ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

জাহ্নবীর ফ্যান পেজ নিয়ে আদালতের বার্তা


জাহ্নবীর ফ্যান পেজ নিয়ে আদালতের বার্তা

বলিউড অভিনেত্রী জাহ্নবী কাপুরের নাম, ছবি ও পরিচিতি ব্যবহার করে অশ্লীল এবং অননুমোদিত কনটেন্ট ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় দিল্লি হাইকোর্ট গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিয়েছে। আদালত জানিয়েছে, অনুমতি ছাড়া জাহ্নবীর ছবি বা ভিডিও ব্যবহার করে অনৈতিক বা বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট তৈরি করা যাবে না।

তবে জাহ্নবীর নামে পরিচালিত ফ্যান পেজ বা ফ্যান ক্লাব বন্ধ করে দেওয়ার সুযোগ নেই। কারণ, এর সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বিষয়টি সম্পর্কিত।

বুধবার (১২ আগস্ট) জাহ্নবীর করা মামলার শুনানি হয়েছে দিল্লি হাইকোর্টে। শুনানিতে আদালত জানায়, অভিনেত্রীর অনুমতি ছাড়া তার ছবি বা ভিডিও ব্যবহার করা যাবে না।

আরও পড়ুন: দুই সন্তানকে হত্যার পর মায়ের আত্মহত্যা, ওড়না পেঁচিয়ে

কিন্তু, তার নামে থাকা সব ফ্যান পেজ বা ফ্যান ক্লাব বন্ধ করে দেওয়া যাবে না। কারণ, এর সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বিষয়টি জড়িত।

জাহ্নবীর অভিযোগ হচ্ছে, তার অনুমতি ছাড়া বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার নাম, ছবি ও পরিচিতি ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব কনটেন্টের মাধ্যমে বাণিজ্যিকভাবে লাভবান হচ্ছেন কেউ কেউ।

এমনকি, অভিনেত্রীর নামে অশ্লীল কনটেন্ট তৈরি করে তা ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

জাহ্নবীর আইনজীবীরা পাঁচ হাজারেরও বেশি ওয়েবপেজ ও পোস্টের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছিলেন। এর মধ্যে তার কিছু ফ্যান পেজের লিংকও ছিল। শুনানিতে এসব কনটেন্ট বন্ধ করার আবেদন করেছেন অভিনেত্রী। আদালত ফ্যান পেজ বন্ধের বিষয়ে সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেছে।

আরও পড়ুন: ককরোচদের মোকাবিলায় এবার ‘লাল হিট’

বিচারপতি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বিষয়টি উপেক্ষা করা যায় না। শুনানিতে এমন প্রশ্নও তোলা হয়েছে যে, কোনো তারকা কিভাবে তার নামে থাকা প্রতিটি ফ্যান ক্লাব বা ফ্যান পেজ বন্ধ করার দাবি করতে পারেন।

আদালতের পর্যবেক্ষণ হলো, কোনো ব্যক্তি তারকা হলেই তাকে নিয়ে সাধারণ মানুষের সব বক্তব্য নিয়ন্ত্রণ করার অধিকার অর্জন করেন না। ব্যক্তিত্বের অধিকার রক্ষা করতে গিয়ে অন্যের বাকস্বাধীনতা খর্ব করা উচিত নয়।

শুনানিতে কপিরাইটের বিষয়টি উঠে আসে। আদালত জানায়, যদি কোনো ব্যক্তি জাহ্নবীর ছবি ব্যবহার করে নিজের তৈরি পণ্য বা শিল্পকর্ম বিক্রি করেন, তখন শুধু ছবিতে অভিনেত্রীর উপস্থিতি রয়েছে বলেই সেটিকে তার ব্যক্তিত্বের অধিকার লঙ্ঘন হিসেবে ধরা যাবে না। কারণ ছবিটি যিনি তুলেছেন বা শিল্পকর্মটি যিনি তৈরি করেছেন, তার নিজস্ব কপিরাইট থাকতে পারে।

অর্থাৎ, ছবিতে জাহ্নবীর উপস্থিতি থাকলেই, শুধু সেই কারণে কোনো শিল্পকর্ম বা পণ্য বিক্রি করা বেআইনি বলে ধরে নেওয়া যাবে না। সংশ্লিষ্ট কনটেন্টের ধরন, ব্যবহারের উদ্দেশ্য এবং কপিরাইটসহ অন্যান্য আইনি বিষয়ও বিবেচনা করতে হবে।

আরও পড়ুন: জাতি-ধর্ম-বর্ণের ভেদাভেদ ভুলে সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান এলজিআরডি মন্ত্রীর

তবে জাহ্নবীর অনুমতি ছাড়া তার নাম, ছবি ও পরিচিতি ব্যবহার করে অশ্লীল বা বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট তৈরি এবং তা থেকে মোটর সুবিধা নেওয়ার অভিযোগের বিষয়টি আলাদাভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। এই ধরনের অননুমোদিত ব্যবহার নিয়ে বিচারক বলেছেন যে, অভিনেত্রীর ব্যক্তিত্বের অধিকার সুরক্ষার জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ।

এদিকে, ডিপফেক ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে তারকাদের ছবি-ভিডিও বিকৃত করে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা নিয়ে বলিউডে উদ্বেগ বাড়ছে। ব্যক্তিগত মর্যাদা, পরিচিতি ও ব্যক্তিত্বের অধিকার রক্ষায় এর আগেও একাধিক তারকা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।

জাহ্নবীর মামলায়ও একইভাবে নিজের পরিচিতি ও ছবি ব্যবহারের বিরুদ্ধে আইনি সুরক্ষা চেয়েছিলেন তিনি। তবে, দিল্লি হাইকোর্টের সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণে একদিকে যেমন অভিনেত্রীর ব্যক্তিত্বের অধিকারকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বিষয়টিও সমান গুরুত্ব পেয়েছে।

ফলে অশ্লীল ও অননুমোদিত কনটেন্টের বিরুদ্ধে আইনি সুরক্ষার পথ জাহ্নবীর জন্য খোলা থাকলেও, তার নামে থাকা সব ফ্যান পেজ বন্ধ করার সুযোগ থাকছে না। তারকার ব্যক্তিগত অধিকার ও সাধারণ মানুষের বাকস্বাধীনতার মধ্যে ভারসাম্য রাখার বিষয়টি এই মামলায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।

আরও পড়ুন: ‘আমাকে অপহরণ করা হয়েছিল’, আয়োজকদের বিরুদ্ধে আকাঙ্ক্ষার অভিযোগ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঐশ্বর্যা রাইয়ের ভাবমূর্তি সম্পূর্ণ ধ্বংস করতে চেয়েছিলেন এক পরিচালক! কী কারণে এমন চেয়েছিলেন তিনি?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:৪৬ এম


ঐশ্বর্যা রাইয়ের ভাবমূর্তি সম্পূর্ণ ধ্বংস করতে চেয়েছিলেন এক পরিচালক! কী কারণে এমন চেয়েছিলেন তিনি?

ঐশ্বর্যা বহিরাগত ছিলেন বলিউডে, তবে তিনি সেখানে জায়গা করে নিয়েছিলেন। কিন্তু, তাঁর ভাবমূর্তি ধ্বংস করতে চেয়েছিলেন এক পরিচালক।

ঐশ্বর্যা রাই বচ্চনের সৌন্দর্য ও মাধুর্যে অসংখ্য অনুরাগী মুগ্ধ। তিনি বলিউডে বহিরাগত ছিলেন। তবে তিনি সেখানে একটি স্থান অর্জন করেছিলেন। কিন্তু, তাঁর ভাবমূর্তি সম্পূর্ণ ধ্বংস করার চেষ্টা করেছিলেন এক পরিচালক। কে সেই পরিচালক?

সুভাষ ঘাই পরিচালিত ‘তাল’ ২৭ বছর পূর্ণ করেছে। সম্প্রতি ছবিটি নিয়ে পরিচালক মুখ খুলেছেন। বিশেষত ঐশ্বর্যা রাই বচ্চনকে মানসীর চরিত্রে নেওয়ার আগে যে ঝুঁকি নিতে হয়েছিল সুভাষকে, তা নিয়ে আলোচনার সময় কথা বলেছেন তিনি।

‘তাল’-এ মানসী এমন একটি তরুণী, যে ছোট শহর থেকে উঠে আসে। তাঁর জীবনে রয়েছে নাচ, প্রতিভা, আবেগ এবং নিজের পরিচয় গঠনের জন্য লড়াই। অথচ ঐশ্বর্যা তখন মূলত সৌন্দর্য এবং গ্ল্যামারের জগতের পরিচিত মুখ। বিশ্বসুন্দরী খেতাব জয়ের পর তাঁর ভাবমূর্তি ছিল সৌন্দর্যকেন্দ্রিক। সুভাষ ঘাই তাঁর ছবিতে ‘বিশ্বসুন্দরী’কে চাননি। তিনি এমন একটি অভিনেত্রী খুঁজছিলেন, যিনি সারল্য অত্যন্ত সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারবেন।

ঐশ্বর্যাকে প্রস্তাব দেওয়ার সময় পরিচালক তাঁকে সরাসরি জানিয়েছিলেন, চরিত্রের প্রয়োজনের জন্য তাঁর পরিচিত ভাবমূর্তি সম্পূর্ণ ভেঙে দিতে হবে। সুভাষের কথায়, “আমি ওকে বলেছিলাম, তোমার ভাবমূর্তিটা আমাকে ধ্বংস করতে হবে। কিন্তু প্রথম এক ঘণ্টায় তুমি কোনও প্রসাধনী ব্যবহার করবে না।” ঐশ্বর্যা নাকি সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়ে বলেছিলেন, “হ্যাঁ, আপনি যা বলবেন, আমি তাই করব।”

এছাড়া, ‘তাল ২’-এর চিত্রনাট্য প্রায় সম্পন্ন বলে জানিয়েছেন সুভাষ ঘাই। তাছাড়া সিক্যুয়েল সম্পর্কে তাঁর অবস্থানও পরিষ্কার। ‘তাল’ একটি তারকানির্ভর ছবি হতে পারে না। প্রথম ছবিতে তিনি অভিনেতাদের তারকা পরিচয়কে সামনে রাখেননি। সেই চরিত্রের মাধ্যমে তিনি অভিনেতাদের বড় হয়ে ওঠার সুযোগ করেছিলেন। ‘তাল ২’ ক্ষেত্রেও পরিচালক সেই নীতিতে অটল থাকতে চান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মালিতে অভ্যুত্থান ষড়যন্ত্রে অভিযুক্ত ফরাসি নাগরিককে ক্ষমা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:৫০ এম


মালিতে অভ্যুত্থান ষড়যন্ত্রে অভিযুক্ত ফরাসি নাগরিককে ক্ষমা

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালি কথিত অভ্যুত্থানের পরিকল্পনার অভিযোগে ২০ বছরের কারাদণ্ড প্রাপ্ত ফরাসি নাগরিক ইয়ান ভেজিলিয়েরকে ক্ষমা করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আসিমি গোইতা। বৃহস্পতিবার এ তথ্য প্রকাশ করেছে মালির সরকার।

ভেজিলিয়েরের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল যে, তিনি গোইতার সরকারকে অস্থিতিশীল করার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছিলেন। এ জন্য তিনি কয়েকজন সেনা জেনারেল ও কিছু সেনাসদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন বলে অভিযোগ আনা হয়। মালির কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে যে, তিনি ফরাসি গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষে কাজ করছিলেন। তবে হঠাৎ করে কেন তাকে ক্ষমা করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই বিষয়ে এখনও কোনও মন্তব্য করেনি। পূর্বে ফরাসি সরকার জানিয়েছিল যে, ভেজিলিয়েরকে মালিতে ফরাসি গুপ্তচর হিসেবে কাজ করার অভিযোগের কোনও ভিত্তি নেই।

মালির সরকার তাদের ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছে যে, ভেজিলিয়েরকে ক্ষমা করার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আদালতে প্রমাণিত কোনও তথ্য-প্রমাণ বা বিচার প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে না। সরকার বলেছে, বিচার চলাকালীন উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনা হয়েছে এবং আসামিপক্ষের সব অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে।

যেসব তথ্য ও প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তার বিষয়ে ক্ষমার সিদ্ধান্ত কোনও প্রশ্ন উত্থাপন করছে না। তবে ক্ষমার সঙ্গে ইয়ান ভেজিলিয়েরকে দ্রুত মালির ভূখণ্ড থেকে বের করে দেওয়ার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। এর মানে, যদিও তাকে কারাদণ্ড থেকে মুক্তি দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু তাকে মালিতে থাকার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।

প্রায় এক বছর আগে মালির কর্তৃপক্ষ ইয়ান ভেজিলিয়েরকে গ্রেপ্তার করে। সে সময় দেশটির নিরাপত্তামন্ত্রী জেনারেল দাউদ আলি মোহাম্মদিনেও জানান, সামরিক বাহিনীর কয়েকজন সদস্যকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করা। মন্ত্রী আরও বলেছিলেন যে, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে সেনাসদস্য এবং বেসামরিক নাগরিক ছিল এবং তারা বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর সহায়তা পেয়েছিলেন।

মালির কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, ভেজিলিয়ার ফরাসি গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে কাজ করছিলেন, এবং যে সংস্থা মালিতে রাজনৈতিক নেতা, নাগরিক সমাজের কর্মী এবং সামরিক সদস্যদের ব্যবহার করে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করেছিল, তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ আনা হয়। তবে ফ্রান্স এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

মালির রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্প্রতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। এপ্রিল মাসে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বামাকোর কাছে আত্মঘাতী ট্রাক হামলায় নিহত হন। এই সময় দেশটির বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক সশস্ত্র হামলা চলছিল। প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মৃত্যুর পরই গোইতা নিজে সেনাবাহিনীর মন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর ফলে দেশের সামরিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতার একটি বড় অংশ তার হাতে কেন্দ্রীভূত হয়ে যায়। ইসলামপন্থী সশস্ত্র যোদ্ধারা দেশের নানা অঞ্চলে অবরোধ তৈরি করেছে। রাজধানী বামাকোর ওপরও তাদের আংশিক অবরোধ দেওয়ার সফলতা রয়েছে।

মালিতে রাজনৈতিক সংকটও আরও গভীর হয়েছে। গত মে মাসে সরকারবিরোধী বিরল বিক্ষোভের পর সামরিক জান্তা সমস্ত রাজনৈতিক দল বিলুপ্ত করে দেয়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী মুসা মারা এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, সামরিক নেতারা রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছিলেন, এই সিদ্ধান্তটা তা বিশাল ধাক্কা দিয়েছে। গোইতা ক্ষমতা নেওয়ার পর দুই বছরের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই নির্বাচন এখনও অনুষ্ঠিত হয়নি। জুলাইয়ে দেশের অন্তর্বর্তীকালীন শাসনের মেয়াদ পাঁচ বছর বাড়ানো হয়। এর ফলে অন্তত ২০৩০ সাল পর্যন্ত গোইতার ক্ষমতায় থাকার পথ তৈরি হয়েছে।

ফ্রান্সের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার পর মালি প্রতিবেশী নাইজার ও বুরকিনা ফাসোর সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করেছে। এই তিন দেশ মিলে আঞ্চলিকভাবে জিহাদি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াই করছে। তারা নিরাপত্তা সহযোগিতার জন্য রাশিয়ার মিত্র ও রুশপন্থী নিরাপত্তা সহযোগীদের উপরও নির্ভর করছে। তবে এসব পদক্ষেপের পরেও মালির নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নয়ন হচ্ছে না। দেশের বিভিন্ন এলাকায় জিহাদি ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলা অব্যাহত রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ফরাসি নাগরিক ইয়ান ভেজিলিয়েরকে ক্ষমা করার সিদ্ধান্ত মালির সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাকে দ্রুত দেশ থেকে বের করে দেওয়ার ব্যবস্থা, দুই দেশের মধ্যে টানাপোড়েনের নতুন আলোচনা জড়িত করতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জব্দ বোমায় যুক্ত ছিল ‘টাইমার’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:৫১ এম


জব্দ বোমায় যুক্ত ছিল ‘টাইমার’

দেশের বেশ কয়েকটি এলাকা থেকে সম্প্রতি জব্দ করা বোমা ও বেامাসদৃশ বস্তুর পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলমান রয়েছে। এর মধ্যে মতিঝিল, আশুলিয়া, সাভার ও কেরানীগঞ্জ থেকে পাওয়া বোমাগুলোতে 'টাইমার' যুক্ত ছিল।

সমস্ত বোমা ছিল ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি)। দৈনিক সমকালের একটি প্রতিবেদন থেকে পুলিশের সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

গত বুধবার সাভারের শ্যামপুরে বোমা ও বিস্ফোরক উদ্ধার সংক্রান্ত ঘটনায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ৬-৭ জনকে আসামি করে সাভার থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মামলায় গ্রেপ্তার মোহাম্মদ আরিফ ওরফে ইমরান প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, তিনি নব্য জেএমবির মতাদর্শে বিশ্বাসী হলেও বোমা তৈরিতে যুক্ত নন। তিনি কেবল সেগুলো বহন করতেন। গতকাল বৃহস্পতিবার ইমরানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ছয় দিনের হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। তবে মামলাটি অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটে (এটিইউ) হস্তান্তর করা হয়েছে।

এদিকে, সাভারের সাধাপুর এলাকায় প্রেশার কুকার বোমা জব্দের ঘটনায় গতকাল মামলা করা হয়েছে।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, মঙ্গলবার রাত ১টার দিকে স্থানীয় একজন ব্যক্তি দেখেন, অপরিচিত ৬-৭ জন ঘোরাঘুরি করছেন। আশপাশের লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা দ্রুত পালিয়ে যান। পরবর্তীতে সেখানে প্লাস্টিকের ড্রামের ভেতর প্রেশার কুকার বোমাটি উদ্ধার করা হয়। পরদিন সেটি নিষ্ক্রিয় করে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল।

কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) সূত্রে জানা গেছে যে, বর্তমানে সরকার জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণে পরিস্থিতি অনুযায়ী তুলনামূলকভাবে 'সফট পদ্ধতি' অনুসরণের চেষ্টা করছে।

ডির‍্যাডিক্যালাইজেশন বা উগ্রবাদ থেকে বের করে আনার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আইনগত প্রক্রিয়া ও পুনর্বাসনমূলক পদ্ধতিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

পুলিশের দাবি, নব্য জেএমবির সদস্যরা অর্থ লেনদেন ও যোগাযোগের জন্য বিভিন্ন ধরনের অ্যাপ ব্যবহার করতেন। 'প্রটেক্টেড টেক্সট' ধরনের অ্যাপের মাধ্যমে তারা অর্থ লেনদেন করতেন। নিজেদের মধ্যে যোগাযোগের জন্য আরেকটি অ্যাপ ব্যবহারের তথ্যও পুলিশ পেয়েছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, তাদের মতাদর্শে বিশ্বাসী অনেকেই ব্যাগ বহন করতেন এবং এতে ছোট আকারের ককটেল রাখতেন। পাশাপাশি বাসা ভাড়া নিয়ে সেখানে বোমা তৈরির রাসায়নিক দ্রব্য ও বিভিন্ন সরঞ্জাম সংরক্ষণ করার তথ্য মিলেছে।

সিটিটিসি সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ডিসেম্বরে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের একটি মাদ্রাসায় বিস্ফোরণ এবং সাভারে বোমা বিস্ফোরণের পর ঘটনাস্থল থেকে ট্রাইঅ্যাসিটোন ট্রাইপারঅক্সাইড (টিএটিপি) পাওয়া যায়। এটি একটি বিপজ্জনক ও শক্তিশালী জৈব পারঅক্সাইড বিস্ফোরক। এ ছাড়া হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড, নাইট্রিক অ্যাসিডসহ প্রায় ১০ কেজি গুঁড়া পাউডার ও বোমা তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।

গত ৩০ জুলাই ঢাকার আশুলিয়ার চারাবাগ এলাকায় জয়ী জেনারেল স্টোরের সামনে থেকে স্কচটেপে মোড়ানো প্রেশার কুকার সদৃশ একটি বোমা উদ্ধার করা হয়। এতে আইইডির উপস্থিতি পাওয়া গেছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টদের ধারণা, প্রেশার কুকারকে সন্দেহজনক মনে না হওয়ায় এটি বোমা তৈরির উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। প্রেশার কুকারের ওপরের বাষ্প বা গ্যাস বের হওয়ার অংশটিও বোমার কাঠামোর অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।

সিটিটিসি সূত্রে জানা যায়, বিস্ফোরণের পর বোমাগুলোতে বল, বিয়ারিং ও অ্যান্টেনার মতো বিভিন্ন উপাদানের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এসব আলামত থেকে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, বোমাগুলো দূরনিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে বিস্ফোরণের উপযোগী করে তৈরি করা হতে পারে। তাদের মতে, এ ধরনের বোমা যেকোনো সময় বিস্ফোরিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বোমা তৈরিতে আধুনিক প্রযুক্তি ও রাসায়নিক ব্যবহারের আলামত পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও উদ্বেগজনক হতে পারে বলে মনে করছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।

সিটিটিসি সূত্রে আরও জানা যায়, বোমাসদৃশ কোনো বস্তু পাওয়া গেলে সেগুলো বিস্ফোরণের আগেও দূরনিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে বিস্ফোরিত হতে পারে। তাই উদ্ধার ও নিষ্ক্রিয় করার পুরো প্রক্রিয়াটি ঝুঁকিপূর্ণ। বোমা নিষ্ক্রিয় করার সময় পর্যাপ্ত ফাঁকা জায়গা প্রয়োজন হয়। কিন্তু ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় সাধারণ মানুষের উপস্থিতির কারণে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। সাভারে বোমা বিস্ফোরণের পর তদন্তকারীরা ধারণা পাচ্ছেন, এসব বোমা কতটা শক্তিশালী হতে পারে।

সিটিটিসির তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, ঢাকার কেরানীগঞ্জ, মতিঝিল, আশুলিয়া ও সাভারের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিরা প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তারা সবাই নব্য জেএমবির সদস্য। কেরানীগঞ্জের আল-আমিন, মামুন, রাব্বি ও যাত্রাবাড়ীতে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত রাকিব একই মতাদর্শে বিশ্বাসী বলে তদন্তে জানা গেছে।

এদিকে বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতপাড়ায় বুধবার বিস্ফোরণ ঘটানো বিস্ফোরকটি সেখানে আগে পুঁতে রাখা হয়েছিল নাকি নিক্ষেপ করা হয়েছে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পরেও এ বিষয়ে পুলিশের স্পষ্ট তথ্য মেলেনি। এমনকি বিস্ফোরকের ধরন ও প্রকৃতি সম্পর্কে পুলিশ এখন পর্যন্ত সুস্পষ্ট ধারণা পায়নি। এসব নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন তোলা হলে পুলিশের দায়িত্বশীলরা উত্তর দিচ্ছেন, 'তদন্ত ও ফরেনসিক প্রতিবেদন ছাড়া কিছু বলা যাবে না।'

জানা গেছে, বুধবার বিকেলে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সভাকক্ষে কয়েক ঘণ্টা রুদ্ধ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সকল বিচারক ও মহানগর পুলিশ কমিশনারসহ সকল ইউনিটের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে, বিস্ফোরকটি আগেই পুঁতে রাখা হয়েছিল। গত কয়েকদিনে আদালত এলাকায় ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিং হয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকলে সিসি ক্যামেরা কার্যকর থাকে না। ধারণা করা হচ্ছে, লোডশেডিং চলাকালে বোমাসদৃশ বস্তু পুঁতে রাখা হতে পারে।

পুলিশের বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার তদন্ত করছে সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট। ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা আলামত ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

ক্রাইম সিন ইনচার্জ খলিলুর রহমান জানান, ঘটনাস্থল থেকে কাচের গুঁড়া, প্লাস্টিকের টুকরা ও বারুদের উপকরণ সংগ্রহ করা হয়েছে। সিআইডির একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা ব্যাপক বিধ্বংসী কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। তবে বিস্ফোরণের ধরন ও ব্যবহৃত উপাদান পরীক্ষার আগে এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো মন্তব্য করা যাবে না।

কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আল মামুন উল ইসলাম সমকালকে জানান, আদালত চত্বরে বিস্ফোরণের ঘটনায় কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক মো. কামরুল হায়দার রুবেল বাদী হয়ে বুধবার রাতে মামলা দায়ের করেছেন। তবে এতে নাম উল্লেখ করে কাউকে আসামি করা হয়নি।

বিস্ফোরকটি ঘটনাস্থলে আগেই পুঁতে রাখা হয়েছিল, নাকি নিক্ষেপ করা হয়েছে–এ প্রশ্নে ওসি বলেছেন, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কিছু বলা যাবে না। বরিশাল মহানগর পুলিশ কমিশনার আবু রায়হান মোহাম্মদ সালেহ বলেন, সিসিটিভি এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা মতে ধারণা করা হচ্ছে, বাইরে থেকে বিস্ফোরক দ্রব্যটি কেউ ছুড়েছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাবে না। পুলিশ কমিশনারের দাবি, বিস্ফোরকটি পটকা জাতীয় কিছু হবে। ভীতি সৃষ্টির জন্য কে বা কারা আদালতপাড়ায় বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সিএনজি পাম্পে অসহনীয় সংকট, জরুরি পদক্ষেপের দাবি জামায়াত আমিরের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:৫২ এম


সিএনজি পাম্পে অসহনীয় সংকট, জরুরি পদক্ষেপের দাবি জামায়াত আমিরের

সিএনজি পাম্পে চলমান অসহনীয় সংকটের দ্রুত সমাধানের জন্য সরকারকে স্পষ্ট বক্তব্য দিতে হবে এবং জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. মো. শফিকুর রহমান।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) তিনি এই দাবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টের মাধ্যমে প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, সারা দেশে সিএনজি পাম্পগুলোতে অসহনীয় সংকট অবলোকন করা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য সরকারের স্পষ্ট বক্তব্য ও উদ্যোগ প্রয়োজন। তিনি বলেছেন, আশু সমাধানের লক্ষ্যে জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে।

গোঁজামিল ও মিথ্যাচারের আশ্রয় না নিয়ে সংকটের সমাধান করতে হবে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, অতীতে সংকট সৃষ্টি হলে আবারো জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। এতে জাতির জন্য কোনো কিছুই গ্রহণযোগ্য হবে না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%