ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নড়াইলে ৫০০ শতবর্ষী গাছ কাটার পর অবশিষ্টগুলো রক্ষার দাবি


নড়াইলে ৫০০ শতবর্ষী গাছ কাটার পর অবশিষ্টগুলো রক্ষার দাবি

শত বছরের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং প্রকৃতির মেলবন্ধনকে ধারণ করে গড়া নড়াইল জেলা। মোঘল আমল কিংবা জমিদারি শাসনামলের স্মৃতিবাহী এই জনপদে একসময় অসংখ্য প্রাচীন বৃক্ষ মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকত। কিন্তু কালের বিবর্তন এবং মানুষের নির্মমতায় হারাতে বসেছে এসব সবুজ ঐতিহ্য। গত এক দশকে উন্নয়ন এবং অবহেলার অজুহাতে অন্তত পাঁচ শতাধিক শতবর্ষী প্রাচীন গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। বর্তমানে যে গুটিকয়েক গাছ জেলাজুড়ে টিকে আছে, সেগুলোও এখন চরম অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে। স্থানীয়রা ও পরিবেশবাদীরা দাবি করেছেন, দ্রুত তালিকা তৈরি করে এই জীবন্ত ইতিহাসগুলোকে সংরক্ষণ করা উচিত।

অনুসন্ধান থেকে জানা গেছে, তৎকালীন জমিদাররা নড়াইল অঞ্চলের পরিবেশের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য এবং ছায়াময় আবাসের প্রয়োজনও বৈশিষ্ট্য দেওয়ার জন্য রোপণ করেছিলেন বিশাল আকৃতির তেঁতুল, আম, গাব, হিজল, পাকুড় ও বটবৃক্ষ। জমিদাররা দেশ ছাড়লেও এই গাছগুলো শত বছর ধরে টিকে ছিল। কিন্তু গত ১০ বছরে জেলার বিভিন্ন সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, খাসজমি এবং নদ-নদীর তীর থেকে অন্তত ৫০০টি প্রাচীন গাছ কেটে সাবাড় করা হয়েছে।

বর্তমানে পুরো জেলায় ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হয়ে মাত্র অর্ধশতাধিক গাছ টিকে আছে। তবে দুঃখজনকভাবে, জেলা বন বিভাগের কাছে এসব গাছের সুনির্দিষ্ট তালিকা বা পরিসংখ্যান নেই। বন অধিদপ্তর থেকে বিভিন্নসময় ৫০ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সী বৃক্ষের তালিকা তৈরির নির্দেশনা থাকলেও নড়াইল বন বিভাগের উদাসীনতায় তা আলোর মুখ দেখেনি।

আরও পড়ুন: তাহিরপুরে প্রবাসীর স্ত্রী ও পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে উধাও নাজমুল, পরিবার উদ্বিগ্ন

প্রাচীন এই গাছগুলোর সঙ্গে নড়াইলের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আবেগ জড়িয়ে আছে। বৃক্ষপ্রেমী যাযাবর মনির বলেছেন, "এই গাছের ছায়াতেই একসময় গ্রামের সালিশ-বিচার ও সামাজিক বৈঠক হতো।" কোনো কোনো গাছের নিচে বসেই শিল্পীরা ছবি এঁকেছেন, কবিরা কবিতা লিখেছেন, গীতিকাররা গান বেঁধেছেন।

লোহাগড়ার সমাজকর্মী হাসান মাহমুদ বলেছেন, "প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অবহেলা, ভূমি ব্যবস্থাপনার পরিবর্তন এবং সচেতনতার অভাবে আমাদের চারপাশের পুরোনো বৃক্ষগুলো ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে।" সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সাংবাদিক আজিজুল ইসলাম বলেছেন, "এসব বৃক্ষকে শুধু পরিবেশগত সম্পদ হিসেবে নয়, জেলার ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের অংশ হিসেবেও সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।" বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) নড়াইলের সভাপতি মো. শাহ আলম বলেছেন, এই ধ্বংসযজ্ঞের জন্য বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের উদাসীনতাকে দায়ী করেছেন। তিনি অবিলম্বে টিকে থাকা গাছগুলোর তালিকা করে তা সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন।

বিজ্ঞান ও পরিবেশের দৃষ্টিকোণ থেকে এর ভয়াবহতা ব্যাখ্যা করে নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান সহকারী অধ্যাপক কেয়া রেণু রায় বলেছেন, "একটি শতবর্ষী গাছ তৈরি হতে শত বছর সময় লাগে, কিন্তু মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেটি কেটে ফেলা হয়।" এসব গাছ কেবল অক্সিজেন নয়; জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং অসংখ্য পাখি ও কীটপতঙ্গের আবাসস্থল হিসেবেও কাজ করে।

নড়াইল সামাজিক বনায়ন নার্সারি ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ফরেস্ট রেঞ্জার (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) কাজী ইশতিয়াক রহমান জানিয়েছেন যে, বর্তমানে তাদের কাছে কোনো তালিকা নেই। তবে দ্রুত একটি তালিকা তৈরি করে গাছগুলো সংরক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে, নড়াইলের জেলা প্রশাসক ডা. মোহাম্মদ আব্দুল ছালাম জানিয়েছেন যে, দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বলেছেন, জেলার শতবর্ষী গাছগুলো সংরক্ষণ করা হবে এবং এ ব্যাপারে দ্রুত কাজ শুরু হবে। তিনি জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে নড়াইল সদর, কালিয়া ও লোহাগড়া উপজেলার তিনটি বিশেষ গাছের চারপাশে ইটের গাঁথুনি দিয়ে পথচারীদের বিশ্রামের ব্যবস্থা করা হবে। একই সঙ্গে, তিনি ব্যক্তিগত মালিকানাধীন প্রাচীন গাছগুলোও নিজ উদ্যোগে সংরক্ষণ করতে সর্বসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন: সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের সঙ্গে ‘দাদা ভাই বাহিনী’র বন্দুকযুদ্ধে ৫ জেলে উদ্ধার

পরিকল্পনার অভাব এবং চরম অবহেলার কারণে একের পর এক হারিয়ে যাচ্ছে নড়াইলের প্রাকৃতিক ঐতিহ্য। অবশিষ্ট গাছগুলো রক্ষায় এখনই যদি কঠোর এবং স্থায়ী পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে এই প্রাচীন বৃক্ষগুলো কেবলই "গল্প" বা "স্মৃতি" হয়ে থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চট্টগ্রামে মৌসুমের সর্বোচ্চ বৃষ্টি, ২৪ ঘণ্টায় ৩৮৬.৮ মিলিমিটার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:৩৫ পি.এম


চট্টগ্রামে মৌসুমের সর্বোচ্চ বৃষ্টি, ২৪ ঘণ্টায় ৩৮৬.৮ মিলিমিটার

চট্টগ্রামে টানা তিন দিন ধরে বৃষ্টির পদধ্বনি অব্যাহত রয়েছে। কখনো একটানা ভারি, আবার কখনো অতিভারী বৃষ্টিপাত চলতে রয়েছে।

সর্বশেষ আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুর ১২টার পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় ৩৮৬ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে চট্টগ্রামের প্রধান পতেঙ্গা আবহাওয়া কার্যালয়। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, এটি চলতি বছরের মধ্যে চট্টগ্রামে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত।

এদিকে, টানা বৃষ্টিপাতের কারণে নগর ও জেলার বিভিন্ন এলাকার সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। সোমবার (৬ জুলাই) বৃষ্টির ফলে নগরের সড়কে জলাবদ্ধতা লক্ষ্য করা না গেলেও আজ সকালে বিভিন্ন সড়ক-উপসড়কে জলজটে মানুষ বিঘ্নিত হচ্ছেন।

বিশেষ করে কর্মস্থলমুখী এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়ার সময় যানবাহনের অভাবে এই দুর্ভোগ আরো প্রকট হয়ে উঠেছে। ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে আজ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরীক্ষাগুলি স্থগিত করা হয়েছে। আবার কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা থাকায় বৃষ্টিতে ভিজে শিক্ষার্থীরা যেতে হয়েছে।

নগরের কাপাসগোলা, কাতালগঞ্জ, আগ্রাবাদ, চকবাজার, বাকলিয়া, অক্সিজেন, বায়েজিদ, জিইসি মোড়, ওয়াসা মোড়, বহদ্দারহাট, বাদুরতলা সহ বিভিন্ন এলাকায় সড়ক ও অলিগলিতে হাঁটু পানি জমেছে।

চট্টগ্রাম-রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কের হাটহাজারীর বড়দিঘীর পাড়, আমানবাজার এলাকায় পানির কারণে যানবাহন ধীরগতিতে চলছে।

অক্সিজেন এলাকায় এক ব্যক্তি, ইয়াকুব মিয়া বলেন, ‘বৃষ্টিপাত হলে সড়কে যানবাহনের সংখ্যা কমে যায়। প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষা করেও বাস পাচ্ছি না। সিএনজি চালিত অটোরিকশা ভাড়া বেশি চাচ্ছে।’

অক্সিজেন থেকে নিউমার্কেট আসার পথে এক সিএনজি চালিত অটোরিকশার চালক জানান, ‘সোমবার রাত থেকে বেশি বৃষ্টি হচ্ছে। সকাল নাগাদ নগরের হালিশহর, আগ্রাবাদ সহ আশপাশের এলাকায় সড়কে পানি বেশি দেখে বিকল্প সড়ক দিয়ে গাড়ি চালাতে হচ্ছে।’

চট্টগ্রামের প্রধান পতেঙ্গা আবহাওয়া কার্যালয়ের সহকারী আবহাওয়াবিদ বিশ্বজিৎ চৌধুরী দুপুর ১২টার পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ৩৮৬ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে, সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৬৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এই বৃষ্টিপাত ঘটছে। আগামী শুক্রবার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।

পতেঙ্গা আবহাওয়া কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকাল ৯টার পর থেকে আজ সকাল ৯টার মধ্যে ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ৩৩০ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুমিল্লায় মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে বাবা আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:৩৬ পি.এম


কুমিল্লায় মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে বাবা আটক

কুমিল্লার তিতাসে, ১৯ বছর বয়সী একটি মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে তার বাবার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ভুক্তভোগীর মা। অভিযুক্ত মো. এলেম (৪৫) কে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।

মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, উত্তর আকালিয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. এলেম দীর্ঘদিন ধরে তার বড় মেয়ের বিরুদ্ধে অশালীন আচরণ ও যৌন হয়রানি করে আসছিলেন। গত ১০ মে, গর্ভে থাকা সন্তান প্রসবের জন্য ভুক্তভোগীর মা তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি থাকেন। তখন বাড়িতে একা থাকা ১৯ বছর বয়সী মেয়েকে জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে। পরে হাসপাতাল থেকে ফিরে ভুক্তভোগীর মা মেয়ের কাছ থেকে বিষয়টি জানেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, এই ঘটনার পর পরিবারের মধ্যে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও অভিযুক্ত তার আচরণ পরিবর্তন করেননি। ১ জুলাই রাতে তিনি আবারও মেয়ের কক্ষে প্রবেশ করে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এই সময় ভুক্তভোগীর চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্যরা এগিয়ে আসলে অভিযুক্ত পালিয়ে যান। পরে ভুক্তভোগীর মা আত্মীয়দের সঙ্গে আলোচনা করে তিতাস থানায় মামলা করার সিদ্ধান্ত নেন।

তিতাস থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিরুল হক কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন, সোমবার রাতে বাতাকান্দি এলাকা থেকে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

ওসি বলেন, ভুক্তভোগীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গার্মেন্টস শিল্প বাঁচাতে নতুন বিশ্ব ব্যবস্থায় নতুন রপ্তানি ক্ষেত্র তৈরি জরুরী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এম এ সাঈদ

মঙ্গলবার, ৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:৩৬ পি.এম


গার্মেন্টস শিল্প বাঁচাতে নতুন বিশ্ব ব্যবস্থায় নতুন রপ্তানি ক্ষেত্র তৈরি জরুরী

বিশ্ব রাজনীতির মানচিত্র দ্রুত বদলে যাচ্ছে। যে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা একসময় কয়েকটি শক্তিধর রাষ্ট্রের ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপর নির্ভরশীল ছিল, তা আজ ধীরে ধীরে বহুমেরুকেন্দ্রিক বাস্তবতায় রূপ নিচ্ছে। এই পরিবর্তন শুধু সামরিক বা কূটনৈতিক নয়; এর সবচেয়ে গভীর অভিঘাত পড়ছে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও সরবরাহ ব্যবস্থায়। এমন বাস্তবতায় বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাত—তৈরি পোশাক শিল্প—এখনও যদি কয়েকটি পশ্চিমা বাজারের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল থাকে, তবে সেটি কেবল অর্থনৈতিক ঝুঁকি নয়, বরং কৌশলগত দুর্বলতাও।

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক আজ বিশ্বজুড়ে গুণগত মান, প্রতিযোগিতামূলক মূল্য এবং উৎপাদন সক্ষমতার জন্য সুপরিচিত। কিন্তু একটি মৌলিক প্রশ্ন থেকেই যায়—কেন এই সক্ষমতার সবচেয়ে বড় অংশ এখনও সীমিতসংখ্যক বাজারে আবদ্ধ থাকবে? কেন শত শত সম্ভাবনাময় বাজারকে উপেক্ষা করে একই ক্রেতাদের ওপর অতিনির্ভরশীল থাকতে হবে?

যে রাষ্ট্রের রপ্তানি কয়েকটি দেশের সিদ্ধান্তের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল, সেই রাষ্ট্রের অর্থনীতি অদৃশ্য চাপের মুখে থাকে। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে সম্পর্কের টানাপোড়েন, বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা, নতুন শুল্কনীতি কিংবা ভূরাজনৈতিক সংঘাত—যেকোনো একটি ঘটনা মুহূর্তেই রপ্তানি আয়ে বড় ধাক্কা দিতে পারে। তখন ক্ষতিগ্রস্ত হয় শুধু একটি শিল্প নয়; কর্মসংস্থান, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, বিনিয়োগ এবং সামগ্রিক অর্থনীতিও।

এ কারণেই এখন সময় এসেছে "নতুন বাজার কূটনীতি"কে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণা করার। আফ্রিকার দ্রুত বিকাশমান অর্থনীতি, মধ্য এশিয়া, লাতিন আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য, পূর্ব ইউরোপ, মধ্য এশিয়ার উদীয়মান ভোক্তা বাজার, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং বিশ্বের বহু নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের জন্য বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। সেখানে প্রবেশের জন্য প্রয়োজন পরিকল্পিত রাষ্ট্রনীতি, শক্তিশালী বাণিজ্য কূটনীতি এবং দীর্ঘমেয়াদি বাজার উন্নয়ন কৌশল।

শুধু আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় অংশগ্রহণ করলেই হবে না। প্রয়োজন বাণিজ্য মিশন, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি, নতুন শিপিং সংযোগ, স্থানীয় পরিবেশকদের সঙ্গে অংশীদারত্ব, ব্র্যান্ডিং, ডিজিটাল বিপণন এবং বিদেশে বাংলাদেশি বাণিজ্য প্রতিনিধিদের সক্রিয় ভূমিকা। প্রতিটি দূতাবাসকে কেবল ভিসা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান নয়, বরং রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণের কার্যকর অর্থনৈতিক মিশনে পরিণত করতে হবে।

এ দায়িত্ব শুধু উদ্যোক্তাদের নয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা, ব্যবসায়ী সংগঠন এবং কূটনৈতিক মিশন—সবাইকে সমন্বিত কৌশলে কাজ করতে হবে। কারণ এটি কেবল একটি শিল্পের প্রশ্ন নয়; এটি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার প্রশ্ন।

আজকের বিশ্বে অর্থনীতি আর রাজনীতি আলাদা কোনো বিষয় নয়। যে রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক বিকল্প যত বেশি, তার কূটনৈতিক স্বাধীনতাও তত শক্তিশালী। আর যে রাষ্ট্রের বাজার যত বৈচিত্র্যময়, আন্তর্জাতিক দরকষাকষির টেবিলে তার অবস্থানও তত দৃঢ়। বহুমুখী রপ্তানি বাজার মানে শুধু বেশি বিক্রি নয়; বরং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় অধিক আত্মবিশ্বাস।

বাংলাদেশকে তাই এমন অবস্থানে পৌঁছাতে হবে, যেখানে কোনো একটি বা কয়েকটি বাজারের পরিবর্তন দেশের অর্থনীতিকে নাড়িয়ে দিতে না পারে। নতুন ক্রেতা, নতুন অঞ্চল এবং নতুন বাণিজ্যিক অংশীদার তৈরি করাই হবে আগামী দশকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কৌশল।
বিশ্ব দ্রুত বদলাচ্ছে। যারা পরিবর্তনের আগেই নিজেদের প্রস্তুত করবে, ভবিষ্যতের নেতৃত্ব তাদের হাতেই থাকবে। কিন্তু যারা পুরোনো নির্ভরতার নিরাপদ খাঁচায় বন্দি থাকবে, পরিবর্তিত বিশ্ব তাদের জন্য অপেক্ষা করবে না।

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প শুধু রপ্তানি আয়ের উৎস নয়; এটি দেশের অর্থনৈতিক শক্তি, কূটনৈতিক সক্ষমতা এবং জাতীয় মর্যাদার অন্যতম ভিত্তি। তাই এখনই সময় একমুখী বাজারের শৃঙ্খল ভেঙে বহুমুখী বাণিজ্যের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের। কারণ শক্তিশালী অর্থনীতি কেবল উৎপাদনের ওপর দাঁড়ায় না—দাঁড়ায় বহুমাত্রিক বাজার, দূরদর্শী কৌশল এবং স্বাধীন অর্থনৈতিক সক্ষমতার ওপর-এমন কথা আজকের দিনে বলা অমূলক নয় বরং তা জরুরী।
লেখকঃ সাংবাদিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কলামিস্ট। 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাতীয় সংসদে বাজেট ডিব্রিফিং সেশনে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:৩৯ পি.এম


জাতীয় সংসদে বাজেট ডিব্রিফিং সেশনে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী

জাতীয় সংসদে ‘বাজেট হেল্পডেস্ক-২০২৬’-এর আওতায় আয়োজিত বাজেটবিষয়ক এক ডিব্রিফিং সেশন পরিচালনা করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, এমপি।

আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সংসদ ভবনের শপথকক্ষে এই সেশন অনুষ্ঠিত হয়।

ডিব্রিফিং সেশনটিতে, প্রতিমন্ত্রী জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর আইনি কাঠামো, দায়িত্ব ও কার্যপরিধি তুলে ধরেছেন। একই সঙ্গে তিনি জাতীয় বাজেটে স্থানীয় সরকার খাতে বরাদ্দ, উন্নয়ন তহবিলের আওতায় খাত ভিত্তিক অর্থবণ্টন এবং এ সংক্রান্ত বিদ্যমান নীতিমালা ও নির্দেশিকা সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো দেশের সার্বিক উন্নয়ন, অবকাঠামো নির্মাণ, জনসেবা সম্প্রসারণ এবং স্থানীয় পর্যায়ে টেকসই উন্নয়ন বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

এ সময়, তিনি জাতীয় বাজেটের যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি, জবাবদিহি এবং কার্যকর সমন্বয় জোরদারে গুরুত্বারোপ করেন।

উপস্থাপনা শেষে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে, প্রতিমন্ত্রী সংসদ সদস্যদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর প্রদান করেন এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাপনা, বাজেট বরাদ্দ, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা প্রদান করেন।

‘বাজেট হেল্পডেস্ক-২০২৬’-এর আওতায় আয়োজিত এ ডিব্রিফিং সেশনে, চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলামসহ জাতীয় সংসদের সদস্যবৃন্দ অংশগ্রহণ করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%