১১:৩৭ এম
পাকিস্তান নিজেদের শান্তির সমর্থক হিসেবে উপস্থাপন করলেও, তাদের এই শান্তিকামী মনোভাবকে দুর্বলতা হিসেবে গ্রহণ না করার জন্য দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ একটি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি সিন্ধু নদীর পানি বন্টন চুক্তি নিয়ে সাম্প্রতিক উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, "পানি আমাদের লাল রেখা।"
পারমাণবিক শক্তিধর দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যখন জলবন্টন ইস্যুতে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে, ঠিক সেই মুহূর্তে পাক প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে এমন কড়া মন্তব্য এসেছে।
১৯৬০ সালে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক সিন্ধু পানি চুক্তি অনুসারে, সিন্ধু নদ ব্যবস্থার মোট পানির ২০ শতাংশ ভারত পায় এবং বাকি ৮০ শতাংশ পাকিস্তানের জন্য বরাদ্দ করা হয়। চুক্তির আওতায় পূর্বাঞ্চলীয় নদীগুলো যেমন রবি, বিয়াস ও শতদ্রু ভারতের অধীনে এবং পশ্চিমাঞ্চলীয় নদীগুলো যেমন সিন্ধু, ঝিলম ও চেনাবের বেশিরভাগ পানির অধিকার পাকিস্তান লাভ করে। তবে দুইদেশকে কিছু নির্দিষ্ট শর্তে একে অপরের নদীগুলোর পানির সীমিত ব্যবহারের সুবিধা দেওয়া হয়েছিল।
আরও পড়ুন: গাইবান্ধায় রাস্তা বিরোধে পিটিয়ে হত্যা, চিকিৎসাধীন অবস্থায় ব্যক্তির মৃত্যু
কিন্তু পরিস্থিতি ২০২৫ সালের এপ্রিলে পেহেলগাম হামলার পর ভিন্ন দিকে মোড় নেয়। ওই হামলায় ২৬ জন বেসামরিক মানুষ প্রাণ হারালে ভারত পাকিস্তানের ওপর সরাসরি দায় চাপায়। শাস্তিমূলক পদক্ষেপ হিসেবে, নতুন দিল্লি ঐতিহাসিক পানি চুক্তি স্থগিত (অ্যাবেয়েন্স) রাখার ঘোষণা দেয়।
চুক্তি স্থগিত করার পরই ভারত পশ্চিমাঞ্চলীয় তিনটি নদীর পানির স্তরের আগাম তথ্য পাকিস্তানের কাছে পাঠানো বন্ধ করে দেয়। এর ফলে, বর্ষাকালে নদীতে পানি বেড়ে গেলে ভারতের দেওয়া আগাম সতর্ক বার্তার ওপর ভিত্তি করে পাকিস্তানের পাঞ্জাব ও সিন্ধু প্রদেশের নিচু এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হতো। কিন্তু তথ্য আদান-প্রদান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পাকিস্তান বর্তমানে বর্ষাকালে বড় ধরনের বিপদের আশঙ্কায় রয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি
আরও পড়ুন: মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে বিতর্ক, চাপের মুখে যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্ক
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন