১১:৩৮ এম
ফিফার প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) কেভিন ল্যামোরের বিদায় নিয়ে মানবাধিকার ও শ্রমিক অধিকার সংগঠনগুলো সংস্থাটির বিরুদ্ধে ভিন্নমত দমন এবং দুর্বল শাসনব্যবস্থার অভিযোগ তুলেছে।
সোমবার ফিফা জানিয়ে দেয় যে, ল্যামোর সংস্থা থেকে সরে গেছেন। এর কয়েক সপ্তাহ পূর্বে, বিশ্বকাপ সহ ফিফার বিভিন্ন টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক স্বত্বের অংশ বিক্রির জন্য ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর পরিকল্পনার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছেন তিনি।
ল্যামোর ২০২৪ সালের নভেম্বরে ফিফার শীর্ষ নেতৃত্বে যোগদান করেন। এর আগে, ২০১৬ সালে ইনফান্তিনোকে ফিফা সভাপতি নির্বাচিত করতে প্রচারণার অংশ ছিলেন তিনি।
আরও পড়ুন: মুস্তাফিজ বিগ ব্যাশে মেলবোর্ন রেনেগেডসে খেলার প্রস্তাব পেয়েছেন
মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচের বৈশ্বিক উদ্যোগবিষয়ক পরিচালক মিনকি ওয়ার্ডেন বলেন, ফিফার মতো প্রতিষ্ঠানে কেভিন ল্যামোরের মতো আরও বেশি ‘হুইসেলব্লোয়ার’ প্রয়োজন। তিনি অভিযোগ করেন যে, ফিফার নিজস্ব মানবাধিকার নীতিমালা লঙ্ঘনের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ২০৩৪ সালের বিশ্বকাপ সৌদি আরবকে দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি এটিকে যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়া নেওয়া সিদ্ধান্ত বলে দাবি করেন।
ওয়ার্ডেনের মতে, ল্যামোর ও তার দল মানবাধিকারকর্মী এবং নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ, ফিফার কার্যক্রমে ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং সংস্থা ও তাদের সরকারি অংশীদারদের কারণে সৃষ্ট মানবাধিকার লঙ্ঘন মোকাবিলায় আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছিলেন।
স্পোর্ট অ্যান্ড রাইটস অ্যালায়েন্সের নির্বাহী পরিচালক আন্দ্রেয়া ফ্লোরেন্সও ল্যামোরের বিদায়কে ফিফার সাংগঠনিক কাঠামোর মধ্যে বড় ধরনের সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার আরেকটি আলামত হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, আফগান নারী জাতীয় দলকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার মতো বিভিন্ন মানবাধিকার ইস্যুতে ল্যামোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। একইসাথে অন্যায়ভাবে কারাবন্দি ফুটবল সাংবাদিক ক্রিস্তফ গ্লেইজেসের মুক্তির দাবিতেও তিনি প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছিলেন।
ফ্লোরেন্সের অভিযোগ হল যে, ল্যামোরের বিদায় ফিফার ভেতরে ভিন্নমত প্রকাশের বিষয়ে ‘ভীতিকর বার্তা’ দিচ্ছে। তার দাবিতে, এতে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের নীরব থাকার চাপ তৈরি হতে পারে এবং ভিন্নমত সহ্য করা হবে না এমন ধারণা তৈরি হচ্ছে।
আরও পড়ুন: আশিয়া কাপ আর্চারির ফাইনালে বাংলাদেশ, কাজাখস্তানের বিরুদ্ধে লড়াই করবে
শ্রমিক অধিকার সংগঠন বিল্ডিং অ্যান্ড উড ওয়ার্কার্স ইন্টারন্যাশনালের (বিডব্লিউআই) মহাসচিব অ্যামবেট ইউসনও ল্যামোরের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। তার বক্তব্য, টুর্নামেন্টগুলোতে শ্রমিকদের অধিকার এগিয়ে নেওয়ার জন্য বিডব্লিউআই ও ফিফার মধ্যে প্রথমবারের মতো চুক্তি স্বাক্ষরে ল্যামোর উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছিলেন।
ইউসনের মতে, ল্যামোরের বিদায় ফিফার চলমান শাসনসংকট নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ উত্পন্ন করেছে। এর ফলস্বরূপ বিশ্ব ফুটবলের কেন্দ্রীয় সংস্থিটি মানবাধিকার সুরক্ষা আরও দুর্বল হয়ে পড়ার বিপরীতে।
এদিকে, ল্যামোরের বিদায় সংক্রান্ত এ সকল অভিযোগের বিষয়ে ফিফার বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন: পিরোজপুরে লাশ দাফনে বাধা, নাহিদ ইসলামের নিন্দা ও ইনসাফের আহ্বান
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন