ঢাকা বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

বাংলাদেশ-সৌদি ‘ভাসমান হাসপাতাল’ থেকে ৬ লাখেরও বেশি রোগী সেবা পেলেন


বাংলাদেশ-সৌদি ‘ভাসমান হাসপাতাল’ থেকে ৬ লাখেরও বেশি রোগী সেবা পেলেন

চারপাশে থমথমে সুন্দরবনের সবুজ বেষ্টনী, আর মাঝখানে প্রমত্তা শিবসা নদীর বুক চিরে ভেসে বেড়াচ্ছে এক খণ্ড আস্থার ঠিকানা—‘ভাসমান হাসপাতাল’। খুলনার পাইকগাছায় শুরু হয়েছে একটি সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী কার্যক্রম, যা চিকিৎসা বঞ্চিত উপকূলের অবহেলিত মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে কাজ করছে। নদীবেষ্টিত দুর্গম জনপদের মানুষের কাছে এই দৃশ্য যেন অনেকটা স্বপ্নের মতো। কারণ, পাইকগাছা উপকূলে এমন উদ্যোগ এই প্রথম।

বাংলাদেশ সরকারের এই জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ সৌদি আরবের সহযোগিতায় বাস্তবায়িত হচ্ছে, যার ফলে অবহেলিত গড়ইখালী ও আশপাশের অঞ্চলের দুস্থ মানুষের দীর্ঘদিনের স্বাস্থ্য বঞ্চনার অবসান হতে চলেছে।

তবে, পাঁচটি জাহাজে পরিচালিত এই ফ্রেন্ডশিপ ‘ভাসমান হাসপাতাল’ দেশের বিভিন্ন উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষকে চিকিৎসা সেবা প্রদান করছে। এতে উপকৃত হচ্ছে চিকিৎসা বঞ্চিত উপকূলের অসহায় মানুষ। এই পর্যন্ত পাঁচটি ভাসমান হাসপাতালের মাধ্যমে সেবা পেয়েছেন ৬ লাখ ৩৮ হাজার ৫১২ জন রোগী। তবে এসব রোগীকে মোট ৯ লাখ ৬১ হাজার ৪০২ বার বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ লাখ ছানি অস্ত্রোপচার ও এক কোটি চশমা বিতরণের লক্ষ্য সরকারী

ফ্রেন্ডশিপের সিনিয়র ম্যানেজার (জনসংযোগ) জিলফুল মুরাদ শানু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে, সর্বশেষ গত ২৮ অক্টোবর থেকে খুলনার পাইকগাছা উপকূলে নোঙর করেছে একটি ভাসমান হাসপাতাল। যা সোমবার (২ নভেম্বর) আনুষ্ঠানিকভাবে চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম শুরু করেছে। শিবসা নদীর তীরে ফিতা কেটে এই ভাসমান হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সৌদি আরবের অর্থায়নে বাংলাদেশে পরিচালিত ভাসমান হাসপাতাল প্রকল্পটির নাম ‘কিং আবদুল্লাহ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল’। প্রয়াত সৌদি বাদশাহ আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজিজের স্মরণে এবং তার চ্যারিটি প্রোগ্রাম (কেএএপি)-এর অধীনে ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংক (আইএসডিবি) এই প্রকল্পের অর্থায়ন করছে। বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং উন্নয়ন সংস্থা ‘ফ্রেন্ডশিপ’-এর যৌথ উদ্যোগে এই বিশেষায়িত ৫টি ভাসমান হাসপাতাল জাহাজ ২০২৩ সাল থেকে পর্যায়ক্রমে দুর্গম ও উপকূলীয় অঞ্চলের নদী পথগুলোতে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছে।

মোট ৫টি ডেডিকেটেড হাসপাতাল জাহাজ তৈরি করা হয়েছে। এগুলোর নাম রাখা হয়েছে কিং আবদুল্লাহ ফ্রেন্ডশিপ হসপিটাল ১ থেকে ৫।

আরও পড়ুন: রাজশাহীতে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান করেছে মেডিকেল রিসার্চ বাংলাদেশ

এই বহরের সবচেয়ে বড় জাহাজটি ৩১ মিটার দীর্ঘ, যাতে রয়েছে সাধারণ সার্জারি এবং চোখের অপারেশনের জন্য দুটি আলাদা আধুনিক অপারেশন থিয়েটার। বাকি ৪টি জাহাজ ২৫ মিটার দীর্ঘ, যা মূলত প্রাথমিক চিকিৎসা ও ছোটখাটো অস্ত্রোপচারের কাজে ব্যবহৃত হয়।

চোখের ছানি অপারেশন ও সাধারণ ওয়ান-ডে সার্জারি। এ ছাড়া অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবার মধ্যে প্রসূতি ও মাতৃস্বাস্থ্য সেবা, দাঁতের চিকিৎসা (ডেন্টাল কেয়ার), ল্যাবরেটরি ও ডায়াগনস্টিক পরীক্ষা এবং বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

প্রতিটি জাহাজে প্রায় ৩০ জন ক্রু ও স্বাস্থ্যকর্মী সার্বক্ষণিক থাকেন, যার মধ্যে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ও নার্সরা জাহাজের কেবিনেই অবস্থান করেন।

মেঘনা, পদ্মা ও যমুনা নদীর তীরবর্তী দুর্গম চরাঞ্চল এবং দক্ষিণাঞ্চল ও উত্তরবঙ্গের উপকূলীয় জেলাগুলোতে (যেমন: চাঁদপুর, ভোলা, লক্ষ্মীপুর, সুনামগঞ্জ, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও খুলনা) জাহাজগুলো বিভিন্ন চরে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নোঙর করে ক্যাম্প স্থাপন করে এবং প্রতিদিন গড়ে ১৫০ থেকে ১ হাজার প্রান্তিক রোগীকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সেবা দেয়।

আরও পড়ুন: ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ লাখ ছানি অপারেশন ও ১ কোটি চশমা বিতরণের ঘোষণা স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর

খুলনার পাইকগাছা উপজেলার গড়ইখালী ইউনিয়নটি সুন্দরবনের কোলঘেঁষা এবং নদীবেষ্টিত হওয়ায় এখানকার যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত অনুন্নত। সামান্য চিকিৎসার জন্যও এই অঞ্চলের মানুষকে পাড়ি দিতে হয় দীর্ঘপথ, যা গরিব ও দুস্থ মানুষের জন্য প্রায় অসম্ভব। আধুনিক চিকিৎসাসেবা থেকে আজীবন বঞ্চিত এই অঞ্চলের মানুষের কষ্ট দূর করতেই শিবসা নদীতে নোঙর করেছে এই বিশেষ হাসপাতালটি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হাসপাতালের প্রশাসক শাহ আলম, প্রকল্প ব্যবস্থাপক ফিরোজ আক্তার, মাওলানা আমিনুল ইসলাম, মাওলানা জিএম বুলবুল আহমেদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই ভাসমান হাসপাতালটি আগামী তিন মাস একটানা শিবসা নদীতে অবস্থান করবে। এর মাধ্যমে গড়াইখালী এবং এর আশপাশের উপকূলীয় এলাকার হাজার হাজার অসহায়, দুস্থ ও চিকিৎসাবঞ্চিত মানুষ ঘরে বসেই বিনামূল্যে মূল্যে জরুরি চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতে পারবেন।

স্থানীয় বাসিন্দা রহিমা বেগম বলেন, ‘আমাদের এলাকায় অনেক দরিদ্র মানুষ রয়েছেন, যাদের পক্ষে দূরে গিয়ে চিকিৎসা নেয়া কঠিন। নদীতে ভাসমান হাসপাতাল চালু হওয়ায় তারা কাছাকাছি থেকে চিকিৎসাসেবা নিতে পারবেন। এটি আমাদের এলাকার মানুষের জন্য খুবই উপকারী উদ্যোগ।’

আরও পড়ুন: শিশুদের বিকাশে সচেতনতা ও চিকিৎসার সমন্বয়ের গুরুত্ব তুলে ধরলেন ডা. শাহাদাত হোসেন

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা রাজ্জাক শেখ বলেছেন, ‘উপকূলীয় এলাকায় চিকিৎসকের কাছে যাওয়া অনেক সময় কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। বিশেষ করে দরিদ্র পরিবারের মানুষ চিকিৎসার খরচ জোগাতে হিমশিম খান। ভাসমান হাসপাতালটি তিন মাস সেবা দিলে এলাকার অনেক অসহায় মানুষ উপকৃত হবেন বলে আশা করছি।’

ভাসমান হাসপাতালটির উদ্বোধনকালে স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘উপকূলীয় এলাকার চিকিৎসাবঞ্চিত মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এই ভাসমান হাসপাতালটি একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থা ও নানা সীমাবদ্ধতার কারণে যেসব মানুষ কখনও ভালো ডাক্তারের মুখ দেখেননি, তারা এখন নদীর বুকেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ উপকূলের মানুষের জীবনযাত্রায় এক নতুন মাত্রা যোগ করবে।’

প্রকল্প ব্যাবস্থাপক ফিরোজ আকতার বলেন, চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে সৌদি সরকারের সহায়তায় বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে পাঁচটি ভাসমান হাসপাতাল উপকূলীয় অঞ্চলে চিকিৎসা সেবা প্রদান করছে। এর একটি বাগেরহাটের মোংলা এবং খুলনার দাকোপ উপকূলে কার্যক্রম শুরু করে। পরবর্তীতে গত ২৮ অক্টোবর থেকে একটি জাহাজ খুলনার পাইকগাছা উপকূলে নোঙ্গর করেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী তিন মাস একইস্থানে চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

ফ্রেন্ডশিপের সিনিয়র ম্যানেজার (জনসংযোগ) জিলফুল মুরাদ শানু জানান, মোট ৫টি জাহাজের মাধ্যমে এই পর্যন্ত ৬ লাখ ৩৮ হাজার ৫১২ জন রোগী চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেছেন। মোট ৯ লাখ ৬১ হাজার ৪০২ বার বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০২৩ সালের জুন মাস থেকে কার্যক্রম শুরু করে কেএএপি-এমএইচবি-১ জাহাজটির বর্তমান অবস্থান বরগুনার আমতলীতে। এর মাধ্যমে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৭১৬ জন রোগী মোট ২ লাখ ৩ হাজার ৭৯৯ বার সেবা পেয়েছেন।

আরও পড়ুন: ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে সব অবৈধ ক্লিনিক চালু হয়েছে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে যাত্রা শুরু করা কেএএপি-এমএইচবি-৩ জাহাজটির বর্তমান অবস্থান পাবনার বেড়ায়, যেখান থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার ১৭৬ জন রোগীকে মোট ১ লাখ ৮৫ হাজার ৭২০ বার সেবা দেওয়া হয়েছে।

একইভাবে ২০২৪ সালের এপ্রিল থেকে খুলনা উপকূলে সেবা প্রদানকারী কেএএপি-এমএইচবি-৪ জাহাজ থেকে ১ লাখ ১৭ হাজার ২১৩ জন রোগী মোট ১ লাখ ৯৩ হাজার ৭৯৪ বার সেবা পেয়েছেন এবং ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে কার্যক্রম শুরু করা সর্বশেষ কেএএপি-এমএইচবি-৫ জাহাজটি বর্তমানে বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জে অবস্থান করছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের নদীমাতৃক ও চিকিৎসাবঞ্চিত এলাকার সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে এই ভাসমান হাসপাতালগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবায় এই ‘ভাসমান হাসপাতাল’ কেবল একটি চিকিৎসা কেন্দ্রই নয়, বরং এটি উপকূলবাসীর মনে বেঁচে থাকার নতুন এক স্বপ্ন ও আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছে। সূত্র: বাসস

আরও পড়ুন: মাইগ্রেন: মাথাব্যথার সচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ক্যারিককে কতটুকু স্বস্তি দিবে ইউনাইটেডের জয়?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:৪৬ এম


ক্যারিককে কতটুকু স্বস্তি দিবে ইউনাইটেডের জয়?

ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ব্রুনো ফার্নান্দেস-এর প্রথম পেনাল্টি নেওয়ার সময় ব্রায়ান ক্রিস্তান্তে-র পা রোমার বক্সে ঢুকে যাওয়ার ঘটনাটি মাইকেল ক্যারিক-এর ভবিষ্যতের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে, তা এখনই বলা কঠিন।

সেই মুহূর্তে রোমা সমর্থকদের উল্লাস এবং ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়া পরিস্থিতি ক্লাবের জন্য বিপর্যয়কর এবং ক্যারিকের জন্য প্রায় চাকরিচ্যুতির পূর্বাভাস বলেই মনে হচ্ছিল।

তবে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) হস্তক্ষেপ করে পেনাল্টি পুনরায় নেওয়ার নির্দেশ দেন। আর সেখান থেকেই ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়।

ফার্নান্দেস দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় গোল করে ইউনাইটেডকে ম্যাচে ফেরান। পরে উন্মাতাল পরিবেশে ম্যাথিউস কুনিয়া শেষ সাত মিনিটে দুটি গোল করে অবিশ্বাস্য এক প্রত্যাবর্তন সম্পন্ন করেন। ম্যাচের প্রেক্ষাপট বিবেচনা করলে এটি ইউনাইটেডের অন্যতম নাটকীয় ইউরোপীয় কামব্যাক।

কুনিয়া পরে লাল কার্ড দেখলেও ইউনাইটেড শেষ পর্যন্ত তাদের ১০ ম্যাচের জয়হীনতা কাটিয়ে গুরুত্বপূর্ণ জয় তুলে নেয়, যা সাম্প্রতিক হতাশাজনক সময়ের পর কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছে।

বিরতির সময় কী বলেছিলেন ক্যারিক?

অনেকে জানতে চাইছিলেন, পেনাল্টি মিস হওয়ার পর ক্যারিক কী অনুভব করেছিলেন। আবার প্রথমার্ধের হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর ড্রেসিংরুমে খেলোয়াড়দের কী বার্তা দিয়েছিলেন তিনি।

২০২৩ সালে নিজের বরখাস্তের প্রসঙ্গ টেনে সাবেক কোচ ওলে গুনার সুলশার বলেছিলেন, ওয়াটফোর্ড ম্যাচের বিরতিতেই তিনি বুঝে গিয়েছিলেন যে সেটিই সম্ভবত খেলোয়াড়দের সঙ্গে তার শেষ সময়।

সেদিন ইউনাইটেড ২-০ গোলে পিছিয়ে ছিল এবং শেষ পর্যন্ত ৪-১ ব্যবধানে হেরেছিল। ক্যারিক তখন সুলশারের কোচিং স্টাফের অংশ ছিলেন।

তবে এবার গল্পটা ভিন্ন।

ক্যারিক বলেন, "বিরতিতে আমি খেলোয়াড়দের আরও ইতিবাচক হতে বলেছি। হতাশ বা বিরক্ত হওয়া সহজ, কিন্তু সেটা কাউকে সাহায্য করে না। আমাদের পরের সুযোগ, পরের সমাধান খুঁজে যেতে হবে।"

তিনি আরও বলেন, "আমি ইতিহাস নিয়ে বেশি কথা বলতে চাই না, তবে এই স্টেডিয়ামের একটা জাদু আছে। ওল্ড ট্র্যাফোর্ড অতীতেও অনেক অলৌকিক রাত দেখেছে, ভবিষ্যতেও দেখাবে। আমি ছেলেদের বলেছিলাম, একটা মুহূর্তই সবকিছু বদলে দিতে পারে। আর আমরা সেই মুহূর্তটা পেয়েছিলাম।"

রুনির প্রশংসা

প্রথমার্ধে ইউনাইটেডের খেলায় ক্ষুব্ধ ছিলেন ক্লাব কিংবদন্তি ওয়েইন রুনি। তিনি খেলোয়াড়দের আরও আবেগ ও লড়াই দেখানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন।

তবে ম্যাচ শেষে তিনি ক্যারিকের প্রশংসা করেন। রুনি বলেন, "মাইকেল ক্যারিক অনেক কৃতিত্বের দাবিদার। বিরতিতে তিনি খেলোয়াড়দের এমন কিছু বলেছেন, যা তাদের বিশ্বাস ফিরিয়ে দিয়েছে এবং ম্যাচ জেতার মানসিকতা তৈরি করেছে।"

ফার্নান্দেসের মানসিক দৃঢ়তা

পেনাল্টি প্রথমবার মিস হওয়ার পরও ক্যারিক শান্ত ছিলেন। "আমি হাসিনি, খুশিও হইনি। কিন্তু মনে হচ্ছিল, সামনে আরেকটা সুযোগ আসবে," বলেন তিনি।

ফার্নান্দেসের প্রশংসা করে ক্যারিক বলেন, "দ্বিতীয়বার পেনাল্টি নিতে এগিয়ে যাওয়া এবং এমন দৃঢ়তার সঙ্গে গোল করা সহজ নয়। এর জন্য ব্রুনো অনেক প্রশংসার দাবিদার।"

এক জয়ে কি সব সমস্যার সমাধান?

যদিও এই জয় উচ্ছ্বাসের জন্ম দিয়েছে, তবুও ইউনাইটেডের বড় সমস্যাগুলো রয়ে গেছে।

ম্যাচের আগে ক্লাবের মালিকানার বিরুদ্ধে 'সবুজ ও সোনালি' রঙের প্রতিবাদ হয়। গ্লেজার পরিবার, স্যার জিম র্যাটক্লিফ এবং ফুটবল পরিচালক জেসন উইলকক্স-এর বিরুদ্ধে স্লোগানও দেওয়া হয়।

একটি জয় সেই ক্ষোভ থামিয়ে দিতে পারবে না।

ইতিহাসও সতর্ক করছে। সুলশার-এর অধীনে ইউনাইটেড একবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগে আতালান্তা-র বিপক্ষে ৩-২ গোলে জিতেছিল। কিন্তু চার দিন পর লিভারপুল-এর কাছে ৫-০ গোলে হেরে যায়। এক মাসের মধ্যেই সুলশার চাকরি হারান।

আবার ২০১৮ সালে জোসে মরিনহো বরখাস্ত হওয়ার দ্বারপ্রান্তে ছিলেন। নিউক্যাসল-এর বিপক্ষে ২-০ পিছিয়ে থেকেও ম্যাচ জিতেছিলেন। কিন্তু এরপরও মাত্র ১৩ ম্যাচ টিকতে পেরেছিলেন।

তাহলে এই জয় ক্যারিককে কতটা সময় কিনে দিল, তা এখনই বলা যাচ্ছে না।

সামনে অ্যাস্টন ভিলা পরীক্ষা

ক্যারিক নিজেও বাস্তববাদী। তিনি বলেন, "আমার কাছে ভবিষ্যৎ দেখার কোনো জাদুকরী কাঁচ নেই। এখন আমাদের অ্যাস্টন ভিলার ম্যাচের দিকে মনোযোগ দিতে হবে।"

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের পরের ধাপে ওঠার সম্ভাবনা বেড়েছে, খেলোয়াড়রাও অনেকদিন পর জয়ের স্বাদ পেয়েছেন। কিন্তু ভিলার বিপক্ষে সেই ছন্দ ধরে রাখতে না পারলে এই জয়ের গুরুত্ব দ্রুতই ম্লান হয়ে যেতে পারে।

‘নিখুঁত রাত’ নাকি ‘ফাটল ঢাকার চেষ্টা’?

সাবেক ডেনমার্ক গোলরক্ষক ক্যাসপার স্মাইকেল বলেন, "আমি বিরতিতে বলেছিলাম, হারলেও যেন লড়াই করে হারো। প্রথমার্ধে সেটা ছিল না, কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে তারা সেটা দেখিয়েছে।"

তবে তিনি সতর্ক করে দেন, "দ্বিতীয়ার্ধের পারফরম্যান্স প্রথমার্ধের দুর্বলতাগুলোকে আড়াল করছে। এখন এটাকে মানদণ্ড হিসেবে ধরে এগোতে হবে। সবাইকে একই লক্ষ্যে কাজ করতে হবে।"

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে লিসান্দ্রো মার্টিনেজ ও ব্রুনো ফার্নান্দেস প্রকাশ্যেই ক্লাবের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও কোচিং কৌশল নিয়ে সমালোচনা করেছেন। ফলে দলের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠা ক্যারিকের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তবে সাবেক ইংল্যান্ড ডিফেন্ডার স্টিফেন ওয়ার্নক-এর মতে, রোমার বিপক্ষে এই জয় ক্যারিকের জন্য "একেবারে নিখুঁত গল্প" তৈরি করেছে।

ওয়ার্নক বলেন, "দলটি আত্মবিশ্বাসহীন অবস্থায় ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়েছিল। এরপর তারা যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে, তা প্রমাণ করে খেলোয়াড়রা এখনও ম্যানেজারের জন্য লড়ছে।"

তার ভাষায়, "যখন খেলোয়াড়রা একে অপরের জন্য দৌড়ায়, লড়াই করে, তখন তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ে। প্রথম গোলের পর ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের সমর্থকেরাও দলকে নতুন শক্তি দিয়েছে।"

সব মিলিয়ে, রোমার বিপক্ষে এই নাটকীয় জয় মাইকেল ক্যারিকের জন্য হয়তো মৌসুম বদলে দেওয়ার সূচনা হতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত এটি সত্যিকারের মোড় ঘোরানো মুহূর্ত নাকি সাময়িক স্বস্তি, তার উত্তর মিলবে আগামী কয়েকটি ম্যাচেই।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মার্কিন ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ স্পিকার হওয়ার পথে: হাকিম জেফরিস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:৪৬ এম


মার্কিন ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ স্পিকার হওয়ার পথে: হাকিম জেফরিস

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস তৈরি করার পথে রয়েছেন ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফরিস। যদি তিনি আগামী জানুয়ারিতে স্পিকার নির্বাচিত হন, তাহলে তিনিই হবেন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ স্পিকার। তবে, এই গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হওয়ার আগে তাকে দলীয় মতপার্থক্য এবং নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।

২০১৩ সালে কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার পর থেকেই প্রবীণ কৃষ্ণাঙ্গ ডেমোক্র্যাট নেতারা জেফরিসের নেতৃত্বের সম্ভাবনা দেখতে শুরু করেন। সাবেক কংগ্রেস সদস্য এডি বার্নি জনসন তখনই তাকে ভবিষ্যৎ নেতা হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন। পরবর্তীতে, ন্যান্সি পেলোসির উত্তরসূরি হিসেবে জেফরিসকে প্রতিষ্ঠিত করার পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়।

স্পিকার নির্বাচিত হলে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শেষ দুই বছরে ডেমোক্র্যাটদের নেতৃত্ব দেবেন জেফরিস। তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধেও অবস্থান নিতে চান।

তার সম্ভাব্য এজেন্ডায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ধনীদের ওপর কর বৃদ্ধি, ন্যূনতম মজুরি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো, সুপ্রিম কোর্টের জন্য কঠোর নৈতিকতা বিধি প্রণয়ন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ন্ত্রণ। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ সম্প্রসারণেও তিনি গুরুত্ব দিতে চান।

তবে, দলের বামপন্থি ও তরুণ নেতাদের সমর্থন অর্জন করা তার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মেডিকেয়ার ফর অল এবং ইসরাইল ইস্যুতে জেফরিসের মধ্যপন্থি অবস্থান নিয়ে দলের প্রগতিশীল অংশের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে, অতিরিক্ত বিতর্ক এড়িয়ে অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়সংক্রান্ত ইস্যুতে মনোযোগী থাকতে চান মধ্যপন্থিরা।

দলীয় নেতৃত্বে প্রজন্মগত পরিবর্তনের চাপও বাড়ছে। ডেমোক্র্যাটরা কমিটির চেয়ারম্যানদের মেয়াদসীমা নির্ধারণের পরিকল্পনা করছে, যা দলটির দীর্ঘদিনের জ্যেষ্ঠতাভিত্তিক নেতৃত্ব কাঠামোয় বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

সব মিলিয়ে, জেফরিসের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে দলের ভেতরের মতপার্থক্য সামলে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে কার্যকর বিরোধী ভূমিকা পালন করা এবং আগামী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের রাজনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী রাখা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দাড়ি ছেঁটে গোঁফে মামদানি, নতুন লুকের নেপথ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বার্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:৪৭ এম


দাড়ি ছেঁটে গোঁফে মামদানি, নতুন লুকের নেপথ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বার্তা

নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির পরিচিত চেহারায় এসেছে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন। এত দিন মুখভর্তি ছাঁটা দাড়িতে দেখা গেলেও, এবার তিনি দাড়ি কামিয়ে শুধুমাত্র গোঁফ রেখেছেন। তার নতুন লুক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম— সবখানেই আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এটি ফ্যাশন বা ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয় নয়, বরং পুরুষদের স্বাস্থ্যসচেতনতা বাড়ানোর বিশেষ উদ্যোগের অংশ হিসেবেই মামদানি এই পরিবর্তন এনেছেন।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত রোববার নিউইয়র্ক ম্যারাথনে অংশ নেওয়া দৌড়বিদদের মধ্যে পানি বিতরণের সময় নতুন গোঁফ নিয়ে জনসমক্ষে হাজির হন মামদানি। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল এবং কংগ্রেস সদস্য আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্তেজ। দাড়ি বাদ দিয়ে শুধুমাত্র ঘন কালো গোঁফ রাখায় অনেকেই তাকে প্রথমে চিনতে পারেননি। এমনকি কয়েকজন দৌড়বিদ তাকে পাশ কাটিয়ে চলে যান।

মামদানির নতুন চেহারা প্রকাশ্যে আসার পরপরই বিষয়টি নিয়ে সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়। নিউইয়র্ক ম্যাগাজিনের সাময়িকী ‘দ্য কাট’ তাকে ‘মেয়র মাস্ট্যাশ’ নামে অভিহিত করেছে। অন্যদিকে নিউইয়র্ক পোস্ট তার এই পরিবর্তনকে মুখের লোমের ‘এলোমেলো পুনর্বণ্টন’ বলে ব্যঙ্গ করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, গোঁফে তাকে বেশি মানাচ্ছে, নাকি আগের দাড়িতেই ভালো দেখাত।

রাজনীতিতে নিজের আলাদা পোশাক ও চেহারার জন্য মামদানি আগে থেকেই পরিচিত। মেয়র পদে নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর সময় তিনি দক্ষিণ এশীয় ঐতিহ্যবাহী কুর্তা বাদ দিয়ে শরীরের সঙ্গে মানানসই স্যুট পরতে শুরু করেন। সেই সঙ্গে ছাঁটা দাড়িও হয়ে ওঠে তার পরিচিতির অংশ। এবারের পরিবর্তন তার রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচিতি পাওয়ার পর চেহারায় প্রথম বড় ধরনের রূপান্তর।

তবে নতুন গোঁফের পেছনের কারণ নিজেই জানিয়েছেন মামদানি। সোমবার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে তিনি জানান, পুরুষদের স্বাস্থ্যসচেতনতা নিয়ে কাজ করা ‘মুভেম্বর’ কর্মসূচির প্রতি সমর্থন জানাতেই গোঁফ রেখেছেন।

প্রতি বছর নভেম্বর মাসে পালিত হয় মুভেম্বর। পুরুষদের প্রোস্টেট ক্যানসার, অণ্ডকোষের ক্যানসার এবং মানসিক স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা নিয়ে সচেতনতা বাড়ানো এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়ায় এর সূচনা হয়। এ কর্মসূচিতে অংশ নিতে পুরুষেরা নভেম্বর মাসজুড়ে গোঁফ রাখেন এবং বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে সচেতনতা ও তহবিল সংগ্রহ করেন।

ভিডিওতে নিজের গোঁফের দুই প্রান্তে হাত বুলিয়ে মামদানি বলেন, পুরুষদের স্বাস্থ্য নিয়ে তিনি শুধু কথার কথা বলছেন না। এ সময় ব্রুকলিনের একটি হাসপাতালে নতুন প্রোস্টেট ক্যানসার চিকিৎসাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠায় ৪০ লাখ ডলার বিনিয়োগের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

তবে ডিসেম্বর এলেই মামদানি গোঁফ রাখবেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। ভিডিওতে গোঁফ আরও বড় করে দুই পাশে বাঁকানো রাখার পরিকল্পনা আছে কি না— এমন প্রশ্নও করেন তিনি। জবাবে সিটি কাউন্সিল সদস্য রিটা সি জোসেফ তাকে বলেন, ‘না, আপনি অনেক দূর এগিয়ে যাচ্ছেন।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নিখোঁজের দুই দিন পর কুমিল্লার জলাশয়ে মিলল ভারতীয় শিক্ষার্থীর মরদেহ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:৪৭ এম


নিখোঁজের দুই দিন পর কুমিল্লার জলাশয়ে মিলল ভারতীয় শিক্ষার্থীর মরদেহ

কুমিল্লার আদনান আলতাফ (২৮) নামের এক মেডিক্যাল শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ, নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর। বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন একটি জলাশয় থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়, যা কলেজ ক্যাম্পাস থেকে প্রায় ৫০০ গজ দূরে অবস্থিত।

আদনান সোমবার (২ নভেম্বর) রাতে নিখোঁজ হন। তার সন্ধান চেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল। এই ঘটনায় বুড়িচং থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফুর রহমান কালের কণ্ঠকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আদনান আলতাফের বাবার নাম আলতাফ হোসাইন রাথার। তাদের বাড়ি ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরের বারামুল্লা জেলার বুনপাড়া, দাঙ্গালপাড়ায়। তিনি কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার কাবিলা এলাকায় অবস্থিত ইস্টার্ন মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন।

পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সোমবার রাত ১১টা ৩৬ মিনিটে আদনান ইস্টার্ন মেডিক্যাল কলেজ ক্যাম্পাস থেকে বের হয়ে একটি ইন্ডিয়ান ফুড হোটেলে যান। সেখান থেকে রাত ১২টা ৫ মিনিটের দিকে তিনি নিখোঁজ হন।

ইস্টার্ন মেডিক্যাল কলেজের চেয়ারম্যান শাহ মো. সেলিম জানান, আদনান কিছুটা মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। এই কারণে তার মাকে সঙ্গে রেখে ক্যাম্পাসে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় বুড়িচং থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়।

বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফুর রহমান বলেন, নিখোঁজ হওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ অনেক খোঁজাখুঁজি করে। বুধবার সকালে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর বিষয়টি পরিষ্কার হওয়া যাবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%