ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বাগেরহাটে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উদযাপিত


বাগেরহাটে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উদযাপিত

জেলার কচুয়াতে নানা আয়োজনে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উদযাপিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে গতকাল সোমবার উপজেলা প্রশাসন ও বিআরডিবি’র যৌথ উদ্যোগে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, মেয়েদের জন্য প্রণোদনা, চারাগাছ বিতরণ, র‌্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

গতকাল সোমবার সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি র‌্যালি বের হয়ে উপজেলার প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে। র‌্যালি শেষে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে একটি আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মেহেদী মান্নার সভাপতিত্বে এবং কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলী হাসানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ।

আরও পড়ুন: মাগুরায় দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ গেল একজনের

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ বলেন, ‘বর্তমান সরকার গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়ন এবং টেকসই গ্রাম ˆতরিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দারিদ্র্য দূরীকরণে গ্রামীণ উন্নয়নের কোনো বিকল্প নেই।’ তিনি সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সবাইকে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে ¯স্বগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. হাসান ইমাম।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা রবীন্দ্রনাথ মণ্ডল, কৃষি কর্মকর্তা আকাশ ˆবরাগী, উপজেলা প্রকৌশলী বিদ্যুৎ কুমার দাস, সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. হাসিবুর রহমান, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, সমবায় কর্মকর্তা, উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তাবৃন্দ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিআরডিবি’র কর্মকর্তা ও কর্মচারী এবং সুবিধাভোগী সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উপলক্ষে চিতলমারীতে আলোচনা সভা ও বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।

আরও পড়ুন: মাগুরায় দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে যুবক আব্দুল্লাহ শেখের প্রাণ গেল

উপজেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি)-এর উদ্যোগে সোমবার উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম। প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা আক্তার।

বক্তারা বলেন, টেকসই পল্লী উন্নয়ন নিশ্চিত করতে শিক্ষা, ¯ স্বাস্থ্য, কৃষি, উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং পরিবেশ সুরক্ষাকে সমান গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

পরে, তিনজন মেধাবী শিক্ষার্থী ও একজন উদ্যোক্তার হাতে আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেওয়া হয়। এছাড়া, শিশুদের পুরস্কার প্রদান এবং চারাগাছ বিতরণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি শেষ হয়।

জেলার অন্যান্য উপজেলায় বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে যথাযথ মর্যাদার সাথে দিবসটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদযাপন করা হয়।

আরও পড়ুন: মোংলা বন্দরের পশুর নদীতে কয়লাবোঝাই কার্গো জাহাজ ডুবি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নেত্রকোণায় কারাবন্দিদের মাঝে প্রশিক্ষণ সনদ বিতরণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:২৯ পি.এম


নেত্রকোণায় কারাবন্দিদের মাঝে প্রশিক্ষণ সনদ বিতরণ

আজ জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান জেলা কারাগার সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন।

জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার মুশফিকুর রহমান আজ সকালে নেত্রকোণা জেলা কারাগার সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।

এসময় তিনি কারাগারের আবাসন ব্যবস্থা এবং সার্বিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা পর্যবেক্ষণ করেন। এছাড়াও, কারাবন্দিদের সঙ্গে কথা বলে তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনেছেন। বন্দিদের খাবারের গুণগত মান পর্যবেক্ষণ করতে তিনি কারাগার সংলগ্ন রন্ধনশালা (কিচেন) পরিদর্শন করেছেন।

তিনি বন্দিদের স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেন এবং কারা কর্তৃপক্ষকে বন্দিদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন। কারাগারের অভ্যন্তরে অবস্থিত গ্রন্থাগারে গিয়ে তিনি কারাবন্দিদের বই পড়ার প্রতি উদ্বুদ্ধ করেন।

পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক নেত্রকোণার অপরাধী সংশোধন ও পুনর্বাসন সমিতির উদ্যোগে জেলা কারাগারের বন্দিদের জন্য আয়োজিত রাজমিস্ত্রি ও টাইলস ফিটিংস প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারীদের মাঝে আনুষ্ঠানিকভাবে সনদ প্রদান করেন। তিন মাসব্যাপী এই প্রশিক্ষণে কারাগারের ৩০ জন বন্দি অংশ নিয়েছেন।

জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান বলেন, কারাগারকে শুধু শাস্তির জায়গা নয়, বরং 'সংশোধনাগার' হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের এই নিয়মিত তদারকি অব্যাহত থাকবে।

কারাগার পরিদর্শন ও সনদ বিতরণকালে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ওয়াহিদুজ্জামান এবং নেত্রকোণা জেলা কারাগারের জেল সুপার মো. আব্দুল্লাহ ইবনে তোফাজ্জল হোসেন খান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্যারাগুয়ের সিনেটরের বর্ণবাদী মন্তব্যে এমবাপ্পের কড়া জবাব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:৩১ পি.এম


প্যারাগুয়ের সিনেটরের বর্ণবাদী মন্তব্যে এমবাপ্পের কড়া জবাব

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে কষ্টার্জিত জয়ের পর মাঠের উত্তাপ গড়ায় মাঠের বাইরেও। ম্যাচ শেষে ফ্রান্সের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পেকে নিয়ে প্যারাগুয়ের সিনেটর সেলেস্তে আমারিয়ার বর্ণবাদী মন্তব্য তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এর জবাবে কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন এমবাপ্পে। একই সঙ্গে ফরাসি ফুটবল ফেডারেশন (এফএফএফ) সিনেটরের মন্তব্যের নিন্দা জানিয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে এমবাপ্পে বেশ কয়েকবার প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ান। ম্যাচ শেষে প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক ওরল্যান্ডো গিলের সামনে উদযাপন করেন এবং করমর্দন করতেও অস্বীকৃতি জানান। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমবাপ্পেকে লক্ষ্য করে একাধিক বিতর্কিত পোস্ট দেন সিনেটর সেলেস্তে আমারিয়া।

এক পোস্টে তিনি এমবাপ্পের ক্যামেরুনীয় বংশোদ্ভূত পরিচয় টেনে এনে বর্ণবাদী ও অবমাননাকর মন্তব্য করেন। তিনি দাবি করেন, এমবাপ্পে নিজেকে ফরাসি ভেবে উদ্ধত আচরণ করছেন এবং ফ্রান্স ভাগ্যের জোরে ম্যাচ জিতেছে। একই পোস্টে তিনি আরও লেখেন, ম্যাচ শেষে ফরাসি খেলোয়াড়দের ‘একটা ভালো থাপ্পড়’ দেওয়া উচিত ছিল।

পরবর্তী আরেক পোস্টে তিনি আরও কুরুচিপূর্ণ ভাষা ব্যবহার করে এমবাপ্পেকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করেন এবং প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক ওরল্যান্ডো গিলের উদ্দেশে অশোভন আচরণের পরামর্শ দেন।

এসব মন্তব্যের জবাবে এমবাপ্পে বলেন, ম্যাডাম সেলেস্তে আমারিয়া, আপনি একজন ঘৃণ্য নারী এবং আপনার পদমর্যাদার সম্পূর্ণ অযোগ্য। আপনি প্যারাগুয়ের প্রতিনিধিত্ব করেন না। এই দেশ পুরো প্রতিযোগিতাজুড়ে আবেগ, সম্মান এবং লড়াইয়ের মাধ্যমে নিজেদের পরিচয় দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, তার বেপরোয়া আচরণ এবং প্রকাশ্য বর্ণবাদের কারণে আজ পুরো বিশ্ব প্যারাগুয়ের খেলোয়াড়দের ঐতিহাসিক সাফল্য ও বিশ্বকাপ যাত্রাকে ভুলে গেছে। আলোচনায় এসেছে একজন অযোগ্য নারী, যিনি নিজের দেশের সবচেয়ে খারাপ চিত্র বিশ্বের সামনে তুলে ধরেছেন। আমি কখনোই ঘৃণা ও বর্ণবাদ ছড়ানোর স্বাধীনতা মেনে নেব না।

এদিকে এক বিবৃতিতে ফরাসি ফুটবল ফেডারেশন (এফএফএফ) সিনেটরের মন্তব্যকে “অত্যন্ত জঘন্য” এবং “সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য” বলে উল্লেখ করেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, প্যারাগুয়ের সিনেটর সেলেস্তে আমারিয়ার কিলিয়ান এমবাপ্পেকে উদ্দেশ্য করে করা বর্ণবাদী মন্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের বক্তব্য অপরাধমূলক এবং নিন্দনীয়। যেখানেই এমন ঘটনা ঘটুক, এর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

এফএফএফ আরও জানায়, ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে, যাতে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা যায়।

বিবৃতির শেষে ফেডারেশন জানায়, তারা তাদের অধিনায়ক, জাতীয় দলের সব খেলোয়াড় এবং ঘৃণামূলক বক্তব্যের শিকার প্রত্যেক মানুষের পাশে রয়েছে। পাশাপাশি বর্ণবাদ ও সব ধরনের বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত রাখার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেছে সংস্থাটি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ককরোচ জনতা পার্টির এক্স অ্যাকাউন্ট খুলে দিতে হাইকোর্টের নির্দেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:৩২ পি.এম


ককরোচ জনতা পার্টির এক্স অ্যাকাউন্ট খুলে দিতে হাইকোর্টের নির্দেশ

দিল্লি হাইকোর্ট ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র এক্স অ্যাকাউন্ট খুলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। স্থানীয় সময় শুক্রবার (জুন) এই নির্দেশ দেওয়া হয়।

বিচারপতি স্বরনার কান্ত শর্মার বেঞ্চ, দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের করা আবেদনকে মঞ্জুর করেন।

শুনানির সময় কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুশার মেহতা বলেন, দলের কিছু পোস্ট নিট পরীক্ষার সময় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছিল।

এ কারণে অ্যাকাউন্টটি ব্লক করা হয়েছিল। কিন্তু আদালত জানায়, নিট পরীক্ষা ইতিমধ্যে শেষ হয়ে গেছে।

ফলে কেন্দ্রীয় সরকারের উত্থাপিত উদ্বেগের আর কোনো ভিত্তি অবশিষ্ট নেই, যা কারণে আদালত অ্যাকাউন্টটি আনব্লক করার নির্দেশ দেন।

সংবাদমাধ্যম লাইভ ল জানিয়েছে, আদালত মনে করেন যে পরীক্ষা শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে অ্যাকাউন্টটি ব্লক রাখার আর কোনো যৌক্তিকতা নেই।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নড়াইলে ৫০০ শতবর্ষী গাছ কাটার পর অবশিষ্টগুলো রক্ষার দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:৩৩ পি.এম


নড়াইলে ৫০০ শতবর্ষী গাছ কাটার পর অবশিষ্টগুলো রক্ষার দাবি

শত বছরের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং প্রকৃতির মেলবন্ধনকে ধারণ করে গড়া নড়াইল জেলা। মোঘল আমল কিংবা জমিদারি শাসনামলের স্মৃতিবাহী এই জনপদে একসময় অসংখ্য প্রাচীন বৃক্ষ মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকত। কিন্তু কালের বিবর্তন এবং মানুষের নির্মমতায় হারাতে বসেছে এসব সবুজ ঐতিহ্য। গত এক দশকে উন্নয়ন এবং অবহেলার অজুহাতে অন্তত পাঁচ শতাধিক শতবর্ষী প্রাচীন গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। বর্তমানে যে গুটিকয়েক গাছ জেলাজুড়ে টিকে আছে, সেগুলোও এখন চরম অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে। স্থানীয়রা ও পরিবেশবাদীরা দাবি করেছেন, দ্রুত তালিকা তৈরি করে এই জীবন্ত ইতিহাসগুলোকে সংরক্ষণ করা উচিত।

অনুসন্ধান থেকে জানা গেছে, তৎকালীন জমিদাররা নড়াইল অঞ্চলের পরিবেশের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য এবং ছায়াময় আবাসের প্রয়োজনও বৈশিষ্ট্য দেওয়ার জন্য রোপণ করেছিলেন বিশাল আকৃতির তেঁতুল, আম, গাব, হিজল, পাকুড় ও বটবৃক্ষ। জমিদাররা দেশ ছাড়লেও এই গাছগুলো শত বছর ধরে টিকে ছিল। কিন্তু গত ১০ বছরে জেলার বিভিন্ন সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, খাসজমি এবং নদ-নদীর তীর থেকে অন্তত ৫০০টি প্রাচীন গাছ কেটে সাবাড় করা হয়েছে।

বর্তমানে পুরো জেলায় ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হয়ে মাত্র অর্ধশতাধিক গাছ টিকে আছে। তবে দুঃখজনকভাবে, জেলা বন বিভাগের কাছে এসব গাছের সুনির্দিষ্ট তালিকা বা পরিসংখ্যান নেই। বন অধিদপ্তর থেকে বিভিন্নসময় ৫০ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সী বৃক্ষের তালিকা তৈরির নির্দেশনা থাকলেও নড়াইল বন বিভাগের উদাসীনতায় তা আলোর মুখ দেখেনি।

প্রাচীন এই গাছগুলোর সঙ্গে নড়াইলের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আবেগ জড়িয়ে আছে। বৃক্ষপ্রেমী যাযাবর মনির বলেছেন, "এই গাছের ছায়াতেই একসময় গ্রামের সালিশ-বিচার ও সামাজিক বৈঠক হতো।" কোনো কোনো গাছের নিচে বসেই শিল্পীরা ছবি এঁকেছেন, কবিরা কবিতা লিখেছেন, গীতিকাররা গান বেঁধেছেন।

লোহাগড়ার সমাজকর্মী হাসান মাহমুদ বলেছেন, "প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অবহেলা, ভূমি ব্যবস্থাপনার পরিবর্তন এবং সচেতনতার অভাবে আমাদের চারপাশের পুরোনো বৃক্ষগুলো ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে।" সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সাংবাদিক আজিজুল ইসলাম বলেছেন, "এসব বৃক্ষকে শুধু পরিবেশগত সম্পদ হিসেবে নয়, জেলার ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের অংশ হিসেবেও সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।" বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) নড়াইলের সভাপতি মো. শাহ আলম বলেছেন, এই ধ্বংসযজ্ঞের জন্য বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের উদাসীনতাকে দায়ী করেছেন। তিনি অবিলম্বে টিকে থাকা গাছগুলোর তালিকা করে তা সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন।

বিজ্ঞান ও পরিবেশের দৃষ্টিকোণ থেকে এর ভয়াবহতা ব্যাখ্যা করে নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান সহকারী অধ্যাপক কেয়া রেণু রায় বলেছেন, "একটি শতবর্ষী গাছ তৈরি হতে শত বছর সময় লাগে, কিন্তু মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেটি কেটে ফেলা হয়।" এসব গাছ কেবল অক্সিজেন নয়; জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং অসংখ্য পাখি ও কীটপতঙ্গের আবাসস্থল হিসেবেও কাজ করে।

নড়াইল সামাজিক বনায়ন নার্সারি ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ফরেস্ট রেঞ্জার (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) কাজী ইশতিয়াক রহমান জানিয়েছেন যে, বর্তমানে তাদের কাছে কোনো তালিকা নেই। তবে দ্রুত একটি তালিকা তৈরি করে গাছগুলো সংরক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে, নড়াইলের জেলা প্রশাসক ডা. মোহাম্মদ আব্দুল ছালাম জানিয়েছেন যে, দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বলেছেন, জেলার শতবর্ষী গাছগুলো সংরক্ষণ করা হবে এবং এ ব্যাপারে দ্রুত কাজ শুরু হবে। তিনি জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে নড়াইল সদর, কালিয়া ও লোহাগড়া উপজেলার তিনটি বিশেষ গাছের চারপাশে ইটের গাঁথুনি দিয়ে পথচারীদের বিশ্রামের ব্যবস্থা করা হবে। একই সঙ্গে, তিনি ব্যক্তিগত মালিকানাধীন প্রাচীন গাছগুলোও নিজ উদ্যোগে সংরক্ষণ করতে সর্বসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

পরিকল্পনার অভাব এবং চরম অবহেলার কারণে একের পর এক হারিয়ে যাচ্ছে নড়াইলের প্রাকৃতিক ঐতিহ্য। অবশিষ্ট গাছগুলো রক্ষায় এখনই যদি কঠোর এবং স্থায়ী পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে এই প্রাচীন বৃক্ষগুলো কেবলই "গল্প" বা "স্মৃতি" হয়ে থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২৩
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৩
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%