শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১০:৩১ এম
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যদি নতুন করে হামলা চালায়, তাহলে উপসাগরীয় অঞ্চলের সাতটি দেশের তেল স্থাপনা, সমুদ্রতলের যোগাযোগ ক্যাবল, ডেটা সেন্টার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসংক্রান্ত স্থাপনায় হামলা হবে বলে সতর্ক করেছেন ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসিন রেজায়ি।
মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের উপদেষ্টা মেহদি মোহাম্মদি, যিনি ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত বন্ধে আলোচনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তিনি বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নীতিগতভাবে নতুন হামলার বিষয়ে একমত হয়েছেন। তবে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, এ হামলায় সফলতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা পরবর্তী সংঘাতকে অস্তিত্বের জন্য হুমকি হিসেবে দেখছি। দুই বছরের মধ্যে তৃতীয় যুদ্ধ আমাদের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। আমাদের কৌশল হলো, কোনো সীমারেখা না মানা।’
মোহাম্মদি আরও বলেন, ‘আমরা সংঘাতের সময় ও ভৌগোলিক পরিসর—দুই ক্ষেত্রেই প্রচলিত সীমা ভেঙে দেব। শত্রুপক্ষ যতটা ধারণা করছে, যুদ্ধ তার চেয়ে দীর্ঘস্থায়ী হবে এবং আরও বিস্তৃত ভৌগোলিক এলাকায় ছড়িয়ে পড়বে।’
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সম্ভাব্য হামলার জবাবে ইরান এ ধরনের অভিযান চালানোর সক্ষমতা রাখে কি না এবং চীন বা রাশিয়ার কাছ থেকে অনানুষ্ঠানিক কোনো সহায়তা পায় কি না, তা যুদ্ধ শুরুর বিষয়ে ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
রেজায়ি বলেছেন, ‘যুদ্ধ শুরু হলে যোগাযোগ ক্যাবল, ডেটা সেন্টার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসংক্রান্ত স্থাপনাও হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। সংঘাত আবার শুরু হলে আমাদের আরও বিস্তৃত পরিকল্পনা থাকবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইরানের অর্থনৈতিক জীবনরেখায় হামলা চালানো হবে, অথচ এসব হামলা চালাতে সহায়তাকারী অর্থনৈতিক অবকাঠামোকে নিরাপদ ও হামলার আওতামুক্ত রাখা হবে—এমন কোনো ব্যবস্থা হতে পারে না।’
মার্কিন সংবাদমাধ্যমের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে নতুন করে যৌথ হামলা চালানোর জন্য দেশটির সামরিক উপদেষ্টারা লক্ষ্যবস্তুর একটি বিস্তারিত তালিকা তৈরি করেছেন।
এদিকে, ইরান, ইয়েমেন ও ফিলিস্তিনের সংকট নিয়ে সমন্বিত নীতি নির্ধারণে শুক্রবার ইস্তাম্বুলে বৈঠকে বসবেন তিনটি ইউরোপীয় দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং তুরস্ক, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও মিসরের প্রতিনিধিরা। তেহরান ও ওয়াশিংটন—উভয় পক্ষই নতুন করে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে আশঙ্কা বাড়ছে।
বুধবার, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের চেষ্টা করা চারটি বাণিজ্যিক জাহাজে একই সময়ে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) নৌবাহিনী। জাহাজগুলো থেকে অন্য জাহাজে তেল স্থানান্তর করা হচ্ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, প্রণালিতে মাইন বিস্ফোরণে আরও তিনটি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এসব জাহাজে হামলার সংখ্যা ও ঘটনার বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে, ইরানে নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৩ দশমিক ৪ ডলারে পৌঁছেছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের সর্বোচ্চ পর্যায়ের একটি।
গত চার মাসে সাতবার ইরানে নতুন করে হামলার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন ট্রাম্প। তবে কূটনৈতিক আলোচনা অচলাবস্থায় পড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা সম্ভাব্য নতুন সামরিক অভিযানের বিষয়ে আলোচনা করছেন। এ অভিযানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনা, তেল অবকাঠামো ও পারমাণবিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
দুই দেশের পাল্টাপাল্টি হুমকির পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথ সামরিক মহড়া চালিয়ে যাচ্ছে। ইরাকের আকাশসীমার ওপর দিয়ে উড্ডয়নসহ বিভিন্ন অভিযানের অনুশীলনও চলছে। সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইসরাইলের কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান ইরানের সীমান্তের কাছাকাছি উড়েছে।
এ ছাড়া, মধ্য ইরানের আরাক শহরের একটি বড় অ্যালুমিনিয়াম কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মাধ্যমে দেশটির ভেতরে অন্তর্ঘাতমূলক অভিযান চলার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।
সোমবার, ইসরাইলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে বৈঠক করেন নেতানিয়াহু। সেখানে সম্ভাব্য যৌথ হামলার সময় ও উদ্দেশ্য নিয়ে আলোচনা হয়। এ হামলা নেতানিয়াহুর পুনর্নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনায় কী প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেতানিয়াহু চান ইরান আগে হামলা চালাক। সোমবারের বৈঠকে তিনি হেগসেথকে এ মনোভাবের কথা জানিয়েছেন বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে।
ট্রাম্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নভেম্বরের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে তিনটি বিমানবাহী রণতরি, কয়েক হাজার মেরিন সেনা, যুদ্ধবিমান ও বিশেষ অভিযান পরিচালনাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হবে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঘনিষ্ঠ আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ রেজা নাসরি সতর্ক করে বলেছেন, যুদ্ধের তৃতীয় ধাপ শুরু হলে তা কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় সীমাবদ্ধ থাকবে না।
তিনি বলেন, ‘পুরো অঞ্চলের বিদ্যুৎ গ্রিড, লবণাক্ত পানি পরিশোধন কেন্দ্র, তেল শোধনাগার ও বন্দরগুলোতে আগুন জ্বলবে। কোটি কোটি মানুষ পানি ও বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়বে। আরব দেশগুলো থেকে বিপুলসংখ্যক শরণার্থী ইউরোপের দিকে ছুটবে।’
নাসরি আরও বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে, তেলের দাম আকাশচুম্বী হবে এবং বিশ্ব অর্থনীতি মন্দার মুখে পড়বে। সেনা মোতায়েন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এমনিতেই চাপে থাকা ইসরাইলের অর্থনীতি দীর্ঘস্থায়ী ক্ষয়িষ্ণু যুদ্ধের ধকল সামলাতে পারবে না। আর ট্রাম্প এমন এক সংকটে আটকে পড়বেন, যা তার প্রেসিডেন্সির বাকি সময়কে গ্রাস করবে এবং পরবর্তী প্রশাসনের জন্য ধ্বংসস্তূপ রেখে যাবে।’
আইআরজিসির ঘনিষ্ঠ সংবাদ সংস্থা ফার্স জানিয়েছে, ইরান তার বিভিন্ন সামরিক ও অভিযান পরিচালনাকারী ইউনিটকে নির্দেশনা দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, নতুন করে বড় ধরনের যুদ্ধ শুরু হলে, বিশেষ করে ইরানি কর্মকর্তাদের হত্যা ও বেসামরিক নাগরিকদের প্রাণহানির ঘটনা ঘটলে, ইরানের পাল্টা জবাব শুধু সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে সীমাবদ্ধ থাকবে না; রাজনৈতিক লক্ষ্যবস্তুও হামলার আওতায় আসবে।
এদিকে, যুদ্ধবিরতির পথ খুঁজতে ইরান ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীরা চলতি সপ্তাহে আবারও আলোচনা করেছেন। আলোচনায় আগের কিছু প্রস্তাব নতুনভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ তুলে নেওয়া, জাতিসংঘের অস্ত্র পরিদর্শকদের বোমা হামলার শিকার ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পরিদর্শনের সুযোগ দেওয়া এবং দেশটির উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানোর বিনিময়ে ইরানকে কয়েক বিলিয়ন ডলারের জব্দ সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়া। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার কুশুলিয়া ইউনিয়নের ঘোজাডাঙা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক শহীদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের সাথে অশালিন আচরণ, বিদ্যালয়ের বিভিন্নখাতে বরাদ্দের টাকা আত্মসাৎসহ নানা অভিযোগ এনে তার বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসক, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরে অভিযোগ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের সহসভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান ও সাবেক সভাপতি মতিয়ার রহমানসহ পরিচালনা কমিটির তিনজন সদস্য, কয়েকজন অবিভাবক গত রবিবার এ অভিযোগ করেন। আবেদনপত্রে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাশেম, ১ নং ওয়ার্ড সদস্য আবু মুছা সরদার সুপারিশ করেছেন।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে শহীদুল ইসলাম ঘোজাডাঙা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলী হয়ে আসেন। এ বিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকে শহীদুল ইসলাম ছাত্রীদের ছবি উঠিয়ে ব্লাক মেইল করার চেষ্টা, শ্লীলতাহানির অভিযোগের পাশাপাশি অভিভাবকদের সাথে খারাপ ব্যবহারের
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাবনা থেকে ঢাকায় সরাসরি চালু হতে যাওয়া আন্তঃনগর ট্রেনটি ঈশ্বরদী জংশন স্টেশনে যাত্রাবিরতি করবে। বাংলাদেশ রেলওয়ে আগামী নভেম্বরের শেষার্ধে ট্রেনটির চালুর আশা করছে। সরকার পাকশীর হার্ডিঞ্জ ব্রিজের পাশে একটি নতুন রেলসেতু নির্মাণের পরিকল্পনাও গ্রহণ করেছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাতে পাকশীর হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এলাকা পরিদর্শনকালে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহিমুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।
তিনি উল্লেখ করেন, পাবনা-ঢাকা সরাসরি ট্রেনটি পাবনার মানুষের জন্য আবেগের একটি বিষয়। বর্তমানে ভারত থেকে ১৮টি কোচ বাংলাদেশে এসেছে, যা আমরা রিসিভ করেছি। বর্তমানে সেগুলো সৈয়দপুর ক্যারেজ ওয়ার্কশপে রয়েছে। আমাদের কিছু অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শেষে ভারত থেকে কিছু প্রকৌশলী আসবেন। এসব প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর আমরা আশা করছি, আগামী নভেম্বরের শেষার্ধে ট্রেনটি চালু করতে পারব। ঢাকা-পাবনা-ঢাকা রুটে এটি চালু হবে এবং এতে ১২টি কোচ থাকবে।
তিনি আরও বলেন, ঢাকা-পাবনা ট্রেনটি ঈশ্বরদী স্টেশনে প্রাথমিকভাবে থামানোর পরিকল্পনা রয়েছে। মাঝগ্রাম থেকে ইঞ্জিন ঘুরিয়ে ট্রেনটি ঢাকায় নিয়ে গেলে কিছু পরিচালনাগত ঝুঁকি সৃষ্টি হতে পারে। ঈশ্বরদীতে সব ধরনের পরিচালনাগত সুযোগ-সুবিধা থাকায় এখান থেকে ইঞ্জিন পরিবর্তন করে ট্রেন পরিচালনা করা সুবিধাজনক হবে। এতে হয়তো কিছুটা সময় বেশি লাগবে, তবে নিরাপত্তা ও পরিচালনাগত স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য ঈশ্বরদী থেকেই ট্রেনটি পরিচালনা করা উচিত।
পাকশীর হার্ডিঞ্জ ব্রিজের পাশে নতুন সেতু নির্মাণের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১৯১৫ সালে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছিল। সেতুটির অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল পার হলেও বাংলাদেশ রেলওয়ে সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করায় এটি এখনো সচল রয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের বর্তমানে রেলওয়ে নিয়ে অনেক পরিকল্পনা রয়েছে, যার মধ্যে পঞ্চগড় থেকে রাজশাহী হয়ে কক্সবাজার যাওয়ার একটি পরিকল্পনা রয়েছে। সব জায়গায় ট্রেন চালুর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হলে বর্তমান হার্ডিঞ্জ ব্রিজ যথেষ্ট হবে না। এ ক্ষেত্রে আমাদের আরও একটি সেতু নির্মাণ করতে হবে। ইতিমধ্যে সেতুটি নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় স্থান নির্ধারণ ও নকশা চূড়ান্ত করা হয়েছে। অর্থায়ন নিশ্চিত হলে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) আবু হেনা মোস্তফা আলম, বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, বিভাগীয় প্রকৌশলী-২ নাজিব কায়সার এবং বিভাগীয় রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর কমান্ড্যান্ট রেজওয়ান উর রহমানসহ রেলওয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানের সরকার উৎখাতকে দেশের ‘প্রধান লক্ষ্য’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। যদিও ইরানে সামরিক হামলা চালিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটানোর সামর্থ্য ইসরাইলের রয়েছে, তবে দেশটির সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার কার্যকর কৌশল নেই বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। তাদের মতে, বিমান হামলা চালিয়ে এ লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব নয়। এজন্য স্থল অভিযান প্রয়োজন হতে পারে, যা পরিচালনার জন্য ইসরাইলকে দীর্ঘ সময় ধরে বড় ধরনের সামরিক প্রতিশ্রুতি দিতে হবে।
জাতীয় নির্বাচনের আর মাত্র এক সপ্তাহ বাকি থাকতেই জনমত জরিপে সমর্থন কমতে থাকা নেতানিয়াহু ইরানের সরকার উৎখাতের বিষয়ে এই অবস্থান প্রকাশ করেন। রোববার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা এবং মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের প্রধান পিট হেগসেথের ইসরাইল সফরের পর তিনি এ বক্তব্য দেন। তবে ইরানে নতুন হামলা চালাতে যুক্তরাষ্ট্র সম্মত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে কোনো ইঙ্গিত দেননি নেতানিয়াহু। ইরানের নেতৃত্বকে ক্ষমতাচ্যুত করার অভিযানে ওয়াশিংটন যোগ দেবে, এমন নিশ্চয়তাও পাওয়া যায়নি।
আলজাজিরার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ইরান ইতোমধ্যে দুই দফা হামলা মোকাবিলা করেছে। দেশটির পাল্টা আঘাত হানার সক্ষমতাও রয়েছে। ইসরাইলের পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চলের যেসব দেশে মার্কিন সামরিক স্থাপনা রয়েছে, সেসব দেশও ইরানের পাল্টা হামলার ঝুঁকিতে পড়তে পারে। অন্যদিকে, নতুন সংঘাত শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্র কতটা সহায়তা করবে, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। ইরানকে নিজেদের শর্ত মানতে বাধ্য করার বিশ্বাসযোগ্য পথ এখনো খুঁজে পায়নি ওয়াশিংটন। ফলে নতুন যুদ্ধে জড়ানোর আগ্রহ নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন বিশ্লেষকেরা।
ইসরাইলের সামরিক শক্তি কতটা কার্যকর
ইরানে হামলা চালানোর মতো সামরিক সক্ষমতা ইসরাইলের রয়েছে। যুক্তরাজ্যের গবেষণাপ্রতিষ্ঠান রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের (আরইউএসআই) গবেষক আরবান কনিংহাম আলজাজিরাকে জানান, ইসরাইলের আক্রমণাত্মক অস্ত্রের মজুত এবং আকাশে জ্বালানি নিয়ে দীর্ঘ সময় উড্ডয়নের সক্ষমতা দেশটিকে বাড়তি সুবিধা দেয়। তাঁর মতে, ইসরাইল আবারও আকাশপথে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে পারবে।
তবে সামরিক স্থাপনা ধ্বংস করা এবং একটি সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা এক বিষয় নয়। বিশ্লেষকদের সংশয়, ইরানের সামরিক সক্ষমতায় বড় আঘাত হানলেও দেশটির রাজনৈতিক নেতৃত্বকে সরানোর মতো ফল অর্জন করতে পারবে কি না ইসরাইল।
১৯৯৬ সালে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সময় থেকেই নেতানিয়াহু ইরানের নেতৃত্বকে বড় হুমকি হিসেবে তুলে ধরছেন। ওই বছরের জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে দেওয়া ভাষণে তিনি ইরানকে সবচেয়ে বিপজ্জনক শাসনব্যবস্থাগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। তার অভিযোগ ছিল, দেশটিতে কঠোর স্বৈরশাসনের সঙ্গে উগ্র মতাদর্শের সমন্বয় ঘটেছে।
প্রায় তিন দশক পর নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের চাওয়া অনুযায়ী ইরানে সামরিক হস্তক্ষেপ করে যুক্তরাষ্ট্র। ২০২৫ সালের জুনের যুদ্ধে এবং চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সামরিক অভিযানে ওয়াশিংটন অংশ নেয়। তবে এসব হামলার পরও ইরানের সরকার উৎখাত হয়নি।
বিমান হামলার সীমাবদ্ধতা নেতানিয়াহুও স্বীকার করেছিলেন। গত মার্চে তিনি বলেছিলেন, শুধু আকাশপথে হামলা চালিয়ে এ লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। এর সঙ্গে স্থল অভিযানও প্রয়োজন। তবে সেই অভিযান কীভাবে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি তিনি।
তুরস্কের কায়সেরি শহরের আবদুল্লাহ গুল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক জাগলার কুরচ আলজাজিরাকে বলেন, বিমান হামলায় ইরানের সামরিক শক্তি দুর্বল করা সম্ভব। কিন্তু এতে দেশটির পাল্টা আঘাত হানার সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস হবে না। যেসব অস্ত্র ও সামরিক ব্যবস্থা গোপন বা সুরক্ষিত স্থানে রাখা হয়েছে, সেগুলোর অনেকই টিকে যেতে পারে।
কুরচের মতে, ইরানের সরকার উৎখাত করতে হলে স্থলসেনা মোতায়েনের পাশাপাশি বছরের পর বছর সেখানে অবস্থান করার প্রস্তুতি থাকতে হবে।
গোপন অভিযানেও সরকার উৎখাত কঠিন
ইরানে আগের হামলাগুলোতে ব্যবহৃত গোপন অভিযান ভবিষ্যতেও একইভাবে কার্যকর হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। কনিংহাম বলেন, গোয়েন্দা তৎপরতায় ব্যবহৃত নেটওয়ার্কগুলোকে তিনি ‘ব্যবহার করে বিসর্জন দেওয়ার মতো সম্পদ’ হিসেবে দেখেন। কারণ, এসব নেটওয়ার্ক কাজে লাগালে সেগুলোর পরিচয় ফাঁস হওয়ার ঝুঁকি থাকে। পরে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী সেগুলো শনাক্ত করে ভেঙে দিতে পারে।
তবে ইরানের ভেতরে ইসরাইলের মানব গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক এখনো রয়েছে বলে মনে করেন কনিংহাম। সাইবার হামলাও নতুন অভিযানের অংশ হতে পারে। কিন্তু এসব সক্ষমতা ব্যবহার করলে সেগুলোও প্রকাশ হয়ে পড়তে পারে। তাই অভিযানে কতটা বাস্তব সামরিক সাফল্য পাওয়া যাবে, তা বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।
কনিংহামের মতে, গোপন অভিযান ও সাইবার হামলা দিয়ে ইরানের সরকার উৎখাতের সুস্পষ্ট পথ তৈরি করা সম্ভব নয়। কুর্দি বা বালুচ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মাধ্যমে ইরানের রাষ্ট্রীয় কাঠামো ভেঙে দেওয়ার সম্ভাবনা কম।
মার্চে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বিরোধী কুর্দি গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র দেওয়ার বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছিল বলে খবর প্রকাশিত হয়েছিল। সিএনএন কুর্দি ও মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে এ তথ্য জানায়। তবে সেই আলোচনা আর এগোয়নি।
কনিংহাম বলেন, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) মোকাবিলা করার মতো সামরিক সক্ষমতা কুর্দি গোষ্ঠীগুলোর নেই।
পাল্টা আঘাত হানার সক্ষমতা ধরে রেখেছে ইরান।
ইসরাইলের সমানসংখ্যক যুদ্ধবিমান না থাকলেও ইরান নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে ইসরাইলের জন্য সংঘাতকে ব্যয়বহুল করে তুলতে পারে বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা। ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্য নির্ধারণব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ইরানের হাতে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র এখনো থাকতে পারে।
আরইউএসআইয়ের জ্যেষ্ঠ গবেষক সিদ্ধার্থ কৌশল আলজাজিরাকে বলেন, ইরানের হাতে জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতও উল্লেখযোগ্য থাকতে পারে। এ ধরনের অস্ত্র তুলনামূলক সহজে তৈরি করা যায়। পুরোনো চীনা প্রযুক্তির জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের বড় অংশের উৎপাদন সক্ষমতাও নিজেদের নিয়ন্ত্রণে এনেছে ইরান। এ ছাড়া দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের পাহাড়ি এলাকা বিমান হামলা থেকে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম রক্ষার প্রাকৃতিক আশ্রয় হিসেবে কাজ করতে পারে।
অন্যদিকে, দীর্ঘ সময় ধরে হামলা মোকাবিলা করতে গিয়ে ইসরাইলের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়তে পারে। কনিংহাম বলেন, আগের পাল্টাপাল্টি হামলায় ইসরাইলের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার অস্ত্রের মজুত কমেছে।
এ ধরনের সংঘাতের আর্থিক চাপও কম নয়। ইরানের তুলনামূলক সস্তা ড্রোন ধ্বংস করতে ইসরাইলকে অনেক বেশি দামের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ব্যবহার করতে হয়। দীর্ঘ সময় ধরে হামলা চললে ইসরাইলের প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত আরো কমতে পারে। অন্যদিকে, ইরান তুলনামূলক কম খরচে বিপুলসংখ্যক অস্ত্র তৈরি করে যাওয়ার সক্ষমতা ধরে রাখতে পারে।
নতুন হামলায় যুক্ত হবে কি যুক্তরাষ্ট্র
বিশ্লেষকদের ধারণা, ইরানে নতুন করে হামলা চালাতে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা কম। তাদের মতে, তেল আবিব ও ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক স্বার্থে পার্থক্য রয়েছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নতুন করে সংঘাত বাড়ানো এড়াতে ট্রাম্পের ওপর চাপ রয়েছে।
চলতি সপ্তাহে ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানে নতুন করে হামলার বিষয়ে ইসরাইলের একটি প্রস্তাবে ট্রাম্প সম্মতি দেননি। তবে এতে এমন ইঙ্গিত নেই যে ওয়াশিংটন ভবিষ্যতের সব হামলার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে। আপত্তিটি তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের সময় নিয়ে হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা ছাড়া ইসরাইলের জন্য ইরানের গভীরে মাটির নিচে থাকা স্থাপনায় আঘাত হানা আরো কঠিন হবে বলে মনে করেন কনিংহাম। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকা জিবিইউ-৫৭ বাংকার ধ্বংসকারী বোমার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি বোমার ওজন ৩০ হাজার পাউন্ড। ২০২৫ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্রের বি-২ বোমারু বিমান ইরানের ফোরদো ও নাতাঞ্জের পারমাণবিক স্থাপনায় এসব বোমা ব্যবহার করেছিল। গভীর ভূগর্ভে থাকা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার জন্য তৈরি এ অস্ত্র ব্যবহারের সক্ষমতা ইসরাইলের একার নেই।
কনিংহামের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন ছাড়া ইসরাইল হামলা চালালে ইরান পাল্টা আঘাতের মূল লক্ষ্য হিসেবে ইসরাইলকে বেছে নিতে পারে। একই সঙ্গে মার্কিন স্থাপনা এবং হরমুজ প্রণালিতে বিঘ্ন ঘটানো এড়িয়ে চলতে পারে তেহরান। এর ফলে ওয়াশিংটনকে সরাসরি যুদ্ধে জড়ানো ছাড়াই ইসরাইলকে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করতে পারে ইরান।
এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরাইল আরো বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে। গাজায় গণহত্যার অভিযোগ ও সামরিক অভিযানের কারণে দেশটি আগে থেকেই ব্যাপক আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে রয়েছে।
সামরিক সাফল্যই সরকার পতনের নিশ্চয়তা নয়
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানে নতুন হামলার ক্ষেত্রে ইসরাইলের সবচেয়ে বড় বাধা সামরিক শক্তির ঘাটতি নয়; বরং সামরিক সাফল্যকে রাজনৈতিক পরিবর্তনে রূপ দেওয়ার বাস্তবসম্মত পথের অভাব। ইরানের সামরিক স্থাপনা ধ্বংস করা সম্ভব হলেও তাতে দেশটির সরকার পতন নিশ্চিত হয় না।
কুরচ বলেন, কোনো সরকারকে উৎখাত করতে হলে সেখানে সেনা পাঠিয়ে কয়েক বছর অবস্থান করার প্রস্তুতি থাকতে হয়। ইসরাইলের পক্ষে ইরানকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। আর যুক্তরাষ্ট্রও এমন আরেকটি সরকার পরিবর্তনের অভিযানে জড়াবে না, যা বাস্তবায়নে কয়েক দশক লেগে যেতে পারে।
নেতানিয়াহু ইরানের সরকার উৎখাতকে প্রধান লক্ষ্য হিসেবে ঘোষণা করলেও সেই লক্ষ্য অর্জনের কার্যকর পরিকল্পনা এখনো স্পষ্ট নয়। বিশ্লেষকদের মতে, নতুন করে বিমান হামলা চালিয়ে ইরানের সামরিক শক্তি দুর্বল করা সম্ভব হতে পারে। কিন্তু স্থল অভিযান, দীর্ঘমেয়াদি সামরিক উপস্থিতি ও যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা ছাড়া দেশটির রাজনৈতিক নেতৃত্বকে সরানো কতটা সম্ভব, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি।
এএম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘অন্যপাতা’ ২৩ অক্টোবর মুক্তি পেতে যাচ্ছে। সিনেমাটিতে ছয়টি মৌলিক গান ও আবহসংগীত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। চট্টগ্রামসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রাকৃতিক দৃশ্য ক্যামেরায় ধারণ করা হয়েছে।
প্রথম ধাপে সিনেমাটি দেশের ১০টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে। এই প্রেক্ষাগৃহগুলোর মধ্যে রয়েছে—ঢাকার স্টার সিনেপ্লেক্সের সনি স্কয়ার শাখা, কেরানীগঞ্জের লায়ন সিনেমাস, ঢাকার শ্যামলী সিনেমা, চট্টগ্রামের স্টার সিনেপ্লেক্সের বালি আর্কেড শাখা, চট্টগ্রামের সুগন্ধা সিনেপ্লেক্স, কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টের কে স্ক্রিন, রাজশাহীর গ্র্যান্ড রিভার ভিউ, বগুড়ার মমো ইন সিনেপ্লেক্স, নারায়ণগঞ্জের সিনেস্কোপ এবং কুষ্টিয়ার স্বপ্নীল সিনেপ্লেক্স। নির্মাতাদের পরিকল্পনা রয়েছে দর্শকদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পেলে পরবর্তী সময়ে প্রেক্ষাগৃহের সংখ্যা বাড়ানোর।
ছয় বন্ধুর শখ থেকে চল্লিশজনের দল
এই উদ্যোগের শুরুটা ছিল খুব ছোট আকারে। সিনেমা বানানোর শখ থেকে ছয়জন একসঙ্গে কাজ শুরু করেন। পরে এতে যুক্ত হন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আরও অনেক শিক্ষার্থী। কেউ ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছেন, কেউ পেছনে আলো, শিল্পনির্দেশনা কিংবা সম্পাদনার কাজ সামলেছেন। কেউ লিখেছেন সংলাপ, কেউ সুর বেঁধেছেন। ছয়জনের সেই দল এখন ৪০ জনেরও বেশি সদস্যের একটি বড় পরিবারে পরিণত হয়েছে।
ছবির গল্প ও চিত্রনাট্য রচনা করেছেন চলচ্চিত্রটির পরিচালক ও চুয়েটের স্থাপত্য বিভাগের শিক্ষার্থী মো. শাহেজাহান এ্যানি। তার এই যাত্রা এক দিনে শুরু হয়নি। কোভিডকালে জীবনের প্রথম স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণের মাধ্যমে তিনি নিজের ওপর ভরসা পান যে একদিন নির্মাতা হতে পারবেন। এরপর টানা তিন বছর কোনো কাজ করেননি। সেই সময় তিনি চলচ্চিত্র নিয়ে পড়াশোনা করেছেন এবং অমিতাভ রেজার পরামর্শ নিয়েছেন। যখন তার মনে হয়েছে, এবার তিনি প্রস্তুত, তখনই তিনি ‘অন্যপাতা’ নির্মাণের কাজে হাত দেন।
এ্যানি বলেন, ‘অন্যপাতা’ তৈরি করতে গিয়ে আমি আবিষ্কার করেছি, আমার চারপাশের মানুষগুলো কতটা সুন্দর ও সহযোগিতাপরায়ণ। ছয়জনের একটি দল থেকে ধীরে ধীরে আমাদের দল ৪০ জনে পরিণত হয়েছে। তাই মাঝে মাঝে আমরা বলি, অন্যপাতা আমরা তৈরি করিনি, অন্যপাতা আমাদের তৈরি করেছে।
প্রথম সিনেমা নির্মাণের পথে নানা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হয়েছে। নিজেদের অর্থায়নে সিনেমা নির্মাণের পাশাপাশি বিতরণের দায়িত্বও নিজেদের কাঁধে তুলে নিয়েছেন ‘অন্যপাতা’র তরুণ নির্মাতারা। প্রথম চলচ্চিত্র নির্মাণের অভিজ্ঞতা থাকলেও চলচ্চিত্রশিল্পের কার্যপ্রক্রিয়া সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা না থাকায় তারা নানা সময়ে সমস্যায় পড়েছেন। কীভাবে এগোতে হবে, কার সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে—এসব নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে প্রতারণার শিকার হয়ে তারা প্রায় এক লাখ টাকা হারিয়েছেন। তবু নানা বাধা পেরিয়ে তারা নিজেদের স্বপ্নের সিনেমাটি বড় পর্দায় নিয়ে আসার প্রচেষ্টা থামাননি।
সিনেমাটির অন্যতম প্রযোজক অংকন দে অনিমেষ বলেন, নির্মাণের সময় আমরা এমন একটি দল নিয়ে শুরু করেছিলাম, যাদের কেউ কখনো শুটিং দেখেনি, কারণ চট্টগ্রামে তেমন শুটিং হয় না। তবে দলের সদস্যরা এতটাই আন্তরিক ছিলেন যে তাদের বোঝাতে খুব বেশি সময় লাগেনি। আমাদের মূল চ্যালেঞ্জ শুরু হয় সিনেমাটি বানানোর পর। গান, মিউজিক ভিডিও ও শুটিংয়ের কাজ শেষ করার পর আমরা সবাই শিক্ষার্থী হওয়ায় চলচ্চিত্রশিল্পে আমাদের তেমন যোগাযোগ ছিল না। ফলে সিনেমাটি কীভাবে মুক্তি পাবে, সেটাই ছিল বড় সমস্যা। অনেকেই প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দিতে ভয় পান, আর সেই ভয় আমাদের মধ্যেও ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তবু আমরা পিছিয়ে যাইনি। অনেক জটিলতা পেরিয়ে আজ আমরা এই জায়গায় এসেছি। মুক্তির প্রথম দিনেই সিনেমাটি ১০টি প্রেক্ষাগৃহে চলছে—এটি আমাদের জন্য অনেক বড় অর্জন।
প্রযোজনার পাশাপাশি সহকারী পরিচালক হিসেবেও কাজ করেছেন অনিমেষ। এমনকি অভিনয়ও করেছেন সিনেমাটিতে। শুরুতে পেছনের দৃশ্যে দু-একটি সংলাপ বলার পরিকল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তার চরিত্রটি আলাদা গুরুত্ব পেয়েছে। চরিত্রটির নিজস্ব গল্প ও বিচিত্র কর্মকাণ্ডে হাস্যরস এবং সমাজের কিছু চেনা বাস্তবতা উঠে এসেছে। প্রকৌশলীদের বেকারত্ব, পলিটেকনিক শিক্ষার্থীদের কোটা এবং প্রকৌশল শিক্ষায় তীব্র প্রতিযোগিতার যৌক্তিকতা নিয়ে নানা প্রশ্নও চরিত্রটির কথোপকথনে স্থান পেয়েছে।
অন্যদিকে, সিনেমাটির আরেক প্রযোজক বুয়েটের শিক্ষার্থী আবতাহী শামসের কাছে ‘অন্যপাতা’ কেবল একটি চলচ্চিত্র নয়, বরং স্বপ্নপূরণের অভিজ্ঞতা। তিনি বলেন, ‘অন্যপাতা’ আমার কাছে শুধু একটা সিনেমা নয়, এটি আমার জন্য একটি স্বপ্নকে সত্যি করার গল্প। প্রযোজক হিসেবে এটি আমার প্রথম কাজ, তাই প্রতিটি মুহূর্তেই নতুন কিছু শিখেছি, ভুল করেছি, আবার ঠিক করার চেষ্টা করেছি। সবচেয়ে ভালো লেগেছে, এতগুলো মানুষের বিশ্বাস আর পরিশ্রমকে একটি গল্পের মধ্যে একসঙ্গে দেখতে পারা। আমরা আমাদের জায়গা থেকে যতটা ভালোবাসা দিয়ে কাজটা করতে পেরেছি, সেটাই আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এখন সিনেমাটা দর্শকের, তারা কীভাবে নেন, সেটাই দেখার অপেক্ষা।
পর্দার সামনে ও পেছনে গল্প গড়েছেন যাঁরা। সিনেমার প্রধান দুই চরিত্রে অভিনয় করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শাহরিয়া শাকিল ও প্রত্যাশা পাল। শাকিল বলেন, এটি আমার প্রথম সিনেমা। ছবির গল্প, পুরো দলের আন্তরিকতা এবং আমার অভিনীত চরিত্রের জীবনযাত্রা আমাকে অভিনয়ে অনুপ্রাণিত করেছে। দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে একটি চরিত্রের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত রাখার অভিজ্ঞতা ছিল দারুণ। সিনেমাটি নিয়ে আমি শতভাগ আশাবাদী। আশা করি, এর মাধ্যমে বাংলাদেশের দর্শকেরা নতুন কিছু দেখবেন এবং প্রেক্ষাগৃহ দর্শকে পরিপূর্ণ হয়ে উঠবে।
প্রত্যাশা বলেন, ‘অন্যপাতা’র গল্পই আমাকে সবচেয়ে বেশি কাজ করতে অনুপ্রাণিত করেছে। প্রথমবার গল্পটি শোনার পর মনে হয়েছিল, এই গল্পের প্রতি আমার একটি দায়বদ্ধতা রয়েছে। ছবিটির পুরো যাত্রা আমি নিজের চোখের সামনে দেখেছি, তাই এটি নিয়ে আমি অনেক আশাবাদী। আশা করি, ‘অন্যপাতা’ অনেক দূর এগিয়ে যাবে। এসজেএ প্রোডাকশনের সঙ্গে কাজ করাকে আমি সৌভাগ্য মনে করি। পুরো দলের আন্তরিকতা ও সহযোগিতা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। অভিনয়ের ক্ষেত্রে আমার বিভিন্ন চ্যালেঞ্জও তারা খুব সুন্দরভাবে সামলেছেন।
পর্দার পেছনেও কাজ করেছেন তরুণ শিক্ষার্থীরা। কারিগরি ও শিল্পনির্দেশনার দায়িত্বে ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্দ্র নীল। চিত্রগ্রহণ করেছেন ইব্রাহিম বিন আনছারী। ছয়টি মৌলিক গানের সংগীত পরিচালনা করেছেন ফাহরিয়ান তাসজিম মনন, আর আবহসংগীত তৈরি করেছেন আইনান। কাস্টিং পরিচালনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নোমান। সিনেমার রং বিন্যাস করেছেন চুয়েটের তানভীর জানি, আর ত্রিমাত্রিক অ্যানিমেশনশিল্পী হিসেবে কাজ করেছেন মাশরাফি ইসলাম শাফিন।
ভর্তি-যুদ্ধের গল্পে ‘অন্যপাতা’
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির স্বপ্ন, পরিবারের প্রত্যাশা আর টানাপোড়েনের জীবন—এসবের মধ্য দিয়েই এগিয়ে চলে ‘অন্যপাতা’র গল্প। ভর্তি পরীক্ষার মৌসুমে যখন চারদিকে কোচিং, ব্যাচ আর মডেল টেস্টের ব্যস্ততা, তখন এক মধ্যবিত্ত পরিবারের তরুণকে লড়তে হয় ভিন্ন বাস্তবতার সঙ্গে। আর্থিক সংকটের কারণে কোচিংয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ না থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন ছাড়তে রাজি নয় সে। স্বপ্নপূরণের এই যাত্রায় পারিবারিক চাপের পাশাপাশি তার জীবনে আসে ভালোবাসা, আত্মপরিচয়ের দ্বন্দ্ব আর নানা অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি। চেনা এই গল্পের মধ্য দিয়ে সিনেমাটিতে উঠে এসেছে ভর্তি-যুদ্ধের আড়ালে থাকা এক তরুণের সংগ্রাম ও বেড়ে ওঠার অভিজ্ঞতা।
বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার সময়কে ঘিরেই গল্পের বিস্তার। পরিচালক এ্যানি বলেন, এটা কোনো পরীক্ষামূলক গল্প নয়। এটা আমাদের সবার গল্প, প্রতিদিনের লড়াইয়ের গল্প। দর্শক বড় পর্দায় এই গল্পের মধ্যে নিজেদেরই খুঁজে পাবেন।
প্রযোজক অনিমেষ বলেন, ভর্তি-প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সবাই যায়, অথচ এ নিয়ে খুব বেশি কাজ হয় না। এই গল্পটা কোথাও না কোথাও বলা খুব দরকার ছিল।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের দর্শকেরা এই সিনেমায় একটি মিষ্টি, কমেডির ছোঁয়াযুক্ত অভিজ্ঞতা পাবেন, যা সচরাচর দেখা যায় না। ‘অন্যপাতা’র গল্পের পাশাপাশি এর গান, আবহসংগীত এবং সামগ্রিক চলচ্চিত্রিক উপস্থাপন দর্শকদের প্রেক্ষাগৃহে সিনেমা দেখার অভিজ্ঞতাকে আরও উপভোগ্য করে তুলবে বলে আমার বিশ্বাস। তাই আমি সবাইকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি, তারা যেন প্রেক্ষাগৃহে এসে সিনেমাটি উপভোগ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ