প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয় হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলের (এইচএমএস) মর্গের সাবেক ম্যানেজারের বিরুদ্ধে মানবদেহের কেটে নেওয়া মাথা, মস্তিষ্ক, চামড়া, হাত ও মুখমণ্ডল চুরির অভিযোগ এবং তারপর ব্ল্যাক মার্কেটে বা অবৈধ বাজারে এর বিক্রির একটি রোমহর্ষক ও ন্যক্কারজনক অভিযোগের সিভিল মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। এই বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর সঙ্গে দীর্ঘ আইনি লড়াই এড়াতে পাল্টা ৫ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলারের (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬৪০ কোটি টাকা) সেটেলমেন্ট চুক্তিতে সম্মত হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
অভিযুক্ত সাবেক মর্গ ম্যানেজার, ৫৮ বছর বয়সী সেড্রিক লজ, এই ভয়াবহ অপরাধ স্বীকার করে নেওয়ার পর আদালত তাকে গত বছরের ডিসেম্বর মাসে আট বছরের জন্য কারাদণ্ড দেন।
সোমবার এক যৌথ বিবৃতিতে হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলের ডিন জর্জ ডালি এবং চিকিৎসা শিক্ষা বিভাগের ডিন বার্নার্ড চ্যাংক জানিয়েছেন, ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দায়ের করা ক্লাস অ্যাকশন মামলার দীর্ঘ আইনি জটিলতা এবং ট্রায়াল এড়াতেই বিশ্ববিদ্যালয় এই সমঝোতায় এসেছে। তারা উল্লেখ করেন, ‘সেড্রিক লজের শাস্তির মধ্য দিয়ে তার বিরুদ্ধে চলমান ফৌজদারি মামলার ইতি ঘটেছে। আর এই সমঝোতা চুক্তি বাস্তবায়িত হলে দেওয়ানি মামলাগুলোরও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হবে। তবে এই বেদনাদায়ক ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা থেকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার প্রক্রিয়া এখনো অব্যাহত রয়েছে।’
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের চিঠিতে বলা হয়েছে, আদালত থেকে সবুজ সংকেত পাওয়ার পরেই চুরির শিকার পরিবারগুলোর জন্য একটি ক্ষতিপূরণ তহবিল গঠন করা হবে। আদালতের অনুমোদনের পর একজন নিরপেক্ষ প্রশাসকের মাধ্যমে সম্ভাব্য ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো চিহ্নিত করে ক্ষতিপূরণের অর্থ বণ্টন করা হবে। এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।
২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে যখন সেড্রিক লজ অভিযুক্ত হন, তখনই হার্ভার্ডের বিরুদ্ধে চরম অবহেলা, বিশ্বাসভঙ্গ এবং মানসিক যন্ত্রণা দেওয়ার অভিযোগ এনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো একের পর এক মামলা দায়ের করা শুরু করে।
আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০১৮ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে মরগে নিজ পদের অপব্যবহার করে চরম অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছেন লজ। চিকিৎসা বিজ্ঞানের শিক্ষার উদ্দেশ্যে অনুদান হিসেবে প্রাপ্ত মানবদেহের যেসব অঙ্গপ্রত্যঙ্গ গবেষণার কাজে ব্যবহারের জন্য ছিল, সেগুলো গোপনে চুরি করে থাকতেন তিনি। ‘হার্ভার্ড অ্যানাটমিক্যাল গিফট প্রোগ্রাম’-এর আওতায় মহানুভবতার পরিচয় দিয়ে অনুদান দেওয়া মানবদেহগুলো থেকে অঙ্গ কেটে নিয়ে তিনি নিজেদের পরিবার কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অজান্তেই নিয়ে যেতেন।
পরবর্তীতে বোস্টনের মর্গ থেকে ওই কাটা অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলো চুরি করে নিউ হ্যাম্পশায়ারের গফস্টাউনে তার নিজের বাড়িতে নিয়ে যেতেন লজ। সেখানেই তিনি এবং তার স্ত্রী ডেনিস লজ মিলিতভাবে বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ অবৈধ ক্রেতাদের কাছে চড়া দামে বিক্রি করতেন। কখনো সরাসরি কুরিয়ার বা ডাকযোগে পাঠিয়ে কিংবা কখনো সরাসরি ক্রেতাদের বাড়িতে ডেকে এনে তাদের বেচাকেনা চলত। ম্যাসাচুসেটস, নিউ হ্যাম্পশায়ার এবং পেনসিলভানিয়াজুড়ে বিস্তৃত ছিল তাদের এই ভয়াবহ মানব অঙ্গপাচার নেটওয়ার্ক।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন