ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

যুদ্ধবিরতির পর গাজায় ফের ইসরাইলি হামলা, নিহত-আহতের সংখ্যা বৃদ্ধি


যুদ্ধবিরতির পর গাজায় ফের ইসরাইলি হামলা, নিহত-আহতের সংখ্যা বৃদ্ধি

গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও ইসরাইলি হামলা থেমে যাচ্ছে না। মধ্য গাজার মাঘাজি শরণার্থী শিবিরে হামলায় তিন ফিলিস্তিনি পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। এর পাশাপাশি, উত্তর গাজার বেইত লাহিয়ায় একটি আশ্রয়কেন্দ্রের কাছে ইসরাইলি ড্রোন হামলায় দুই ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত হয়েছেন আরেকজন।

যুদ্ধবিরতির এই সময়েও গাজার মাঘাজি শরণার্থী শিবিরে ইসরাইলি বিমান হামলায় উপত্যকার তিন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছিলেন। স্থানীয় সময় রোববার (২৮ জুন) ইসরাইলি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, নিহতরা তাদের জন্য হুমকি হয়ে উঠেছিলেন। এই কারণে তাদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছিল।

উত্তর গাজার বেইত লাহিয়ায় উম্ম আল-ফাহম স্কুলের কাছে অবস্থানরত একদল বেসামরিক মানুষের ওপর ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী। স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, ওই স্কুলটিতে শত শত বাস্তুচ্যুত মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। হামলায় হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বেশ কয়েকজনের।

আরও পড়ুন: ৯০ টাকা নিয়ে বিরোধে রডের আঘাতে দর্জির মৃত্যু

গাজার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তারা এক বিবৃতিতে বলেন, পুলিশ সদস্যদের হত্যা প্রমাণ করে গাজায় ইসরাইল পরিকল্পিতভাবে অস্থিতিশীলতা ও বিশৃঙ্খলা চায়। তারা যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতাকারী দেশ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে ইসরাইলকে হামলা বন্ধে কার্যকর চাপ প্রয়োগের আহ্বান জানায়।

এদিকে, দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলমান ইসরাইলের সামরিক অভিযানে গাজার মানবিক পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধে ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং প্রায় ১ লাখ ৭৩ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে এবং পুনর্গঠনে প্রয়োজন হতে পারে প্রায় ৭০ বিলিয়ন ডলার।

আরও পড়ুন: ফ্লাভিও বলসোনারোর পাসপোর্ট বাতিল

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সিয়া ও চেতনের জীবন সাজানোর পরিকল্পনা ছিল কেতনের টাকায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

সোমবার, ২৯শে জুন, ২০২৬ ইং

০৫:২১ পি.এম


সিয়া ও চেতনের জীবন সাজানোর পরিকল্পনা ছিল কেতনের টাকায়

সিয়া গোয়েল চেতন চৌধুরীর সঙ্গে প্রেম করতেন। কিন্তু তার পরিবার বিয়ের জন্য ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়ালের সঙ্গে তার বিয়ের আয়োজন করেছিল। পরিবার মনমতো না থাকলেও সিয়ার সাহস ছিল না ‘না’ বলার। তাই বাগদান ও বিয়ের আয়োজন চলছে বলে দেখা যাচ্ছিল। তবে এই সমস্তের পেছনে তার মনে ছিল ভয়াবহ একটি পরিকল্পনা।

পরিবারের বিরুদ্ধে গিয়ে বরকে হত্যা করার চিন্তাই সিয়ার কাছে ছিল সহজ। পনেরো দিন আগে, অর্থাৎ গত ১৮ জুন, প্রেমিক চেতন চৌধুরীকে সঙ্গে নিয়ে কেতনকে হত্যা করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেন সিয়া। তারা পুনের লোহাগড় দুর্গে কেতনকে ধাক্কা দিয়ে ৪০০ ফুট গভীর খাদে ফেলে দিতে সক্ষম হন।

এদিকে, চেতন চৌধুরী সিয়ার কাছে বিয়ের জন্য ৩ বছরের সময় চেয়েছিলেন, যাতে ব্যবসা গুছিয়ে নিতে পারেন। সিয়ার পরিকল্পনা ছিল, যদি কেতন দুর্ঘটনায় মারা যান, তাহলে তাদের প্রেমের মাঝে কোনো বাঁধা থাকবে না। তার পরিবার শোকে কাতর হয়ে গিয়ে আর সিয়ার বিয়ের কথা তুলবেন না। এভাবে চেতন তার ব্যবসা গোছাতেন এবং সিয়াও নিজের বেকারির ব্যবসা এগিয়ে নিয়ে যেতেন। তাদের বিশ্বাস ছিল, তিন বছরে তারা সংসার শুরু করার জন্য প্রস্তুত হবে।

কেতন আগরওয়াল পুনের একটি বিশিষ্ট ব্যবসায়ী পরিবারের সদস্য ছিলেন। তিনি সাকসেস গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা বিশাল আগরওয়ালের পুত্র ছিলেন। বিদেশে পড়াশোনা শেষে ভারতে ফিরে এসে তিনি বাবার ব্যবসায় সহায়তা করার পাশাপাশি সাকসেস গ্রুপের পরিচালক এবং চিফ মার্কেটিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। ফেব্রুয়ারিতে সিয়া ও কেতনের বাগদান হয় এবং নভেম্বরের জন্য জয়পুরে তাদের বিয়ের অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছিল। বিয়ের জন্য ১৭ কোটি রুপিতে একটি প্রাসাদ বুক করা হয়েছিল। কেতন সিয়ার জন্য ১ কোটি রুপি শপিংয়ের জন্য দিয়েছেন, কিন্তু সে পুরো টাকাই প্রেমিক চেতন চৌধুরীর হাতে তুলে দেয়। সিয়া এই টাকায় চেতনের ব্যবসা বড় করার পরিকল্পনায় ছিল।

কিন্তু তাদের নিখুঁত পরিকল্পনার পরও পরিস্থিতি তাদের পক্ষে নেই। কেতনকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে এবং সিয়া ও চেতন এখন পুলিশ রিমান্ডে আছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সরকার প্রাথমিক শিক্ষায় গুণগত পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে উদ্যোগী: গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ২৯শে জুন, ২০২৬ ইং

০৫:২৪ পি.এম


সরকার প্রাথমিক শিক্ষায় গুণগত পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে উদ্যোগী: গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, সরকার প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত উন্নয়নে কার্যকর অংশীদারির ভিত্তিতে এনজিওগুলোর সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করতে চায়। সরকারের উদ্যোগ একার নয়, বরং সরকার ও উন্নয়ন সহযোগীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শিক্ষায় কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনা সম্ভব।

তিনি সোমবার (২৯ জুন) ঢাকার ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত ‘জিও-এনজিও কোলাবোরেশন ডায়ালগ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘শিক্ষা সংস্কারের মূল লক্ষ্য হলো লার্নিং আউটকাম বৃদ্ধি। এ লক্ষ্য অর্জনে সরকার কারিকুলাম, শিক্ষক, প্রশাসন, অবকাঠামো ও প্রযুক্তি—এই পাঁচটি বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। এই ক্ষেত্রগুলোকে কেন্দ্র করেই ভবিষ্যতের শিক্ষা সংস্কার বাস্তবায়ন করা হবে।’

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘প্রাথমিক শিক্ষাকে আধুনিক, দক্ষ ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে। এর মধ্যে শিক্ষক প্রশিক্ষণ জোরদার, নিয়োগ ও বদলি ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত, প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা সম্প্রসারণ অন্তর্ভুক্ত।’

ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘দেশের ৬৫ হাজারের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একযোগে পরিবর্তন আনতে হলে বাস্তবসম্মত ও টেকসই উদ্যোগ প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে এনজিওগুলোর মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও উদ্ভাবনী মডেল কাজে লাগাতে চায় সরকার।’

তিনি আরো উল্লেখ করেন, ‘প্রতিবন্ধী শিশু, প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা, নন-ফরমাল শিক্ষা, শহরমুখী অভিবাসী শিশু, চা-বাগান এলাকার শিশু এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করছে।’

অনুষ্ঠানে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এবং বিভিন্ন এনজিওর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঠাকুরগাঁও হাসপাতালে চুরির ঘটনা বেড়ে আতঙ্কে রোগী-স্বজন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৯শে জুন, ২০২৬ ইং

০৫:২৫ পি.এম


ঠাকুরগাঁও হাসপাতালে চুরির ঘটনা বেড়ে আতঙ্কে রোগী-স্বজন

ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে চুরির ঘটনাগুলি ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। চিকিৎসা নিতে আসা রোগী এবং তাদের স্বজনরা অভিযোগ করছেন, তারা ওয়ার্ড, কেবিন, লিফট এবং বারান্দা থেকে মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ, নগদ টাকা এবং অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী হারাচ্ছেন। গত এক সপ্তাহের মধ্যে অন্তত সাতটি চুরির ঘটনা ঘটেছে, যা রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ এবং আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

সরেজমিনে তথ্য পাওয়া গেছে, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বাসিন্দা মাসুদ রানা ১৮ জুন অসুস্থ বাবাকে দেখতে হাসপাতালে আসেন। কেবিনের বাইরে কিছু সময়ের জন্য যাওয়ার কারণে এক ব্যক্তি মোবাইল ফোন চার্জ দেওয়ার কথা বলে কেবিনে প্রবেশ করে তার মানিব্যাগ এবং নগদ ১৭ হাজার ৫০০ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে মাসুদ সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

মাসুদ রানা অভিযোগ করেন, ঘটনার পর থানায় জিডি করার পরেও কার্যকর কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। একই দিনে আরও দুজন চুরির শিকার হয়েছেন বলেও তিনি দাবি করেছেন। হাসপাতালের সূত্র জানাচ্ছে, দিনে গড়ে প্রায় দেড় হাজার রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে হাসপাতালে আসেন। অতিরিক্ত রোগীর চাপ এবং মানুষের অবাধ যাতায়াতের কারণে সংঘবদ্ধ একটি চোরচক্র বিভিন্ন ওয়ার্ড ও কেবিনে প্রবেশ করে চুরি ঘটাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

চুরির শিকার হওয়া রোগীর স্বজন ফয়সাল জানান, মেডিসিন বিভাগে যাওয়ার সময় যখন তিনি লিফটে ওঠেন, তখন নিচে নেমে এসে দেখতে পান তার মানিব্যাগ নেই। অন্য এক ভুক্তভোগী আমেনা বেগম জানান, রোগীকে দেখতে আসার সময়ে তার হাতে থাকা ব্যাগ এক যুবক ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। এর ফলে হাসপাতালে সবসময় আতঙ্ক নিয়ে চলাফেরা করতে হচ্ছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ করে জানান, একের পর এক চুরির ঘটনা ঘটলেও কার্যকর কোনো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ার ফলস্বরূপ চোরচক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।

এই বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. ফিরোজ জামান জুয়েল বলেন, চুরি প্রতিরোধের জন্য হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে ৫২টি সিসিটিভি ক্যামেরা চলমান আছে। তিনি আরও জানান, আগামী মাসের শুরু থেকে ৩০ জন আনসার সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি রোগী ও স্বজনদের মূল্যবান জিনিসপত্রের বিষয়ে সতর্ক থাকার অনুরোধ করেন।

হাসপাতালে ধারাবাহিক চুরির ঘটনায় রোগী ও স্বজনরা নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার এবং চোরচক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভূমিকম্পের ধ্বংসস্তূপ থেকে অলৌকিকভাবে উদ্ধার মা ও নবজাতক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২৯শে জুন, ২০২৬ ইং

০৫:২৬ পি.এম


ভূমিকম্পের ধ্বংসস্তূপ থেকে অলৌকিকভাবে উদ্ধার মা ও নবজাতক

ভেনেজুয়েলায় সম্প্রতি সংঘটিত ভূমিকম্পে প্রায় ১ হাজার ৪৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে, ৩ হাজার ১৫০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন এবং প্রায় ৫০ হাজারেরও বেশি ব্যক্তি এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

এছাড়াও, ধসে পড়া বাড়িঘরের ধ্বংসস্তূপ থেকে ১৮ দিন বয়সী নবজাতক সন্তানের সঙ্গে অলৌকিকভাবে উদ্ধার হয়েছেন এক মা। তিনি কিভাবে এই ছোট শিশুকে জীবনযুদ্ধে স্থিতিশীল থাকার শক্তি দিয়েছে, সেটি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে জানিয়েছেন।

দায়ানা পাতিনো নামের ঐ নারী বলেন, তার ছেলে হুয়ান ডেভিড তাকে অন্ধকার গর্তে বেঁচে থাকার এবং সচেতন থাকার জন্য অশেষ শক্তি যুগিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, যতক্ষণ পর্যন্ত হুয়ান বেঁচে ছিল, ততক্ষণ আমি আমার বেঁচে থাকার জন্য লড়াই করেছি। তখনও সে শ্বাস নিচ্ছিল, তা নিশ্চিত হতে আমি বারবার ওর ছোট নাকে হাত দিয়ে পরীক্ষা করতাম।

মা ও শিশুর এই অলৌকিক উদ্ধারের ভিডিওটি এখন বিশ্বজুড়ে মানুষের হৃদয়ে একটি বিশেষ স্থান তৈরি করেছে। গত বুধবারের পর পর ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা জোড়া ভূমিকম্পের ফলে অন্তত দেড় হাজার মানুষের প্রাণহানির পর, শিশুটি এখন নতুন আশার প্রতীক হয়ে উঠেছে।

দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট এই প্রাকৃতিক দুর্যোগকে ভেনেজুয়েলার ইতিহাসের “সবচেয়ে নির্মম প্রাকৃতিক বিপর্যয়” হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। বর্তমানে দেশটিতে আরও ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার উদ্ধার তৎপরতা চলছে। তবে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে অন্য কোনো জীবিত মানুষ বের করার আশা ক্রমশ ফিকে হয়ে আসছে।

রোববার ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের একটি ক্লিনিকের চিকিৎসাধীন দায়ানা বিবিসির সঙ্গে মাটির নিচে কাটানো সেই ভীতিকর সময়ের অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেছেন। সেখানে তিনি তাঁর সন্তানের সঙ্গে উদ্ধার পাওয়ার জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করছিলেন।

দেশের উত্তর উপকূলীয় অঞ্চলের লা গুয়াইরায় নিজেদের আট তলার অ্যাপার্টমেন্টের রান্নাঘরে থালাবাসন ধোয়ার সময় ভূমিকম্প আঘাত হানে। তিনি এটিকে “সামান্য মৃদু কম্পন” ভেবে অসাবধানতায় ছেলেকে বুকে জড়িয়ে ধরতে বেরিয়ে যান।

তিনি ভয়াবহ অভিজ্ঞতার স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন, হঠাৎ তার মনে হলো তিনি বাতাসে ভাসছেন। এরপরই তিনি উপলব্ধি করলেন যে তিনি পানি আর কাদামাটির নিচে তলিয়ে যাচ্ছেন এবং গভীর অন্ধকারের মধ্যে আছড়ে পড়েছেন। প্রশ্ন উঠেছে, কীভাবে বাতাসে উড়ার পরেও তিনি তার সন্তানকে হারাননি, সেটি আজও তার কাছে মিরাকল। ধসে পড়া আসবাবপত্রের নিচে তিনি পুরোপুরি চাপা পড়ে গিয়েছিলেন।

দায়ানা বলেন, গর্তে পড়ার সাথে সাথে তিনি চিৎকার শুরু করেন। কিন্তু বুঝতে পারেন, তাঁর দুঃখের আহ্বানের উত্তর দেওয়ার মতো সেখানে কেউ নেই।

তিনি ঘোষণা করেন, আমি বুঝতে পারলাম অযথা চিৎকার করে আমি আমার শক্তি নষ্ট করবো না—যখন প্রয়োজন হবে, তখন আমি চিৎকার করবো, যখন আমি কাছে মানুষের কণ্ঠস্বর বা পায়ের আওয়াজ শুনতে পাব।

“আমি জানি না কিভাবে আমি এতটা শান্ত থাকতে পেরেছি। কারণ আমার বাম পা তখন কংক্রিটের নিচে চাপা পড়েছিল। আমি একটুও নড়াচড়া করতে পারছিলাম না। এবং আমার কপালটি একটি শক্ত পাথরের সঙ্গে চাপা ছিল।”

দায়ানা বিশ্বাস করেন, পিঠের নিচে যখন তিনি একটি বাইবেল অনুভব করেন, তখন যেন নতুন লক্ষ্যে বেঁচে থাকার উপলব্ধি পেলেন। তিনি উল্লেখ করেন, সেখান থেকেই মূলত তার বেঁচে থাকার যাত্রা শুরু হয়েছিল।

ধ্বংসস্তূপের অন্ধকারের মধ্যেও তিনি উপরে দিকে একটি চাঁদের মতো ছোট আলোর বিন্দু দেখতে পান। দায়ানা জানাচ্ছেন, দীর্ঘ অপেক্ষার পর তার ভাইয়ের কণ্ঠে নিজের নাম শুনে তিনি অনুভব করেন, সহায়তার হাত এসে পৌঁছেছে।

“আমি নিজেকে বললাম, এটাই আমার শেষ সুযোগ। আমি আমার ফুসফুসের সব শক্তি দিয়ে চিৎকার করে উঠলাম। আমি সর্বদা চিৎকার করে বললাম ‘আমি এখানে’। এবং ও উপর থেকে বলেছিল, আমি তোমাকে খুঁজে পেয়েছি, এবং কথা দিচ্ছি যে আমি তোমাকে বের না করা পর্যন্ত আমি এখান থেকে নড়বো না।”

তার ভাই সেই প্রতিশ্রুতি রেখেছিলেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে সংবেদনশীল এবং জটিল উদ্ধার অভিযানের মাধ্যমে মা ও শিশুকে নিরাপদ অবস্থায় ধ্বংসস্তূপ থেকে বের করা হয়।

ভূমিকম্পের ফলে দায়ানার দুই পায়ে বড় আঘাত হয়েছিল। কিন্তু আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলা যায়, শিশু হুয়ান বিশেষ কোনো আঘাত পায়নি।

দায়ানার স্বামী গার্সন ভূমিকম্প আঘাত হানার মুহূর্তে বাড়ি ফিরে গাড়ি পার্ক করার কাজে ছিলেন। তিনি সীমানা প্রাচীর টপকে কোনোমতে নিরাপদ স্থানে চলে যেতে সক্ষম হন।

কিন্তু সামনে তাঁদের অ্যাপার্টমেন্ট ভবনটি ধূলিসাৎ হতে দেখে তিনি সবচেয়ে খারাপ কিছুর আশঙ্কা করেছিলেন। স্ত্রী ও সন্তানের ফিরে আসার সেই মুহূর্তকে “অলৌকিক ঘটনা” হিসেবে উল্লেখ করেছেন গার্সন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া উদ্ধার কল্পনার ভিডিও দেখতে পাওয়া যায়, যেখানে আবেগময়ভাবে কাঁধের মধ্যে ছেলে হরির ওপর হাত রেখে আকাশের দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে গার্সন; যেন সৃষ্টিকর্তার কাছে কৃতজ্ঞতার ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন।

স্মৃতিচারণ করতে গার্সন বিবিসিকে জানান, এটি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আমি ধরে নিয়েছিলাম তারা আর নেই। কিন্তু যখন আমি আমার ছেলেকে অক্ষত দেখলাম, তখন মনে হলো আমি নিজেই নতুন জীবন পেয়েছি। আমি নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না, মনে হচ্ছিল আমার মৃত শরীর পুনর্জীবিত হয়েছে।

ভূমিকম্পের ফলে গার্সন ও দায়ানার সাজানো সংসার এবং সবকিছু ধূলির সাথে মেশে গেছে। তাঁদের প্রিয় পোষা কুকুরটি এখনও নিখোঁজ হওয়ায় তারা গভীরভাবে শোকাহত। তবে এই দম্পতি জানিয়েছেন যে, তারা এখন সম্পূর্ণ নতুন করে জীবন শুরু করবেন।

“আমরা আমাদের সবকিছু হারিয়েছি, তবে আমরা বেঁচে আছি, এটি সবচেয়ে বড় কথা, আমরা আমাদের হারানো সবকিছু আবার নতুন করে গড়ে তুলবো,” দৃঢ়তার সাথে বলেন গার্সন।

সূত্র: বিবিসি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২৩
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৩
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%