০৫:২৭ পি.এম
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম দ্রুত শুরু করা, নবম পে স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা প্রদান এবং আগামী ঈদুল ফিতর থেকে শতভাগ উৎসব ভাতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের নেতারা। তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, আগামী ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে এসব দাবি বাস্তবায়ন না হলে কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে বুধবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জোটের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী তিনটি দাবি তুলে ধরেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, দেশের ছয় লক্ষাধিক এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের বৈষম্য ও সমস্যার সম্মুখীন হয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সরকারের কাছে তিনটি দাবি তুলে ধরা হয়েছে।
আরও পড়ুন: শিক্ষার্থীদের মানবিক ও নৈতিক শিক্ষায় গড়ে তুলতে হবে: প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন
জোটের প্রথম দাবি হলো, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য অবিলম্বে বদলি ব্যবস্থা চালু করতে হবে। নেতাদের মতে, নিজ জেলা বা এলাকার বাইরে চাকরি করার কারণে অনেক শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন রয়েছেন। অনেকেই স্ত্রী-সন্তান ও অসুস্থ মা-বাবাকে রেখে দূরবর্তী এলাকায় চাকরি করতে বাধ্য হচ্ছেন।
অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী বলেন, "আমিও নিজ পরিবারের কাছ থেকে প্রায় ১১০ কিলোমিটার এবং নিজ বাড়ি থেকে ১৬৯ কিলোমিটার দূরে চাকরি করছি।" তিনি উল্লেখ করেন যে, পারিবারিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাঁর মতে, বদলি কোনো বিলাসিতা নয়; বরং এটি শিক্ষকদের মানবিক ও পারিবারিক অধিকার। তাই আর বিলম্ব না করে বদলির আদেশ জারি করতে হবে।
দ্বিতীয় দাবি হলো, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নবম পে স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা প্রদান করতে হবে। জোটের নেতারা জানান, একই ধরনের শিক্ষাগত যোগ্যতা, দায়িত্ব ও পেশাগত মর্যাদা থাকা সত্ত্বেও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা বেতন ও সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় তাদের জন্য নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন জরুরি।
এ বিষয়ে অধ্যক্ষ আজিজী জানান, গত ৩১ অক্টোবর দেশের শতাধিক জেলা ও উপজেলায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১ নভেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের নবম পে স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা প্রদানের জন্য অর্থ বরাদ্দ চেয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। সরকারের এই উদ্যোগকে তারা স্বাগত জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন: বাউস্টের ইইই ফেস্টে গবেষণাবিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত
তবে তিনি অভিযোগ করেন যে, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য একইভাবে অর্থ বরাদ্দ চেয়ে এখনো কোনো চিঠি পাঠানো হয়নি। জোটের সদস্য সচিব দ্রুত এসব শিক্ষকের জন্যও অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাব পাঠানোর দাবি জানান। তাঁর মতে, শুধু উদ্যোগ নিলেই হবে না, দ্রুত কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণের পাশাপাশি তা বাস্তবায়নও নিশ্চিত করতে হবে।
জোটের তৃতীয় দাবি হলো, আগামী ঈদুল ফিতর থেকে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের শতভাগ উৎসব ভাতা দিতে হবে। বর্তমানে তারা মূল বেতনের ৫০ শতাংশ উৎসব ভাতা পান। নেতারা এটিকে বৈষম্যমূলক উল্লেখ করে বলেন, ঈদের মতো গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও পারিবারিক উৎসবেও শিক্ষক-কর্মচারীরা পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাই তারা আগামী ঈদ থেকেই শতভাগ উৎসব ভাতা চালুর সুস্পষ্ট ঘোষণা চান।
সংবাদ সম্মেলনে জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পূর্বঘোষণা অনুযায়ী ৪ নভেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের জন্য অর্থ বরাদ্দ চেয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চিঠি পাঠানো এবং রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় চলমান শ্রমিক আন্দোলনসহ সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় কর্মসূচির ধরন পরিবর্তন করা হয়েছে।
নেতারা জানান, শিক্ষক-কর্মচারীদের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে প্রেসক্লাবের সামনের কর্মসূচির পরিবর্তে জহুর হোসেন চৌধুরী হলে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। তবে এতে আন্দোলন স্থগিত করা হয়নি। তিন দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
আরও পড়ুন: ফ্যাসিস্ট সরকারের ‘বনসাই বিশ্ববিদ্যালয়’কে ‘বটবৃক্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ে’ রূপান্তর করাই আমার মূল লক্ষ্য: উপাচার্য তাহ্মিনা আখতার
অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী বলেন, তারা সরকারবিরোধী কোনো আন্দোলন করছেন না। শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদা এবং ছয় লক্ষাধিক শিক্ষক-কর্মচারীর ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠাই তাদের লক্ষ্য। তারা কোনো সংঘাত বা বিশৃঙ্খলা চান না; বরং আলোচনার মাধ্যমে সম্মানজনক সমাধান প্রত্যাশা করেন।
সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে জোটের নেতারা সরকারের প্রতি দ্রুত তিন দফা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। তারা বলেন, "শুধু আশ্বাস কিংবা অনির্দিষ্ট সময়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের আর সন্তুষ্ট রাখা যাবে না।" আগামী ৩০ ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে দাবি পূরণে সুনির্দিষ্ট ঘোষণা ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে জোটের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
এআরবি
আরও পড়ুন: কক্সবাজারের আগুনে নিহত নাবিলার স্মরণে জবিতে শোক ও দোয়া মাহফিল
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন