ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সংস্কৃতিমন্ত্রী: 'ক্ষুদ্র' শব্দটি নৃগোষ্ঠীর জন্য অপমানজনক


সংস্কৃতিমন্ত্রী:

সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী মন্তব্য করেছেন, পাহাড় বা সমতলে বসবাসরত কোনো নৃগোষ্ঠীর নামের আগে ‘ক্ষুদ্র’ শব্দটির ব্যবহার ‘অত্যন্ত অপমানজনক’। তিনি উল্লেখ করেন, পূর্বে ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী’ বলা হতো, যা তিনি অত্যন্ত অপমানজনক মনে করেন। তাঁর মতে, ‘ক্ষুদ্র’ এবং ‘বৃহৎ’ শব্দের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য দিবস উপলক্ষে জাতীয় জাদুঘরে আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নিতাই রায় চৌধুরী আরও বলেন, ‘সংখ্যালঘু’ এবং ‘সংখ্যাগুরু’ ধারণা আপেক্ষিক, কারণ ইতিহাসজুড়ে জনমিতির রূপান্তর ও স্থানান্তর ঘটে এসেছে। তাই, কাউকে খাটো না করে তাদের স্বতন্ত্র নৃতাত্ত্বিক জাতিসত্তা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

মন্ত্রী বলেন, বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের অনুসন্ধান জরুরি। সবাই মিলে আমরা একটি জাতি, আমরা বাংলাদেশি। তাই তাদের ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী’ না বলে ‘নৃতাত্ত্বিক জাতিসত্তা’ বলা উচিত।

আরও পড়ুন: টম ক্রুজকে ছেড়ে বেতো মন্টেনেগ্রোর প্রেমে মজলেন আনা দে আরমাস?

সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমিন বেগম। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ওয়াহাব। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনেস্কো বাংলাদেশের অফিস প্রধান ও প্রতিনিধি ড. সুসান ভাইজ এবং আন্তর্জাতিক বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য গবেষক ও নৃবিজ্ঞানী ড. আলেকজান্দ্রা ডেনেস।

সেমিনারে বক্তারা বাংলাদেশের সমৃদ্ধ বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ, গবেষণা, নথিবদ্ধকরণ এবং প্রজন্মান্তরে হস্তান্তরের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, ঐতিহ্যের টেকসই সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর সক্রিয় অংশগ্রহণ, স্থানীয় জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার যথাযথ মূল্যায়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা অপরিহার্য।

জাতীয় জাদুঘর ও ইউনেস্কোর সহযোগিতায় 'ইমপ্লিমেন্টিং কমিউনিটি-বেইজড হেরিটেজ ফেস্টিভ্যালস ইন এইট অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ডিভিশনস অব বাংলাদেশ' শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় দেশের আটটি প্রশাসনিক বিভাগের আটটি অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য নিয়ে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সেমিনারের শুরুতে প্রকল্পের আওতাভুক্ত আটটি জনগোষ্ঠীভিত্তিক ঐতিহ্য উত্সবের তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। পাশাপাশি হাজং ও মণিপুরী সম্প্রদায়ের নান্দনিক নৃত্যও উপস্থাপন করা হয়। দ্বিতীয় অধিবেশনে জাতীয় জাদুঘরের জনশিক্ষা বিভাগের কিপার ও প্রকল্পের ফোকাল পয়েন্ট আসমা ফেরদৌসী এবং প্রকল্পের অংশীদার আটটি এনজিওর প্রতিনিধিরা তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

অধিবেশনে রবীন্দ্র সৃজনকলা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ড. সাইদুর রহমান এবং লেখক, অনুবাদক ও সম্পাদক রিফাত মুনিমও বক্তব্য রাখেন। ড. আলেকজান্দ্রা ডেনেস জনগোষ্ঠীভিত্তিক বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সুরক্ষার সুপারিশ ও ভবিষ্যৎ করণীয় বিষয়ে আলোচনা করেন। দেশি-বিদেশি গবেষক, বিশেষজ্ঞ, ঐতিহ্যচর্চাকারী প্রতিনিধি, জাদুঘরের কর্মকর্তা ও আমন্ত্রিত অতিথিদের অংশগ্রহণে সেমিনারটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

আরও পড়ুন: কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবে কঙ্গনা, প্রভাস ও রজনীকান্তের উপস্থিতি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আনোয়ারায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে কিট বিতরণ, জেলা প্রশাসকের উপস্থিতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৩৮ পি.এম


আনোয়ারায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে কিট বিতরণ, জেলা প্রশাসকের উপস্থিতি

চট্টগ্রাম, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬ : চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ এবং আক্রান্ত রোগীদের শনাক্তকরণের কার্যক্রমকে আরও জোরদার করার লক্ষ্যে জেলা প্রশাসন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কিট বিতরণ করেছে।

আজ শনিবার আনোয়ারা উপজেলা পরিষদে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে কিটগুলো হস্তান্তর করেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

জেলা প্রশাসক অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর তিন মাসব্যাপী বিশেষ কর্মসূচি এবং জেলা প্রশাসনের ‘নান্দনিক চট্টগ্রাম’ উদ্যোগের আওতায় ২৭ জুলাই থেকে জেলাজুড়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্রতি শনিবার জেলার বিভিন্ন স্থানে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আনোয়ারার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মহিন উদ্দিন।

অনুষ্ঠানের পর ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে একটি শোভাযাত্রা বের করা হয়। পরে আনোয়ারা থানার অভ্যন্তরে অবস্থিত পুকুরে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) পাঠান মো. সাইদুজ্জামানসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাগণ।

আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহাতাব উদ্দিন চৌধুরী জানান, গত ১০ মাসে উপজেলায় ১৩৮ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে জুলাইয়ে ১৩ জন, আগস্টে ২২ জন, সেপ্টেম্বরে ৫৮ জন এবং ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত ৩১ জন আক্রান্ত হয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সুন্দর মানবিক সমাজ বিনির্মাণে সহমর্মিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার বিকল্প নেই: এমপি হাজী জসিম উদ্দিন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৪০ পি.এম


সুন্দর মানবিক সমাজ বিনির্মাণে সহমর্মিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার বিকল্প নেই: এমপি হাজী জসিম উদ্দিন

যান্ত্রিক জীবনের কর্মব্যস্ততা থেকে বেরিয়ে এসে পারস্পরিক প্রীতি, সম্প্রীতি এবং নাড়ির টানকে আরও শক্তিশালী করার প্রত্যয়ে কুমিল্লায় বিপুল উৎসাহ ও উদ্দীপনার সাথে সোন্দ্রম গ্রামের একটি বর্ণাঢ্য পারিবারিক মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) কোটবাড়ির বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড) মিলনায়তন প্রাণবন্ত আড্ডায় মুখরিত হয়ে ওঠে সোন্দ্রম গ্রামের নবীন ও প্রবীণদের। এই উৎসবমুখর আয়োজনকে স্মরণীয় করে রাখতে ‘আলোকিত সোন্দ্রম’ নামের একটি বিশেষ স্মারক স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

কুমিল্লাস্থ ‘সোন্দ্রম চাকুরিজীবী ও ব্যবসায়ী ফোরাম’ এর উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য হাজী মো. জসিম উদ্দিন। তিনি বলেন, "একটি সুন্দর ও মানবিক সমাজ বিনির্মাণে পারিবারিক বন্ধন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহমর্মিতার কোনো বিকল্প নেই।" তিনি আরও উল্লেখ করেন, কর্মব্যস্ত জীবনের মধ্যেও এ ধরনের আয়োজন মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করে। এমপি হাজী জসিম উদ্দিনের বিশ্বাস, এই মিলনমেলা সামাজিক ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ জোরদার করার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের মাঝে নৈতিকতা ও পারিবারিক মূল্যবোধের বিকাশ ঘটাবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান মেহমান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া। তিনি বলেন, "পারিবারিক মিলনমেলা শুধু আনন্দ-উৎসব কিংবা সৌজন্য বিনিময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি পারস্পরিক সম্প্রীতি, ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।" তিনি আরও বলেন, এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে পরিবারের প্রবীণ সদস্যদের অভিজ্ঞতা ও আদর্শ থেকে নতুন প্রজন্ম শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পায়। একই সঙ্গে শিশু-কিশোর ও তরুণদের মধ্যে পারিবারিক মূল্যবোধ, নৈতিকতা, মানবিকতা এবং বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ গড়ে ওঠে।

অনুষ্ঠান বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ও মিলনমেলার সভাপতি এ কে এম লুৎফুর রহমান রিপনের সভাপতিত্বে জঙ্গি দিছিস না অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা বুড়িচং উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এটিএম মিজানুর রহমান বলেন, "পারিবারিক বন্ধনই মানুষের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ আশ্রয়স্থল।" তিনি উল্লেখ করেন, জীবনের ব্যস্ততা ও দূরত্বের কারণে অনেক সময় আপনজনদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা সম্ভব হয় না। এই মিলনমেলা সবাইকে এক সুতোয় বাঁধার পাশাপাশি পুরোনো স্মৃতি রোমন্থন ও নতুন প্রজন্মের সাথে আত্মিক সম্পর্ক গড়ে তোলার দারুণ সুযোগ সৃষ্টি করেছে।

এই উদ্যোগ গ্রামীণ জনপদের নবীন ও প্রবীণ প্রজন্মের মধ্যে একটি অদৃশ্য আত্মিক সেতু তৈরি করেছে। এ আয়োজনের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে আত্মীয়তার বন্ধন আরও নিবিড় হবে এবং সমাজে সৌহার্দ্য, সহযোগিতা ও ভ্রাতৃত্বের পরিবেশ আরও সমৃদ্ধ হবে। ফোরামের উদ্যোগে প্রকাশিত স্মরণিকা ‘আলোকিত সোন্দ্রম’ এই উৎসবের মধুর স্মৃতিগুলোকে দীর্ঘদিন বাঁচিয়ে রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আয়োজক সংগঠন সোন্দ্রম চাকুরিজীবী ও ব্যবসায়ী ফোরাম জানিয়েছে, গ্রামের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধি, পারিবারিক বন্ধন জোরালো করা এবং নিজেদের ঐতিহ্য ও গৌরবময় স্মৃতি নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরাই ছিল এই বর্ণিল মিলনমেলার মূল উদ্দেশ্য।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কর্মচারীর খোঁজে বেরিয়ে এল মুদি দোকানির মৃত্যুর ঘটনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নোয়াখালী প্রতিনিধি

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৪০ পি.এম


কর্মচারীর খোঁজে বেরিয়ে এল মুদি দোকানির মৃত্যুর ঘটনা

নোয়াখালীর সেনবাগে নিজ বসতঘর থেকে মো.হানিফ ওরফে সুমন (৪০) নামে এক মুদি দোকানির অর্ধগলিত ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার বীজবাগ ইউনিয়নের আলাবক্স বেপারী বাড়িতে এ ঘটনা জানাজানি হয়।

নিহত সুমন ওই এলাকার আলাবক্স বেপারী বাড়ির মৃত তফাজ্জল হকের ছেলে। তিনি স্থানীয় ফকিরহাট বাজারে মুদি দোকানদার ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত দুই দিন ধরে সুমনের দোকান বন্ধ ছিল। পরে দোকানের কর্মচারী জাহিদুল হক শাহীন মালিকের খোঁজ নিতে তার বাড়িতে যান। সেখানে বসতঘরের ভেতরে সুমনের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান তিনি। সুমনের স্ত্রী স্বামীর সঙ্গে মনোমালিন্যের জেরে গত সাত থেকে আট মাস আগে বাবার বাড়িতে চলে যান। এরপর থেকে সুমন বাজারের হোটেলে খাবার খেতেন।

সেনবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুর রউফ বলেন, খবর পেয়ে সন্ধ্যা ৬টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পরে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। প্রাথমিকভাবে দুদিন আগে ওই ব্যবসায়ী আত্মহত্যা করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে, তা জানা যায়নি।  

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কামরুন্নাহার কলির ধর্ষণ ও হত্যার প্রধান আসামির বাড়ি গুঁড়িয়ে, মাটি তুলে নিচ্ছে জনতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৪০ পি.এম


কামরুন্নাহার কলির ধর্ষণ ও হত্যার প্রধান আসামির বাড়ি গুঁড়িয়ে, মাটি তুলে নিচ্ছে জনতা

পাবনা সদর উপজেলার দোগাছি ইউনিয়নের কুলোনিয়া গ্রামে ১০ বছরের শিশু কামরুন্নাহার কলিকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি মোস্তফা কামালের বাড়িটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর বর্তমানে ওই বাড়ির মাটি তুলে নেওয়ার কাজ শুরু করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। বাড়িঘর ভাঙচুরের পর মাটি তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে বাড়িটি ভাঙার কার্যক্রম শুরু হয়। শনিবার (২৪ অক্টোবর) পর্যন্ত এই কাজ চলমান রয়েছে।

আজ দুপুরে বাড়িটিতে গিয়ে দেখা যায়, দোতলা বাড়িটি সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে। সেখানে পূর্বে একটি বাড়ি ছিল, সেটি বোঝার কোনো উপায় নেই। বাড়িটি এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। মাটির নিচে থাকা ফাউন্ডেশনের রড পর্যন্ত কেটে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। স্থানীয় একাধিক বাসিন্দার দাবি, ইট ও বালু গাড়িতে করে অন্যত্র নিয়ে বিক্রি করা হয়েছে।

বাড়িটির মাটি কেটে নিয়ে যাওয়ার কাজে নিয়োজিত শ্রমিক সলিম প্রামাণিক জানান, "মোস্তফা যে অন্যায় করেছে, তার শাস্তি হিসেবে তার বাড়িটি আমরা রাখিনি। এখন তার বাড়ির মাটি নিয়ে আমরা রাস্তায় ফেলছি, বাড়ির প্রয়োজনে কাজে লাগাচ্ছি। আমরা এখানে পুকুর তৈরি করব।"

বাড়ি ভাঙার কাজে অংশ নেওয়া আতাইকুলার মাধপুর এলাকার রুবেল হাসান বলেন, "ধর্ষক ও খুনি মোস্তফার বাড়ির কোনো চিহ্ন রাখা হবে না। ইট তো দূরের কথা, একটা বালুও এখানে রাখা হবে না। এখানে পুকুর হয়ে যাবে। নিদর্শন হিসেবে রাখা হবে, ধর্ষকের পরিণতি কী হয় সেটি বোঝানোর জন্য।"

এদিকে, বাড়ি ভাঙার কাজ শেষ পর্যায়ে পৌঁছালেও মামলার তদন্ত শেষ না হওয়ায় অভিযোগপত্র দাখিল না করায় হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিশুটির স্বজনেরা।

শিশুটির দাদা আব্দুস সোবহান বলেন, "এখনো চার্জশিট দেওয়া হয়নি। এতদিনে চার্জশিট দিয়ে দেওয়া দরকার ছিল। প্রশাসনের গাফিলতি আছে বলে মনে হচ্ছে।" তিনি দ্রুত তদন্ত শেষ করে মামলার পরবর্তী আইনি কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার দাবি জানান।

শিশুটির আরেক স্বজন রমজান আলী বলেন, "দোতলা বাড়ি একে একে ভাঙা হচ্ছে, কাজ শেষ হয়ে গেছে। বাড়ির কোনো চিহ্ন পর্যন্ত নেই। অথচ এখনো মামলার কাগজপত্রের কাজ শেষ হয়নি বলে শুনছি। এতদিনে তো বিচার শুরু হওয়ার কথা। সবার কাছে আমাদের একটাই দাবি—একটি শিশুর ধর্ষণের ঘটনা যেন টাকার কাছে বিক্রি হয়ে না যায়। পুলিশ প্রশাসনকে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।"

এ বিষয়ে পাবনা জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ওসি আব্দুস সালাম বলেন, "মামলার অগ্রগতি হচ্ছে। ফরেনসিক রিপোর্ট হাসপাতালে চলে আসছে শুনেছি। দ্রুতই আমরা চার্জশিট দেব। শিশু কলি ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় কোনো গাফিলতি করার সুযোগ নেই।"

প্রসঙ্গত, ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পর বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী কামরুন্নাহার কলি। সাত দিন পর ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে কুলোনিয়া গ্রামের বাড়ির পাশের ডোবা থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় প্রতিবেশী মোস্তফা কামাল ও তার ভাড়াটিয়া ইয়াছিন আলীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পুলিশের দাবি, ৯ সেপ্টেম্বর মাগরিবের পর মোস্তফার দোকানের পেছনের একটি কক্ষে কলিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ বস্তাবন্দি করে ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়।

পুলিশ আরো জানায়, ঘটনা আড়াল করতে আসামিরা নিজেরাই কলিকে খোঁজার কাজে অংশ নিয়েছিলেন। রিমান্ডে মোস্তফা ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে পুলিশের দাবি। তবে ইয়াছিন ধর্ষণ বা হত্যার কথা অস্বীকার করে হত্যার পর সহযোগিতার কথা জানিয়েছেন। এ ঘটনায় আলামত ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে রিপোর্ট আসলেই পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%