মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৬:০৮ পি.এম
ফ্রান্সের বেসাঁসোঁ শহরে বাংলাদেশ কমিউনিটি বেসাঁসোঁ (ACBB)-এর নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী পরিষদের অভিষেক ও সাংস্কৃতিক মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই অনুষ্ঠানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ঐক্য, সম্প্রীতি এবং পারস্পরিক সহযোগিতার বৃদ্ধি এবং নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ACBB-এর সভাপতি শাকির হাসান। আবু নাঈম সঞ্চালনা করেন। উদ্বোধন করেন সুইজারল্যান্ডের জেনেভার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও অ্যালিমেন্টেশন মনসুনের চেয়ারম্যান শ্যামল খান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শাহ গ্রুপের চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সাত্তার আলী সুমন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাত্তার আলী সুমন মন্তব্য করেন, কমিউনিটির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। তিনি বলেন, প্রবাসে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরার পাশাপাশি দেশীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। তিনি কমিউনিটির কল্যাণ, সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ এবং উন্নয়নমূলক উদ্যোগ গ্রহণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
উদ্বোধকের বক্তব্যে শ্যামল খান উল্লেখ করেন, প্রবাসে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতে পারে, তবে কমিউনিটির স্বার্থকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি রাজনৈতিক বিভেদ ও মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে কমিউনিটির উন্নয়নের পাশাপাশি প্রবাসে বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য আরও সমৃদ্ধভাবে তুলে ধরা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নবকণ্ঠের সম্পাদক আবু তাহির, সুইজারল্যান্ড চট্টগ্রাম সমিতির সভাপতি আলী আকবর, সাধারণ সম্পাদক সসীম জি. সি. এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অসংখ্য বড়ুয়া। এছাড়া ফ্রান্সপ্রবাসী ব্যবসায়ী মাহবুব আহমদ ও আহমদ সোহেলও উপস্থিত ছিলেন।
নবনির্বাচিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাদাত হোসেন সাইফুল তাঁর শুভেচ্ছা বক্তব্যে সংগঠনের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি বেসাঁসোঁতে বসবাসরত বাংলাদেশিদের কল্যাণ, পারস্পরিক সম্প্রীতি এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রসারে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা আনোয়ার হোসেন খান সুমন নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্যদের নাম ও পদবি ঘোষণা করেন। এর মাধ্যমে ACBB-এর নতুন কমিটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। আয়োজকেরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, নতুন কমিটির মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ঐক্য, সম্প্রীতি, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সামাজিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে।
গানে-আড্ডায় সাংস্কৃতিক মিলনমেলা
অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বে সংগীত পরিবেশন করেন প্যারিসের সংগীতশিল্পী মিষ্টি বিশ্বাস এবং সুইজারল্যান্ডের সংগীতশিল্পী গৌরীচরণ রিমি। তাঁদের পরিবেশনায় উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে আনন্দ ও উৎসাহ ছড়িয়ে পড়ে।
অনুষ্ঠানে নারী-পুরুষের পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। অংশগ্রহণকারীরা জানিয়েছেন, প্রবাসের ব্যস্ত জীবনে এ ধরনের আয়োজন দেশীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত থাকার সুযোগ তৈরি করে। একই সঙ্গে প্রবাসীদের মধ্যে পরিচিতি, বন্ধুত্ব এবং ভ্রাতৃত্ববোধ জোরদার হয়।
অতিথিদের জন্য মধ্যাহ্নভোজনের ব্যবস্থা করা হয়। পরিবেশন করা হয় বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন ধরনের পিঠা। দেশীয় খাবারের এই আয়োজন প্রবাসে বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের আবহকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
অনুষ্ঠানে সংগঠনের উপদেষ্টা, কার্যনির্বাহী পরিষদের নেতৃবৃন্দ এবং সদস্যরা সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন সহসভাপতি আবু তালহা, দপ্তর সম্পাদক রূপা হোসেন, অর্থ সম্পাদক আসাদ হোসেন রনি, সাংগঠনিক সম্পাদক হৃদয় মাহমুদ, উপদেষ্টা মোজাম্মেল হক, সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত নিকিল বিশ্বাস, সাংস্কৃতিক সম্পাদক পিঙ্কি সরকার, কার্যকরী সদস্য হৃদয় মনি এবং সহসম্পাদক শামসুল আলম।
এছাড়া অনুষ্ঠান সফল করতে অবদান রাখেন তানিয়া লাবনী, নিলুফার ইয়াসমিন নীলা, মুসাম্মৎ নিলুফা, এলজোনা নাতাশা রনি, সাবিনা ইয়াসমিন রিতা, তামিম শোয়াক, সালমান এবং আবু সাঈদ নিশানসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা।
নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী পরিষদ
প্রধান উপদেষ্টা: আনোয়ার হোসেন খান সুমন, উপদেষ্টা: এইচ এম মোজাম্মেল হক (দুলাল), সভাপতি: শাকির হাসান, সহসভাপতি: আবু তালহা, সাধারণ সম্পাদক: সাদাত হোসেন (সাইফুল), দপ্তর সম্পাদক: শারমিন সুলতানা রূপা হোসেন, সহদপ্তর সম্পাদক: তানিয়া লাবনী, কোষাধ্যক্ষ: আসাদ হোসেন রনি, সহ-অর্থ সম্পাদক: মোহাম্মদ শামসুল আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক: হৃদয় আহমেদ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক: বিশ্বাস নিখিল, তথ্য ও প্রচার সম্পাদক: সালমান ফার্সি স্বপিল, সাংস্কৃতিক সম্পাদক: পিঙ্কি সরকার, মহিলাবিষয়ক সম্পাদক: নিলুফার ইয়াসমিন নীলা, সহ-মহিলাবিষয়ক সম্পাদক: সাবিনা ইয়াসমিন (রিতা), আপ্যায়ন সম্পাদক: মুসাম্মৎ নিলুফা, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক: এলজোনা নাতাশা রনি, ক্রীড়া সম্পাদক: মো. তনিম আহমেদ, কার্যকরী সদস্য: হৃদয় মনি, সাধারণ সদস্য: আবু সাঈদ নিশান, সাধারণ সদস্য: মো. শোয়াগ মিয়া।
অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির ঐক্য, সম্প্রীতি এবং সাংস্কৃতিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। ভবিষ্যতে বেসাঁসোঁতে বসবাসরত বাংলাদেশিদের কল্যাণে সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলাদেশের ঐতিহ্য তুলে ধরতে কাজ করার আশাবাদ জানান আয়োজকেরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফেডারেশন কাপের গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে সিটি ক্লাবকে পরাজিত করে চারবারের চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংস। রবসন এবং এমেকার দ্বারা করা গোলে সিটি ক্লাবকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে জয় অর্জন করে বসুন্ধরা।
মানিকগঞ্জে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচের শুরু থেকেই উভয় দল আক্রমণাত্মক খেলা প্রদর্শন করছিল। ম্যাচের ১২ মিনিটে সিটি ক্লাব এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়। অধিনায়ক সলোমনের বাড়ানো বল লক্ষ্যভেদে ব্যর্থ হন বোকাফোর।
বিস্তারিত আসছে..
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, নির্বাচনের পূর্বে বিএনপি সরকার গঠন করলে কৃষক ভাইদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। সরকার গঠনের সাত দিনের মধ্যে এই প্রতিশ্রুতি পূরণ করা হয়েছে। বাংলাদেশের ১৩ লাখ কৃষক ভাইদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি লোন সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে (হাজী মুহম্মদ মুহসীন সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠ) অনুষ্ঠিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জনসভায় উপস্থিত আখচাষিদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে প্রায় ৩৮ থেকে ৩৯ হাজার আখচাষি ভাইদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে একটি প্রণোদনার ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে আগামী মৌসুমে আখ চাষের জন্য তাদের কষ্ট কিছুটা কম হয়। বিএনপি বিশ্বাস করে, দেশের কৃষক বাঁচলে এবং কৃষি বাঁচলে দেশ বেঁচে থাকবে।’
কৃষকদের সহায়তায় ‘ফার্মারস কার্ড’ বা কৃষক কার্ড চালুর ঘোষণা দিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘ক্ষুদ্র, মাঝারি, প্রান্তিক, ভূমিহীন ও বড় কৃষকদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে। আগামী কিছুদিনের মধ্যে এই কাজ শেষ হবে। এ বছরেই সমগ্র বাংলাদেশে ৪০ লাখ ভূমিহীন, প্রান্তিক এবং ক্ষুদ্র কৃষক ভাইয়ের কাছে কৃষি কার্ড পৌঁছে দেয়া হবে। যদি কোনো কৃষক ভাই বছরে দুটো বা তিনটি ফসল উৎপাদন করেন, তাহলে আমরা কৃষক কার্ডের মাধ্যমে অন্তত একটি ফসলের সার, বীজ ও কীটনাশক পৌঁছে দেয়ার চেষ্টা করব, যাতে তার কষ্ট কিছুটা লাঘব হয়।’
কৃষক কার্ডের অন্যান্য সুবিধার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই কৃষক কার্ডের মাধ্যমে চাষিরা ক্ষেতের ফসলের বীমা করতে পারবেন এবং ব্যাংকঋণ সহজে গ্রহণ করতে পারবেন। এই কার্ডের মাধ্যমে মোবাইল ফোনে জানা যাবে আগামীকাল বৃষ্টি হবে কি না। ফলে কৃষক সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন তিনি বীজ বপন করবেন নাকি সার দেবেন। এই কৃষক কার্ডে প্রায় ১০টি সুবিধা থাকবে।’
সেচ সুবিধা ও খাল খনন কর্মসূচির বিষয়ে সরকারপ্রধান বলেন, ‘কৃষক ভাইয়েরা যাতে সঠিকভাবে সেচ সুবিধা পান এবং গ্রামের মা-বোনদের দূর থেকে কষ্ট করে পানি আনতে না হয়, সেজন্য সারা দেশে খাল খনন এবং নদী সংস্কার কর্মসূচি শুরু হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হবে। গেল আট মাসে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার খাল খনন সম্পন্ন হয়েছে। পানির সমস্যা দূর করতে উত্তরাঞ্চলে তিস্তা এবং রাজশাহীতে পদ্মা নদীতে দুটো ব্যারেজ তৈরি করা হবে। বাংলাদেশের মানুষের পানির হিস্যা আদায়ের জন্য যতদূর প্রয়োজন আমরা যাব এবং দ্রুত পদ্মা ও তিস্তা ব্যারেজের কাজ শুরু ও শেষ করব।’
স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালকে ৫০ বেড থেকে ১৫০ বেডের হাসপাতালে উন্নীত করা হবে। সেখানে শিশু এবং মা-বোনদের জন্য আলাদা বেড ও কিডনি রোগীদের ডায়ালিসিসের ব্যবস্থা থাকবে। গেল জুনের বাজেটে কিডনি রোগীদের ডায়ালিসিসের ওষুধ এবং হার্টের চিকিৎসার সরঞ্জামের ওপর ট্যাক্স কমিয়ে দেয়া হয়েছে, ফলে চিকিৎসার খরচ অর্ধেকে নেমে এসেছে।’
কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও নারীদের স্বাবলম্বী করার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘শ্রমিক ভাইয়েরা যাতে বেকার না থাকেন, সেজন্য সরকার গঠনের পর সাত মাসে সারা দেশে বন্ধ থাকা ৬টি মিল-কারখানা বিভিন্ন উদ্যোক্তার মাধ্যমে চালু করা হয়েছে। আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে আরও ৪৬টি বন্ধ কলকারখানা চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। মা-বোনদের শিক্ষা অনার্স পর্যন্ত বিনামূল্যে করা এবং ভালো ফলাফলকারীদের উপবৃত্তি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নারীদের অর্থনৈতিকভাবে আত্মনির্ভরশীল করতে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে প্রতি মাসে আর্থিক সহযোগিতা পৌঁছে দেয়া হবে। পরিবেশ রক্ষায় আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ করবে সরকার।’
দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের বিষয়ে সতর্ক করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের কাছে গোয়েন্দাদের পরিষ্কার তথ্য আছে, পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচার সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ সরবরাহ করছে এবং দেশে ভ্রান্তি ছড়ানো একটি দলকে সঙ্গে নিয়ে কলকারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ ও রাজপথে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে। দেশের উন্নয়নের গতি এবং মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে না পারে, সেজন্য জাতীয়তাবাদী ও গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ মন্তব্য করেছেন যে, বিচার ব্যবস্থায় যারা অবস্থান করেন, আওয়ামী লীগ তাদেরকেও কিনে ফেলে।
তিনি বলেন, "আওয়ামী লীগ যে ইতিহাস সৃষ্টি করে গেছে, সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি আমরা হতে দেব না।" তিনি উল্লেখ করেন, তাদের প্রতিমন্ত্রীর ৫০০ বাড়ি রয়েছে এবং তাদের নেতার ছেলে ইহুদি বিয়ে করে আমেরিকাতে কয়েকটি বিশাল প্রাসাদ গড়ে তুলেছে। স্পিকার বলেন, "এদের যে কি ধন-সম্পত্তি কল্পনা করতে পারবেন না। আসলে এগুলো হলো চোর। চুরি করে আর লুটপাট করে নিয়ে গেছে।"
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) লালমোহন উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এই সংবর্ধনার আয়োজন করে লালমোহন উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপি।
তিনি আরও বলেন, "এদের (আওয়ামী লীগ নেতা) টাকার এত শক্তি, এদেরকে শাস্তি দেওয়া খুব মুশকিল। সবকিছু তারা কিনে ফেলে। বিচার ব্যবস্থায় যারা থাকে তাদেরকেও কিনে ফেলে।" তিনি অভিযোগ করেন যে, তাদের বিরুদ্ধে মামলা শক্তভাবে করা হয় না। স্পিকার বলেন, "বিদেশের সরকারগুলোও ভাবে যে, হাজার হাজার কোটি টাকা আমার দেশে আনছে, বিনিয়োগ করছে, মিল-ফ্যাক্টরি করছে, ওরাও চুপ করে বসে থাকে।"
স্পিকার আরও বলেন, "বিশ্বব্যবস্থায় নানা অনৈতিক কাজকর্ম হয়, সেগুলোতে প্রথম সারিতে আছে এই বাংলাদেশের আওয়ামী লীগের নেতারা।" তিনি বলেন, "তারা যে বিশাল লুটপাট করে গেছে, রাজার হালে এরা বিদেশে আছে।" তিনি উল্লেখ করেন, "ভারতে প্রসাদের মধ্যে থাকে, আমেরিকাতেও বড় বড় প্রাসাদ আছে। কানাডার বেগমপাড়া এলাকায় শত শত বাড়ি আছে আওয়ামী লীগের এমপিদের।"
ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের সংশোধনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, "ইতোমধ্যেই দেখেছেন ঢাকায় একজন মহিলা এমপির নাম উঠে এসেছে, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে একটা হাসপাতাল দখল করার জন্য।" তিনি বলেন, "প্রধানমন্ত্রী তাকে পদত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছেন।"
স্পিকার বলেন, "ইশরাক হোসেন কাজটা ভালোই করেছেন। তিনি পুলিশের উপর যারা গুলিবর্ষণ করে একদল মাদকসেবী, তাদেরকে দমন করতে গিয়েছিলেন। তবে তার হাতে অস্ত্র নেয়াটা ঠিক হয় নাই।"
তিনি বলেন, "আমাদের জন্য এই গত ১৫-১৬ বছর ছিল এক মসীদৃপ্ত কলঙ্কময় অধ্যায়।" তিনি অভিযোগ করেন, "এরকম লুটপাট পৃথিবীর কোনো দেশে রাজনৈতিক নেতারা করতে পারে নাই, যেটা আওয়ামী লীগ, শেখ হাসিনা এবং তার এই সন্ত্রাসী এমপিগুলো গত ১৫ বছরে করে গিয়েছে।"
স্পিকার বলেন, "তত্ত্বাবধায়ক সরকার দেড় বছর ছিল, বিএনপি সরকারেরও তো প্রায় এক বছর হচ্ছে, এখন পর্যন্ত কারও তো বাড়িটাড়ি উঠে নাই।" তিনি বলেন, "সুতরাং আমরা ন্যায়বিচারের একটা দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করতে চাই।"
সভায় বক্তব্য দেন লালমোহন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাফর ইকবাল, সাধারণ সম্পাদক সফিকুল ইসলাম বাবুলসহ স্থানীয় নেতারা।
সভায় উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সম্পাদক স্পিকারকে ধানের শীষ প্রতীকের সোনার স্মারক দেন।
এছাড়া ইউনিয়ন পৌর বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে স্পিকারকে ফুলের শুভেচ্ছা জানানো হয়। সভায় দরিদ্রদের মধ্যে সরকারি সহায়তার চেক বিতরণ করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বগুড়ায় পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে গ্রেফতার আসামিকে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে তার সহযোগী ও স্বজনদের দ্বারা। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন উজ্জ্বল নামে এক সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই)। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে পুলিশ রতন ব্যাপারী নামে ২৮ মামলার ওই আসামিকে গ্রেফতার করে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে শহরের উত্তর চেলোপাড়া এলাকার দত্তবাড়ি সিএনজি স্ট্যান্ডে ঘটনাটি ঘটে। গ্রেফতারকৃত রতন ব্যাপারী ওই এলাকার বাদল ব্যাপারীর ছেলে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রতন ব্যাপারীর বিরুদ্ধে চুরি, মাদক ও ডাকাতির প্রস্তুতির মতো বিভিন্ন অভিযোগে দেশের বিভিন্ন থানায় ২৮টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে বগুড়া সদর থানায় তার বিরুদ্ধে তিনটি গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী জানিয়েছেন, মঙ্গলবার দুপুরে দত্তবাড়ি সিএনজি স্ট্যান্ডে টহল দেয়ার সময় পাঁচ পকেটমার অপরাধের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এ সময় পুলিশ রতনকে আটক করলে তার সহযোগী ও আশপাশে থাকা স্বজনরা পুলিশের ওপর হামলা চালান। তারা রতনকে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেন, যার ফলে এএসআই উজ্জ্বল আহত হন।
পরে পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে রতনকে থানায় নিয়ে যান। আহত এএসআই উজ্জ্বলকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ