ঢাকা বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

ব্রিটেনে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতিতে নতুন পরিবর্তন ঘোষণা


ব্রিটেনে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতিতে নতুন পরিবর্তন ঘোষণা

ব্রিটেনে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি (ইনডেফিনিট লিভ টু রিমেইন, আইএলআর) পাওয়ার নিয়মে একটি বড় পরিবর্তনের ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার। সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, অধিকাংশ অভিবাসীর জন্য আইএলআর পাওয়ার যোগ্যতার সময়সীমা পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করা হবে।

তবে, উচ্চ আয়ের কর্মী, চিকিৎসক, নার্স, শিক্ষকসহ নির্দিষ্ট পেশাজীবীদের জন্য পাঁচ বছরের পথটি বজায় থাকবে। বিশেষ অবদান রাখা উচ্চ আয়ের কর্মী ও নির্দিষ্ট দক্ষতা কর্মসূচিতে আসা অভিবাসীদের জন্য স্থায়ী বসবাসের আবেদনের সুযোগ তিন বছরেই দেওয়া হবে।

অন্যদিকে, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী কেয়ার ওয়ার্কারদের জন্যও পাঁচ বছরের পথ বজায় রাখার ঘোষণা এসেছে। সোমবার (২ নভেম্বর) যুক্তরাজ্যের হাউস অব কমন্সে ‘আর্নড সেটেলমেন্ট’ নীতির বিস্তারিত তুলে ধরেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ।

আরও পড়ুন: ডিজেল নেই, বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনও নেই—ভারতের হাইড্রোজেন ট্রেনের কার্যপ্রণালী

নতুন নীতিতে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি আর শুধু নির্দিষ্ট সময় দেশটিতে অবস্থানের ভিত্তিতে দেওয়া হবে না। বরং অভিবাসীর আর্থিক ও সামাজিক অবদান, কর্মসংস্থান, চরিত্র এবং আইন মেনে চলার বিষয়গুলোও বিবেচনায় নেওয়া হবে।

সরকারের ভাষায়, স্থায়ী বসবাসের অধিকার অর্জন করতে হবে অবদানের মাধ্যমে। নতুন নীতির আওতায় যারা অভিবাসন আইন ভঙ্গ করেছেন, তাদের স্থায়ী বসবাসের যোগ্যতা অর্জনে অন্তত ২০ বছর অপেক্ষা করতে হতে পারে।

যারা পাবেন তিন ও পাঁচ বছরের সুযোগ :

ব্রিটিশ সরকারের ঘোষণায় বলা হয়েছে, বছরে ১ লাখ ২৫ হাজার পাউন্ডের বেশি আয়কারী সর্বোচ্চ করদাতাদের তিন বছরে আইএলআর আবেদনের সুযোগ দেওয়া হবে। একই সুযোগ থাকবে সরকারের সর্বোচ্চ দক্ষতাভিত্তিক ট্যালেন্ট কর্মসূচিতে আসা অভিবাসীদের জন্য। বছরে ৫০ হাজার পাউন্ডের বেশি আয়কারী এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের চিকিৎসক, নার্স ও শিক্ষকসহ নির্দিষ্ট পেশাজীবীরা পাঁচ বছর পর স্থায়ী বসবাসের আবেদন করতে পারবেন। অন্যদের জন্য সাধারণ যোগ্যতার সময়সীমা হবে ১০ বছর।

আরও পড়ুন: ইরান যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানালেন ডেমোক্র্যাট নেতা শুমার

কেয়ার ওয়ার্কারদের জন্য বিশেষ ছাড় :

নতুন নীতিতে সামাজিক পরিচর্যা খাতের কর্মীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে যুক্তরাজ্যে আসা বা সংশ্লিষ্ট ভিসায় পরিবর্তন করা কেয়ার ওয়ার্কারদের মধ্যে যারা ভিসার শর্ত পূরণ করেছেন এবং সামাজিক পরিচর্যা খাতে বছরে অন্তত ২৫ হাজার পাউন্ড আয় করেছেন, তারা পাঁচ বছর পর আইএলআর আবেদন করতে পারবেন।

অন্যদিকে, এই সময়ের মধ্যে আসা বা ভিসা পরিবর্তন করা প্রায় এক-চতুর্থাংশ কর্মী ভিসার শর্ত পূরণ করতে পারেননি। তাদের জন্য আরো পাঁচ বছরের নতুন কেয়ার ভিসার সুযোগ রাখা হচ্ছে। নতুন ভিসায় তারা আগের নিয়োগকর্তার ওপর নির্ভরশীল থাকবেন না। পাঁচ বছরের নতুন ভিসার মেয়াদ শেষে তারা আবার স্থায়ী বসবাসের আবেদন করতে পারবেন। একই ধরনের বিশেষ ব্যবস্থা স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের নির্দিষ্ট কিছু কর্মীর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।

আইএলআরের জন্য কঠোর শর্ত :

আরও পড়ুন: ইরান যুদ্ধের কারণেই নির্বাচনে পরাজয়: ট্রাম্পের পর ভ্যান্সের স্বীকারোক্তি

স্থায়ী বসবাসের আবেদনকারীদের জন্য চারটি বাধ্যতামূলক শর্ত নির্ধারণ করেছে সরকার। এর মধ্যে রয়েছে অপরাধমুক্ত রেকর্ড, উচ্চমানের ইংরেজি ভাষার দক্ষতা, ব্রিটিশ সরকারের কাছে কোনো অনাদায়ী ঋণ না থাকা এবং অন্তত তিন বছরের ন্যাশনাল ইনস্যুরেন্স (এনআই) কন্ট্রিবিউশনের রেকর্ড। যাঁরা সরকারি সুবিধা বা বেনিফিট গ্রহণ করেছেন, তাদের আবেদন করার আগে টানা পাঁচ বছর রাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল না থাকার শর্তও পূরণ করতে হবে।

শরণার্থীদের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন :

সরকার অনুমোদিত নিরাপদ ও বৈধ পথে আসা শরণার্থীদের পাঁচ বছরে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছে। অন্য শরণার্থীদের ক্ষেত্রে সময়সীমা ২০ বছর হতে পারে। তবে কাজ বা পড়াশোনায় যুক্ত হলে নির্দিষ্ট শর্তে তা ১০ বছর পর্যন্ত কমতে পারে। ছোট নৌকা বা গোপন অবৈধ পথে প্রবেশকারীদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ১০ বছর অপেক্ষা যুক্ত হওয়ায় সময়সীমা ৩০ বছর পর্যন্ত হতে পারে।

তবে ব্রিটেনে ইতিমধ্যে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়া ব্যক্তিদের অধিকার বাতিল করা হবে না। ব্রিটিশ নাগরিকদের পরিবারের সদস্য, হংকংয়ের ব্রিটিশ ন্যাশনাল (ওভারসিজ) ভিসাধারী, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য এবং উইন্ডরাশসহ কিছু পুরোনো রুটের অভিবাসীদের জন্য বর্তমান পথ বহাল থাকবে।

আরও পড়ুন: ইরান যুদ্ধই আমাদের পরাজয়ের কারণ, বললেন জেডি ভ্যান্স

২০২৭ সালে কার্যকর হওয়ার পরিকল্পনা :

গত সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬-এ ঘোষিত সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন পরিবর্তনগুলো ডিসেম্বর থেকে ইমিগ্রেশন রুলসে অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং ২০২৭ সালে পর্যায়ক্রমে কার্যকর করা হবে। বর্তমানে ব্রিটেনে থাকা অনেক অভিবাসীর ক্ষেত্রেও নতুন নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে জানিয়েছেন, আইএলআরের ক্ষেত্রে আবেদনকারীর যুক্তরাজ্যে প্রবেশের সময় নয়, বরং আবেদন নিষ্পত্তির সময় কার্যকর নিয়ম বিবেচনা করা হবে।

প্রসঙ্গত, ২ নভেম্বরের ঘোষণা হাউস অব কমন্সে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নীতিগত বিবৃতি, এটি নতুন আইন হিসেবে সংসদে চূড়ান্ত ভোটে পাস হয়নি। পরিবর্তনগুলো ইমিগ্রেশন রুলসের মাধ্যমে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

আরও পড়ুন: স্ত্রীর ছবি ফেসবুকে দেয়ায় বন্ধুকে হত্যা, কুয়েতে বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ডে মহাসড়ক অবরোধ করে শ্রমিকদের বিক্ষোভ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:৩৮ পি.এম


হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ডে মহাসড়ক অবরোধ করে শ্রমিকদের বিক্ষোভ

সাভারে ৩০ হাজার টাকা নূন্যতম মজুরি প্রতিষ্ঠার দাবিতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন পোশাক শ্রমিকরা।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে গামেন্টস শ্রমিকরা হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ড ও পদ্মার মোড় এলাকায় মহাসড়কে অবস্থান নেন।

মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে তারা অবিলম্বে মজুরি বৃদ্ধির দাবি জানাচ্ছেন। এদিকে, ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করার কারণে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম মন্তব্য করেন, "শ্রমিকদের সাথে কথা বলছি, মহাসড়ক থেকে অবরোধ তুলে নিয়ে যানবাহন চলাচল রাখতে চেষ্টা করছি।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নয়াদিল্লি থেকে ম্যানিলা, আটলান্টা ২০২৬ সালে নতুন গতি পেয়েছে কোয়াড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:৩৯ পি.এম


নয়াদিল্লি থেকে ম্যানিলা, আটলান্টা ২০২৬ সালে নতুন গতি পেয়েছে কোয়াড

যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় অনুষ্ঠিত জি-২০ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের ফাঁকে কোয়াডভুক্ত চার দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৈঠকে মিলিত হন। চলতি বছরে এটি ছিল তাদের তৃতীয় বৈঠক। এর আগে মে মাসে ভারতের নয়াদিল্লি এবং জুলাই মাসে ফিলিপাইনের ম্যানিলায় কোয়াড পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

কোয়াড নিয়ে অধিকাংশ আলোচনা ও বিশ্লেষণের কেন্দ্রে রয়েছে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত শীর্ষ সম্মেলন। আশা করা হচ্ছে, চলতি মাসের শেষ দিকে ফিলিপিন্সের রাজধানী ম্যানিলায় এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

২০২৫ সালে ভারতের নয়াদিল্লিতে কোয়াড শীর্ষ সম্মেলন হওয়ার কথা থাকলেও, তা শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়নি। এরপর থেকেই সম্মেলনটি নিয়ে আলোচনা ও বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর এটি কোয়াড নেতাদের প্রথম শীর্ষ বৈঠক হবে। এই কারণে সম্মেলনটি ঘিরে আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে।

বিশ্বজুড়ে ভূরাজনৈতিক সংঘাত, জ্বালানি ও প্রযুক্তিপণ্যের সরবরাহে সীমাবদ্ধতা এবং চীন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে সম্ভাব্য ‘জি-৩’ মডেল নিয়ে আলোচনা চলছে। এই প্রেক্ষাপটে ম্যানিলার সম্মেলন কোয়াডের ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হওয়া নানা প্রশ্ন ও জল্পনার অবসান ঘটাতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে শীর্ষ সম্মেলন না হলেও ২০২৬ সাল কোয়াডের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এ বছর পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে তিনটি বৈঠকের মাধ্যমে জোটটির অভিন্ন অগ্রাধিকারগুলো নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি পূর্বে নেওয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন এবং পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও অগ্রগতি হয়েছে।

এমতাবস্থায়, ৩১ অক্টোবর আটলান্টায় অনুষ্ঠিত কোয়াড পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকটি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। বৈঠকের পর প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নির্ভরযোগ্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে ৮ কোটি ৫০ লাখ ডলারের বেশি প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়।

এছাড়া, ভারত ও আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোতে বর্জ্য থেকে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পুনরুদ্ধারের অবকাঠামো ও স্থাপনা গড়ে তুলতে ১ কোটি ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এসব উদ্যোগকে কোয়াডের সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের বিষয়ে জোটভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে অভিন্ন অবস্থান আরো স্পষ্ট হয়েছে।

আটলান্টার বৈঠক শেষে দেওয়া যৌথ বিবৃতিতে কোয়াডভুক্ত দেশগুলো নির্বিচার রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা এবং বাজারভিত্তিক নয়, এমন নীতি ও কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। তাদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ শিল্পে অতিরিক্ত উৎপাদনের কারণে এসব নীতি বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটাচ্ছে।

২০২৬ সালের মে মাসে নয়াদিল্লিতে ঘোষিত ‘কোয়াড ক্রিটিক্যাল মিনারেলস ফ্রেমওয়ার্ক’-এর ধারাবাহিকতায় গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পুনরুদ্ধারে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে কোয়াড। বর্জ্য থেকে এসব খনিজ সংগ্রহে সহযোগিতার মাধ্যমে জোটটি এ খাতে অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত অংশীদারত্ব বাড়াতে চায়।

ভারতের জন্য এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে সমমনা দেশগুলোর সঙ্গে প্রযুক্তি ও নীতিগত সহযোগিতা বাড়িয়ে গুরুত্বপূর্ণ খনিজের উৎপাদন ও পরিশোধনে নিজস্ব সক্ষমতা জোরদার করতে পারবে দেশটি।

২০২৬ সালে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে কোয়াডের অবস্থান আরো স্পষ্ট হয়েছে। অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের বিরোধিতার পাশাপাশি জোটটি নিজেদের আসিয়ানের ব্যাপক কৌশলগত অংশীদার হিসেবে ঘোষণা করেছে। জুলাই মাসে ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে কোয়াডভুক্ত দেশগুলো সামুদ্রিক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, প্রযুক্তি এবং মানবিক সহায়তার মতো বিষয়ে আসিয়ানের দৃষ্টিভঙ্গি বাস্তবায়নে সমর্থন জানায়।

আগে কোয়াডের বিভিন্ন বিবৃতিতে আসিয়ানের কেন্দ্রীয় ভূমিকার কথা বলা হলেও, এবার আসিয়ানের ইন্দো-প্যাসিফিক বিষয়ক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি সরাসরি সমর্থন জানানো হয়েছে। এতে কোয়াডের কার্যক্রম আসিয়ানের নেতৃত্বাধীন উদ্যোগের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে কি না, সেই দীর্ঘদিনের অস্পষ্টতা দূর হয়েছে।

জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোতেগি তোশিমিতসুও বলেছেন, ম্যানিলার বৈঠক কোয়াডের পক্ষ থেকে আসিয়ানের ঐক্য ও কেন্দ্রীয় ভূমিকাকে সমর্থনের স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে।

গত সপ্তাহে আটলান্টায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রথমবারের মতো ‘কোয়াড বিজনেস লিডার্স ফোরাম’ গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়। এতে চার দেশের ব্যবসায়ী নেতা, সরকারি কর্মকর্তা ও নীতি বিশেষজ্ঞরা অংশ নেবেন। এর লক্ষ্য বেসরকারি খাতের মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানো। এ ছাড়া সরকারি অর্থায়নে সহযোগিতার সুযোগ খুঁজতে চার দেশের রপ্তানি ঋণ সংস্থাগুলো আগামী ১৮ নভেম্বর টোকিওতে বৈঠক করবে।

বৈঠকে জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কৌশলগত তেল মজুত বাড়াতে গত সেপ্টেম্বরে প্রথমবারের মতো ‘কোয়াড জ্বালানি নিরাপত্তা ফোরাম’ আয়োজন করা হয়। হরমুজ সংকটের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের কারণে এ উদ্যোগের গুরুত্ব বেড়েছে। এশিয়ায় অপরিশোধিত তেল আমদানি আগের পর্যায়ে ফিরলেও মধ্যপ্রাচ্য ও রাশিয়ায় পরিশোধন কার্যক্রম কম থাকায় ডিজেলের মতো পরিশোধিত জ্বালানির বাজারে চাপ রয়ে গেছে।

আটলান্টায় অনুষ্ঠিত কোয়াড বৈঠকের যৌথ বিবৃতিতে মে মাসের নয়াদিল্লি বৈঠকে নেওয়া কয়েকটি উদ্যোগের অগ্রগতিও তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে দ্বিতীয়বারের মতো ‘কোয়াড-অ্যাট-সি’ জাহাজ পর্যবেক্ষণ মিশন এবং জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে ইন্দো-প্যাসিফিক লজিস্টিকস নেটওয়ার্কের দ্বিতীয় মহড়া।

কোয়াডের ভবিষ্যৎ ও প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে নানা প্রশ্ন থাকলেও, ২০২৬ সালে জোটটির কার্যক্রমে নতুন গতি এসেছে। নয়াদিল্লি, ম্যানিলা ও আটলান্টায় তিনটি পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের মাধ্যমে সদস্যদেশগুলো অভিন্ন অগ্রাধিকার নির্ধারণ, ঘোষিত উদ্যোগ বাস্তবায়ন এবং সহযোগিতার পরিধি বাড়িয়েছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত শীর্ষ সম্মেলনের আগে কোয়াড নিজের কার্যক্রমে ধারাবাহিকতা তৈরি করেছে। এখন এই উদ্যোগগুলোকে আরো কার্যকর ও সুসংহত করার চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকার ধামরাইয়ে পোশাকশিল্পের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:৩৯ পি.এম


ঢাকার ধামরাইয়ে পোশাকশিল্পের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল

দেশের পোশাকশিল্প খাতে চলমান নৈরাজ্য, বিশৃঙ্খলা ও ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ঢাকার ধামরাইয়ে প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবক দল এবং শ্রমিকদলের নেতাকর্মীরা এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বেলা ১২টার দিকে ধামরাই পৌরশহরের ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে এই প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। স্বেচ্ছাসেবক দল ও শ্রমিকদলের উদ্যোগে পরিচালিত বিক্ষোভ মিছিলটি মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

মিছিলে অংশগ্রহণকারী নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন। মিছিলের সামনের সারিতে অবস্থানরত নেতারা অভিযোগ করেন যে, দেশের অর্থনীতিকে পঙ্গু করার উদ্দেশ্যে একটি কুচক্রী মহল পোশাকশিল্পে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা করছে।

তারা জানান, গার্মেন্টস কারখানায় কোনো ধরনের নৈরাজ্য তারা প্রত্যাশা করেন না। অবিলম্বে এ ধরনের অপচেষ্টা বন্ধ না হলে কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে তা প্রতিহত করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন।

বিক্ষোভ মিছিলে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. নাজমুল হাসান অভি, ঢাকা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য মো. জনি, ধামরাই শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক মো. লেহাজউদ্দিন, ধামরাই পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. রাজু আহম্মেদসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খুবি ও এইচবিআরসির মধ্যে টেকসই আবাসন ও জলবায়ু-সহনশীল উন্নয়নে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:৪০ পি.এম


খুবি ও এইচবিআরসির মধ্যে টেকসই আবাসন ও জলবায়ু-সহনশীল উন্নয়নে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য ডিসিপ্লিন এবং সেন্টার ফর হাউজিং এন্ড বিল্ডিং রিসার্চ (এইচবিআরসি) এর মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের উদ্দেশ্য হলো টেকসই আবাসন ও জলবায়ু-সহনশীল উন্নয়ন উদ্যোগে গবেষণা, উদ্ভাবন, শিক্ষা, প্রদর্শনীমূলক কার্যক্রম এবং বাস্তবায়নে কৌশলগত সহযোগিতা প্রতিষ্ঠা করা।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) স্থাপত্য ডিসিপ্লিনের উঠানে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ নূরুন্নবী এবং এইচবিআরসির নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবু সাদেক পিইঞ্জ উভয় প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। পরবর্তীতে উভয় পক্ষের মধ্যে স্বাক্ষরিত এমওইউ’র কপি বিনিময় করা হয়।

এ সময় স্থাপত্য ডিসিপ্লিনের প্রধান প্রফেসর ড. রুমানা আসাদ ও ডিসিপ্লিনের অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এই সমঝোতা স্মারকের আওতায় দুই প্রতিষ্ঠান যৌথ গবেষণা ও নকশাগত উদ্ভাবন, টেকসই, সাশ্রয়ী ও জলবায়ু-সহনশীল আবাসন এবং বসতি উন্নয়ন, পানির নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে অভিযোজন এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতা করবে। এছাড়া টেকসই নির্মাণসামগ্রী ও প্রযুক্তির ব্যবহার, ভবনের কার্যকারিতা উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম, ইন্টার্নশিপ এবং পেশাগত দিকনির্দেশনা প্রদানের বিষয়গুলোও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

সমঝোতা স্মারকের আওতায় নকশা প্রতিযোগিতা, স্টুডিও কার্যক্রম, কর্মশালা, সেমিনার এবং জনসম্পৃক্ততামূলক কার্যক্রম আয়োজনের পাশাপাশি প্রদর্শনীমূলক প্রকল্প, নমুনা প্রকল্প তৈরি এবং পরীক্ষামূলক বাস্তবায়নেও দুই প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে কাজ করবে। একই সঙ্গে কারিগরি প্রকাশনা, গবেষণালব্ধ জ্ঞান প্রচার এবং সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারণী বিষয়ে সহায়তা প্রদানের সুযোগ তৈরি হবে।

এছাড়া এই সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে একাডেমিক জ্ঞানের সঙ্গে মাঠপর্যায়ের গবেষণা, পেশাগত চর্চা ও বাস্তব প্রয়োগের সমন্বয় ঘটবে। পাশাপাশি স্থানীয় প্রেক্ষাপটের উপযোগী উদ্ভাবনী ও সাশ্রয়ী স্থাপত্য, প্রকৌশল এবং পরিকল্পনাবিষয়ক সমাধান উন্নয়নের ক্ষেত্র তৈরি হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%