প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
লাইবেরিয়া সর্বোচ্চ ১ হাজার ২০০ বিদেশি নাগরিককে যুক্তরাষ্ট্র থেকে গ্রহণ করতে যাচ্ছে। মঙ্গলবার দেশটির সরকার এ বিষয়টি জানিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী কঠোর অভিযানের মধ্যে লাইবেরিয়া এ সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে।
ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের কার্যক্রম ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করেছে। এর আওতায় এমন দেশগুলিতে মানুষ পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যেটা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিজ দেশ নয়।
বার্তা সংস্থা এএফপি থেকে জানা গেছে। লাইবেরিয়ার সরকার একটি বিবৃতিতে জানিয়েছেন, এক বছরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সর্বোচ্চ ১ হাজার ২০০ জনকে লাইবেরিয়ায় পাঠানো সম্ভব হতে পারে।
স্থানীয় সরকার জানিয়েছে, বহিষ্কৃতদের প্রথম দফায় ২০ জন বৃহস্পতিবার পশ্চিম আফ্রিকার দেশটিতে পৌঁছাবেন। তবে তারা নিজেদের ইচ্ছা অনুযায়ী যেকোনো সময় লাইবেরিয়া ছেড়ে যেতে পারবেন অথবা চাইলে দেশের মধ্যে আশ্রয়ের জন্য আবেদন করতে পারবেন।
নিউইয়র্ক টাইমস-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ট্রাম্প প্রশাসন কিলমার আব্রেগো গার্সিয়াকে লাইবেরিয়ায় পাঠাতে ইচ্ছুক। সালভাদরের এই অভিবাসী যুক্তরাষ্ট্র থেকে ব্যাপক হারে অভিবাসী বহিষ্কারের বিতর্কে তিনি অন্যতম একটি প্রতীকে পরিণত হয়েছেন। তাকে আগে ভুলবশত যুক্তরাষ্ট্র থেকে এল সালভাদরে বহিষ্কার করা হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসনবিরোধী অভিযানে আফ্রিকার ঘানা ও ইকুয়েটোরিয়াল গিনি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট বা অস্থায়ী গন্তব্য হয়ে উঠেছে। কিন্তু এসব দেশ থেকে তাড়াতাড়ি তাদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের সাবেক দুই কর্মকর্তা এএফপিকে জানিয়েছেন, তৃতীয় কোনো দেশের নাগরিকদের গ্রহণে আফ্রিকার দেশগুলোকে রাজি করাতে যুক্তরাষ্ট্র ভিসা নিষেধাজ্ঞা ও ভিসা সংক্রান্ত নানা বিধিনিষেধকে চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।
এদিকে, লাইবেরিয়ার সরকার বলেছেন যে, এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার বিনিময়ে তারা কোনো অর্থ, ক্ষতিপূরণ বা বিশেষ সুবিধার প্রতিশ্রুতি দাবি করেনি এবং পায়ওনি।
লাইবেরিয়া এই কর্মসূচি পরিচালনার পাশাপাশি আরও ব্যাপকভাবে তার অভিবাসন ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে সহায়তা পাবে বলে জানানো হয়েছে। তবে সরকার জোর দিয়ে বলেছে যে, পুরো ব্যবস্থাটি ‘মানবিক কারণে’ পরিচালিত হচ্ছে।
লাইবেরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ইতিহাসের একটি বিশেষ সম্পর্ক বিদ্যমান। ১৯ শতকের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সাবেক দাস এবং স্বাধীন আফ্রিকান-আমেরিকানদের আফ্রিকায় ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে কাজ করা একটি সংগঠনের উদ্যোগে লাইবেরিয়া প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন