ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মেম্বারের বিরুদ্ধে ইট আত্মসাৎ ও কাবিটার বিল উত্তোলনের অভিযোগ


মেম্বারের বিরুদ্ধে ইট আত্মসাৎ ও কাবিটার বিল উত্তোলনের অভিযোগ

আশাশুনি উপজেলার হাসাঁখালী গ্রামে যাতায়াতের একমাত্র রাস্তার হেরিংবন্ডের ইট তুলে আত্মসাৎ ও অন্য রাস্তার ইট তুলেনিয়ে কাবিটা কর্মসূচির কাজ করে বিল উত্তোলনের অভিযোগ স্থানীয় ইউপি সদস্য মঙ্গল চন্দ্রের বিরুদ্ধে উঠেছে। এলাকাবাসী উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন, যাতে তদন্ত পূর্বব মেম্বারের শাস্তি এবং ইট উঠিয়ে নেয়া রাস্তা দ্রুত সংস্কারের দাবি জানানো হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, উত্তর গাইয়াখালী ব্রিজ হতে হাসাঁখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের ১ কিলোমিটার মত রাস্তাটি এলাকার মানুষের যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম। এই রাস্তা ইটদিয়ে (হেরিংবন্ড) তৈরি ছিল। কয়েক মাস আগে সদর ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের মেম্বার মঙ্গল চন্দ্র সরকার আনুমানিক ৫০ হাজার ইট উত্তোলন করে নিয়ে যান।

গ্রামবাসীরা ইট তোলায় বাধা দিলে ইউপি সদস্যের লোকজন তাদেরকে প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমানে বর্ষা মৌসুমে রাস্তার ইট তুলে ফেলার কারণে চরম জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া রাস্তা থেকে নেয়া ইটের মধ্যে কিছু ইট পাশে কাবিটা কর্মসূচির রাস্তার কাজে লাগিয়ে বিল উত্তোলন করেছেন মেম্বার মঙ্গল চন্দ্র সরকার। ফলে রাস্তার ইট তুলে নেয়ায় এলাকার মানুষ বর্ষা মৌসুমে চরম বিপদে পড়েছেন, এবং বর্তমানে যানবাহন নিয়ে চলাচলেও ভোগান্তিতে রয়েছেন।

আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ১৮৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১১৫টি ঝুঁকিপূর্ণ

ভুক্তভোগি বাবুরাম মন্ডল জানান, উঃ গাইয়াখালী ব্রীজ হতে হাঁসখালী প্রাইমারী স্কুলের সামনে দিয়ে চলে যাওয়া প্রায় ১ কিঃমিঃ রাস্তার অধিকাংশ ইট মেম্বার তারক চন্দ্র সরকার আইনকে তুয়াক্কা না করে উঠিয়ে নিতে ছিলেন। গ্রামবাসী বাধা দিলে শোনেননি। তিনি জানান, উঠানো ইটদিয়ে অন্যত্র কাজ করবেন, পরে এই রাস্তা ঠিক করে দেয়া হবে। কিন্তু মেম্বার উঠিয়ে নেয়া ইট আত্মসাৎ করেছেন, ফলে বর্ষা মৌসুমে রাস্তার মাটি ধুয়ে নষ্ট ও নীচু হয়ে গেছে। এলাকাবাসী জানতে চায়, কার অনুমতি নিয়ে সরকারি রাস্তার ইট উঠিয়ে নেয়া হলো, ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তায় মাটির কাজ ও ইটের কাজ কে করবে। সাথে সাথে অভিযোগ তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ ও রাস্তা পুনঃ নির্মাণ করে জনভোগান্তি দূর করতে জোর দাবী জানান তিনি।

স্থানীয় ভক্ত কুমার বৈরাগী জানান, রাস্তাটি হেরিংবন্ড ছিল। ইট তুলে মেম্বার আত্মসাৎ করায় জনভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে। অপরদিকে হাঁসখালী স্কুল থেকে তারিকের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সরকারি বরাদ্দ ছিল, কাবিটা প্রকল্পের। কিন্তু মেম্বার বরাদ্দের নতুন ইট ব্যবহার না করে অন্য রাস্তা থেকে অবৈধভাবে ইট তুলে কিছু ইট এখানে পাতিয়ে দিয়ে এবং স্কুলের মাঠে উঠানো বালি ব্যবহার করে ২ লক্ষ ২০ হাজার টাকার বিল তুলে নিয়েছেন। তারা এর সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানাচ্ছেন।

স্থানীয় আরো অনেকে মেম্বারের পোষা ব্যক্তিদের ভয়ে ভীত হয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে মেম্বারের ইট তুলে আত্মসাৎ, কাবিটা কর্মসূচির কাজে সরকারি রাস্তার ইট নিয়ে অবৈধ ব্যবহারসহ নানান অপকর্মের অভিযোগ তুলে ধরেন। তারা উপজেলা প্রশাসনের কাছে বিষয়টি তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবী জানান।

এ ব্যাপারে ইউপি সদস্য মঙ্গল চন্দ্র সরকারের সাথে কথা বলা হলে তিনি ইট আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করেন।

আরও পড়ুন: নরসিংদী বেলাবোতে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া ও আলোচনা সভা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শ্রীমঙ্গলের দুই ক্ষুদে গবেষক চ্যাম্পিয়ন, শিক্ষাঙ্গনে আনন্দের ঢেউ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:১২ পি.এম


শ্রীমঙ্গলের দুই ক্ষুদে গবেষক চ্যাম্পিয়ন, শিক্ষাঙ্গনে আনন্দের ঢেউ

শ্রীমঙ্গলের দুই ক্ষুদে গবেষক ফাহমিদা আমিন আদিবা ও অন্বেষা ধর ‘চিন্তার চাষ ক্ষুদে গবেষক সম্মেলন-২০২৬’-এর ‘ক’ গ্রুপে সারাদেশে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। শনিবার (৩ অক্টোবর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে অনুষ্ঠিত হয় ‘চিন্তার চাষ ক্ষুদে গবেষক সম্মেলন-২০২৬’-এর চূড়ান্ত পর্ব ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। সেন্ট মার্থাস উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাহমিদা আমিন আদিবা এবং তার সহপাঠী অন্বেষা ধর যৌথভাবে একটি দল হিসেবে এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। চূড়ান্ত পর্বে তাদের গবেষণার উপস্থাপনা এবং বিচারকদের মূল্যায়নের ভিত্তিতে তারা ‘ক’ গ্রুপে দেশসেরা হওয়ার গৌরব অর্জন করে।

ফাহমিদা ও অন্বেষা জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে তারা ক্ষুদে গবেষক হিসেবে তাদের গবেষণা কার্যক্রম শুরু করে। প্রায় নয় মাস ধরে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার পর শনিবার তাদের চূড়ান্ত উপস্থাপনা অনুষ্ঠিত হয়। উপস্থাপনা ও বিচারকদের দেওয়া নম্বরের ভিত্তিতে তাদের চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হয়। পরে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

‘চিন্তার চাষ ক্ষুদে গবেষক’ প্রতিযোগিতায় সারা দেশ থেকে সপ্তম থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা প্রাথমিক পর্যায়ে অংশগ্রহণ করে। এবারের প্রতিযোগিতায় ফাহমিদা ও অন্বেষা প্রথমবারের মতো একসঙ্গে দল গঠন করে অংশ নেয়। তাদের এই সাফল্য শ্রীমঙ্গলের শিক্ষা অঙ্গনে আনন্দের সৃষ্টি করেছে। ফাহমিদা আমিন আদিবা ও অন্বেষার পরিবার তাদের এই অর্জনে মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করে এবং ভবিষ্যতে নতুন বিষয়ে গবেষণা করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে। একই সঙ্গে দুই ক্ষুদে গবেষকের জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করেছে পরিবার।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এলপিজি সিলিন্ডারের সংকট, সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ২,২০০-২,৫০০ টাকায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:১২ পি.এম


এলপিজি সিলিন্ডারের সংকট, সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ২,২০০-২,৫০০ টাকায়

সিলিন্ডারের সংকট বর্তমানে একটি তীব্র সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহের অভাবের কারণে সাধারণ গ্রাহকরা বিপাকে পড়েছেন। কোথাও সিলিন্ডার পাওয়া গেলেও বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) কর্তৃক নির্ধারিত দামের চেয়ে ৬০০ থেকে ৯০০ টাকা বেশি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের খুচরা পর্যায়ের নির্ধারিত মূল্য ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। কিন্তু মাধবপুরের বিভিন্ন বাজারে একই সিলিন্ডার ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকায় এবং কোথাও কোথাও আড়াই হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন গ্রাহকরা।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজার পরিদর্শন করে দেখা গেছে, অধিকাংশ দোকানে পর্যাপ্ত এলপিজি সিলিন্ডার নেই। কিছু দোকানে সীমিতসংখ্যক সিলিন্ডার থাকলেও তাদের দাবি করা হচ্ছে বাড়তি দাম। ফলে প্রয়োজনের সময় গ্যাস না পেয়ে অনেক গ্রাহককে এক বাজার থেকে অন্য বাজারে ছুটতে হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে রান্নার কাজে এলপিজি গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। গ্যাসের সংকট ও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। কেউ কেউ বিকল্প জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন। মাধবপুরের বাসিন্দা রিনা বেগম বলেন, ‘কয়েক বছর ধরে গ্যাস সিলিন্ডার দিয়েই রান্না করি। তিন দিন ধরে গ্যাস শেষ হয়ে গেছে। বাজারে খুঁজেও পাচ্ছি না। কোথাও পাওয়া গেলেও দাম অনেক বেশি। সংসার চালাতেই কষ্ট হচ্ছে, এত বেশি দামে গ্যাস কেনা সম্ভব নয়।’ অন্যদিকে, কামাল মিয়া নামে এক গ্রাহক বলেন, ‘আগে বাজারে গেলেই গ্যাস পাওয়া যেত। এখন দোকানে গেলে বলে গ্যাস নেই। অনেক খোঁজাখুঁজির পর পাওয়া গেলেও দাম চায় দ্বিগুণের কাছাকাছি।’

খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, তারা ইচ্ছাকৃতভাবে বেশি দামে গ্যাস বিক্রি করছেন না। বরং ডিলারদের কাছ থেকে বেশি দামে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে। তাই নির্ধারিত দামে বিক্রি করলে তাদের লোকসান হচ্ছে। মাধবপুর বাজারের ব্যবসায়ী রমেশ কৈরী বলেন, ‘কোম্পানি থেকে নিয়মিত সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে বাজারে সংকট তৈরি হয়েছে। সরবরাহ কম থাকায় কিছু ব্যবসায়ী বেশি দামে গ্যাস বিক্রি করছেন।’ তবে ডিলারদের দাবি, তারাও কোম্পানির কাছ থেকে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ পাচ্ছেন না। সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বাজারে সংকট কাটছে না।

এদিকে গ্যাসের সংকটকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত দাম নেওয়ার অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন গ্রাহকরা। তাদের অভিযোগ, নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কয়েকশ টাকা বেশি দিয়ে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে। এতে একদিকে গ্যাসের সংকট, অন্যদিকে বাড়তি দামের কারণে দ্বিগুণ ভোগান্তিতে পড়েছেন তারা। স্থানীয়দের দাবি, সংকটের সুযোগ নিয়ে কেউ যাতে অতিরিক্ত দামে এলপিজি বিক্রি করতে না পারে, সেই জন্য বাজারে নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান প্রয়োজন।

এ বিষয়ে মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান বলেন, ‘এলপিজি গ্যাসের সংকটের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ অতিরিক্ত দামে গ্যাস বিক্রি করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ প্রায় ২০ দিন ধরে চলা এ সংকটের কারণে মাধবপুরে রান্নার অন্যতম প্রধান জ্বালানি এলপিজি গ্যাস নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন হাজারো গ্রাহক। সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে সংকট আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ভূমি অধিগ্রহণে ন্যায্যমূল্যের দাবিতে মাধবপুরে মানববন্ধন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:১৩ পি.এম


ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ভূমি অধিগ্রহণে ন্যায্যমূল্যের দাবিতে মাধবপুরে মানববন্ধন

ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের আওতায় ভূমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত ভূমিমালিকদের ন্যায্যমূল্য ও যথাযথ ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার দাবিতে হবিগঞ্জের মাধবপুরে একটি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার নোয়াপাড়া এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশগ্রহণ করেন উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত ভূমিমালিক, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন মাসুম বিল্লাহ, হাজী শফিকুল ইসলাম, শাওন মিয়া, হুমায়ুন আহমেদসহ আরও অনেক বক্তা।

বক্তারা উল্লেখ করেন, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত হলে দেশের যোগাযোগব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। তবে, উন্নয়নের নামে সাধারণ মানুষের ন্যায্য অধিকার থেকে যেন বঞ্চিত না হন, সেই বিষয়টি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘকাল ধরে ভোগদখলে থাকা জমি অধিগ্রহণের ফলে অনেক পরিবার বসতভিটা, কৃষিজমি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। অথচ, জমির প্রকৃত বাজারমূল্য অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ পাওয়ার বিষয়ে তাদের মধ্যে উদ্বেগ বিদ্যমান। এই প্রেক্ষাপটে অধিগ্রহণ করা জমির ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ এবং দ্রুত ক্ষতিপূরণ পরিশোধের দাবি জানানো হয়।

ক্ষতিগ্রস্ত ভূমিমালিকরা জানান, তারা বৃহৎ এই উন্নয়ন প্রকল্পের বিরোধিতা করছেন না। বরং, উন্নয়নের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষার দাবি করছেন। জমির যথাযথ মূল্য ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত না হলে অনেক পরিবার আর্থিক ও সামাজিকভাবে মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হবে। মানববন্ধন থেকে ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া পুনর্বিবেচনা, প্রকৃত বাজারমূল্যের ভিত্তিতে ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন এবং পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, সরকারের এই বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত ভূমিমালিকদের স্বার্থও সমান গুরুত্ব পাবে এবং কেউ যেন তাদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত না হন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

২৯ লাখ টাকার হিসাব না মেলায় আব্দুল কাদিরের পুনর্বহাল, তদন্তের দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:১৪ পি.এম


২৯ লাখ টাকার হিসাব না মেলায় আব্দুল কাদিরের পুনর্বহাল, তদন্তের দাবি

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার লিয়াকতগঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া প্রাক্তন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল কাদিরকে পুনর্বহাল করার সিদ্ধান্তে প্রশ্ন উঠেছে, যা শুধুমাত্র টাকা ফেরত দেওয়ার শর্তে করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের বর্তমান এডহক কমিটির সভাপতি ও উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও স্বার্থসংঘাতের অভিযোগও উঠেছে। বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বেগম হাছিনা মমতাজ।

জেলা প্রশাসকের কাছে জমা দেওয়া আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালে আব্দুল কাদিরের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের অর্থনৈতিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। পরে দোয়ারাবাজার উপজেলা প্রশাসন ও তৎকালীন ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির উদ্যোগে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুশান্ত সিংহ। সদস্য হিসেবে ছিলেন উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মোস্তাফিজুর রহমান এবং উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন এস এম এমদাদুল হক।

আবেদনে দাবি করা হয়, দুই দফা তদন্তে প্রতিষ্ঠানের প্রায় ২৯ লাখ টাকার ব্যয়ের হিসাব পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আব্দুল কাদিরকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় এবং স্থায়ী বরখাস্তের জন্য শিক্ষা বোর্ডে সুপারিশ করা হয়। তবে চলতি বছরের ৫ জুলাই বর্তমান সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। ওই কমিটির তদন্ত শেষে ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকার হিসাব পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদন দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিবেদনটি শিক্ষা বোর্ডে পাঠানোর পরিবর্তে গত ৩০ সেপ্টেম্বর এডহক কমিটির সভা আহ্বান করা হয়। ওই সভায় আব্দুল কাদিরকে শুধুমাত্র টাকা ফেরত দেওয়ার শর্তে পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ নিয়ে বর্তমান এডহক কমিটির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, তিনি আগের তদন্ত কমিটির সদস্য ছিলেন। একই আর্থিক অনিয়মের তদন্ত প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার পর পরবর্তীতে সভাপতি হিসেবে অভিযুক্ত ব্যক্তির পুনর্বহালের সিদ্ধান্তে সভাপতিত্ব করায় তাঁর নিরপেক্ষতা ও সম্ভাব্য স্বার্থসংঘাত নিয়ে আবেদনকারী প্রশ্ন তুলেছেন। আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, তদন্তে আর্থিক অনিয়মের বিষয় উঠে আসার পরও কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিয়ে শুধুমাত্র অর্থ ফেরতের শর্তে পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের আইনগত ও বিধিগত ভিত্তি তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বেগম হাছিনা মমতাজ অভিযোগ করেছেন, অনিয়মের প্রতিবাদ করায় তাঁকে বিভিন্ন সময়ে হুমকি দেওয়া হয়েছে। এমনকি ৩০ সেপ্টেম্বরের এডহক কমিটির সভায় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাঁর কাছ থেকে জোর করে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে আবেদনকারী জেলা প্রশাসকের কাছে আব্দুল কাদিরের পুনর্বহালের রেজুলেশন বাতিল, আর্থিক অনিয়মের তদন্ত, পূর্বের ও বর্তমান তদন্ত প্রতিবেদন যাচাই এবং প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবসহ সংশ্লিষ্ট আর্থিক নথি পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে বর্তমান এডহক কমিটির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার বা স্বার্থসংঘাতের অভিযোগ তদন্তের দাবি করা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রযোজ্য আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল কাদির ও মোস্তাফিজুর রহমানের বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার ফোন করা হলেও তারা রিসিভ করেননি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%