রবিবার, ৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:৪৯ এম
বরগুনার উপকূলীয় এলাকায় রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পরও বরগুনা সদর উপজেলার ৯ নম্বর বালিয়াতলী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পাতাকাটা গ্রামে কমেনি নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের দোসরদের প্রভাব ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড। অভিযোগ উঠেছে, এলাকার বাসিন্দা নাসিম সিকদার ও তার ভাই রিয়াজ সিকদারের গড়ে তোলা সশস্ত্র বাহিনীর চাঁদাবাজি, ভূমি দখল এবং লাগাতার হুমকিতে চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ।
স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, নাসিম সিকদার ও রিয়াজ সিকদার সাবেক বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবিরের ছেলে ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি অনিকের ঘনিষ্ঠ অনুসারী হিসেবে পরিচিত। তারা নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের রাজনীতির প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় দীর্ঘ দিন ধরে অপকর্ম চালিয়ে আসছেন। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে বরগুনা পৌর শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে এবং আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বাসাবাড়িতে হামলার পেছনে এই দুই ভাইয়ের সরাসরি ইন্ধন ও নেতৃত্ব ছিল।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশে নতুন রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি হলেও পাতাকাটা গ্রামে দুই ভাইয়ের দাপট কমেনি। তারা জোরপূর্বক মানুষের বসতবাড়ি ও জমি দখল, চাঁদাবাজি এবং পুকুর থেকে মাছ ধরে বিক্রির মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত রয়েছে। এমনকি প্রতিবাদ করতে গেলে নিজস্ব ক্যাডার বাহিনী দিয়ে হামলা চালানো এবং সাজানো মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, রিয়াজ সিকদার বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করলেও সেখান থেকে কলকাঠির মাধ্যমে দেশে থাকা ক্যাডার বাহিনীকে বিভিন্ন অপকর্মের দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। এতে গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও অপমান-অপদস্থ হচ্ছেন, ফলে বিঘ্নিত হচ্ছে স্বাভাবিক সামাজিক পরিবেশ।
ভুক্তভোগী পাতাকাটা গ্রামের বাসিন্দা ইউনুস মৃধা বলেন, সরকারের পতন হলেও এই দুই ভাইয়ের অত্যাচার থামেনি। আমার পৈতৃক ভিটেমাটি এবং আদালতের রায় আমার পক্ষে থাকা সত্ত্বেও তারা স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশকে প্রভাবিত করে জমি দখলের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, মানুষকে প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত করা এবং মিথ্যা অপবাদ ছড়ানোর কাজেও তারা জড়িত। আমরা অবিলম্বে এই দুই ভাইয়ের বিচার চাই।
তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "প্রশাসনের কাছে আমাদের আকুল আবেদন—আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেন এই অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার করে। অন্যথায় ভবিষ্যতে গ্রামে কোনো বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তার দায়ভার সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকেই নিতে হবে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত নাসিম সিকদারের বক্তব্য নেওয়ার জন্য তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। অন্যদিকে, সার্বিক বিষয়ে বরগুনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সরকারি মোবাইল নম্বরে কল করা হলে তাকেও ফোনে পাওয়া যায়নি।
(প্রতিবেদনে উল্লিখিত বিষয়াবলি স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। পুরো ঘটনার সত্যতা যাচাই এবং এলাকাবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্ত কাম্য।)
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহী জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন হয়েছে মোহনপুর উপজেলা দল, যারা টাইব্রেকারের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে দুর্গাপুর উপজেলা দলকে ৩-২ গোলে পরাজিত করেছে।
শনিবার বিকেলে রাজশাহী মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত জমজমাট ফাইনাল ম্যাচ শেষে বিজয়ী দলের হাতে শিরোপা তুলে দেওয়া হয়।
ফাইনাল ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভূমিমন্ত্রী মোঃ মিজানুর রহমান মিনু, এমপি বলেন, "রাজশাহীর হারানো ক্রীড়া গৌরব পুনরুদ্ধারে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে বহুমুখী ক্রীড়া উন্নয়ন পরিকল্পনা নেওয়া হবে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন, নতুন প্রজন্মকে মাদক, মোবাইল আসক্তি ও বিভিন্ন সামাজিক ব্যাধি থেকে দূরে রাখতে আরও বেশি টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হবে।
ভূমিমন্ত্রী বলেন, "খেলায় হার-জিত থাকবেই। তবে শেষ পর্যন্ত জয় হবে রাজশিয়ার এবং রাজশাহীর ক্রীড়াঙ্গনের।" তিনি সরকারের লক্ষ্য হিসেবে নতুন প্রজন্মকে মাঠমুখী করে তাদের মেধা ও প্রতিভার বিকাশ ঘটানোর কথা উল্লেখ করেন।
তিনি আরও জানান, রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী বড় স্টেডিয়ামের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও মাঠ সংস্কারের পাশাপাশি দ্রুত ফ্লাডলাইট সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। ভবিষ্যতে এই মাঠে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ফুটবল দল এবং দেশের জাতীয় ক্রিকেট দলগুলোর অংশগ্রহণে বড় টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
মন্ত্রী রাজশাহী মহানগরীর ১৬টি ছোট-বড় মাঠ বর্তমানে খেলার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে উল্লেখ করে বলেন, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে এসব মাঠ দ্রুত সংস্কার করে খেলার উপযোগী ও সবুজ মাঠ হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
ক্রীড়াঙ্গনকে আরও গতিশীল করতে রাজশাহীর স্কুল-কলেজগুলোতে বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের নামে ভলিবল গোল্ডকাপ টুর্নামেন্ট আয়োজনের ঘোষণা দেন ভূমিমন্ত্রী। তিনি ভবিষ্যতে "প্রাইম মিনিস্টার গোল্ড কাপ" সহ আরও গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্ট আয়োজনের কথাও জানান।
জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী-৫ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবা হাবিবা, বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী, আরএমপি কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবীর ও পুলিশ সুপার মোঃ মামুন অর রশিদ।
এ সময় বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, খেলোয়াড়, দর্শক, সুধীজন ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ২২ আগস্ট শুরু হওয়া জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের শনিবার ফাইনাল ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়। টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন দুর্গাপুর দলের পলাশ। ফাইনালের সেরা খেলোয়াড়ও হয়েছেন দুর্গাপুরের জুবায়ের। আর টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন চ্যাম্পিয়ন মোহনপুরের বাদল এবং সেরা গোলকিপার হয়েছেন একই দলের আবু রায়হান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বলিউডে শুটিংয়ের নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা নিয়ে বিতর্ক নতুন কিছু নয়। নায়িকা দীপিকা পাড়ুকোন যখন নির্দিষ্ট সময়ের বেশি কাজ না করার দাবি তুলেছিলেন, তখন ইন্ডাস্ট্রিতে এ নিয়ে তীব্র আলোচনা শুরু হয়। এমনকি, এই অবস্থানের কারণে সিনেমা থেকে বাদ পড়ার বিষয়টিও সামনে এসেছিল। এই বিতর্কের প্রেক্ষাপটে নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় অভিনেত্রী প্রীতি জিনতা সম্প্রতি টানা ১৮ ঘণ্টা শুটিং করার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন।
আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আসন্ন সিনেমা ‘ভাইব’-এর শুটিং দ্রুত শেষ করার জন্য দিনে ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত সেটে ছিলেন প্রীতি। তবে, বিষয়টি যে তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল, তা তিনি স্পষ্ট করেছেন। বরং, সন্তানদের কাছে দ্রুত ফিরে যাওয়ার তাগিদ থেকেই তিনি নিজের ইচ্ছায় এত দীর্ঘ সময় কাজ করেছেন। ‘ভাইব’-এর ঝলক প্রকাশ অনুষ্ঠানে কাজের সময় নিয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রীতি জানান, সিনেমাটির কাজ শেষ করেই তিনি যুক্তরাষ্ট্রে সন্তানদের কাছে ফিরে যেতে চেয়েছিলেন।
অভিনেত্রীর ভাষায়, “প্রত্যেকের পরিস্থিতি আলাদা। আমি এই সিনেমার কাজ করার জন্য দিনে ১৮ ঘণ্টা কাজ করেছি। কারণ, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এখানে আমার কাজ শেষ করে আমেরিকায় ফিরে সন্তানদের সঙ্গে থাকতে চেয়েছিলাম।” তিনি আরও বলেন, “আমার মাথায় একটা বিষয়ই ঘোরে, আমি দেশে আসব, কাজ শেষ করব, ব্যাস! আমার কাজটা তাড়াতাড়ি শেষ করে দাও। তার পরেই আমি আমেরিকা চলে যাব। এটাই ছিল আমার ১৮ ঘণ্টা কাজের কারণ।”
তবে, টানা এত দীর্ঘ সময় কাজ করা সহজ ছিল না বলেও জানান প্রীতি। সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন অভিনেতা-নির্মাতা কুণাল খেমু। ‘ভাইব’-এর আগে ২০২৪ সালে ‘লাহোর ১৯৪৭’ সিনেমার মাধ্যমে প্রায় ছয় বছর পর বড় পর্দায় ফিরেছিলেন প্রীতি জিনতা। এর আগে ‘ভাইয়াজি সুপারহিট’ সিনেমার পর তিনি অভিনয় থেকে দীর্ঘ বিরতিতে ছিলেন।
ব্যক্তিজীবনে এই সময়টায় বড় পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছেন প্রীতি। ২০১৫ সালের শেষ দিকে তার বিয়ে নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়। পরের বছর সেই গুঞ্জনের অবসান ঘটিয়ে জিন গুডএনাফকে বিয়ে করেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে তাদের বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়। প্রীতির স্বামী জিন গুডএনাফ সেখানে ব্যবসা করেন।
পরে সারোগেসি পদ্ধতিতে যমজ সন্তানের মা হন প্রীতি। বর্তমানে তিনি সন্তানদের যুক্তরাষ্ট্রে রেখে ভারত এসে অভিনয়ের কাজে ব্যস্ত রয়েছেন। আর সন্তানদের কাছে দ্রুত ফিরে যাওয়ার তাগিদই তাকে ‘ভাইব’-এর শুটিংয়ে দিনে ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করতে অনুপ্রাণিত করেছে বলে জানান অভিনেত্রী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাত্র ১৬ বছর বয়সে একের পর এক রেকর্ড গড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণ তারকা কাভান সুলিভান। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক বিস্ময়বালক ফ্রেডি আদুর দীর্ঘদিনের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন, কারণ তিনি টানা তৃতীয় ম্যাচে গোল করেছেন।
রবিবার ভোরে অনুষ্ঠিত ম্যাচে সিএফ মন্ট্রিয়লকে ২-০ গোলে পরাজিত করেছে ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়ন। ম্যাচের ৭৫তম মিনিটে বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে কাভান সুলিভান দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন, যা নিশ্চিত করে দলের জয়।
এই গোলের ফলে চলতি বছরে এমএলএসে তার গোলের সংখ্যা ১১-এ পৌঁছেছে, যা ১৬ বছর বয়সী কোনো খেলোয়াড়ের জন্য লিগ ইতিহাসে সর্বোচ্চ। ২০০৫ সালে ফ্রেডি আদু এক মৌসুমে ১০ গোল অবদান রেখে রেকর্ড গড়েছিলেন, যা এবার কাভান সুলিভান ছাড়িয়ে গেছেন।
এছাড়া, টানা পাঁচ ম্যাচে গোল বা অ্যাসিস্ট করে এমএলএস ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড় হিসেবে নতুন রেকর্ডও গড়েছেন তিনি।
চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ২৭ ম্যাচে কাভানের গোল সংখ্যা ৭ এবং অ্যাসিস্ট ১১। এমএলএস ছাড়াও তিনি লিগস কাপ এবং কনকাকাফ চ্যাম্পিয়নস কাপেও খেলেছেন।
মন্ট্রিয়লের বিরুদ্ধে ম্যাচে ফিলাডেলফিয়ার প্রথম গোলটি আসে ৫৭তম মিনিটে, যা মিডফিল্ডার ড্যানলি জ্যাঁ জ্যাকের পা থেকে আসে। পরে ৬৮তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে সমতায় ফেরার সুযোগ পেলেও মন্ট্রিয়লের প্রিন্স ওসুওর শট ফিলাডেলফিয়ার গোলরক্ষক আন্দ্রে ব্লেক ঠেকিয়ে দেন।
এরপর ৭৫তম মিনিটে কাভান সুলিভানের গোলের মাধ্যমে ২-০ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়ন। এই জয়ের ফলে টানা আট ম্যাচে অপরাজিত থাকার রেকর্ড ধরে রাখল দলটি।
২৩ ম্যাচে ২৭ পয়েন্ট নিয়ে ইস্টার্ন কনফারেন্স টেবিলের ৯ নম্বরে অবস্থান করছে ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়ন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
৩৬ হাজার ফুট উচ্চতায় উড়ছিল এয়ার ইন্ডিয়ার একটি এয়ারবাস এ-৩২০ নিও। হঠাৎ করে, কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে, বিমানের তিনটি হাইড্রোলিক ব্যবস্থা বিকল হয়ে যায়। এর ফলে স্বয়ংক্রিয় উড্ডয়ন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যায় এবং দুই সেকেন্ডের জন্য ‘স্টল’ সতর্কসংকেতও চালু হয়। এরপর বিমানটি হঠাৎ ৩৭২ ফুট ওপরে উঠে আবার ২৯২ ফুট নিচে নেমে যায়। এই ঘটনায় ২৪ জন আহত হয়েছেন।
ফুকেট থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার এআই ২৩৭৯ ফ্লাইটে এই ঘটনা ঘটে। বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত ব্যুরোর (এএআইবি) প্রাথমিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিমানটির নিবন্ধন নম্বর ভিটি-ইএক্সও। ২০১৮ সালে তৈরি, আট বছর বয়সী এয়ারবাস এ-৩২০ নিওটিতে সেদিন ১৩৭ জন যাত্রী, ছয়জন কেবিনকর্মী ও দুজন পাইলট ছিলেন। ফুকেট থেকে উড্ডয়নের সময় কোনো অস্বাভাবিকতার কথা জানা যায়নি।
ভারতীয় স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৩২ মিনিট ৪৩ সেকেন্ডে বিমানটি ৩৬ হাজার ফুট উচ্চতায় থাকার সময় প্রথমে সবুজ হাইড্রোলিক ব্যবস্থায় চাপ কমে যাওয়ার বিষয়টি শনাক্ত হয়। এর মাত্র চার সেকেন্ড পর নীল ও হলুদ হাইড্রোলিক ব্যবস্থাও বিকল হয়ে যায়।
এয়ারবাস এ-৩২০ বিমানে সবুজ, নীল ও হলুদ—তিনটি পৃথক হাইড্রোলিক ব্যবস্থা থাকে। এসব ব্যবস্থা বিমানের বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণ পৃষ্ঠ পরিচালনায় প্রয়োজনীয় শক্তি সরবরাহ করে। একটি ব্যবস্থা বিকল হলেও অন্য দুটি সচল থাকার কথা। তাই তিনটি ব্যবস্থা একই সময়ে বিকল হয়ে যাওয়ার ঘটনাকে অত্যন্ত বিরল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তিন হাইড্রোলিক ব্যবস্থা বিকল হওয়ার পর ৯টা ৩২ মিনিট ৪৮ সেকেন্ডে বিমানের স্বয়ংক্রিয় উড্ডয়ন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যায়। একই সময় একটানা সতর্কসংকেত বাজতে থাকে। এর তিন সেকেন্ড পর দুই সেকেন্ডের জন্য ‘স্টল’ সতর্কসংকেত চালু হয়।
এএআইবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘বিমানটি উচ্চতার অস্বাভাবিক পরিবর্তনের মুখে পড়ে। এ সময় প্রথমে এটি নির্ধারিত ৩৬ হাজার ফুট উচ্চতার চেয়ে ৩৭২ ফুট ওপরে উঠে যায়। পরে ২৯২ ফুট নিচে নেমে আসে।’
ঘটনার সময় বিমানে নিরাপত্তা বেল্ট বাঁধার সংকেত বন্ধ ছিল। ফলে হঠাৎ বিমানটি ওপরে উঠে আবার নিচে নেমে যাওয়ার সময় কিছু যাত্রী ও কেবিনকর্মী আসন থেকে ছিটকে গিয়ে বিমানের ছাদ ও মাথার ওপরের মালপত্র রাখার তাকের সঙ্গে ধাক্কা খান। এতে ২৪ জন আহত হন। কেবিনের বিভিন্ন অংশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তবে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই হাইড্রোলিক ব্যবস্থাগুলো আবার সচল হতে শুরু করে। প্রথমে নীল ব্যবস্থা ফিরে আসে। এরপর হলুদ ও সবুজ ব্যবস্থাও সচল হয়। ফলে বিমানের উড্ডয়ন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে শুরু করে।
ঘটনার সময় বিমান চালাচ্ছিলেন সহকারী পাইলট। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করার পর প্রধান পাইলট নিয়ন্ত্রণ নেন। পরে তাঁরা দিল্লির উদ্দেশে উড্ডয়ন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পথে কাছের কোনো বিমানবন্দরে অবতরণ করা হয়নি।
এখনো জানা যায়নি মূল কারণ
এএআইবির প্রাথমিক প্রতিবেদনে তিনটি হাইড্রোলিক ব্যবস্থা কী কারণে কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে বিকল হয়েছিল, তার কোনো কারণ জানানো হয়নি। কেন ব্যবস্থাগুলো আবার এত দ্রুত সচল হয়ে গেল, সেটিও স্পষ্ট করা হয়নি।
তদন্তকারীরা বিমানের হাইড্রোলিক ব্যবস্থার বিভিন্ন যন্ত্রাংশ, হাইড্রোলিক তরল, জ্বালানি ও তেলের নমুনা সংগ্রহ করেছেন। পাশাপাশি রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালন-সংক্রান্ত নথি এবং দিল্লি ও কলকাতার বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের তথ্যও সংগ্রহ করা হয়েছে।
বিমানের উড্ডয়ন তথ্য রেকর্ডার ও ককপিটের কথোপকথনের রেকর্ডারও খুলে নিয়ে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। এয়ারবাসের নিয়োগ করা প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরাও ১৩ থেকে ১৫ আগস্ট বিমানটি পরীক্ষা করেন।
এএআইবি জানিয়েছে, তদন্ত এখনো চলছে। চূড়ান্ত প্রতিবেদনে দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হবে।
পাইলটদের মাদক পরীক্ষার ফল নিয়েও প্রশ্ন
দিল্লিতে অবতরণের পর দুই পাইলটের উড্ডয়ন-পরবর্তী চিকিৎসা পরীক্ষা করা হয়। তাঁদের শ্বাস-পরীক্ষার ফল সন্তোষজনক ছিল। পাশাপাশি বিশেষ কিটের মাধ্যমে মাদক জাতীয় পদার্থ শনাক্তের পরীক্ষাও করা হয়।
প্রধান পাইলটের প্রাথমিক পরীক্ষার ফল ‘নেতিবাচক নয়’ হিসেবে পাওয়া যায়। পরে নিশ্চিতকরণ পরীক্ষার জন্য তাঁর রক্তের নমুনা পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়। সহকারী পাইলটের দুটি পরীক্ষার ফলই নেতিবাচক এসেছে।
তবে প্রাথমিক প্রতিবেদনে পাইলটের মাদক পরীক্ষার ফলের সঙ্গে বিমানের হাইড্রোলিক ব্যবস্থা বিকল হওয়ার ঘটনার কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা বলা হয়নি। তদন্তকারীরা প্রযুক্তিগত ও অন্যান্য বিষয় খতিয়ে দেখছেন।
এএআইবি অন্তর্বর্তীকালীন নিরাপত্তা সুপারিশ হিসেবে পাইলটদের মাদক জাতীয় পদার্থের অপব্যবহার প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছে।
এয়ার ইন্ডিয়ার এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, তদন্তের কাজে প্রতিষ্ঠানটি পূর্ণ সহযোগিতা করছে। সংশ্লিষ্ট পরিচালন, রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রযুক্তিগত নথিতে তদন্তকারীদের প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়েছে। ঘটনার পর নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সব পাইলটের স্বেচ্ছামূলক শতভাগ পরীক্ষা শুরু করেছে এয়ার ইন্ডিয়া।
এদিকে সাবেক পাইলট ও বিমান বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, প্রাথমিক প্রতিবেদনে তিনটি হাইড্রোলিক ব্যবস্থা কীভাবে এত দ্রুত বিকল হলো—এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। তাঁদের মতে, এই ঘটনার প্রযুক্তিগত কারণ চূড়ান্ত তদন্তেই স্পষ্ট হবে।
সূত্র: নিউজ১৮,
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ