ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

চায়ের প্যাকেটে লুকানো ১২ হাজার ইয়াবাসহ একজন আটক


চায়ের প্যাকেটে লুকানো ১২ হাজার ইয়াবাসহ একজন আটক

রংপুরে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে চা পাতার প্যাকেটে লুকিয়ে আনা ১২ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর (ডিএনসি)। এবিষয়ে মনসুর মণ্ডল ওরফে বোদা (৪০) নামে একজন ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। বুধবার (১ জুলাই) সকালে নগরীর ফায়ার সার্ভিস মোড় এলাকায় এস এ পরিবহন কুরিয়ার সার্ভিস অফিসে অভিযান চালিয়ে ইয়াবার চালানটি জব্দ করা হয়। এর বিষয়ে দুপুরে রংপুর জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক আবু জাফর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। আটক মনসুর মণ্ডল রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চনপুর গ্রামের একটি বাসিন্দা। তিনি জালাল মণ্ডলের ছেলে, তা জানা গেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সামনে এসেছে যে তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এটি জানিয়েছে ডিএনসি। আবু জাফর বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, কক্সবাজার থেকে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে রংপুরে ইয়াবার একটি বড় চালান আসছে। এরপর সিভিল পোশাকে ডিএনসির সদস্যরা এস এ পরিবহন অফিসে নজরদারি শুরু করেন। তিনি আরো বলেন, মনসুর যখন পার্সেল নিতে আসেন, তখন তাঁকে আটক করা হয়। পরে পার্সেলটি খুলে দেখা যায়, চা পাতার প্যাকেটের ভেতর থেকে ১২ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। ডিএনসির দাবী অনুযায়ী, মনসুর একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবার কারবার চালিয়ে আসছিলেন। তিনি কক্সবাজার থেকে মাদক এনে রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করতেন। আবু জাফর জানান, মাদক কারবারিরা প্রতিনিয়ত নতুন কৌশলে মাদক পরিবহন করছে। কখনো তারা ফলের কার্টনে, কখনো পোশাকের মাধ্যমে, আবার কখনো খাদ্যপণ্যের মোড়কে মাদক পাঠাচ্ছে। এবার ব্যবহার করা হয়েছে চা পাতার প্যাকেট। গোয়েন্দা নজরদারির কারণে চালানটি জব্দ করা সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও বলেন, মাদকের উৎস এবং এ নিয়ে জড়িত অন্যান্যদের শনাক্ত করার জন্য তদন্ত চলছে। এই ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রশাসন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শূন্যরেখায় ১৭ দিনের মানবেতর জীবন, তারপর হঠাৎ উধাও বিএসএফের পুশইন করা তিন যুবক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

বুধবার, ১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:১০ পি.এম


শূন্যরেখায় ১৭ দিনের মানবেতর জীবন, তারপর হঠাৎ উধাও বিএসএফের পুশইন করা তিন যুবক

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার ইজলামারী সীমান্তে নাগরিকত্ব জটিলতায় টানা ১৭ দিন ধরে শূন্যরেখায় অবস্থান করা তিন যুবকের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

বুধবার (১ জুলাই) ভোর থেকে তাদের আর সেখানে দেখা যাচ্ছে না। তারা কোথায় গেছেন, নাকি কোনো পক্ষ তাদের সরিয়ে নিয়েছে, এ বিষয়ে জামালপুর ৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়ন নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেনি। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, তিন যুবক বর্তমানে শূন্যরেখায় নেই।

এর আগে গত ১৪ জুন ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ রৌমারীর গয়টাপাড়া ও ইজলামারী সীমান্ত দিয়ে দুই শিশুসহ নয়জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে। বিজিবি ও স্থানীয়দের বাধার মুখে তারা দুই দেশের মধ্যবর্তী শূন্যরেখায় অবস্থান নেয়। পরে পরিচয় যাচাই শেষ করে দুই শিশুসহ ছয়জনকে তাদের স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হলেও পরিচয় নিশ্চিত না হওয়ায় বাকি তিন যুবক ইজলামারী সীমান্তের শূন্যরেখাতেই আটকে ছিলেন। তারা টানা ১৭ দিন খোলা আকাশের নিচে রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছিলেন।

জামালপুর ৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক হাসানুর রহমান জানান, টানা ১৭ দিন ধরে তিন যুবক ইজলামারী সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছিলেন। তবে বুধবার ভোর থেকে তাদের সেখানে আর দেখা যাচ্ছে না। তারা কোথায় গেছেন, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বিজিবির নজরদারি ও অনুসন্ধান কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সীমান্ত দিয়ে নতুন করে কোনো পুশইনের ঘটনা প্রতিরোধে সীমান্তজুড়ে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে নতুন রেকর্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:১৩ পি.এম


চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে নতুন রেকর্ড

চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার, কার্গো ও জাহাজ হ্যান্ডলিংয়ে নতুন রেকর্ড গড়েছে ২০২৫–২৬ অর্থবছরে।

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং শ্রমিকদের ধর্মঘট-অবরোধের মতো নানা প্রতিকূলতার মধ্যে এই সাফল্য অর্জিত হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সদ্য শেষ হওয়া অর্থবছরে বন্দরে মোট ৩৫ লাখ ৩১ হাজার ১১৮ টিইইউএস (২০ ফুট সমমান) কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে। আগের অর্থবছরের তুলনায় এটি ৭ দশমিক ১৩ শতাংশ বেশি। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছিল ৩২ লাখ ৯৬ হাজার ৬৭ টিইইউএস।

একই সময়ে কার্গো (খোলা পণ্য) হ্যান্ডলিংয়ে ১৩ কোটি ৮০ লাখ ৭২ হাজার ৮২৬ মেট্রিক টন সম্পন্ন হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের ১৩ কোটি ৭ লাখ ২৪ হাজার ৭৮৩ মেট্রিক টনের তুলনায় ৫ দশমিক ৬২ শতাংশ বেশি।

জাহাজ হ্যান্ডলিংও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। বিদায়ী অর্থবছরে ৪ হাজার ৩৩৬টি জাহাজ হ্যান্ডলিং হয়েছে, যা আগের অর্থবছর থেকে ৪ হাজার ৭৭টির তুলনায় ৬ দশমিক ৩৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

এই অর্জনকে যুগান্তকারী উল্লেখ করে চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান বলেন, "২০২৫-২৬ অর্থ বছরে প্রতিটি সূচকে আমরা অতীতের সমস্ত রেকর্ড ভঙ্গ করতে পেরেছি।" তিনি আরও জানান, আগের অর্থবছরের তুলনায় এ বছর রাজস্ব আদায়ে ২৩ দশমিক ৫৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

বুধবার চট্টগ্রাম বন্দরের নবনির্মিত ওয়ান স্টপ সার্ভিস ভবনের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি বলেন, "২০২৫–২৬ অর্থবছরে বন্দর সব সূচকেই আগের রেকর্ড অতিক্রম করেছে।" তিনি উল্লেখ করেন, বন্দর কর্মকর্তা-কর্মচারী, কাস্টমস, শিপিং এজেন্ট, ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার ও সংশ্লিষ্ট সবাই এর সাফল্যে সম্মিলিত প্রচেষ্টা করেছেন।

বন্দর সূত্র জানায়, বিদায়ী অর্থবছরে আয়কর-পরবর্তী রাজস্ব উদ্বৃত্ত ৩ হাজার ৩৯৫ কোটি টাকা হয়েছে। আগের অর্থবছরে যা ছিল ২ হাজার ২২৭ কোটি টাকা। একই সঙ্গে জাহাজের গড় অবস্থানকাল ২ দশমিক ৫৮ দিন থেকে কমে ২ দশমিক ৩৮ দিনে নেমেছে।

দেশের প্রায় ৯২ শতাংশ আমদানি-রপ্তানি পণ্য চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমেই পরিবাহিত হয়। তবে অর্থবছরজুড়ে বিভিন্ন কারণে বন্দরের কার্যক্রম একাধিক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে। বিদেশি অপারেটর নিয়োগের বিরোধিতা করে ফেব্রুয়ারিতে শ্রমিকদের ধর্মঘটে বন্দরের কার্যক্রম কিছুদিনের জন্য ব্যাহত হয়েছে। এর আগে অক্টোবরে বর্ধিত মাশুল প্রত্যাহারের জন্য সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের কর্মবিরতিতেও আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে প্রভাব পড়েছিল। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আন্তর্জাতিক নৌপরিবহনেও অস্থিরতা তৈরি করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জুলাইকে গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা ও আত্মত্যাগের মাস হিসেবে উল্লেখ করলেন মাসুদ সাঈদী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:১৪ পি.এম


জুলাইকে গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা ও আত্মত্যাগের মাস হিসেবে উল্লেখ করলেন মাসুদ সাঈদী

পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী বলেছেন, 'জুলাই মাস আমাদের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা, আত্মত্যাগ ও নতুন বাংলাদেশ গড়ার শপথের মাস। জুলাই কেবল একটি মাসের নাম নয়, এটি দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রাম, ত্যাগ ও প্রতিরোধের প্রতীক।'

আজ বুধবার (১ জুলাই) সকালে ঢাকার একটি অডিটোরিয়ামে জিয়ানগর নাগরিক ফোরাম কর্তৃক আয়োজিত 'জুলাই: বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার শপথের মাস' শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এডভোকেট বদরুজ্জামান সোহেলের সভাপতিত্বে ও হাফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ব্যারিষ্টার রুহুল আমিন খান, প্রকৌশলী হাসান হাফিজুর রহমান, আলমগীর হোসেন, হাসানুজ্জামান প্রমুখ।

মাসুদ সাঈদী বলেন, 'জুলাইয়ের চেতনা হঠাৎ করে সৃষ্টি হয়নি। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং অন্যান্য বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা নানা সময়ে আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে এসেছেন।

সেই ধারাবাহিকতায় পিলখানা ট্র্যাজেডি, শাপলা চত্বরের ঘটনা, রাজনৈতিক মামলা, গ্রেপ্তার, গুম, নির্যাতন এবং বহু নেতা-কর্মীর আত্মত্যাগ জাতির স্মৃতিতে অমলিন হয়ে রয়েছে।'

তিনি বলেন, 'আমার সম্মানিত শহীদ পিতা আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে খুনি হাসিনা কারাগার থেকে চিকিৎসার নামে হাসপাতালে এনে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। জামায়াতে ইসলামীর পাঁচজন শীর্ষ নেতা এবং বিএনপির একজন নেতাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে। এ ছাড়া বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর অসংখ্য নেতা-কর্মীকে গুম, খুন, নির্যাতন, পঙ্গুত্ব, কারাবরণ ও ঘরছাড়া জীবনের মুখোমুখি হতে হয়েছে।

যারা এসব ত্যাগ স্বীকার করেছেন এবং যারা জুলাই আন্দোলনে জীবন দিয়েছেন—তাদের উদ্দেশ্য ছিল একটি ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা।'

তিনি আরো বলেন, 'জুলাই শহীদদের রক্ত, আহতদের আত্মত্যাগ এবং দীর্ঘ আন্দোলনের চেতনা কোনোভাবেই বিস্মৃত হওয়া যাবে না। যারা এই চেতনার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করবে বা জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষাকে ব্যক্তিগত কিংবা রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করবে, জনগণ তাদের ক্ষমা করবে না।'

এমপি মাসুদ সাঈদী বলেন, 'জুলাইয়ের আত্মত্যাগের সঙ্গে গাদ্দারি বাংলার মানুষ কখনো মেনে নেবে না। শহীদদের রক্তের মর্যাদা রক্ষা করা এবং তাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তোলা আমাদের সবার নৈতিক ও জাতীয় দায়িত্ব।

ভবিষ্যতে আবার কেউ খুনি হাসিনার মতো ফ্যাসিস্ট হওয়ার চেষ্টা করলে তাকে বা তাদেরকেও আওয়ামী লীগের থেকেও করুণ পরিনতি বরণ করতে হবে।'

সভায় মাসুদ সাঈদী দেশের শান্তি, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সকল রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও সর্বস্তরের জনগণের প্রতি ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাণিজ্যিক নথিপত্র ডিজিটাল প্রক্রিয়াকরণের পাইলট কর্মসূচি চালু করল বাংলাদেশ ব্যাংক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:১৫ পি.এম


বাণিজ্যিক নথিপত্র ডিজিটাল প্রক্রিয়াকরণের পাইলট কর্মসূচি চালু করল বাংলাদেশ ব্যাংক

দেশের সীমান্ত-বাণিজ্য ও বাণিজ্য অর্থায়ন ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, দ্রুত এবং দক্ষ করে তুলতে এই উদ্যোগকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এ কাঠামোর মাধ্যমে বাণিজ্যিক নথিপত্রের ডিজিটাল প্রক্রিয়াকরণ সহজতর হবে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কার্যক্রমে গতি ও স্বচ্ছতা বাড়াতে এই পদক্ষেপ সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

আজ বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ এ বিষয়ে একটি সার্কুলার জারি করেছে।

এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো-কাগজের নথিপত্রের জায়গায় ধাপে ধাপে নিরাপদ ইলেকট্রনিক বা ডিজিটাল প্রক্রিয়া চালু করার মাধ্যমে কাজের দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও পরিচালন সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।

প্রথম পর্যায়ে পরীক্ষামূলক কর্মসূচির আওতায় অনুমোদিত বাণিজ্য করিডোরগুলোতে ‘ডকুমেন্টারি কালেকশন’ এবং ‘লেটার অব ক্রেডিট’ (এলসি)’র মাধ্যমে পরিচালিত লেনদেনগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিভিন্ন বিধিমালার আওতাধীন রপ্তানি ও আমদানি লেনদেনে এ কাঠামো প্রযোজ্য হবে। এর মধ্যে রয়েছে ইউনিফর্ম রুলস ফর কালেকশনস (ইউআরসি), ইলেকট্রনিক ইউনিফর্ম রুলস ফর কালেকশনস (ই-ইউআরসি), ইউনিফর্ম কাস্টমস অ্যান্ড প্র্যাকটিস ফর ডকুমেন্টারি ক্রেডিটস (ইউসিপি) এবং ইলেকট্রনিক ইউনিফর্ম কাস্টমস অ্যান্ড প্র্যাকটিস (ই-ইউসিপি)।

এ কাঠামোর মাধ্যমে ইলেকট্রনিক ট্রান্সফারেবল রেকর্ডস (ইটিআর) ব্যবহারের সুযোগও তৈরি হবে। ফলে বাণিজ্যিক নথি ডিজিটালভাবে ইস্যু, হস্তান্তর ও ব্যবস্থাপনা করা যাবে এবং অনুমোদিত পাইলট ব্যবস্থার আওতায় ইলেকট্রনিক নথিভিত্তিক ট্রেড ফাইন্যান্স কার্যক্রম পরিচালনা সহজ হবে।

সার্কুলারে বলা হয়, এ কাঠামো পাঁচটি মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে। এগুলো হলো- বিভিন্ন সিস্টেমের মধ্যে আন্তঃকার্যক্ষমতা (ইন্টারঅপারেবলিটি), প্রযুক্তি-নিরপেক্ষতা, ক্রিপ্টোগ্রাফিক পদ্ধতিতে নথির সত্যতা বিকেন্দ্রীকৃতভাবে যাচাই, তথ্যের গোপনীয়তা নিশ্চিত করা এবং ইলেকট্রনিক ও কাগজভিত্তিক বাণিজ্যিক নথির সমান আইনি বৈধতা নিশ্চিত করা।

এই পাইলট কর্মসূচিতে অংশ নিতে অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলোকে প্রস্তাবিত বাণিজ্য করিডোর, অংশীদার প্রতিষ্ঠান, লেনদেনের ধরন এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনার বিস্তারিত বিবরণ জমা দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিগত অনুমোদন নিতে হবে।

এ কাঠামোর আওতায় ব্যাংকগুলো নিরাপদ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, ডিজিটাল স্বাক্ষর এবং প্রমাণীকৃত আন্তঃব্যাংক বার্তা বিনিময় ব্যবস্থার মাধ্যমে ইলেকট্রনিক বাণিজ্যিক চালান (কমার্শিয়াল ইনভয়েস), ইলেকট্রনিক বিল অব লেডিংসহ পরিবহন-সংক্রান্ত নথিপত্র এবং বিল অব এক্সচেঞ্জ প্রক্রিয়াকরণ করতে পারবে।

নথির নিরাপত্তা রক্ষায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে ইলেকট্রনিক রেকর্ডের স্বকীয়তা নিশ্চিত করতে হবে। অননুমোদিত পরিবর্তন প্রতিরোধ করতে হবে এবং এনক্রিপশন, টাইম-স্ট্যাম্পিং ও টেম্পার-প্রুফ অডিট ট্রেইলের মাধ্যমে নিরাপদ তথ্য আদান-প্রদান নিশ্চিত করতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এই পাইলট কর্মসূচিটি অনুমোদিত বাণিজ্য করিডোরগুলোতে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। এই পরীক্ষামূলক ধাপের সফল সমাপ্তি এবং পরবর্তী রেগুলেটরি মূল্যায়নের ওপর ভিত্তি করে এই ডিজিটাল বাণিজ্য নথি ব্যবস্থার ব্যাপক সম্প্রসারণ করা হবে।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে রপ্তানি নথি নিরাপদভাবে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে দাখিলের সুযোগ দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক যে সার্কুলার জারি করেছিল, এ নতুন উদ্যোগ তারই ধারাবাহিকতা। এর মাধ্যমে দেশের ডিজিটাল বাণিজ্য পরিবেশ আরও শক্তিশালী করা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকে অধিক দক্ষ ও গতিশীল করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%