০৪:০২ পি.এম
প্রশ্ন ফাঁসের প্রতিবাদ এবং পরীক্ষা পদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে ভারতের ঝাড়খণ্ডের রাঁচিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও জলকামান ব্যবহার করেছে। আজ সোমবার, আন্দোলনের ১৭তম দিনে রাজ্য বিধানসভা ঘেরাওয়ের কর্মসূচি ছিল। পুলিশের পক্ষ থেকে বিক্ষুব্ধদের ঠেকাতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শিক্ষার্থীরা এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ লাঠিচার্জ এবং জলকামান ব্যবহার করে।
সোমবার সকাল থেকে রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার শিক্ষার্থী ট্রেন, বাস ও অন্যান্য যানবাহনে চড়ে রাজধানী রাঁচিতে জড়ো হন পূর্বঘোষিত কর্মসূচিতে অংশ নিতে। শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় প্রশাসন প্রধান প্রধান মোড় ও স্পর্শকাতর এলাকায় ব্যারিকেড তৈরি করে।
অপরদিকে, যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েনসহ কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আজ রাঁচির বেশিরভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। শিক্ষার্থীদের আগমন সীমিত করতে পুলিশ জেলার সীমানা, প্রধান সড়ক এবং মহাসড়কগুলোতে বাস ও ব্যক্তিগত গাড়িতে তল্লাশি চালাচ্ছিল।
আরও পড়ুন: তুর্কি পার্লামেন্টে ‘মক্কা প্রতিরক্ষা জোট’ চুক্তি উপস্থাপন
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের নেতা দেবেন্দ্র মাহাতো বিক্ষোভকারীদের পুলিশ বাধা দিলে আলোচনার মাধ্যমে সুশৃঙ্খলভাবে বিধানসভায় পৌঁছানোর বিকল্প রাস্তা খুঁজে বের করার অনুরোধ জানান। কিন্তু কিছু শিক্ষার্থী ব্যারিকেড ভাঙতে গেলে পুলিশ বাধা দেয়। পুলিশ যখন বিক্ষোভকারীদের থামাতে জলকামান নিয়ে আসে, তখন কিছু শিক্ষার্থীকে সেই তীব্র জলকামানের সামনে নাচতে দেখা যায়।
মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সরেন এর আগে বলেছিলেন, সমস্যার সমাধান আলোচনার মাধ্যমেই সম্ভব। আন্দোলনকারীদের সাথে আলোচনা করার জন্য রাজ্য সরকার একটি কমিটি গঠন করেছে এবং ওই কমিটি এরই মধ্যে ৬ বার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা করেছে। কমিটির আলোচনার অগ্রগতি সম্পর্কে মুখ্যমন্ত্রীকেও অবহিত করা হয়। গতকাল রবিবার ষষ্ঠ দফা আলোচনায়ও দাবি মানার পরিপূর্ণ আশ্বাস না পেয়ে বিধানসভা ঘেরাও কর্মসূচি নিয়ে এগিয়ে যায় আন্দোলনকারীরা।
রাজ্য সরকারের দাবি, তারা শিক্ষার্থীদের ‘৯৮ শতাংশ’ দাবি মেনে নিয়েছেন এবং আন্দোলন প্রত্যাহার করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী সরেন এর আগে আন্দোলনকারীদের আশ্বাস দিয়েছিলেন যে নিয়োগ পরীক্ষার অনিয়মের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গতকাল জেপিএসসি-তে বড় ধরনের রদবদল দেখা গেছে। নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় সিআইডি-র তলব পাওয়ার পর কমিশনের তিন সদস্য পদত্যাগ করেছেন। এর আগে গত ২২ জুলাই জেপিএসসি চেয়ারম্যান এল খিয়াংতেও পদত্যাগ করেছিলেন।
তবে শিক্ষার্থীদের যুক্তি, তারা যে ১৩টি পরীক্ষা বাতিলের দাবি জানিয়েছিলেন, সরকার তার মধ্যে মাত্র ৩টি বাতিল করতে রাজি হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা কথিত অনিয়মের বিষয়ে সিবিআইয়ের অধীনে তদন্তের দাবিতে অনড় রয়েছেন। 'জেপিএসসি-জেএসএসসি রিফর্ম মঞ্চ'এর ব্যানারে গত ২৫ জুলাই থেকে রাঁচির জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়ামে লাগাতার বিক্ষোভ চলছে। আন্দোলনের অংশ হিসেবে ছাত্রনেতা দেবেন্দ্র নাথ মাহাতোসহ ৬ জন টানা ৮ দিন ধরে আমরণ অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন।
আরও পড়ুন: মানব পাচারকারীদের ৪৬ লাখ টাকা দিয়েও স্বপ্নের ইতালিতে যেতে পারেননি সোহেল
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ১৪তম ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশনের অধীনে অনুষ্ঠিত সম্মিলিত সিভিল সার্ভিস প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় ব্যাপক জালিয়াতি ও প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থীরা এই বিতর্কিত পরীক্ষা অবিলম্বে বাতিল করে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এর আগে ২০২৪ সালের জেএসএসসি-সিজিএল পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার অভিযোগ ওঠে। সিআইডির তদন্তে অভিযোগের প্রমাণও পাওয়া যায়। কিন্তু রাজ্য সরকার সিআইডির রিপোর্ট ধামাচাপা দিয়ে দ্বিতীয় একটি কমিটির মাধ্যমে পরীক্ষাকে ক্লিন চিট দেয়, যা পরীক্ষার্থীদের ক্ষোভ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। শিক্ষার্থীরা ২০১৯ সালের পর থেকে হওয়া সমস্ত বিতর্কিত পরীক্ষা বাতিলের দাবি তুলেছেন।
সূত্র : এনডিটিভি
আরও পড়ুন: মোদি সরকারের নিয়ন্ত্রণ হারানোর প্রমাণ ‘সরকার পতনের’ কান্না
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন