১১:১৮ এম
ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য কোন প্রকারের সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র যেন নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে না পারে—সে বিষয়ে বুলগেরিয়াকে সতর্ক করেছে ইরান। মঙ্গলবার, দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় যেকোনো ধরনের সহযোগিতা করা হলে তা আগ্রাসন ও যুদ্ধাপরাধে অংশগ্রহণের শামিল হবে।
ইরানের সরকারি গণমাধ্যম থেকে জানা যায়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন যে, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে সহায়তা করে এমন কোন পদক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি উল্লেখ করেন, এ ধরনের সহযোগিতা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের পাশাপাশি আগ্রাসনের অংশ হিসেবে গণ্য হবে।
বাঘাই বলেছেন, বুলগেরিয়াবাসীদের উদ্দেশ্যে আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, দেশটি যেন ‘আগ্রাসনকারী ও আইনভঙ্গকারীদের সহযোগী’ না হয় এবং নিজেদের ভূখণ্ডকে কোন সামরিক অভিযানের জন্য ব্যবহারের সুযোগ না দেয়।
আরও পড়ুন: নাগরিক সমাজের আহ্বান, সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনে পরামর্শ ও সংস্কার প্রয়োজন
ইরানের এই প্রতিক্রিয়া এসেছে বুলগেরিয়া সরকারের একটি সিদ্ধান্তকে ঘিরে।
বুলগেরিয়া সরকার জানিয়েছে, তারা দেশের একটি সামরিক বিমানঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আটটি জ্বালানি সরবরাহকারী সামরিক বিমান মোতায়েনের অনুমোদন চেয়ে সংসদে প্রস্তাব দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এসব বিমান রাজধানী সোফিয়া থেকে প্রায় ২৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত বেজমের সামরিক ঘাঁটিতে মোতায়েন করা হবে।
এই জ্বালানি সরবরাহকারী বিমানগুলি মূলত আকাশে উড়ন্ত যুদ্ধবিমান ও অন্যান্য সামরিক বিমানকে মাঝ-আকাশে জ্বালানি সরবরাহের কাজে ব্যবহৃত হয়। এর মাধ্যমে যুদ্ধবিমান দীর্ঘ সময় আকাশে অবস্থান করতে পারে এবং দূরবর্তী এলাকায় অভিযান চালানোর সক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
বুলগেরিয়া উত্তর আটলান্টিক জোট (ন্যাটো) এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশ। এজন্য দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা উঠে এসেছে।
আরও পড়ুন: নিউইয়র্কে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে দুই রাষ্ট্রদূতের বৈঠকে শান্তিরক্ষা ও মানবাধিকার আলোচনা
মাসখানেক আগে হওয়া অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় পক্ষই আবার সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি করেছে। এর ফলে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে পূর্ণমাত্রার সংঘাত শুরু হওয়ার আশঙ্কা বেড়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যে বুলগেরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বিমান মোতায়েনের পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা আরও বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রাখে বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন