ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও বাসযোগ্য দেশ গড়ে তোলাই আমাদের অঙ্গীকার : প্রধানমন্ত্রী


ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও বাসযোগ্য দেশ গড়ে তোলাই আমাদের অঙ্গীকার : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এই দর্শনকে ধারণ করে বর্তমান সরকার একটি সবুজ, জলবায়ু-সহনশীল, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ে তুলতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

তিনি বলেন, উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণকে সমান গুরুত্ব দিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য দেশ গড়ে তোলাই আমাদের অঙ্গীকার।

আজ বুধবার ‘জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬’ উপলক্ষ্যে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন: সিইসির পদত্যাগের দাবিতে বিরোধীদের নতুন আন্দোলনের ঘোষণা

জাতীয় ‘বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬’ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, এটি একটি সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ উদ্যোগ। এ বছর জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার প্রতিপাদ্য ‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’, যা আমাদের জাতীয় অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন।

তিনি বলেন, মানবসৃষ্ট কর্মকাণ্ডের বিরূপ প্রভাবে বৈশ্বিক উষ্ণতা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত বিশ্বব্যাপী প্রকৃতি ও মানুষের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলছে। প্রকৃতি ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি রোধে বৃক্ষের ভূমিকা অনস্বীকার্য। বৃক্ষ বায়ুমণ্ডলীয় কার্বন শোষণ করে, অতিরিক্ত তাপমাত্রা কমায় এবং পরিবেশকে নির্মল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

এই বাস্তবতা বিবেচনায় বর্তমান সরকার আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের একটি যুগান্তকারী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এটি কেবল একটি সরকারি কর্মসূচি নয়, বরং একটি জাতীয় আন্দোলন।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সড়ক ও রেলপথের দুই পাশ, বাঁধ, সরকারি বনভূমি, উপকূলীয় চরাঞ্চল, নগর এলাকা এবং বসতবাড়িসহ দেশের সর্বত্র বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যায় জনগণকে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। নগর বনায়নে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ এবং বিনামূল্যে চারা বিতরণের উদ্যোগও অত্যন্ত প্রশংসনীয়।

আরও পড়ুন: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাপুটিয়া বিলে মাছ ধরতে শত শত নৌকার আগমন, আর্থিক ক্ষতির মুখে ইজারাদার

তারেক রহমান বলেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের বৃক্ষাচ্ছাদন বৃদ্ধি পাবে, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা সহজ হবে এবং টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি আরো সুদৃঢ় হবে।

উন্নত জীবনের জন্য যেমন প্রয়োজন সমৃদ্ধ দেশ ও শক্তিশালী অর্থনীতি, তেমনি সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজন জীববৈচিত্র্যসমৃদ্ধ বন। সমৃদ্ধ অর্থনীতি ও সবুজ বন পরস্পর ওতপ্রোতভাবে সম্পর্কযুক্ত।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, একটি গতিশীল ও সম্ভাবনাময় সবুজ অর্থনীতি গড়ে তুলতে বন ও বৃক্ষরোপণ গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ভূমিকা পালন করে। তাই দেশকে সবুজে আচ্ছাদিত করার লক্ষ্যে বাড়ির আনাচে-কানাচে, পতিত ও প্রান্তিক জমিতে, খাল ও নদীর পাড়ে, বাঁধে, সড়ক ও সড়কদ্বীপে, বাড়ির ছাদে এবং শহর-বন্দর নির্বিশেষে উপযুক্ত প্রতিটি স্থানে ব্যাপক বনায়ন কার্যক্রমে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে অংশগ্রহণের জন্য আমি উদাত্ত আহ্বান জানাই।

তিনি আরো বলেন, বৃক্ষমেলা দেশে সবুজায়ন আন্দোলনকে আরো বেগবান করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বৃক্ষরোপণে দেশবাসীকে আরো উৎসাহিত করার লক্ষ্যে এ বছরও জাতীয় পর্যায়ের পাশাপাশি বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বৃক্ষমেলার আয়োজন এবং তিন মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান পরিচালনা করা হবে।

আরও পড়ুন: সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল প্রকল্প ডিসেম্বরে চালুর পথে, ২২ জেলার যান চলাচল উন্নত হবে

তারেক রহমান বলেন, আমি আশা করি, দেশবাসী বৃक्षमেলা থেকে উন্নত জাতের চারা সংগ্রহের সুযোগ পাবে এবং শিক্ষার্থীরা উদ্ভিদ বৈচিত্র্য সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান অর্জনের সুযোগ লাভ করবে।

তিনি বলেন, আসুন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ, সুন্দর, নির্মল ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমরা প্রত্যেকে অন্তত একটি করে বৃক্ষরোপণ করি এবং তার যথাযথ পরিচর্যা নিশ্চিত করি।

তিনি আরো বলেন, এ বছর যারা ‘বৃক্ষরোপণে জাতীয় পুরস্কার-২০২৫’, ‘বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে জাতীয় পুরস্কার-২০২৬’ এবং সামাজিক বনায়নের লভ্যাংশ অর্জন করেছেন, আমি তাদের আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।

 আমি জাতীয় ‘বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬’-এর সর্বাঙ্গীন সাফল্য কামনা করছি।

আরও পড়ুন: ছাত্রীর চিৎকারে ‘জুব্বা ও পায়জামা হাতে’ দৌড় দিলেন মাদরাসাশিক্ষক

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জুলাই শহীদদের কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে নোয়াখালী জেলা ছাত্রশক্তির কার্যক্রম শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ নুর হোসাইন স্টাফ করেসপন্ডেন্ট নোয়াখালী

বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:১১ পি.এম


জুলাই শহীদদের কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে নোয়াখালী জেলা ছাত্রশক্তির কার্যক্রম শুরু

শহীদদের কবর জিয়ারতের মাধ্যমে নোয়াখালী জেলা ছাত্রশক্তির কার্যক্রম শুরু করেছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের সংগঠন জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির ছাত্র সংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির নোয়াখালী জেলা আহ্বায়ক কমিটি শহীদদের কবর জিয়ারত ও শহীদ পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করেছে।

মঙ্গলবার (০৭ জুলাই-২০২৬ খ্রিঃ) বিকালে সদর উপজেলার শহীদ রায়হান ও শহীদ নূর হোসেন পিয়াসের কবর জিয়ারতের মাধ্যমে সংগঠনের নেতারা এই কার্যক্রমের সূচনা করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ছাত্রশক্তি নোয়াখালী জেলার আহ্বায়ক মিনহাজুল ইসলাম, সদস্য সচিব মেহেদী হাসান সীমান্ত, মুখ্য সংগঠক সুমন উদ্দিন, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব আব্দুল আজিজ, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব হাফেজ নূর ইসলাম মাহি এবং অন্যান্য নেতাকর্মীরা।

এসময় শহীদ পরিবারের খোঁজখবর গ্রহণ করেন নব-গঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দ। শহীদের পিতা এবং তার ভাইয়ের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

এ সময় ছাত্রশক্তি নেতারা জানান, শহীদদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত তৈরিতে তাঁরা সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বঙ্গোপসাগরে ৩ ট্রলার ডুবি: ১৩ জেলে নিখোঁজ, উদ্ধার কাজে আছে কোস্টগার্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

​নিজস্ব প্রতিবেদক কুয়াকাটা

বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:১৬ পি.এম


বঙ্গোপসাগরে ৩ ট্রলার ডুবি: ১৩ জেলে নিখোঁজ, উদ্ধার কাজে আছে কোস্টগার্ড

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের প্রভাবে ঝড়ো হাওয়া ও উত্তাল ঢেউয়ের কারণে তিনটি মাছধরা ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় বর্তমানে অন্তত ১৩ জন জেলে নিখোঁজ রয়েছেন।

বুধবার (৮ জুলাই) মহিপুর মৎস্য আড়তদার মালিক সমবায় সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রাজু আহমেদ রাজা সংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সমিতি সূত্র জানায়, বুধবার দুপুর ১টার দিকে চর বিজয় সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে একটি ছোট মাছধরা ট্রলার ৬ জন জেলেসহ ডুবে যায়। ট্রলারের মালিক মাসুদ মাঝি কোনোরকমে উদ্ধার হতে পারলেও, ট্রলারটিতে থাকা অপর ৫ জন জেলে এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

এর আগে, গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে বঙ্গোপসাগরের প্রায় ১৭ কিলোমিটার গভীরে ১৮ জন জেলেসহ ফকিরহাটের 'এফবি মহিমা' নামের একটি ট্রলার ডুবে যায়। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর বুধবার দুপুরে ১৬ জন জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা গেলেও, এখনো ২ জন জেলে নিখোঁজ রয়েছেন।

এদিকে, গত রোববার (৫ জুলাই) বঙ্গোপসাগরের প্রায় ৬০ কিলোমিটার গভীরে ১১ জন জেলে নিয়ে গলাচিপার খরিদা গ্রামের ইমাদুলের মালিকানাধীন একটি ট্রলার ডুবে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ৫ জন জেলেকে উদ্ধার করা গেলেও বাকি ৬ জনের কোনো সন্ধান মেলেনি।

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা জানিয়েছেন, নিখোঁজ জেলেদের ব্যাপারে আমরা সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছি। ট্রলারডুবির ঘটনার খবর পাওয়ার পর থেকেই কোস্টগার্ড নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারের লক্ষ্যে সাগরে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে।

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে সাগর খুবই উত্তাল থাকায় উদ্ধার কাজ কিছুটা কঠিন হচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। নিখোঁজ জেলেদের পরিবারে বর্তমানে চলছে শোকের মাতম।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়, সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রস্তুত ডেনমার্ক: ফ্রেডেরিকসেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:১৬ পি.এম


গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়, সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রস্তুত ডেনমার্ক: ফ্রেডেরিকসেন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া জবাব দিয়ে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন স্পষ্ট করেছেন যে, গ্রিনল্যান্ড কোনো বিক্রির বস্তু নয় এবং এই অঞ্চলের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ডেনমার্ক পুরোপুরি প্রস্তুত।

তিনি বুধবার তুরস্কের আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আগে এই মন্তব্য করেন। ডেনিশ প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিবৃতির পর এলো, যেখানে ট্রাম্প আমেরিকার নিরাপত্তার স্বার্থে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ গ্রিনল্যান্ড অঞ্চলটি মার্কিন নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ইচ্ছা পুনর্ব্যক্ত করেছিলেন।

ফ্রেডেরিকসেন বলেন, "এই বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান দুর্ভাগ্যজনকভাবে অত্যন্ত স্পষ্ট, তবে আমাদের অবস্থানও আগের মতোই সমান স্পষ্ট। গ্রিনল্যান্ড কোনোভাবেই বিক্রির জন্য নয়।" ডেনিশ নেতা এসময় উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোট বা ন্যাটোর মূলনীতি ‘আর্টিকেল ফাইভ’-এর প্রসঙ্গটি স্মরণ করিয়ে দেন। এই নীতি অনুযায়ী, ন্যাটোভুক্ত যেকোনো একটি দেশের ওপর আক্রমণ মানে পুরো জোটের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য হয়।

তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, "যদি জোটের কোনো একটি সদস্য রাষ্ট্রের কিছু হয়, তবে সবারই একে অপরের পাশে এসে দাঁড়ানো উচিত। আমরা ডেনমার্কের নিজস্ব ভূখণ্ডসহ ন্যাটোর সীমানার প্রতিটি ইঞ্চি রক্ষা করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছি।"

ট্রাম্পের ভূ-রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার বিপরীতে, ডেনমার্ক ও ন্যাটোর এই অনড় অবস্থান আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনা তৈরির জন্ম দিয়েছে।

সূত্র: সিএনএন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ধর্ষণ মামলায় নেত্রকোনার এক আসামির যাবজ্জীবন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:১৭ পি.এম


ধর্ষণ মামলায় নেত্রকোনার এক আসামির যাবজ্জীবন

 

নেত্রকোনার বারহাট্টায় আলোচিত ধর্ষণ মামলার তেরো বছর পর আদালত রায় দিয়েছেন। ডিএনএ পরীক্ষায় ধর্ষণের ফলে জন্ম নেওয়া শিশুর পিতৃত্ব প্রমাণিত হওয়ায় মামলার একমাত্র আসামি হেলালকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেছে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল।

একই সঙ্গে তাঁর উপর এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড আরোপ করা হয়েছে।

বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে নেত্রকোনা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ড. এমদাদুল হক এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি হেলাল আদালতে উপস্থিত ছিলেন। দণ্ডপ্রাপ্ত হেলাল বারহাট্টা উপজেলার স্বল্প দশাল গ্রামের আলম মিয়ার ছেলে।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায় যে, ২০১৩ সালের ১ মার্চ রাতে বারহাট্টা উপজেলার নিজ বসতঘরে স্বামী-পরিত্যক্তা নারীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন হেলাল। এ ঘটনা প্রকাশ করলে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার সময় ভুক্তভোগীর ছোট মেয়ে এবং পাশের ঘরের এক স্বজন আসামিকে ঘর থেকে বের হয়ে যেতে দেখতে পান বলে আদালতে সাক্ষ্য দেন। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী অন্তঃসত্ত্বা হলে বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হয়।

স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিস বৈঠক এবং বিয়ের উদ্যোগ নেওয়া হলেও হেলাল ধর্ষণের অভিযোগ ও অনাগত সন্তানের পিতৃত্ব অস্বীকার করেন।

এ ঘটনায় একই বছরের ১৩ জুলাই বারহাট্টা থানায় মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী। পরে মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরিত করা হয়। মামলার তদন্ত শেষে ২০১৩ সালের ১১ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। পরে আদালতের নির্দেশে ডিএনএ পরীক্ষা করা হলে শিশুটির জৈবিক পিতা হিসেবে হেলালের পরিচয় নিশ্চিত হয়।

অভিযোগ দায়েরের প্রায় এক বছর পর ভুক্তভোগী নারী স্বাভাবিকভাবে মারা যান। এরপর ধর্ষণের ঘটনায় জন্ম নেওয়া কন্যাশিশুটি আত্মীয়-স্বজনদের সহায়তায় বড় হতে থাকে। বর্তমানে ষষ্ঠ শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী দীর্ঘ তেরো বছর ধরে আদালতের মাধ্যমে পিতৃপরিচয় ও ন্যায়বিচারের অপেক্ষা করছে। আদালত ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (সংশোধিত ২০০৩)-এর ৯(১) ধারায় হেলালকে দোষী সাব্যস্ত করেন। মামলায় ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও অন্যান্য প্রমাণ পর্যালোচনা করে দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে বুধবার মামলার এ রায় ঘোষণা করা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. নুরুল কবীর রুবেল বলেন, ডিএনএ পরীক্ষায় শিশুটির পিতৃত্ব প্রমাণিত হয়েছে। এ রায়ের ফলে শিশুটি হেলালের আইনগত সন্তান হিসেবে স্বীকৃতি পাবে এবং প্রচলিত আইন অনুযায়ী পিতার সম্পত্তিসহ অন্যান্য অধিকারও পাবে। মামলার এ রায় ভবিষ্যতের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%