১১:৪৩ এম
বলিউড অভিনেত্রী জাহ্নবী কাপুরের নাম, ছবি ও পরিচিতি ব্যবহার করে অশ্লীল এবং অননুমোদিত কনটেন্ট ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় দিল্লি হাইকোর্ট গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিয়েছে। আদালত জানিয়েছে, অনুমতি ছাড়া জাহ্নবীর ছবি বা ভিডিও ব্যবহার করে অনৈতিক বা বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট তৈরি করা যাবে না।
তবে জাহ্নবীর নামে পরিচালিত ফ্যান পেজ বা ফ্যান ক্লাব বন্ধ করে দেওয়ার সুযোগ নেই। কারণ, এর সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বিষয়টি সম্পর্কিত।
বুধবার (১২ আগস্ট) জাহ্নবীর করা মামলার শুনানি হয়েছে দিল্লি হাইকোর্টে। শুনানিতে আদালত জানায়, অভিনেত্রীর অনুমতি ছাড়া তার ছবি বা ভিডিও ব্যবহার করা যাবে না।
আরও পড়ুন: দুই সন্তানকে হত্যার পর মায়ের আত্মহত্যা, ওড়না পেঁচিয়ে
কিন্তু, তার নামে থাকা সব ফ্যান পেজ বা ফ্যান ক্লাব বন্ধ করে দেওয়া যাবে না। কারণ, এর সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বিষয়টি জড়িত।
জাহ্নবীর অভিযোগ হচ্ছে, তার অনুমতি ছাড়া বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার নাম, ছবি ও পরিচিতি ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব কনটেন্টের মাধ্যমে বাণিজ্যিকভাবে লাভবান হচ্ছেন কেউ কেউ।
এমনকি, অভিনেত্রীর নামে অশ্লীল কনটেন্ট তৈরি করে তা ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
জাহ্নবীর আইনজীবীরা পাঁচ হাজারেরও বেশি ওয়েবপেজ ও পোস্টের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছিলেন। এর মধ্যে তার কিছু ফ্যান পেজের লিংকও ছিল। শুনানিতে এসব কনটেন্ট বন্ধ করার আবেদন করেছেন অভিনেত্রী। আদালত ফ্যান পেজ বন্ধের বিষয়ে সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেছে।
আরও পড়ুন: ককরোচদের মোকাবিলায় এবার ‘লাল হিট’
বিচারপতি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বিষয়টি উপেক্ষা করা যায় না। শুনানিতে এমন প্রশ্নও তোলা হয়েছে যে, কোনো তারকা কিভাবে তার নামে থাকা প্রতিটি ফ্যান ক্লাব বা ফ্যান পেজ বন্ধ করার দাবি করতে পারেন।
আদালতের পর্যবেক্ষণ হলো, কোনো ব্যক্তি তারকা হলেই তাকে নিয়ে সাধারণ মানুষের সব বক্তব্য নিয়ন্ত্রণ করার অধিকার অর্জন করেন না। ব্যক্তিত্বের অধিকার রক্ষা করতে গিয়ে অন্যের বাকস্বাধীনতা খর্ব করা উচিত নয়।
শুনানিতে কপিরাইটের বিষয়টি উঠে আসে। আদালত জানায়, যদি কোনো ব্যক্তি জাহ্নবীর ছবি ব্যবহার করে নিজের তৈরি পণ্য বা শিল্পকর্ম বিক্রি করেন, তখন শুধু ছবিতে অভিনেত্রীর উপস্থিতি রয়েছে বলেই সেটিকে তার ব্যক্তিত্বের অধিকার লঙ্ঘন হিসেবে ধরা যাবে না। কারণ ছবিটি যিনি তুলেছেন বা শিল্পকর্মটি যিনি তৈরি করেছেন, তার নিজস্ব কপিরাইট থাকতে পারে।
অর্থাৎ, ছবিতে জাহ্নবীর উপস্থিতি থাকলেই, শুধু সেই কারণে কোনো শিল্পকর্ম বা পণ্য বিক্রি করা বেআইনি বলে ধরে নেওয়া যাবে না। সংশ্লিষ্ট কনটেন্টের ধরন, ব্যবহারের উদ্দেশ্য এবং কপিরাইটসহ অন্যান্য আইনি বিষয়ও বিবেচনা করতে হবে।
আরও পড়ুন: জাতি-ধর্ম-বর্ণের ভেদাভেদ ভুলে সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান এলজিআরডি মন্ত্রীর
তবে জাহ্নবীর অনুমতি ছাড়া তার নাম, ছবি ও পরিচিতি ব্যবহার করে অশ্লীল বা বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট তৈরি এবং তা থেকে মোটর সুবিধা নেওয়ার অভিযোগের বিষয়টি আলাদাভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। এই ধরনের অননুমোদিত ব্যবহার নিয়ে বিচারক বলেছেন যে, অভিনেত্রীর ব্যক্তিত্বের অধিকার সুরক্ষার জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে, ডিপফেক ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে তারকাদের ছবি-ভিডিও বিকৃত করে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা নিয়ে বলিউডে উদ্বেগ বাড়ছে। ব্যক্তিগত মর্যাদা, পরিচিতি ও ব্যক্তিত্বের অধিকার রক্ষায় এর আগেও একাধিক তারকা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।
জাহ্নবীর মামলায়ও একইভাবে নিজের পরিচিতি ও ছবি ব্যবহারের বিরুদ্ধে আইনি সুরক্ষা চেয়েছিলেন তিনি। তবে, দিল্লি হাইকোর্টের সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণে একদিকে যেমন অভিনেত্রীর ব্যক্তিত্বের অধিকারকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বিষয়টিও সমান গুরুত্ব পেয়েছে।
ফলে অশ্লীল ও অননুমোদিত কনটেন্টের বিরুদ্ধে আইনি সুরক্ষার পথ জাহ্নবীর জন্য খোলা থাকলেও, তার নামে থাকা সব ফ্যান পেজ বন্ধ করার সুযোগ থাকছে না। তারকার ব্যক্তিগত অধিকার ও সাধারণ মানুষের বাকস্বাধীনতার মধ্যে ভারসাম্য রাখার বিষয়টি এই মামলায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।
আরও পড়ুন: ‘আমাকে অপহরণ করা হয়েছিল’, আয়োজকদের বিরুদ্ধে আকাঙ্ক্ষার অভিযোগ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন