বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৬:৪৪ পি.এম
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার রাজকান্দি রেঞ্জের অধীন আদমপুর বিটের কালিন্জি বসতি এলাকায় যৌথ উচ্ছেদ অভিযানে বনের সংরক্ষিত ভূমির প্রায় ৫ একর ক্ষেত্র পুনরায় দখলমুক্ত করেছে বন বিভাগ। দীর্ঘ সময় ধরে অবৈধভাবে দখলকৃত বিভিন্ন বাগান, স্থাপনা ও একটি অবৈধ পুকুর উদ্দেশ্যে অপসারণের মাধ্যমে এই ভূমিটি পুনরায় বন বিভাগের নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০ টায় বন বিভাগ, উপজেলা প্রশাসন এবং কমলগঞ্জ থানা পুলিশের উদ্যোগে সম্মিলিতভাবে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিয়াজ মাহমুদ সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং উচ্ছেদ কার্যক্রমে নেতৃত্ব প্রদান করেন।
বন বিভাগের তথ্যমতে, একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘ সময় ধরে সংরক্ষিত বনভূমি দখল করে সেখানে মাল্টা, আনারস, লেবু ও সুপারির বাগান তৈরি করে বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ করে আসছিল। যৌথ অভিযানে এসব অবৈধ চাষাবাদ সম্পূর্ণভাবে উচ্ছেদ করা হয়েছে।
অভিযানের সময় অবৈধভাবে নির্মিত দুটি বাঁশ ও পলিথিনের শেড এবং একটি ওয়াচার শেড ভেঙে ফেলা হয়েছিল। এছাড়া, সংরক্ষিত বনাঞ্চলের একটি প্রাকৃতিক জলাশয়ে বাঁধ দিয়ে তৈরি করা অবৈধ পুকুরের পাড় কেটে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ পুনঃস্থাপন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এটি বনাঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বন বিভাগ জানিয়েছে, সংরক্ষিত বনভূমি দখলমুক্ত করার ফলে বনাঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশ, বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। ভবিষ্যতে নতুন করে কেউ যাতে বনভূমি দখল করতে না পারে, সেই কারণে নিয়মিত নজরদারি বাড়ানো হবে।
রাজকান্দি রেঞ্জ কর্মকর্তা এবং সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) প্রীতম বড়ুয়া বলেন, উদ্ধার করা বনভূমি পুনরায় বন বিভাগের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা হয়েছে। এ ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত বন আইন অনুযায়ী বন মামলা (পিওআর) দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। তিনি উল্লেখ করেন, ‘বনভূমি দখল ও ধ্বংসের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসন এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে ভবিষ্যতেও এ ধরনের যৌথ অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
তিনি আরো জানান, দখলমুক্ত স্থানে ‘৫ বছরে ২৫ কোটি’ বৃক্ষরোপণের আওতায় প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্পের মাধ্যমে বনায়ন সৃজন করা হবে।
পরিবেশবিদদের মতে, সংরক্ষিত বনভূমি দখলমুক্ত করার এ ধরনের উদ্যোগ বন সংরক্ষণ, জলাধার রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে বনভূমি দখলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হলে ভবিষ্যতে অবৈধ দখল অনেকাংশে হ্রাস পাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ ব্যাংক (বিবি) আর্থিক প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণ (এনপিএল) কমাতে বিশেষ ‘এক্সিট পলিসি’ চালু করেছে।
এই নীতিমালার লক্ষ্য হলো আর্থিক খাতে তারল্য পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটানো এবং এককালীন সমঝোতার মাধ্যমে খেলাপি ঋণ আদায় ও সমন্বয়ের সুযোগ সৃষ্টি করা।
আজ বৃহস্পতিবার জারি করা এক সার্কুলারে বলা হয়েছে, ব্যবসা, শিল্প অথবা প্রকল্প যেসব কারণে খেলাপি ঋণের আওতায় এসেছে, সেসব ঋণগ্রহীতারা এই বিশেষ ব্যবস্থার মাধ্যমে বকেয়া দায় নিষ্পত্তির সুযোগ পাবেন।
নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে, ঋণগ্রহীতাকে তার সম্পূর্ণ বকেয়া মূলধন এককালীন পরিশোধ করতে হবে। তবে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো মূলধনের কোনো অংশ মওকুফ করতে পারবে না। ঋণগ্রহীতার প্রকৃত প্রয়োজন যাচাই হলে সঞ্চিত সুদ মওকুফের সুযোগ থাকবে।
সার্কুলারে বলা হয়, সুদ মওকুফের প্রতিটি প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা বিভাগ দ্বারা পর্যালোচনা করতে হবে এবং অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও পরিপালন বিভাগের প্রধানের (এইচআইসিসি) মতামতের ভিত্তিতে অনুমোদন করতে হবে। অনিবার্য ক্ষেত্রে তহবিলের ব্যয় (কস্ট অব ফান্ড) আদায়-সংক্রান্ত শর্তেও শিথিলতা প্রদানের সম্ভবনা থাকতে পারে।
এই বিশেষ সুবিধা ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত ‘মন্দ বা লোকসান’ শ্রেণিভুক্ত ঋণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। ৬ আগস্ট ২০২৪ থেকে ৩০ জুন ২০২৬ সময়ের মধ্যে পুনঃতফসিল করা ঋণও এই সুবিধার আওতায় আসবে।
তবে অর্থ আত্মসাৎ, জালিয়াতি, প্রতারণা বা অন্যান্য অনিয়মের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঋণ এই বিশেষ এক্সিট সুবিধার আওতায় নয়।
বাংলাদেশ ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বল্পমেয়াদি কৃষিঋণ এবং কুটির, অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (সিএমএসএমই) খাতের ঋণ নিষ্পত্তিতে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
এছাড়া যোগ্য ঋণগ্রহীতাদের এই সুবিধার বিষয়ে অবহিত করার জন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিঠি এবং অন্যান্য উপযুক্ত যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করতে বলা হয়েছে।
ফাইন্যান্স কোম্পানি আইন, ২০২৩-এর ৪১ ধারার আওতায় জারি করা এই বিশেষ নীতিমালা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে এবং ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাবনার আতাইকুলায় লাশবাহী অ্যাম্বুল্যান্সের সাথে একটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনায় আরো একজন মারা গেছেন। এই ঘটনায় নিহতের মোট সংখ্যা বেড়ে চারজন হয়েছে।
মাধপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গুরুতর আহত শিশুটি, যার নাম নাফিস (৭), তাকে পাবনা থেকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর বিকেল তিনটায় চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহত নাফিস সাঁথিয়া উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের অধিবাসী রেজাউল করিমের ছেলে।
এর আগে, রাজশাহী যাওয়ার পথে নাটোর পৌঁছানোর পর শনিবার সকাল ১১টায় ছলিম প্রামাণিক (৬৫) নামক একজন মারা যান। তিনি সাঁথিয়া উপজেলার মাহমুদপুর গ্রামের মৃত দানেজ প্রামাণিকের সন্তান। এর পূর্বে, সকাল বেলা দুর্ঘটনাস্থলে মারা যান সাঁথিয়া উপজেলার মাহমুদপুর গ্রামের বুলু খাতুন (৫৭), যিনি ছলিম প্রামাণিকের স্ত্রী এবং অ্যাম্বুল্যান্স চালক রাজ শেখ (২৮), যিনি পাবনা পৌর শহরের উত্তর শালগাড়িয়া এলাকার জামাল শেখের পুত্র।
এ ঘটনায় আহত হয়েছেন দুটি ব্যক্তি, যারা ছলিম প্রামাণিকের মেয়ে নাজনিন খাতুন (৪০) এবং নাতি রিয়াদ সরদার (১৭)। বর্তমানে তারা পাবনা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে শিশু কেয়া খাতুনের মরদেহ নিয়ে একটি অ্যাম্বুল্যান্স সাঁথিয়া উপজেলার নিজ বাড়ির দিকে যাওয়ার পথে ছিল। বৃহস্পতিবার ১৬ জুলাই সোমবার সকালে সাড়ে সাতটার দিকে অ্যাম্বুল্যান্সটি পাবনা সদর উপজেলার আতাইকুলা থানার সড়াডাঙ্গীর কড়ইতলা এলাকায় পৌঁছালে, বিপরীত দিক থেকে আসা পাবনা এক্সপ্রেস বাসের সঙ্গে একটি মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। সংঘর্ষের ফলে অ্যাম্বুল্যান্সটি ধ্বংস হয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই নিহত হন অ্যাম্বুল্যান্সের চালক রাজ শেখ এবং লাশের সঙ্গে ছিলেন শিশু কেয়ার নানি বুলু খাতুন। এ সময় আরও চারজন গুরুতর আহত হন।
ঘটনাটি জানার পর মাধপুর হাইওয়ে থানার পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেন। তারা নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে এবং আহতদের পাবনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। একই সঙ্গে দুর্ঘটনায় জড়িত বাস ও অ্যাম্বুল্যান্সটি পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান হঠাৎ করে সৃষ্টি হয়নি; দীর্ঘদিনের স্বৈরাচারী শাসন, গণতন্ত্রহীনতা, দমন-পীড়ন, গুম, খুন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে মানুষের জমে থাকা ক্ষোভই এক সময়ে গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়।
এসময় খাগড়াছড়িতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ‘জুলাই শহীদ দিবস-২০২৬’ পালন উপলক্ষ্যে দিবসটির তাৎপর্য শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি-২৯৮ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল ওয়াদুদ ভূঁঞা।
তিনি জানান, জুলাই আন্দোলনের কৃতিত্ব কোনো একক ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের নয়; এটি দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষের সম্মিলিত সংগ্রামের ফল।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আওয়ামী লীগ আমলে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার জমানায় যে কয়েকটি ঘটনা বাংলাদেশের মানুষের মনোবেদনার কারণ হয়েছে তার পুনরাবৃত্তি বাংলাদেশের মানুষ দেখতে চায় না, এবং এটা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সকল রাজনৈতিক শক্তির।
এছাড়া সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিনটি জেলা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম সমন্বয় ও তদারকির দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবেই তিনি গত এক সপ্তাহ ধরে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় কাজ করছেন। সেই ধারাবাহিকতায় তিনি খাগড়াছড়ি সফর করছেন।
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত, পুলিশ সুপার মো. মোরতোজা আলী খাঁন, সিভিল সার্জন ডা. রতন খীসাসহ জেলার বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক নেতৃত্ববৃন্দ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ও কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আবু সাঈদের দ্বিতীয় শাহাদাতবার্ষিকীতে তার বাবা-মা ও সহযোদ্ধারা হত্যাকাণ্ড মামলার রায় দ্রুত কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন।
তারা বলেছেন, আদালতের রায় দ্রুত বাস্তবায়িত হলে অন্তত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে- এমন সান্ত্বনা পাওয়া যাবে।
২০২৪ সালের ১৬ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে পুলিশের গুলিতে নিহত হন আবু সাঈদ। পুলিশের সামনে বুক উঁচিয়ে দুই হাত প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে থাকা তার সেই দৃশ্যের ভিডিও ও ছবি দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। পরে তা সারা দেশে আন্দোলনে ছড়িয়ে পড়ে এবং ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়।
আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ গত ৯ এপ্রিল রায় ঘোষণা করেছেন। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল দুইজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ২৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করেন। সেই রায় দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানান নিহতের পরিবার ও সহযোদ্ধারা।
শহীদ আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন ছেলের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন। কান্নাফাটা কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘ছেলেটা তো আর ফিরে আসবে না। আজ ওর কথা খুব বেশি মনে পড়ছে। আদালত রায় দিয়েছে, কিন্তু সেই রায় যদি আমার জীবদ্দশায় কার্যকর হতে দেখতাম, তাহলে অন্তত মনে একটু শান্তি পেতাম।’ তিনি মামলার সব আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি কার্যকর করার দাবি জানান।
মা মনোয়ারা বেগমও ছেলেকে হারানোর বেদনা প্রকাশ করে বলেন, ‘প্রতিদিন বাবার কবরের কাছে যাই। বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকলেও প্রতিদিন ফোন করে খোঁজ নিতো। এখন আর কেউ বলে না- মা, কেমন আছো? সংসারের দায়িত্ব নেওয়ার কথা ছিল ওর। দেশের জন্য জীবন দিয়েছে। যারা আমার বাবাটাকে হত্যা করেছে, তাদের সবার ফাঁসি চাই।’
আবু সাঈদ গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তাকে বাঁচাতে সর্বপ্রথম এগিয়ে আসা সহযোদ্ধা সিয়াম আহসান আয়ান বলেন, ‘আবু সাঈদ নিজের পরিবার, বাবা-মা কিংবা নিজের জীবনের কথা না ভেবে দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আত্মত্যাগ করেছেন। আদালত যে রায় দিয়েছেন, সেটি দ্রুত কার্যকর হলে দেশের মানুষ ন্যায়বিচারের প্রতিফলন দেখতে পাবে।’
২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে আবু সাঈদের নেতৃত্বে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদের বাধা দিলে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ার শেল, রাবার বুলেট ও গুলি ছোড়ে। সংঘর্ষের মধ্যেও আবু সাঈদ সামনে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ অব্যাহত রাখেন।
একপর্যায়ে পুলিশের সামনে বুক উঁচিয়ে দুই হাত প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে থাকা আবু সাঈদকে লক্ষ্য করে গুলি করা হলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তাকে দ্রুত রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরদিন রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুর গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে দাফন করা হয়।
দ্বিতীয় শাহাদাতবার্ষিকীতে আবু সাঈদের কবর জিয়ারত, দোয়া মাহফিল, স্মরণ সভা ও বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে তাকে স্মরণ করছেন স্বজন, সহযোদ্ধা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সর্বস্তরের মানুষ। একই সঙ্গে তারা আবু সাঈদ হত্যার বিচার সম্পন্ন করে ঘোষিত রায় দ্রুত কার্যকরের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ