মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১২:২৪ পি.এম
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ইনানী পাটুয়ারটেক এলাকার টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে ঘটে যাওয়া অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহত ১০ জনের পরিচয় ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে সনাক্ত করা হয়েছে। তবে, এই ১০ জনের মধ্যে নিখোঁজ স্কুলশিক্ষিকা নাসরিন আক্তার মুক্তার সন্ধান এখনও মেলেনি।
শহরের দুটি পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিরা রয়েছেন। একটি পরিবারের চারজন এবং অন্য পরিবারের ছয়জন রয়েছে।
চার সদস্যের পরিবারটিতে ছিলেন শ্যামলীতে অবস্থিত গ্র্যান্ড পাওয়ার লিমিটেডের কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাহিদুর রহমান (৪১), তার স্ত্রী আফসানা মতিন (৩৬) এবং তাদের দুই মেয়ে রোজাইনা ইনায়া (৯) ও মুনাইনা ইহানা (৬)।
অন্য পরিবারের সদস্যরা হলেন মৌলিতা মেহজাবিন আলভি (১৯), তার কাজিন লায়লা জাহান নাবিলা (২৫) ও ইসরাত জাহান মালিহা (২৭), ফারিয়া কবির (৩৩), ফারিয়ার ছয় বছর বয়সি ছেলে মোহাম্মদ ফাইজান নূর এবং ফারিয়ার ভাই মোহাম্মদ নাফিস তেহামি (২৪)। তারা ঢাকার বনশ্রী ও খিলগাঁও এলাকায় বসবাস করতেন।
নাফিস তেহামি ‘জেরিফ’ নামেও পরিচিত ছিলেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের চীনা ভাষা ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
অপরদিকে মৌলিতা মেহজাবিন আলভি ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে পপুলেশন অ্যান্ড পাবলিক হেলথ সায়েন্সেস বিষয়ে পড়াশোনা করতেন। লায়লা জাহান নাবিলা ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী।
পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) পুড়ে যাওয়া লাশগুলোর ডিএনএ পরীক্ষা করে এবং স্বজনদের নমুনার সঙ্গে মিলিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করেছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, উখিয়া থানার এসআই রিমন ঘোষ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, মঙ্গলবার লাশগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কেও কর্তৃপক্ষ গণমাধ্যমকে অবহিত করবে।
নিখোঁজ মুক্তার সন্ধান মেলেনি
অগ্নিকাণ্ডের পর ১০টি লাশ উদ্ধার করা হলেও নিখোঁজের তালিকায় ছিলেন ১১ জন। ফলে একজনের অবস্থান নিয়ে এখন অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। নিখোঁজ নাসরিন আক্তার মুক্তার (২৭) ডিএনএর সঙ্গে উদ্ধার হওয়া কোনো লাশের নমুনার মিল পাওয়া যায়নি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রিমন ঘোষ গণমাধ্যমকে বলেন, ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছিল, তাদের ডিএনএ স্যাম্পলই মিল পাওয়া গেছে। আরেকজনেরটা পাওয়া যায়নি।
মুক্তা ঢাকার উপকণ্ঠ সাভারের আশুলিয়ায় স্বপ্নবিলাস নিরিবিলি স্কুলের শিক্ষিকা ছিলেন। দুই বান্ধবীর সঙ্গে তিনি কক্সবাজার বেড়াতে এসেছিলেন। তার স্বামী দেওয়ান ফয়সাল ঢাকা জেলা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক নেতা। মুক্তার বাবার নাম মোস্তফা কামাল।
এমএইচ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মোংলা বন্দরের পশুর নদীতে ১২শ মেট্রিক টন কয়লা নিয়ে যাওয়া এমভি ফুলবাড়ী নামক কার্গো জাহাজ ডুবির ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) গভীর রাতে সুন্দরী কোঠা এলাকায় একটি তেলবাহী ট্যাংকারের সঙ্গে সংঘর্ষের ফলে কার্গোটি ডুবে যায়।
দুর্ঘটনার শিকার কার্গো জাহাজের স্টাফরা জানান, মোংলা বন্দরের হিরণ পয়েন্টে অবস্থানরত বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজ এমভি ইয়াস জুপিটার থেকে কয়লা বোঝাই করে মোংলার দিকে আসছিল এমভি ফুলবাড়ী। পথিমধ্যে পশুর চ্যানেলের সুন্দরী কোঠা এলাকায় পৌঁছালে এমটি জান্নাতুল ফেরদৌস নামক অপর একটি তেলবাহী ট্যাংকার এমভি ফুলবাড়ী জাহাজটিকে ধাক্কা দেয়। এর ফলে কয়লাবোঝাই জাহাজটি ডুবে যায়। এই জাহাজটি আইআরএস ইন্টারন্যাশনালের মালিকানাধীন। জাহাজে থাকা ৯ জন স্টাফ সাঁতরে পাশের একটি কার্গো জাহাজে উঠতে সক্ষম হওয়ায় হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
তারা আরো জানিয়েছেন, কয়লা নিয়ে কার্গো জাহাজটির ঢাকার বাদামতলায় যাওয়ার জন্য সিডিউল ছিল। জাহাজটি পশুর চ্যানেলের বাহিরে ডুবে যাওয়ায় মূল চ্যানেল সম্পূর্ণ নিরাপদ রয়েছে বলে স্টাফরা নিশ্চিত করেছেন।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমডোর মো. শফিকুল ইসলাম সরকার বলেন, পশুর চ্যানেল সম্পূর্ণ নিরাপদ রয়েছে। এই চ্যানেল দিয়ে নৌযান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। তিনি জানান, মালিক পক্ষ দ্রুত জাহাজ তোলার ব্যবস্থা করবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ : এল নিনোর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের সৃষ্টি হচ্ছে। আর্জেন্টিনায় দেখা দিয়েছে বন্যা, পেরুতে প্রাণঘাতী দাবানল এবং ফরাসি গায়ানায় খরা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে চলতি বছরে এল নিনোর নজিরবিহীন ধ্বংসাত্মক প্রভাব মোকাবিলার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
এল নিনো একটি প্রাকৃতিক জলবায়ুগত ঘটনা, যা নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলের পানির উপরিভাগের তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে বাতাসের প্রবাহ, বায়ুচাপ এবং বৃষ্টিপাতের ধরনে পরিবর্তন ঘটে।
সাধারণত এল নিনো প্রতি দুই থেকে সাত বছর পরপর ঘটে এবং এর প্রভাব প্রায় ৯ মাস থেকে ১২ মাস স্থায়ী হয়।
চলতি বছরে এই প্রাকৃতিক আবহাওয়াগত ঘটনার কারণে পৃথিবীর বিস্তীর্ণ অঞ্চলে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি থাকতে পারে। মানুষের কর্মকাণ্ডের কারণে সৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
জাতিসংঘের আবহাওয়া ও জলবায়ুবিষয়ক সংস্থা বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লিউএমও) প্রধান সেলেস্তে সাউলো মন্তব্য করেছেন, বর্তমান এল নিনোর তীব্রতা নজিরবিহীন হতে পারে। তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান এল নিনো এতটাই শক্তিশালী হতে পারে যে গত চার দশক ধরে এটি পর্যবেক্ষণে আমরা যেসব মানদণ্ড ব্যবহার করে আসছি, তার সীমাও ছাড়িয়ে যেতে পারে।’
সাউলো এবং জাতিসংঘের মানবিক সহায়তাবিষয়ক প্রধান টম ফ্লেচার যৌথভাবে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দিতে দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এসব জনগণের অনেকেই আগে থেকেই চরম সংকটের মধ্যে বসবাস করছেন।
সাউলো বলেন, ‘আমরা এল নিনোকে থামাতে পারব না। তবে এর সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক পরিণতির অনেকগুলোই প্রতিরোধ করতে পারব।’
টম ফ্লেচার এল নিনোকে একটি ‘ধ্বংসাত্মক গোলার’ সঙ্গে তুলনা করেছেন। তার আশঙ্কা, এর প্রভাবে লাতিন আমেরিকা, পূর্ব ও দক্ষিণ আফ্রিকা, এশিয়া এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ব্যাপক বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।
তিনি বলেন, ‘ঝুঁকিটা হলো, এর ফলে কোটি কোটি মানুষ মানবিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তার মুখে পড়তে পারেন।’ এল নিনোর প্রভাবে প্রায় পাঁচ কোটি মানুষ আরও তীব্র খাদ্যসংকটে পড়তে পারেন বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।
আর্জেন্টিনার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় পর্যটন শহর পাসো দে লা পাত্রিয়ার বাসিন্দা হুয়ান পাবলো গোমেজ এএফপিকে জানিয়েছেন, ‘এক দিনের ব্যবধানেই হঠাৎ আমার বাড়িতে এক মিটার উঁচু পানি ঢুকে পড়ে।’
এল নিনোর সঙ্গে সম্পর্কিত বন্যায় সাম্প্রতিক দিনগুলোতে অন্তত দুজনের মৃত্যু হয়েছে। শহরের কয়েকটি এলাকায় বাড়িঘরের ছাদ ছাড়া আর কিছুই পানির ওপরে দেখা যাচ্ছে না।
গত সপ্তাহে দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে পারানা, উরুগুয়ে এবং ইগুয়াজু নদীর পানি বেড়ে যায়। এর ফলে দুই হাজারেরও বেশি মানুষকে বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে হয়েছে।
এই তিনটি নদী যথাক্রমে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, প্যারাগুয়ে এবং উরুগুয়ের সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বৃষ্টিপাতের সঙ্গে এল নিনোর সম্পর্ক রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
পেরুতে ভয়াবহ দাবানলের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে লিমার সায়েন্টিফিক ইউনিভার্সিটি অব দ্য সাউথের জীববিজ্ঞানী ও অধ্যাপক ড্যানিয়েল ভালে এএফপিকে জানিয়েছেন, ‘এল নিনোর কারণে পুরো পেরুর ওপর প্রচণ্ড গরম ও শুষ্ক বায়ুর একটি বিশাল স্তর তৈরি হয়েছে।’
তিনি জানান, এই আবহাওয়াগত ঘটনার কারণে তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়া এবং পরিবেশ শুষ্ক হয়ে পড়ায় দাবানলের আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।
কর্তৃপক্ষ গত সপ্তাহে জানিয়েছে, জুন থেকে দেশটিতে বনাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া আগুনে অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এসব দাবানলে শত শত মানুষ দুর্যোগের শিকার হয়েছেন।
নিহতদের অধিকাংশই কৃষক। নিজেরাই আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করতে গিয়ে তাঁরা মারাত্মকভাবে দগ্ধ হন এবং ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যান।
ফরাসি গায়ানায় কয়েক মাস ধরে স্বাভাবিকের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম বৃষ্টিপাত হচ্ছে। পানির স্তর দ্রুত নেমে যাওয়ায় ফ্রান্সের এই সমুদ্রপারের ভূখণ্ডের নদীপথে নৌযান চলাচল ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে গেছে।
সড়ক যোগাযোগবিচ্ছিন্ন এলাকাগুলোর প্রায় ৪০ হাজার বাসিন্দার কাছে প্রয়োজনীয় পণ্য পৌঁছে দিতে কর্তৃপক্ষ আকাশপথে সরবরাহব্যবস্থা চালু করেছে। এর লক্ষ্য হলো, এসব এলাকার মানুষের কাছে সহনীয় দামে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পৌঁছে দেওয়া, সরকারি শিক্ষাব্যবস্থা সচল রাখা এবং উপকূলীয় এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে সুপেয় পানি উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থা চালু রাখা।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে, এল নিনোর প্রভাবে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হলে আগামী তিন মাসে সোমালিয়ার প্রায় ৮ লাখ ৭৪ হাজার মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হতে পারেন।
গত সপ্তাহে সংস্থাটি সতর্ক করে জানায়, এল নিনো শক্তিশালী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সোমালিয়ায় আসন্ন বর্ষা মৌসুমে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
বন্যা মোকাবিলার প্রস্তুতি ও জরুরি সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় ১ কোটি ৬৬ লাখ ডলারের মধ্যে সংস্থাটি এখন পর্যন্ত মাত্র ১৪ দশমিক ৪ শতাংশ অর্থ পেয়েছে।
এদিকে, কলম্বিয়ায় টানা চার মাস ধরে মাসভিত্তিক সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোপারনিকাস জলবায়ু পরিবর্তন পরিষেবার তথ্য বিশ্লেষণ করে এএফপি জানিয়েছে, জুলাই, আগস্ট এবং সেপ্টেম্বর মাসে দেশটির তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল।
বিশ্বজুড়ে চরম আবহাওয়াগত ঘটনা ঘন ঘন ঘটতে থাকায় কোনো নির্দিষ্ট দুর্যোগের জন্য সরাসরি এল নিনোকে দায়ী করা কঠিন হয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এনওএএ) পদার্থবিদ মিশেল ল্যুরো এএফপিকে বলেন, এল নিনোর সঙ্গে বিভিন্ন আবহাওয়াগত ঘটনাকে একটি মহাসড়কের যানবাহনের সঙ্গে তুলনা করা যায়।
তিনি বলেন, ‘এল নিনো কোনো নির্দিষ্ট যানবাহনের গতি কত হবে বা সেটি কোন লেনে চলবে, তা নির্ধারণ করে দিতে পারে না। কখনো কখনো যানবাহন হঠাৎ মহাসড়ক থেকে বেরিয়ে যায় কিংবা নতুন যানবাহন সেখানে প্রবেশ করে।’
তিনি আরও বলেন, ‘একইভাবে, এল নিনো ছাড়াও অন্যান্য কারণ আবহাওয়াগত ঘটনাগুলোর নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যকে প্রভাবিত করে।’ ফ্রান্সের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সায়েন্টিফিক রিসার্চের (সিএনআরএস) গবেষণা পরিচালক দাভিদে ফারান্দা বলেন, ‘কোনো নির্দিষ্ট দুর্যোগের জন্য সরাসরি এল নিনোকে দায়ী করা সঠিক নয়। কারণ, অঞ্চল ও মৌসুমভেদে এর প্রভাব ভিন্ন হয়। এ ছাড়া জলবায়ুর স্বাভাবিক ওঠানামা ও অন্যান্য আবহাওয়াগত বিষয়ও এর ওপর প্রভাব ফেলে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ওবাইদুর রহমান
ঢাকা, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ : সরকার বাসাবাড়ির ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করে নিজস্ব চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি জাতীয় গ্রিডে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সরবরাহের মাধ্যমে আয়ের সুযোগ প্রদান করছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালু করে গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করলে প্রতি ইউনিটের জন্য ১০ টাকা ৫০ পয়সা হারে প্রণোদনা পাওয়া যাবে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে পরিচালিত এ কর্মসূচির আওতায় গ্রাহকেরা নিজেদের ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপন করে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও ব্যবহার করতে পারবেন। নেট মিটারিং ব্যবস্থার মাধ্যমে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করে নির্ধারিত হারে অর্থ পাওয়ার সুযোগও রয়েছে।
গত ১ সেপ্টেম্বর বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালু করে জাতীয় গ্রিডে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করলে পরবর্তী তিন বছর প্রতি ইউনিটে ১০ টাকা ৫০ পয়সা হারে প্রণোদনা পাওয়া যাবে। নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে এই সুবিধা ২০৩০ সাল পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুতের বিপরীতে প্রাপ্য অর্থ প্রতি তিন মাস পরপর গ্রাহকের ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, কোনো অবস্থাতেই নগদ অর্থ পরিশোধ করা হবে না।
ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের পূর্বে গ্রাহকেরা বিদ্যুৎ বিভাগের রুফটপ সোলার ক্যালকুলেটর ব্যবহার করে সম্ভাব্য উৎপাদন এবং খরচ-লাভের হিসাব জানতে পারবেন। ছাদের মোট আয়তন ও ব্যবহারযোগ্য জায়গার তথ্য দিলে ক্যালকুলেটর সম্ভাব্য সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার ক্ষমতা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের হিসাব দেবে। এর মাধ্যমে ভবনের বিদ্যুৎ চাহিদার কতটা সৌরবিদ্যুৎ দিয়ে পূরণ করা সম্ভব, সে সম্পর্কেও ধারণা পাওয়া যাবে।
বিদ্যুৎ বিভাগের ক্যালকুলেটরের উদাহরণ অনুযায়ী, ২ হাজার বর্গফুটের একটি আবাসিক ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হলে মাসে গড়ে ১ হাজার ৮৩৩ ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। এ হিসাবে বছরে মোট উৎপাদন হতে পারে প্রায় ২১ হাজার ৯৯৬ ইউনিট।
ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনে গ্রাহকেরা তালিকাভুক্ত সৌরবিদ্যুৎ কোম্পানির সহায়তা নিতে পারবেন। এসব প্রতিষ্ঠান ছাদের উপযোগিতা যাচাই, সৌর প্যানেল ও ব্যাটারি স্থাপন এবং প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণে সহায়তা করবে।
সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার সঙ্গে ব্যাটারি ব্যবহার করলে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকলেও প্রয়োজনের সময় সংরক্ষিত বিদ্যুৎ ব্যাকআপ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। তবে এ সুবিধার জন্য সৌর প্যানেলের পাশাপাশি ব্যাটারি ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম স্থাপনের প্রয়োজন হবে।
সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থায় ব্যবহৃত প্যানেল, ব্যাটারি, ইনভার্টার ও মিটারসহ সংশ্লিষ্ট সব যন্ত্রপাতি বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) এবং টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (স্রেডা) নির্ধারিত কারিগরি মানদণ্ড অনুযায়ী হতে হবে।
নেট মিটারিং ব্যবস্থায় উৎপাদিত সৌরবিদ্যুৎ প্রথমে গ্রাহকের নিজস্ব চাহিদা পূরণে ব্যবহৃত হয়। অতিরিক্ত বিদ্যুৎ দ্বিমুখী মিটারের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়। গ্রিড থেকে নেওয়া বিদ্যুৎ ও গ্রিডে সরবরাহ করা বিদ্যুতের হিসাব সমন্বয় করা হয়। উৎপাদন ব্যবহারের চেয়ে বেশি হলে অতিরিক্ত বিদ্যুতের বিপরীতে নির্ধারিত নিয়মে গ্রাহক অর্থ পাবে।
এ সংক্রান্ত নীতিগত ও কারিগরি সহায়তা দিতে বিদ্যুৎ বিভাগ ওয়ান-স্টপ সার্ভিস সেন্টার স্থাপন করেছে। এছাড়া বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলোর জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কার্যালয় থেকেও গ্রাহকেরা প্রয়োজনীয় সহায়তা পাবেন।
সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার দ্রুত সম্প্রসারণে সর্বোচ্চ পাঁচ মেগাওয়াট সক্ষমতার প্রকল্প স্থাপনের সুযোগ রেখে গত ১৯ অক্টোবর ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ- ২০২৬’ জারি করেছে সরকার।
এ অধ্যাদেশের আওতায় সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, সরকারি কোম্পানি এবং বাসাবাড়ির ছাদ, আঙিনা, পরিত্যক্ত জমি, জলাশয় ও চা বাগানে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা যাবে। এছাড়া ভবন, পার্কিং লট, গ্যারেজ, বাণিজ্যিক ও শিল্প স্থাপনার ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপন এবং ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ ও কৃষি-সৌরবিদ্যুৎ প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে।
অধ্যাদেশ অনুযায়ী, বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা ওপেক্স (অপারেটিং এক্সপেন্ডিচার) মডেলে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করে ব্যবসা করতে পারবেন। এ মডেলে বিনিয়োগকারী নিজ খরচে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন ও পরিচালনা করবেন এবং চুক্তি অনুযায়ী গ্রাহক বিদ্যুৎ ব্যবহারের জন্য মূল্য পরিশোধ করবেন। অন্যদিকে, নিজস্ব তহবিল থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো ক্যাপেক্স (ক্যাপিটাল এক্সপেন্ডিচার) মডেলে নিজস্ব অর্থায়নে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করতে পারবে।
সময় সাশ্রয়ে নির্দিষ্ট শর্তে সর্বোচ্চ পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত পণ্য ও সেবা কেনার ক্ষেত্রে সীমিত দরপত্র পদ্ধতি ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ই-গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট (ইজিপি) পদ্ধতি বাধ্যতামূলক রাখা হয়নি।
সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার সুরক্ষায় অধ্যাদেশে বিভিন্ন অপরাধের জন্য শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। বিদ্যুৎ বা যন্ত্রাংশ চুরি, চোরাই পণ্য কেনাবেচা কিংবা হেফাজতে রাখার অপরাধে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড দেওয়া যাবে।
সৌর প্যানেল বা যন্ত্রাংশ ভাঙচুর কিংবা ক্ষতিসাধনের জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়া অবৈধ সংযোগ স্থাপন এবং সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন, পরিদর্শন ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজে নিয়োজিত কর্মীদের বাধা দেওয়ার অপরাধে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড বা পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া যাবে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ জনপ্রিয় করতে হবে। এ উদ্যোগ সফল করতে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা, প্রয়োজনে প্রণোদনার মেয়াদ বৃদ্ধি এবং মেয়াদ শেষের পর সরকার সেই বিদ্যুৎ কিভাবে কিনবে তা ঘোষণা করা উচিত। একই সঙ্গে নেট মিটারিং সংযোগের জটিলতা দূর করতে বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোকে এক মাসের মধ্যে নেট মিটারিং নিশ্চিত করতে হবে।
কোস্টাল লাইভলিহুড অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল অ্যাকশন নেটওয়ার্কের (ক্লিন) প্রধান নির্বাহী ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ হাসান মেহেদী বলেন, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে আয় করার সুযোগ দেওয়া সরকারের একটি ভালো উদ্যোগ। তবে এ উদ্যোগের সুফল পেতে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালাতে হবে।
তিনি বলেন, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়াতে তিন বছরের প্রণোদনার মেয়াদ আরও বাড়ানো উচিত। পাশাপাশি নেট মিটারিং সংযোগ পেতে যে জটিলতা রয়েছে, তা দূর করতে হবে।
হাসান মেহেদী বলেন, বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোকে নির্দেশ দিয়ে এক মাসের মধ্যে নেট মিটারিং নিশ্চিত করা গেলে এ উদ্যোগ কার্যকর হবে। অন্যথায় সরকারের এ কর্মসূচি প্রত্যাশিত ফল নাও দিতে পারে।
বিদ্যুৎ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, বর্তমান বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে জীবাশ্ম জ্বালানির পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো জরুরি। এ কারণে সরকার বাসাবাড়ি, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনে গুরুত্ব দিচ্ছে। সরকারি সব প্রতিষ্ঠানের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে প্রণোদনা দেওয়ার পাশাপাশি সৌর সরঞ্জাম আমদানিতে শুল্ক ১৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও তাঁর বাসভবনের ছাদে উৎপাদিত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করছেন এবং অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করছেন।
গত ৩ অক্টোবর স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম গণমাধ্যমকে জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তিন দিনে সৌরবিদ্যুৎ থেকে ১ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার করেছেন এবং ১ হাজার ২০০ ইউনিট জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করেছেন।
ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার মাধ্যমে নিজস্ব বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ গ্রিডে সরবরাহ করে আয় করার সুযোগ থাকায় এ কর্মসূচিতে সাধারণ গ্রাহকদের অংশগ্রহণ বাড়বে বলে আশা করছে সরকার।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাগুরা-ফরিদপুর সড়কের বেলনগর এলাকায় দুটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষের ফলে আব্দুল্লাহ শেখ (২৫) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। এই দুর্ঘটনায় অপর এক মোটরসাইকেল আরোহী, মিজানুর রহমান (৪০), আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বেলনগর হাঁস খামারের সামনে এই ঘটনা ঘটে।
নিহত যুবক আব্দুল্লাহ শেখ বেলনগর গ্রামের বাকি শেখের পুত্র এবং পেশায় কৃষক ছিলেন। অপরদিকে, আহত মিজানুর রহমান কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার পান্টি গ্রামের বাসিন্দা এবং তিনি পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালসের এরিয়া ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
রামনগর হাইওয়ে পুলিশের ওসি আব্দুল হালিম জানিয়েছেন, ‘আব্দুল্লাহ শেখ একটি অ্যাপাচি আরটিআর মোটরসাইকেল নিয়ে মধুখালী বাজার থেকে তার বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন। অন্যদিকে, মিজানুর রহমান একটি হিরো হোন্ডা মোটরসাইকেলে মাগুরা থেকে ওয়াপদা বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। বেলনগর হাঁস খামারের সামনে পৌঁছানোর পর দুটি মোটরসাইকেলের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে।’
তিনি আরও জানান, ‘দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আব্দুল্লাহ শেখকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত মিজানুর রহমানকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ