ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ইমরান খানের কোনো আপডেট নেই ছেলেদের কাছে, কী ঘটেছে তাঁর সঙ্গে?


ইমরান খানের কোনো আপডেট নেই ছেলেদের কাছে, কী ঘটেছে তাঁর সঙ্গে?

পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বেঁচে থাকা নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠেছে। উক্ত বিষয়ে তার বর্তমান অবস্থার সম্পর্কে কোনও নির্ভরযোগ্য তথ্য নেই বলে দাবি করেছেন তার ছেলে কাসিম ও সুলাইমান।

তারা জানিয়েছেন, গত সাত মাস ধরে চিকিৎসক, পরিবার এবং আইনজীবীদের কেউই ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করতে পারছেন না।

কাসিম ও সুলাইমান বলেন, 'আমাদের কাছে বাবার কোনো আপডেট নেই। কারণ, গত সাত মাস ধরে পরিবার, চিকিৎসক ও আইনজীবীদেরকে তার সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি।' খবর সিএনএনের।

আরও পড়ুন: সৌদিতে হামলা চালিয়ে ক্রমবর্ধমান শক্তির প্রমাণ দিচ্ছে হুথিরা

এমন পরিস্থিতিতে ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে পাকিস্তানের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেন তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) হাজারো নেতাকর্মী। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে সাবেক ক্রিকেটার ও রাজনীতিক ইমরান খান এবং তার স্ত্রী বুশরা বিবির মুক্তির দাবি জানানো হয়েছে।

২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ইমরান খান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ২০২২ সালে পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোটে তার সরকারের পতন ঘটে। এরপর ২০২৩ সালে বিভিন্ন অভিযোগে তার সাজা হয়। তবে ইমরান খান এবং তার সমর্থকেরা এসব অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিহিত করেছেন। তারা বলছেন, বর্তমান সরকারের বিরোধিতা করার কারণে এসব মামলা করা হয়েছে।

ইমরান খানের দুই ছেলে, কাসিম ও সুলাইমান বর্তমানে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে বসবাস করছেন। ২০০৪ সালে তাদের মা জেমিমা গোল্ডস্মিথের সঙ্গে ইমরান খানের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে, এরপর থেকে তারা লন্ডনে আছেন। বাবার কারাবন্দিত্বের পর থেকে তারা তার মুক্তির দাবিতে সোচ্চার। কাসিম ও সুলাইমান অভিযোগ করেছেন, গণমাধ্যমে বাবার বিষয়ে কথা বলার পর পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ তাদের ইমরানের সঙ্গে দেখা করার ক্ষেত্রে নতুন নতুন বাধা তৈরি করে। কখনও তাদের ভিসা দিতে দেরি হচ্ছে, আবার কখনও বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতার কারণে তাদের আটক রাখা হচ্ছে।

কাসিম বলেন, 'আমরা চেষ্টা করছি, আমরা যেতে চাই। কিন্তু কিছুই হচ্ছে না। আমাদের ভিসা না দেওয়ার কোনো কারণ নেই।'

আরও পড়ুন: নাহরিন ইসলাম খান প্রধান তথ্য কমিশনার নিযুক্ত

তবে পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় কাসিম ও সুলাইমানের অভিযোগকে বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করেছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের কাছে ওভারসিজ পাকিস্তানিজদের জন্য ন্যাশনাল আইডেন্টিটি কার্ড আছে। এই কার্ডের মাধ্যমে পাকিস্তানে প্রবেশের জন্য তাদের ভিসার দরকার নেই।

কিন্তু কাসিম ও সুলাইমানের দাবি, তাদের ওই কার্ডের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে এবং সেগুলো নবায়ন করা হয়নি। পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় তাদের এই দাবির কোনো জবাব দেয়নি।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও ইমরান খান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবির পরিবারের সদস্য এবং আইনজীবীদের সঙ্গে দেখা করার অধিকার পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছে। সম্প্রতি এক বিবৃতিতে অ্যামনেস্টি বলেছে, 'ইমরান খান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবিকে পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা দিতে হবে। একইসঙ্গে তাদের একাকী বন্দিত্বও অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।' সংস্থাটির মতে, এ ধরনের একাকী বন্দিত্ব আইনসম্মত নয়।

এদিকে, পাকিস্তান সরকার অভিযোগ করেছে যে ইমরান খানকে সাত মাস ধরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, সরকার দাবি করেছে, ইমরান খান তার পরিবার ও অন্যান্যদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের সুযোগ পাচ্ছেন। সরকারের মতে, ২০২৬ সালের ২১ মার্চ ইমরান তার এক ছেলের সাথে সর্বশেষ ফোনে কথা বলেছেন। এই ফোনকল প্রমাণ করে যে ইমরানের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করা হয়নি। বরং পাকিস্তানের কারাগারের নিয়ম, আদালতের নির্দেশ এবং একজন গুরুত্বপূর্ণ বন্দির নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনা করে তার যোগাযোগ নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে।

আরও পড়ুন: সৌর বিদ্যুৎ উদ্যোক্তাদের ঋণ দেবে সোনালী ব্যাংক

পাকিস্তান সরকার ইমরান খানের শারীরিক অবস্থাকেও বোঝাতে চেষ্টা করেছে। ইসলামাবাদের দাবি, ইমরান খানের অবস্থা বর্তমানে সচেতন ও স্থিতিশীল। তার শারীরিক অবস্থায় কোনো গুরুতর অবনতি হয়নি। সরকার বলছে, ইমরান নিয়মিত চিকিৎসা, ওষুধ ও চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছেন। কারাগারের নিয়ম ও আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তার চিকিৎসা সম্পন্ন হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে।

ইমরান কারাগারে কী ধরনের পরিবেশে আছেন, তারও বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। দাবি করা হয়েছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে একটি বিশেষ সাত কক্ষের কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে। সেখানে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জন বন্দির জন্য ব্যবস্থা আছে। ৫৭ ফুট বাই ১৪ ফুটের একটি করিডর এবং ৩৫ ফুট বাই ৩৭ ফুটের একটি লন রয়েছে। সেখানে একটি বিছানা, গদি, বালিশ, কম্বল, টেবিল, chairs, স্যানিটেশন সুবিধা এবং ব্যায়ামের সরঞ্জামও আছে।

পাকিস্তান সরকারের দাবি, ইমরানের থাকার এই ব্যবস্থা তাকে বিচ্ছিন্ন বা অবহেলিতভাবে রাখা হয়েছে—এমন অভিযোগের সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে মেলে না। তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলো পাকিস্তান সরকারের এই বক্তব্যে সন্তুষ্ট হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এর আগে ইমরানের দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতা ও সমর্থকদের ব্যাপক গ্রেপ্তারকে ইচ্ছামতো আটক হিসেবে বর্ণনা করেছে। অ্যামনেস্টির তথ্য অনুযায়ী, ইমরান খানের দলের অনেক নেতাকর্মীরা এখনও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আটক রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৮৫ জনকে সামরিক আদালতে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: চীনের সহায়তায় ৮ কারিগরি প্রতিষ্ঠান আধুনিকায়ন ও যৌথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত

ইমরান খানের দুই ছেলে পাকিস্তান সরকারের বক্তব্য নিয়ে সন্তুষ্ট নন। কাসিম জানান, তাদের বাবার কোনো স্বাস্থ্য প্রতিবেদন দেখানো হচ্ছে না। ফলে কারাগারে থাকার সময় ইমরানের শারীরিক অবস্থার কতটা অবনতি হয়েছে, সে বিষয়ে তারা নিশ্চিত হতে পারছেন না। তিনি বলেন, 'তারা আমাদের কোনো ধরনের স্বাস্থ্য প্রতিবেদন দেখাতে অস্বীকার করছে। তাই তার স্বাস্থ্য উল্লেখযোগ্যভাবে খারাপ হয়ে থাকতে পারে।'

কাসিম ইমরানের দলের নেতাদের গ্রেপ্তারের বিষয়টিও উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, 'পিটিআইয়ের অনেক নেতা-কর্মী এখনও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আটক রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৮৫ জন সামরিক আদালতে দোষী সাব্যস্ত হয়েছে।'

ইমরান খান পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে কোনো ধরনের রাজনৈতিক সমঝোতায় যাবেন কি না—এমন প্রসঙ্গে তার দুই ছেলে জানিয়েছেন। সুলাইমান বলেছেন, 'তার বাবা কোনো সমঝোতায় রাজি হবেন না, যার ফলে অন্যান্য রাজনৈতিক বন্দিরা কারাগারেই থাকবে।' অন্য রাজনৈতিক বন্দিদের ক্ষেত্রেও যদি কোনো সমস্যার সমাধান না হয়, তবে ইমরান এককভাবে সরকারের সঙ্গে কোনো চুক্তিতে যাবেন না বলে মনে করেন তিনি।

কাসিমও মনে করেন, ইমরানের সঙ্গে সরকারের সমঝোতার সম্ভাবনা কম। তবে তিনি বলেন, বিষয়টি নিশ্চিত করে বলা কঠিন।

আরও পড়ুন: ‘মুখ্যমন্ত্রীর জন্য ৯ জনকে হত্যা করিয়েছি’ দাবি অনন্ত কুমার সিংয়ের

ইমরানের দুই ছেলে শুধু তাদের বাবার মুক্তির জন্য উদ্বিগ্ন নন, জনসাধারণের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। কাসিম বলছেন, 'আমি জানি, অনেক কিছুই ঘটছে। কিন্তু এটি সবচেয়ে হতাশাজনক বিষয়গুলোর একটি। শুধু ছেলে হিসেবে নয়, পুরো দেশের জন্য এটি হতাশাজনক।'

তিনি আরও বলেন, '৩৫ কোটি মানুষ ইমরান খানকে ভোট দিয়েছেন, তাকে সমর্থন করেন এবং চান তিনি দেশ পরিচালনা করুন। অথচ তাদের পছন্দের সেই ব্যক্তিকে দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছে এবং কোনো ভালো কারণ ছাড়াই তিনি কারাগারের পেছনে রয়েছেন।'

ইমরান খানের দুই ছেলের এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর শারীরিক অবস্থার প্রতি উদ্বেগ বেড়েছে। অন্যদিকে, তার কারাবন্দিত্ব, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ এবং পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুন: কুয়েতের গৃহকর্মী খাতে ৪০ শতাংশ ভারতীয়, বাংলাদেশি মাত্র ১২ শতাংশ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশে পাঠানোর জন্যই সীমান্তে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের ফেনসিডিলের কারখানা: এমপি হিলালী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:৪৬ পি.এম


বাংলাদেশে পাঠানোর জন্যই সীমান্তে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের ফেনসিডিলের কারখানা: এমপি হিলালী

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী এলাকায় বাংলাদেশে মাদক পাঠানোর উদ্দেশ্যে ফেনসিডিলের কারখানা স্থাপন করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন নেত্রকোনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী।

শনিবার (৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলার তেলিগাতী বিএনএইচকে একাডেমি মাঠে আয়োজিত সচেতনতামূলক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বাল্যবিবাহ, মাদক, সন্ত্রাস, ইভটিজিং এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অপপ্রচার প্রতিরোধে তেলিগাতী এবং দুওজ ইউনিয়ন পরিষদ যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে।

ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী বলেন, 'সম্প্রতি একটি গোয়েন্দা তথ্যে জানতে পেরেছি, ভারতের বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকায় অসংখ্য ফেনসিডিলের কারখানা স্থাপন করা হচ্ছে। প্রশ্ন হলো, এসব কারখানা স্থাপনের উদ্দেশ্য কী? বাংলাদেশে মাদক পাঠানোর জন্যই এসব কারখানা করা হচ্ছে।'

মাদকের ভয়াবহতা তুলে ধরে হিলালী বলেন, 'একটি সমাজকে ধ্বংস করে দিতে মাদকই যথেষ্ট।' মাদক সেবনের কারণে মানুষের শারীরিক সক্ষমতা ও কর্মক্ষমতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পারিবারিক জীবনেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সবাই সহযোগিতা করলে আটপাড়া-কেন্দুয়া থেকে মাদক নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত তিনি কাজ করে যাবেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহনূর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ মো. মাসুম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলামসহ পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, শিক্ষক, সচেতন নাগরিক এবং বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশে পাঠানোর জন্যই সীমান্তে প্রতিবেশী দেশের ফেনসিডিল কারখানা: এমপি হিলালী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:৪৭ পি.এম


বাংলাদেশে পাঠানোর জন্যই সীমান্তে প্রতিবেশী দেশের ফেনসিডিল কারখানা: এমপি হিলালী

ঢাকা, ৮ আগস্ট, ২০২৬ : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে ইউএনওদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে তারা নিজেদের অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতা ও মানবিকতার সঙ্গে কাজ করেন। তিনি বক্তব্য রেখে বলেন, ‘রাষ্ট্রের দায়িত্বে থাকা প্রত্যেকের জন্য মানুষের সেবা করার সুযোগ একটি বড় আমানত ও আল্লাহর নিয়ামত। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অসহায়-দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ রেখে যেতে হবে।’

আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে এক সভায় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলা হয়। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে আরও বলেন, ‘আজ আমরা আছি, কাল থাকব না। আসুন আমরা সবাই মিলে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ রেখে যাওয়ার চেষ্টা করি, যেখানে সবাই একটু ভালো থাকবে।’

মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের জনগণের সঙ্গে সরকারের সেতুবন্ধন হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দায়িত্ব পালনরত উপজেলা হয়তো আপনার নিজের উপজেলা নয়; কিন্তু সেটি বাংলাদেশেরই একটি অংশ। সেখানে বসবাসকারী মানুষও নিজের এলাকার মানুষের মতোই আপন।’ তাই দেশের প্রতিটি মানুষকে নিজের মানুষ মনে করে কাজ করতে হবে।

এদিকে ইউএনওদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনি যে উপজেলায় দায়িত্ব পালন করছেন, সেটি হয়তো আপনার নিজের উপজেলা নয়। কিন্তু সেই উপজেলাতো আপনার দেশেরই একটা অংশ। সেখানে যে মানুষগুলোকে আপনি দেখছেন, তারা হয়ত আপনার এলাকার মানুষ নন; কিন্তু আপনার সেই আপনজনদের মতোই মানুষ। ছোট একটা দেশ, এই দেশটাকে যদি ঠিকঠাক করতে হয়, তাহলে আমাদের সবাইকে মিলেই চেষ্টা করতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেছেন, আইন করে সমাজের সব সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। মানুষকে বুঝিয়ে ও সচেতন করে অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব। ইউএনওদের নিজ নিজ এলাকায় জনসচেতনতা তৈরিতে আরও সক্রিয় হতে হবে। পরিবেশ রক্ষায় মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, ‘দীর্ঘদিন দূষণের দিক থেকে ঢাকা বিশ্বের শীর্ষ শহরগুলোর তালিকায় থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। এটিকে ইতিবাচক লক্ষণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন। এখন এই উদ্যোগকে আরও এগিয়ে নিতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ‘উপজেলা ও পৌরসভাগুলোতে অনেক মানুষ নিজেদের উদ্যোগে গাছ রোপণ করতে চান। আপনাদের মতো সরকারি কর্মকর্তারা তাদের উৎসাহ দিলে একজন যেখানে ১০টি গাছ লাগাতেন, সেখানে ৫০টি গাছ লাগাতে পারেন। এভাবে আপনারা পরিবেশ রক্ষায় বড় ধরনের অবদান রাখতে পারেন।’

নতুনভাবে খেলাধুলার প্রসারেও ইউএনওদের উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিভিন্ন ক্রীড়া সংগঠনকে উৎসাহিত করলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত তরুণদের মধ্যে নিয়ম-শৃঙ্খলা ও শৃঙ্খলাবোধ তৈরি হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘খেলাধুলার আয়োজনের জন্য শুধু বিজয় দিবস বা স্বাধীনতা দিবসের মতো জাতীয় দিবসের অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই। স্থানীয়ভাবে ভালো যেকোনো বিষয় নিয়ে এমনকি স্থানীয় কোনো মানুষের জন্মদিন উপলক্ষেও খেলাধুলার আয়োজন করা যেতে পারে।’

সমাজে মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ধীরে ধীরে মানুষের মধ্যে দয়া-মায়া কমে যাচ্ছে এবং মানুষ দিন দিন নিষ্ঠুর হয়ে উঠছে। বিভিন্ন ধরনের মানসিক ও সামাজিক চাপ এর অন্যতম কারণ হতে পারে।

তবে, এই প্রবণতা বাড়তে থাকলে সমাজের শান্তি নষ্ট হবে এবং সমাজ ধ্বংস হবে। তাই নিজ নিজ এলাকায় মানুষের প্রতি মানুষের দরদ ও সহমর্মিতা বাড়াতে আপনাদের উদ্যোগ নিতে হবে।

‘সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে শুধু নিজের জন্য নয়, অন্যের জন্যও ভাবতে হবে’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'শুধু মানুষের প্রতি নয়, আশপাশের পশুপাখি ও প্রকৃতির প্রতিও যত্নবান হতে হবে। এ জন্য বিভিন্ন স্কুলে গিয়ে শিশুদের এসব বিষয়ে সচেতন করতে হবে। '

তিনি আরও বলেন, 'এবার থেকে প্রাথমিক স্তর থেকেই শিশুদের মধ্যে মানবিকতা এবং পশুপাখির প্রতি মায়া-মমতার বিষয়গুলো তাদের পাঠ্য হিসেবে যুক্ত করা হচ্ছে। '

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একসময় পারিবারিক, সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের মাধ্যমে মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া, পরিবেশ ও প্রকৃতির প্রতি দায়িত্বশীল হওয়া এবং পশুপাখির প্রতি মমত্ববোধের শিক্ষা দেওয়া হতো। বর্তমানে এসব মূল্যবোধ অনেকটাই অনুপস্থিত। এগুলো ফিরিয়ে আনতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।’

সভায় বিভিন্ন উপজেলায় খাল খনন প্রকল্পের কাজ সততার সঙ্গে সম্পন্ন করে উদ্বৃত্ত অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেওয়ায় ইউএনওদের প্রশংসা ও ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আপনারা সরকার এবং জনগণের জন্য ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাতে আমার বিশ্বাস, আপনারা জনগণের জন্য অনেক ভালো কিছুই করতে পারবেন।’

উপ-প্রেস সচিব জানান, সভায় ইউএনওরা নিজ নিজ উপজেলায় খাল খনন কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর স্থানীয় কৃষি, পানি ব্যবস্থাপনা ও জনজীবনে কী ধরনের পরিবর্তন এসেছে, তা প্রধানমন্ত্রীকে জানায়।

তারা জানান, খাল খননের আগে যেসব এলাকায় বছরে দুই ফসল হতো, সেখানে এখন তিন ফসল উৎপাদন হচ্ছে। খাল পুনঃখননের ফলে পানি নিষ্কাশন, সেচ ব্যবস্থা ও কৃষিকাজে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।

যেমন ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতার বার্তা উপকারভোগীদের পক্ষ থেকে পাঠানো হয়েছিল, তা প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দেন।

উপকারভোগীদের কৃতজ্ঞতার বার্তা গ্রহণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, খাল খননের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে-এর মাধ্যমে নদীমাতৃক বাংলাদেশের চিত্র ফিরিয়ে আনা। কারণ, দিন দিন আমাদের পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে, যা পরবর্তীতে আমাদের ভয়াবহ পরিস্থিতিতে ফেলবে। সেই ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য আমাদের এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে।

তিনি জানান, সারা দেশে পর্যায়ক্রমে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হবে। এর মাধ্যমে পানি সংরক্ষণ, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি সুফল পাওয়া যাবে।

উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো নির্মাণ বা অর্থনৈতিক অগ্রগতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; মানুষের মধ্যে মানবিকতা, সহমর্মিতা ও দায়িত্ববোধ তৈরি করাও উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন।

সভায় খাল খনন প্রকল্পে উদ্বৃত্ত অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেওয়া ৮৩টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গণি, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সভায় উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাঘাটা থানা-পুলিশের পৃথক মাদকবিরোধী অভিযানে পাঁচজন গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শাহীন আলম, স্টাফ রিপোর্টার

শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:৫১ পি.এম


সাঘাটা থানা-পুলিশের পৃথক মাদকবিরোধী অভিযানে পাঁচজন গ্রেপ্তার

গাইবান্ধার সাঘাটা থানার সূত্র অনুযায়ী, একটি নিয়মিত মামলার (মামলা নং-০৫, তারিখ: ০৮/০৮/২০২৬) আওতায় ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(১) সারণির ১০(ক) ধারায় এজাহারনামীয় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন- মোঃ আফতাব হোসেনের ছেলে, ওসমানের পাড়ার মোঃ শাহিন মিয়া (৩৬) এবং নশিরার পাড়ার মোঃ হাফিজুর রহমানের ছেলে মোঃ নয়ন মিয়া (২৭)।

অন্যদিকে, সাঘাটা থানার একটি নন-এফআইআর প্রসিকিউশনের (নং-৫২, তারিখ: ০৮/০৮/২০২৬) আওতায় একই আইনের ৩৬(৫) ধারায় আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছে- সতীতলা গ্রামের মৃত আব্দুল কুদ্দুস মিয়ার ছেলে মোঃ কামাল (৩৫), মোঃ জাফর আলীর ছেলে মোঃ সবুজ (২৪) এবং আগ গরগড়িয়া গ্রামের মোঃ তৌফিকুল ইসলামের ছেলে মোঃ বাদল মিয়া (২৫)।

গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে পুলিশ পাহারায় আদালতে পাঠানো হয়েছে। সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এলাকায় মাদকমুক্ত পরিবেশ বজায় রাখতে এই অভিযান প্রতিনিয়ত অব্যাহত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এসএসসির ফল প্রকাশের পর পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন শুরু হবে যেদিন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:০১ পি.এম


এসএসসির ফল প্রকাশের পর পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন শুরু হবে যেদিন

চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফল আগামী সোমবার (১০ আগস্ট) প্রকাশিত হবে। ফল প্রকাশের পর যদি কোনো পরীক্ষার্থী অসন্তুষ্ট বা খারাপ ফল পায়, তাহলে তাদের জন্য চ্যালেঞ্জের সুযোগ থাকবে।

ফল প্রকাশের পরদিন অর্থাৎ ১১ আগস্ট থেকে ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন গ্রহণ শুরু হবে। এই আবেদন করা যাবে অনলাইনের মাধ্যমে আগামী ১৭ আগস্ট পর্যন্ত।

শনিবার (৮ আগস্ট) প্রকাশিত একটি বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা ২০২৬ এর ফল প্রকাশের পর পুনর্নিরীক্ষণের জন্য ১১ থেকে ১৭ আগস্ট এই সময়ে অনলাইনে আবেদন নেওয়া হবে। আবেদন প্রক্রিয়া ও সংশ্লিষ্ট নির্দেশনাগুলো শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমেও জানানো হবে।

আগামী সোমবার (১০ আগস্ট) আনুষ্ঠানিকভাবে চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করতে যাচ্ছে। পরীক্ষার্থীরা এসএমএস এর মাধ্যমে ফলাফল জেনে নিতে পারবেন। পাশাপাশি, সব শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটেও ফলাফল প্রকাশিত হবে।

গত ২১ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়, যা ২০ মে সমাপ্ত হয়। এ বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ৯ লাখ ৩০ হাজার ৩০৫ জন ছাত্র এবং ৯ লাখ ২৭ হাজার ৩৯ জন ছাত্রী।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩১
ইশা ০৬:৪২
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%