মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৮:৫৮ পি.এম
চীন প্রতিরক্ষা আইনে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। এখন থেকে যুদ্ধ বা বড় সংকটের সময় শুধুমাত্র সেনাবাহিনীর ওপর নির্ভরশীল থাকবে না চীন প্রশাসন।সরকার প্রয়োজন হলে সাধারণ নাগরিক, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা অন্যান্য জাতীয় সম্পদেরও ব্যবহার করতে পারবে। ২৮ আগস্ট চীনের সংসদ প্রতিরক্ষা আইনে সংশোধনী অনুমোদন করেছে। এই সংশোধনী ১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হয়েছে।
নতুন আইনে নাগরিকদের সম্পদ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনে বাজেয়াপ্ত করার অধিকারও দেওয়া হয়েছে।
যদি কোনো নাগরিক বাধা সৃষ্টি করে বা ইচ্ছাকৃত বিলম্ব করে, তাহলে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম
এর তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ সালের পর এই প্রথম প্রতিরক্ষা আইনে এত বড় পরিবর্তন ঘটানো হয়েছে। নতুন আইনে ১৪টি অধ্যায় ও ৮২টি ধারা যুক্ত করা হয়েছে।
চীন জানিয়েছে, এই আইনের উদ্দেশ্য হলো যে কোনো হুমকি এলে, দ্রুত যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব হবে।
অর্থনৈতিক ও সামাজিক শক্তিকে প্রতিরক্ষার দিকে পরিচালিত করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। নতুন আইনে উন্নয়ন স্বার্থের পাশাপাশি দেশের সার্বভৌমত্ব, ঐক্য, ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা ও নিরাপত্তার সুরক্ষাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
নতুন আইনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, যদি পরিস্থিতি তৈরি হয়, তাহলে দেশের পরিবহণ, ডাক, টেলিযোগাযোগ, সাইবার নিরাপত্তা, চিকিৎসা ও ওষুধ সরবরাহ, খাদ্য ও শস্য সরবরাহ এবং প্রকৌশলের মতো ক্ষেত্রগুলোকে প্রতিরক্ষা সম্পর্কিত দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত থাকতে হবে।
সংশ্লিষ্ট এলাকার ইউনিটগুলোকে বিশেষ দল গঠন করে তাদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে, যাতে তারা দ্রুত পদক্ষেপ নিতে পারে। সাইবার নিরাপত্তাকে বিশেষভাবে অন্তর্ভুক্ত করেছে সরকার।
এছাড়া, নতুন ও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া জানা যাচ্ছে, চীনের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে কিছু আইন বিদেশে বসবাসকারী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে পারে। এর মানে হলো, বিদেশে গৃহীত পদক্ষেপও চীনা আইনের আওতায় আসতে পারে।
চীনের এই নতুন আইন নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। মনে করা হচ্ছে, এই আইন আসলে চীনের যুদ্ধের প্রস্তুতির লক্ষ্যে।
ব্রাসেলস-ভিত্তিক ‘সেন্টার ফর রাশিয়া ইউরোপ এশিয়া স্টাডিজ’-এর পরিচালক থেরেসা ফ্যালন নতুন এই আইন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার মতে, বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এটি উপেক্ষা করা সত্যিই কঠিন। রুশ-ইউক্রেন, ইরান-ইসরায়েল-আমেরিকা থেকে শিক্ষা নিয়ে প্রস্তুতি শুরু করেছেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) নুরুল আমিন মন্তব্য করেছেন, ‘যদি জামায়াত অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি করে, তাহলে তাদের অবস্থা হাসানুল হক ইনু ও রাশেদ খান মেননের মতো হবে।’
তিনি সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে এই কথা বলেন।
নুরুল আমিন উল্লেখ করেন, ‘শেখ মুজিবুর রহমান বাকশাল কায়েমের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে হরণ করেছিলেন। পরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সামরিক ছাউনি থেকে বের হয়ে দেশের মানুষের গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। তিনিই ছিলেন পৃথিবীর ইতিহাসে একমাত্র ব্যক্তি, যিনি সামরিক বাহিনী থেকে ক্ষমতায় এসে সব দলের রাজনীতি করার সুযোগ সৃষ্টি করেছিলেন।’
সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন মিরসরাই উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবদুল আউয়াল চৌধুরী।
সমাবেশের সঞ্চালনা করেন বারইয়ারহাট পৌরসভা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক দিদারুল আলম মিয়াজী।
এছাড়া, সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন মিরসরাই উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক শাহীদুল ইসলাম চৌধুরী, সদস্যসচিব আজিজুর রহমান চৌধুরী, সাবেক সদস্যসচিব গাজী নিজাম উদ্দিন, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সরোয়ার উদ্দিন সেলিম, মিরসরাই উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জসিম উদ্দিন, উপজেলা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক শাহীনুল ইসলাম স্বপন, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জাহিদুল আবছার জুয়েল, সাধারণ সম্পাদক সরোয়ার হোসেন রুবেলসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
এর আগে, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কয়েক হাজার নেতাকর্মী মিলে মিরসরাইয়ে একটি র্যালি বের করেন। র্যালিটি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মিরসরাই উপজেলা সদর প্রদক্ষিণ করে উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়।
পরে এমপি নুরুল আমিন উপজেলা চত্বরে বৃক্ষরোপণ করেন এবং নেতাকর্মীদের মধ্যে গাছের চারা বিতরণ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : আজ মঙ্গলবার সাবেক বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল মুহাম্মদ খাদেমুল বাশার, বীর উত্তম এবং স্কোয়াড্রন লিডার মফিজুল হকের ৫০তম শাহাদাত বার্ষিকী যথাযথ মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে পালন করেছে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী।
মহান মুক্তিযুদ্ধে ৬নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার হিসেবে এয়ার ভাইস মার্শাল খাদেমুল বাশার বীরত্বের সঙ্গে অংশগ্রহণ করেন। মুক্তিযুদ্ধের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা এবং স্বাধীনতা পরবর্তী বিমান বাহিনী গঠনে অসামান্য অবদানের জন্য বাংলাদেশ বিমান বাহিনী এই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে এবং কৃতজ্ঞচিত্তে তার অবদানকে চিহ্নিত করে।
১৯৭৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর, এই সাহসী বৈমানিক এক মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় শাহাদাত বরণ করেন। একই দুর্ঘটনায় স্কোয়াড্রন লিডার মফিজুল হকও শাহাদাত বরণ করেন।
আজকের এই বিশেষ দিনে, বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সব ঘাঁটি ও ইউনিটের কেন্দ্রীয় মসজিদে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। দোয়া মাহফিলে রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। বিমান বাহিনীর সব ঘাঁটি ও ইউনিটের কর্মকর্তাবৃন্দ, বিমানসেনাগণ এবং অন্যান্য সদস্যগণ মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়াও, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ঘাঁটি বীর উত্তম এ কে খন্দকার-এ মরহুমদের কবরে ফাতেহা পাঠের আয়োজন করে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজবাড়ী শহরের বড় বাজারে নারী উদ্যোক্তা জাকিয়া সুলতানার ওপর হামলা ও শ্লীলতাহানির ঘটনায় পুলিশ তিন যুবককে গ্রেপ্তার করেছে। সোমবার দিবাগত রাতে জাকিয়া সুলতানা থানায় একটি মামলা দায়ের করার পর মঙ্গলবার সকালে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন রাজবাড়ী পৌরসভার ধুঞ্চি ১ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত জমজম খানের ছেলে আব্দুল্লাহ আল সিয়াম খান (১৯), একই ওয়ার্ডের ধুঞ্চি ২৮ কলোনি এলাকার মোঃ দেলোয়ার হোসেনের ছেলে মোঃ রুবেল হোসেন (১৯) এবং পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ধুঞ্চি গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে মো. হেলাল উদ্দিন (৩৮)।
রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) গ্রেপ্তার ও মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ জানায়, নারী উদ্যোক্তা জাকিয়া সুলতানা বাদী হয়ে সোমবার দিবাগত রাতে রাজবাড়ী সদর থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, জাকিয়া সুলতানা রাজবাড়ী বড় বাজারের কাদেরিয়া সুপার মার্কেটের তৃতীয় তলায় ‘আস্থা পোশাক শিল্প গার্মেন্টেস’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন। তার প্রতিষ্ঠানের এক কর্মচারী চাকরি ছেড়ে দেওয়ার পর বেতন ও মালামালের হিসাব নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এ বিরোধের কারণে গত ২৩ আগস্ট ওই কর্মচারী ১৫ থেকে ২০ জন লোক নিয়ে প্রতিষ্ঠানে গিয়ে বেতন দাবি করেন এবং তাকে হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ওসি উত্তম কুমার ঘোষ বলেন, নারী উদ্যোক্তা জাকিয়া সুলতানা থানায় মামলা করেছেন এবং এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মঙ্গলবার দুপরে আদালতে সোপর্দ করা হবে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে।
এর আগে গত শনিবার (২৯ আগস্ট) বেলা ১২টার দিকে রাজবাড়ী শহরের বড় বাজারে জাকিয়া সুলতানাকে মারধরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, রাজবাড়ী সদর থানা-পুলিশের উপস্থিতিতে ওই নারীকে রাস্তা দিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় পেছন থেকে এক যুবক এসে তাকে লাথি মারছেন। এরপর আরও কয়েকজন যুবক এগিয়ে এসে তাকে মারধর ও লাথি মারতে থাকেন।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়। একই সঙ্গে ঘটনাটি নিয়ে নানা বিভ্রান্তিকর তথ্যও ছড়িয়ে পড়ে। কেউ কেউ জাকিয়া সুলতানাকে ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে উল্লেখ করেন, আবার কেউ ঘটনাটিকে ভোক্তা অধিকার সংক্রান্ত অভিযানের সময়ের ঘটনা বলে দাবি করেন। তবে এসব তথ্য সঠিক নয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি ও জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। টানা বৃষ্টির মধ্যে, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে, উপজেলার মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে জনসভাটি অনুষ্ঠিত হয়। সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় সমবেত হন। এরপর সেখানে একটি বিশাল র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। র্যালিতে বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল, শ্রমিক দল, কৃষক দল, মহিলা দলসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।
বৃষ্টির মধ্যেও নেতাকর্মীরা হাতে দলীয় ও জাতীয় পতাকা, ব্যানার-ফেস্টুন এবং বিভিন্ন স্লোগান নিয়ে পুরো এলাকা মুখরিত করে তোলে। র্যালিটি মোগরাপাড়া চৌরাস্তার আশপাশের সড়ক প্রদক্ষিণ করে জনসভাস্থলে এসে শেষ হয়।
জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান বলেন, "বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর থেকে দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার, ভোটের অধিকার ও মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন করে আসছে।" তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ ধারণ করে বিএনপির নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে জনগণের পাশে থাকার আহ্বান জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ