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে এবং দৈনিক প্রায় ১৬০ মেট্রিক টন পাটজাত পণ্য উৎপাদিত হচ্ছে। সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার হিসেবে তিনি বলেন, বন্ধ শিল্প-কারখানা পুনরায় চালু করা বর্তমান সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। পর্যায়ক্রমে বিজেএমসি, বিটিএমসি এবং অন্যান্য বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠানেও বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে উৎপাদন কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং বিনিয়োগকারীদের সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
জুট অ্যালায়েন্স লিমিটেডের পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধিরা জানান, সরকারের উদ্যোগে বন্ধ পাটকল পুনরায় চালুর কর্মসূচির অংশ হিসেবে গত দুই বছরে প্রায় তিন হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হয়েছে। কারখানার দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা ৩৫ টন থেকে ৫০ টনে উন্নীত করা হয়েছে এবং উৎপাদিত পণ্য শতভাগ রপ্তানি হচ্ছে। তারা জানান, পরবর্তী ধাপে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে দৈনিক তিন হাজার টন সক্ষমতার একটি সিড ক্রাশিং প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। এই প্রকল্পটি আন্তর্জাতিক অর্থায়ন সংস্থা আইএফসির সহযোগিতায় বাস্তবায়িত হবে। প্রকল্পটি সয়াবিন তেল ও সয়া মিল উৎপাদনের মাধ্যমে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি আরো প্রায় তিন হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে বলেও জানান তারা।
আরও পড়ুন: শাহজালালে ১৫৩ ফ্লাইট বাতিল, আটকা ২২,৬৩৬ যাত্রী
অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন