প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চীন প্রতিরক্ষা আইনে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। এখন থেকে যুদ্ধ বা বড় সংকটের সময় শুধুমাত্র সেনাবাহিনীর ওপর নির্ভরশীল থাকবে না চীন প্রশাসন।সরকার প্রয়োজন হলে সাধারণ নাগরিক, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা অন্যান্য জাতীয় সম্পদেরও ব্যবহার করতে পারবে। ২৮ আগস্ট চীনের সংসদ প্রতিরক্ষা আইনে সংশোধনী অনুমোদন করেছে। এই সংশোধনী ১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হয়েছে।
নতুন আইনে নাগরিকদের সম্পদ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনে বাজেয়াপ্ত করার অধিকারও দেওয়া হয়েছে।
যদি কোনো নাগরিক বাধা সৃষ্টি করে বা ইচ্ছাকৃত বিলম্ব করে, তাহলে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম
এর তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ সালের পর এই প্রথম প্রতিরক্ষা আইনে এত বড় পরিবর্তন ঘটানো হয়েছে। নতুন আইনে ১৪টি অধ্যায় ও ৮২টি ধারা যুক্ত করা হয়েছে।
চীন জানিয়েছে, এই আইনের উদ্দেশ্য হলো যে কোনো হুমকি এলে, দ্রুত যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব হবে।
অর্থনৈতিক ও সামাজিক শক্তিকে প্রতিরক্ষার দিকে পরিচালিত করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। নতুন আইনে উন্নয়ন স্বার্থের পাশাপাশি দেশের সার্বভৌমত্ব, ঐক্য, ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা ও নিরাপত্তার সুরক্ষাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
নতুন আইনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, যদি পরিস্থিতি তৈরি হয়, তাহলে দেশের পরিবহণ, ডাক, টেলিযোগাযোগ, সাইবার নিরাপত্তা, চিকিৎসা ও ওষুধ সরবরাহ, খাদ্য ও শস্য সরবরাহ এবং প্রকৌশলের মতো ক্ষেত্রগুলোকে প্রতিরক্ষা সম্পর্কিত দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত থাকতে হবে।
সংশ্লিষ্ট এলাকার ইউনিটগুলোকে বিশেষ দল গঠন করে তাদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে, যাতে তারা দ্রুত পদক্ষেপ নিতে পারে। সাইবার নিরাপত্তাকে বিশেষভাবে অন্তর্ভুক্ত করেছে সরকার।
এছাড়া, নতুন ও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া জানা যাচ্ছে, চীনের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে কিছু আইন বিদেশে বসবাসকারী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে পারে। এর মানে হলো, বিদেশে গৃহীত পদক্ষেপও চীনা আইনের আওতায় আসতে পারে।
চীনের এই নতুন আইন নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। মনে করা হচ্ছে, এই আইন আসলে চীনের যুদ্ধের প্রস্তুতির লক্ষ্যে।
ব্রাসেলস-ভিত্তিক ‘সেন্টার ফর রাশিয়া ইউরোপ এশিয়া স্টাডিজ’-এর পরিচালক থেরেসা ফ্যালন নতুন এই আইন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার মতে, বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এটি উপেক্ষা করা সত্যিই কঠিন। রুশ-ইউক্রেন, ইরান-ইসরায়েল-আমেরিকা থেকে শিক্ষা নিয়ে প্রস্তুতি শুরু করেছেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন