০৬:১৭ পি.এম
নেত্রকোনার বারহাট্টায় আলোচিত ধর্ষণ মামলার তেরো বছর পর আদালত রায় দিয়েছেন। ডিএনএ পরীক্ষায় ধর্ষণের ফলে জন্ম নেওয়া শিশুর পিতৃত্ব প্রমাণিত হওয়ায় মামলার একমাত্র আসামি হেলালকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেছে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল।
একই সঙ্গে তাঁর উপর এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড আরোপ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: কলিমাজানি নদীর সেতুর কাজ পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি
বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে নেত্রকোনা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ড. এমদাদুল হক এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি হেলাল আদালতে উপস্থিত ছিলেন। দণ্ডপ্রাপ্ত হেলাল বারহাট্টা উপজেলার স্বল্প দশাল গ্রামের আলম মিয়ার ছেলে।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায় যে, ২০১৩ সালের ১ মার্চ রাতে বারহাট্টা উপজেলার নিজ বসতঘরে স্বামী-পরিত্যক্তা নারীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন হেলাল। এ ঘটনা প্রকাশ করলে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার সময় ভুক্তভোগীর ছোট মেয়ে এবং পাশের ঘরের এক স্বজন আসামিকে ঘর থেকে বের হয়ে যেতে দেখতে পান বলে আদালতে সাক্ষ্য দেন। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী অন্তঃসত্ত্বা হলে বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হয়।
স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিস বৈঠক এবং বিয়ের উদ্যোগ নেওয়া হলেও হেলাল ধর্ষণের অভিযোগ ও অনাগত সন্তানের পিতৃত্ব অস্বীকার করেন।
এ ঘটনায় একই বছরের ১৩ জুলাই বারহাট্টা থানায় মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী। পরে মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরিত করা হয়। মামলার তদন্ত শেষে ২০১৩ সালের ১১ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। পরে আদালতের নির্দেশে ডিএনএ পরীক্ষা করা হলে শিশুটির জৈবিক পিতা হিসেবে হেলালের পরিচয় নিশ্চিত হয়।
আরও পড়ুন: ছুটিতে দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর কাউখালীর ডলফিন চত্বর
অভিযোগ দায়েরের প্রায় এক বছর পর ভুক্তভোগী নারী স্বাভাবিকভাবে মারা যান। এরপর ধর্ষণের ঘটনায় জন্ম নেওয়া কন্যাশিশুটি আত্মীয়-স্বজনদের সহায়তায় বড় হতে থাকে। বর্তমানে ষষ্ঠ শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী দীর্ঘ তেরো বছর ধরে আদালতের মাধ্যমে পিতৃপরিচয় ও ন্যায়বিচারের অপেক্ষা করছে। আদালত ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (সংশোধিত ২০০৩)-এর ৯(১) ধারায় হেলালকে দোষী সাব্যস্ত করেন। মামলায় ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও অন্যান্য প্রমাণ পর্যালোচনা করে দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে বুধবার মামলার এ রায় ঘোষণা করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. নুরুল কবীর রুবেল বলেন, ডিএনএ পরীক্ষায় শিশুটির পিতৃত্ব প্রমাণিত হয়েছে। এ রায়ের ফলে শিশুটি হেলালের আইনগত সন্তান হিসেবে স্বীকৃতি পাবে এবং প্রচলিত আইন অনুযায়ী পিতার সম্পত্তিসহ অন্যান্য অধিকারও পাবে। মামলার এ রায় ভবিষ্যতের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন