০৫:১২ পি.এম
বর্তমানে ফ্যাটি লিভার একটি খুব সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা বলে বিবেচিত হচ্ছে। অনেক মানুষ মনে করেন যে, শুধুমাত্র মদ্যপান করলেই ফ্যাটি লিভার হবে। কিন্তু বাস্তবে, যারা কখনও অ্যালকোহল পান করেন না, তাদেরও এই রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং স্থূলতা এটিকে ঘটানোর মধ্যে অন্যতম প্রধান কারণ।
ফ্যাটি লিভার হিসেবে পরিচিত একটি অবস্থা হলো, যখন লিভারের কোষের ভেতর অতিরিক্ত চর্বি জমতে শুরু করে। সাধারণত লিভারে সামান্য চর্বি থাকা স্বাভাবিক, কিন্তু যদি লিভারের মোট ওজনের ৫ শতাংশের বেশি চর্বি জমে, তখন তাকে ফ্যাটি লিভার বলা হয়।
ফ্যাটি লিভার হওয়ার প্রধান কারণগুলো হলো:
আরও পড়ুন: তিন কনফেডারেশনের চিঠিতে সমালোচনার মুখে ইনফান্তিনো
১. অতিরিক্ত ওজন ও স্থূলতা: যাদের ওজন বেশি বা পেটের মেদ বেশি, তাদের ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি অনেক বেশি। শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমা লিভারের ওপরেও প্রভাব ফেলে।
২. অতিরিক্ত চিনি ও জাঙ্ক ফুড খাওয়া: কোমল পানীয়, মিষ্টি, কেক, বিস্কুট, ফাস্টফুড এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার সেবনে লিভারে চর্বি জমার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়।
৩. ডায়াবেটিস: বিশেষ করে টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ফ্যাটি লিভার অনেক বেশি দেখা যায়। রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে না থাকার ফলে ঝুঁকি আরও বৃদ্ধি পায়।
৪. রক্তে কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইডের পরিমাণ বেশি: রক্তে ক্ষতিকর চর্বির মাত্রা বাড়লে তা লিভারের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
আরও পড়ুন: ইরান ইস্যুতে কার্টারের মতোই ফাঁদে ট্রাম্প!
৫. নিয়মিত ব্যায়াম না করা: অলস জীবনযাপন এবং দীর্ঘ সময় বসে থাকার অভ্যাসও ফ্যাটি লিভারের প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
৬. অতিরিক্ত অ্যালকোহল পান: নিয়মিতভাবে অতিরিক্ত মদ্যপান লিভারের কোষকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং ফলে অ্যালকোহলজনিত ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
৭. কিছু ওষুধ এবং অন্যান্য রোগ: দীর্ঘকালীন কিছু নির্দিষ্ট ওষুধ সেবন, দ্রুত ওজন কমে যাওয়া, অপুষ্টি বা কিছু হরমোনজনিত সমস্যা থেকেও ফ্যাটি লিভার হওয়ার কারণ হতে পারে।
কী কী লক্ষণ দেখা দিতে পারে? প্রাথমিক অবস্থায় অনেকের মধ্যে কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। তবে ধীরে ধীরে কিছু লক্ষণ দেখা দিতে পারে, যেমন—
আরও পড়ুন: প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আমেরিকান ক্রিকেটে চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল
১. ডান পাশে উপরের পেটে অস্বস্তি বা ব্যথা হচ্ছে।
২. অতিরিক্ত ক্লান্তি অনুভব হচ্ছে।
৩. দুর্বলতা অনুভূত হচ্ছে।
৪. ক্ষুধামন্দা দেখা দিচ্ছে।
আরও পড়ুন: এবার এসএসসি পাস করলেন সেই ‘ফারহানা’
৫. গুরুতর ক্ষেত্রে ওজন কমে যাচ্ছে।
কীভাবে প্রতিরোধ করবেন? এ বিষয়ে কিছু টিপস হলো:
১. স্বাস্থ্যকর এবং সুষম খাবার খান।
২. প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা বা ব্যায়াম করার চেষ্টা করুন।
আরও পড়ুন: ভারতের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে রুশ নভোচারীদের বিশেষ শুভেচ্ছা
৩. ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করুন।
৪. কোমল পানীয় এবং অতিরিক্ত মিষ্টি খাবার এড়িয়ে চলুন।
৫. ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্ত চাপ এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
৬. অ্যালকোহল পান করলে তা পরিহার বা সীমিত রাখার চেষ্টা করুন।
আরও পড়ুন: ব্যাংক কার্ডেই বিদেশে পড়াশোনার খরচ পাঠানো যাবে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন