১০:৪৭ এম
নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির পরিচিত চেহারায় এসেছে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন। এত দিন মুখভর্তি ছাঁটা দাড়িতে দেখা গেলেও, এবার তিনি দাড়ি কামিয়ে শুধুমাত্র গোঁফ রেখেছেন। তার নতুন লুক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম— সবখানেই আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এটি ফ্যাশন বা ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয় নয়, বরং পুরুষদের স্বাস্থ্যসচেতনতা বাড়ানোর বিশেষ উদ্যোগের অংশ হিসেবেই মামদানি এই পরিবর্তন এনেছেন।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত রোববার নিউইয়র্ক ম্যারাথনে অংশ নেওয়া দৌড়বিদদের মধ্যে পানি বিতরণের সময় নতুন গোঁফ নিয়ে জনসমক্ষে হাজির হন মামদানি। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল এবং কংগ্রেস সদস্য আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্তেজ। দাড়ি বাদ দিয়ে শুধুমাত্র ঘন কালো গোঁফ রাখায় অনেকেই তাকে প্রথমে চিনতে পারেননি। এমনকি কয়েকজন দৌড়বিদ তাকে পাশ কাটিয়ে চলে যান।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্র হার্ভার্ড বিজ্ঞানী পেত্রোভার বিরুদ্ধে ব্যাঙের ভ্রূণ পাচারের মামলা প্রত্যাহার করছে
মামদানির নতুন চেহারা প্রকাশ্যে আসার পরপরই বিষয়টি নিয়ে সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়। নিউইয়র্ক ম্যাগাজিনের সাময়িকী ‘দ্য কাট’ তাকে ‘মেয়র মাস্ট্যাশ’ নামে অভিহিত করেছে। অন্যদিকে নিউইয়র্ক পোস্ট তার এই পরিবর্তনকে মুখের লোমের ‘এলোমেলো পুনর্বণ্টন’ বলে ব্যঙ্গ করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, গোঁফে তাকে বেশি মানাচ্ছে, নাকি আগের দাড়িতেই ভালো দেখাত।
রাজনীতিতে নিজের আলাদা পোশাক ও চেহারার জন্য মামদানি আগে থেকেই পরিচিত। মেয়র পদে নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর সময় তিনি দক্ষিণ এশীয় ঐতিহ্যবাহী কুর্তা বাদ দিয়ে শরীরের সঙ্গে মানানসই স্যুট পরতে শুরু করেন। সেই সঙ্গে ছাঁটা দাড়িও হয়ে ওঠে তার পরিচিতির অংশ। এবারের পরিবর্তন তার রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচিতি পাওয়ার পর চেহারায় প্রথম বড় ধরনের রূপান্তর।
তবে নতুন গোঁফের পেছনের কারণ নিজেই জানিয়েছেন মামদানি। সোমবার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে তিনি জানান, পুরুষদের স্বাস্থ্যসচেতনতা নিয়ে কাজ করা ‘মুভেম্বর’ কর্মসূচির প্রতি সমর্থন জানাতেই গোঁফ রেখেছেন।
প্রতি বছর নভেম্বর মাসে পালিত হয় মুভেম্বর। পুরুষদের প্রোস্টেট ক্যানসার, অণ্ডকোষের ক্যানসার এবং মানসিক স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা নিয়ে সচেতনতা বাড়ানো এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়ায় এর সূচনা হয়। এ কর্মসূচিতে অংশ নিতে পুরুষেরা নভেম্বর মাসজুড়ে গোঁফ রাখেন এবং বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে সচেতনতা ও তহবিল সংগ্রহ করেন।
আরও পড়ুন: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে আগামী সপ্তাহে সম্মেলনে আলোচনা করবেন ইইউ নেতারা
ভিডিওতে নিজের গোঁফের দুই প্রান্তে হাত বুলিয়ে মামদানি বলেন, পুরুষদের স্বাস্থ্য নিয়ে তিনি শুধু কথার কথা বলছেন না। এ সময় ব্রুকলিনের একটি হাসপাতালে নতুন প্রোস্টেট ক্যানসার চিকিৎসাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠায় ৪০ লাখ ডলার বিনিয়োগের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
তবে ডিসেম্বর এলেই মামদানি গোঁফ রাখবেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। ভিডিওতে গোঁফ আরও বড় করে দুই পাশে বাঁকানো রাখার পরিকল্পনা আছে কি না— এমন প্রশ্নও করেন তিনি। জবাবে সিটি কাউন্সিল সদস্য রিটা সি জোসেফ তাকে বলেন, ‘না, আপনি অনেক দূর এগিয়ে যাচ্ছেন।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন