০৪:৩০ পি.এম
লেবাননে ইসরাইলের অব্যাহত হামলার কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সমঝোতা হুমকির মুখে পড়েছে। একটি এমন পরিস্থিতির মধ্যে ইরান ঘোষণা করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে তারা সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত রয়েছে। কিন্তু এর জন্য ওয়াশিংটনকে অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যে, ইসরাইল যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতা চুক্তির শর্ত মেনে চলবে এবং লেবাননে হামলা বন্ধ করবে। আল জাজিরা জানিয়েছে।
আজ শনিবার (২০ জুন) আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খতিবজাদেহ বলেছেন, ‘আমরা ধাপে ধাপে এগিয়ে যেতে প্রস্তুত, যদি অপর পক্ষও একই ধরনের আন্তরিকতা দেখায়।’ সাঈদ খতিবজাদেহ জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার লক্ষ্য হচ্ছে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করা, কিন্তু সেই প্রচেষ্টা সফল করতে হলে ইসরাইলকে চুক্তির শর্ত মানতে হবে।
গত বুধবার (১৭ জুন) যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি ১৪ দফা সমঝোতায় পৌঁছায়, যেখানে হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা, উত্তেজনা কমানো, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর সীমাবদ্ধতা এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই সমঝোতার ভিত্তিতে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তির জন্য আলোচনা চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
আরও পড়ুন: ‘জুলাইয়ের আন্দোলনে শেখ হাসিনা ও জাতীয় মসজিদের খতিব পালিয়ে গেছেন’
তবে ইসরাইল শুরু থেকেই এই প্রক্রিয়া নিয়ে সন্দিহান। সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ইসরায়েল সমঝোতার পূর্ণাঙ্গ পাঠ দেখতে চাইলেও ওয়াশিংটন প্রকাশে অনাগ্রহ দেখাচ্ছে। পাশাপাশি নেতানিয়াহু স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, লেবাননে ইসরাইলি বাহিনীর উপস্থিতি অব্যাহত থাকবে।
গত শুক্রবার (১৯ জুন) ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইলি বাহিনী। এতে নতুন করে অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন বলেছে লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা (এনএনএ)। এর ফলে গত দুই দিনে নিহতের সংখ্যা ৬০ ছাড়িয়েছে।
খাতিবজাদেহ বলেছেন, ইসরাইলের সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপ শান্তি প্রক্রিয়াকে বিপদের মুখে ফেলতে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেন, যুদ্ধ যদি লেবাননসহ অন্যান্য ফ্রন্টে চলতে থাকে, তাহলে কূটনৈতিক অগ্রগতি একে খর্ব করবে।
অন্যদিকে, মার্কিন কর্মকর্তা ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ১৪ দফা সমঝোতার ভিত্তিতে ৬০ দিনের আলোচনা প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা থাকলেও লেবাননে নতুন করে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ায় নির্ধারিত বৈঠক পিছিয়ে গেছে। তেহরান নির্ধারণ করে বলেছে, ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকলে আলোচনা এগিয়ে নেওয়া কঠিন হবে।
আরও পড়ুন: ইসরাইলের নির্বাচনে ১৯ আসন নিয়ে কিংমেকার ফিলিস্তিনি দলগুলো
আল জাজিরা ও দ্য গার্ডিয়ানের তথ্য অনুযায়ী, ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সুইজারল্যান্ডে আলোচনার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আলোচনা মূল বিষয়গুলোর মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং হরমুজ প্রণালির স্বাভাবিক নৌ চলাচল নিশ্চিত করা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই বক্তব্যে একদিকে কূটনীতির প্রতি আগ্রহের ইঙ্গিত রয়েছে, অন্যদিকে ওয়াশিংটনের ওপর চাপও রয়েছে যেন তারা তাদের মিত্র ইসরায়েলকে চুক্তির শর্ত মেনে চলতে বাধ্য করে। ফলে আগামী কয়েক দিনের কূটনৈতিক তৎপরতা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন